খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোহাগাড়ায় চিহ্নিত শিবির ক্যাডার, সাজাপ্রাপ্ত আসামি, নৌকা বিরোধী, মোটর মেকানিক, প্রবাসীও এখন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৯:২৮ অপরাহ্ণ
লোহাগাড়ায় চিহ্নিত শিবির ক্যাডার, সাজাপ্রাপ্ত আসামি, নৌকা বিরোধী, মোটর মেকানিক, প্রবাসীও এখন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক : দলীয় প্রতীক নৌকার বিরোধিতাকারী এবং নিজের গ্রুপ ভারী করতে বিএনপি- জামায়াত থেকে লোক ভাড়া এনে দলের পদ-পদবীতে স্থান না দিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্পষ্ট নির্দেশনাকে অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

গত উপজেলা ও ইউপি নির্বাচনে প্রকাশ্যে নৌকার বিরোধিতাকারী, চিহ্নিত ছাত্রশিবির ক্যাডার ও রাজপথে ছাত্রদলের মিছিলে নেতৃত্বদানকারী, নারী নির্যাতন মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী, মোটরসাইকেল মেকানিক ও দুবাই প্রবাসীসহ বিতর্কিত ব্যাক্তিদের মুল নেতৃত্বে এনে গত ২৬ জানুয়ারী মধ্যরাতে ফেসবুকের মাধ্যমে লোহাগাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১৫ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে নানা বিতর্কের জন্ম দিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

অথচ গত ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর নুরুল কবির সলিলকে আহবায়ক, আবছার উদ্দিন, জামিল উদ্দিন ও মিজানুর রহমান মিজানকে যুগ্ম আহবায়ক করে ৪ সদস্যের একটি আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। মাত্র ৪৭ দিনের ব্যবধানে এক উপজেলায় দুইটি কমিটিরই অনুমোদন দেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ জোবায়ের ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব সাদলী।

আর এতে পুরো উপজেলাজুড়ে দলের ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে নানা বিতর্ক, চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা। চলছে নানা পাল্টা-পাল্টি কর্মসুচিও। ফলে, দুই কমিটির নেতাকর্মীদের মধ্যে যেকোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেরও আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দলের নির্যাতিত, ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত ব্যাক্তিদের নিয়ে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

তাই, কমিটি ঘোষণার পর থেকেই ঘোষিত কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও এক নাম্বার সহ-সভাপতিসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক লেখালেখি করে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও দীর্ঘদিন উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করা মিজানুর রহমান মিজান জানান, ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক শীর্ষ ক্যাডার সাতকানিয়ার বহুল আলোচিত আহমদু বাহিনীর অন্যতম প্রধান সহযোগী। সাতকানিয়ায় আহমদুর প্রতিষ্টিত বিতর্কিত ক্যাডার ভিত্তিক সংগঠন ‘টাইগার ক্লাব’র প্রতিষ্টাতা সদস্য সে। পরে শিবিরের শীর্ষ ক্যাডার আহামদু বিএনপিতে যোগ দিলে হুমায়ুনও তার সাথে বিএনপিতে যোগ দেয়। বনে যায় রাতারাতি ছাত্রদলের হর্তাকর্তা। সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি এহতেশামুল আজিমের সাথে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী সকল আন্দোলন-সংগ্রামের মিছিলে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে হুমায়ুন। অলরেডি এসব মিছিলের ছবি ফেসবুকে ইতোমধ্যে ভাইরালও হয়েছে। এছাড়াও তার আদি বাড়ী সাতকানিয়া উপজেলার বারদোনা গ্রামে। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে বহু আওয়ামী নেতাকর্মীদের নির্যাতনকারী হিসেবে চিহ্নিত হুমায়ুন নিজ গ্রাম থেকে বিতাড়িত হয়ে লোহাগাড়া উপজেলার দক্ষিণ সুখছড়ি গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে ঘর জামাই হিসেবে আশ্রিত হন। পরে ২০১৮ সালের দিকে বর্তমান চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক আরিফুর রহমানের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন।

অতপর: মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে লোহাগাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ ভাগিয়ে নেন হুমায়ুন। যিনি বহু আওয়ামী নেতাকর্মীকে নির্যাতনের দায়ে ঘৃনিত হয়ে নিজ গ্রাম থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর শ্বশুর বাড়িতে আশ্রিত এমন একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন কতটুকু নিরাপদ? আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তার জবাব চাই।

এদিকে, ঘোষিত কমিটির সভাপতি রিদওয়ানুল হক সুজনের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ। গত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করতে আট-ঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছিলেন সুজন। এ নির্বাচনে লোহাগাড়া উপজেলা এলডিপির সভাপতি আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুলের অন্যতম নির্বাচনী সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। নির্বাচনের পরে ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো নৌকার বিরোধীতাকারীর তালিকায় সুজনের নাম রয়েছে ২৮ নাম্বারে। সদ্য সমাপ্ত লোহাগাড়া সদর ইউপি নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকের বিরোধিতা করার অভিযোগ রয়েছে সুজনের বিরুদ্ধে। নির্বাচন পরবর্তী গত ২০২০ সালের ৭ নভেম্বর অনুষ্টিত উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় দলীয় প্রতীক নৌকা বিরোধী ভূমিকায় রিদওয়ানুল হক সুজনসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দলের হাজারো নেতাকর্মীর সামনে প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝাড়েন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মাদ নেজামুদ্দীন নদভী। লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খোরশেদ আলম চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও সুজনের বিরুদ্ধে বার আউলিয়া ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগ নেতা তৌকির হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ততারও অভিযোগ তুলেছেন নিহত তৌকিরের বৃদ্ধ মা আয়েশা বেগম ও বড় ভাই মো: আলমগীর। তাঁরা গত ২০২০ সনের ৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তৌকির হত্যার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে ভূঁয়া খালাতো ভাই সেজে তৌকিরের লাশ গ্রহণের অভিযোগও আনেন সুজনের বিরুদ্ধে। এসময় সুজনসহ এ হত্যাকান্ডে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছিলেন তৌকিরের পরিবার।

৪৭ দিনের মধ্যে দুই কমিটি

ঘোষিত কমিটির এক নাম্বার সহ-সভাপতি আকতার হোসেন ফরিদ ওরফে এলজি ফরিদের বিরুদ্ধেও রয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগ।

গত ২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারী আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেন। এছাড়াও অস্ত্র, পুলিশের ওপর হামলা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে রয়েছে আরও ৪/৫ টি মামলা।

কমিটির তিন নাম্বার সহ-সভাপতি বেলাল উদ্দিন বেলাল কোন সময় আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। পেশায় মোটরসাইকেল মেকানিক। চার নাম্বার সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম জিয়ার বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
কমিটির দুই নাম্বার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন রকি দুবাই প্রবাসী। সে তিন মাস পূর্বে দেশে এসে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ ভাগিয়ে নিয়ে আবার দুবাই ফিরে যান। কমিটির অন্যান্য সদস্যের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক। মোটা অংকের আর্থিক লেনদেন এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতার সাথে ঘনিষ্টতার কারণে তারা তিনজনই স্বেচ্ছাসেবক লীগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন হয়েছেন- এমন অভিযোগ ৪৭ দিন পূর্বে গত ১০ ডিসেম্বর অনুমোদিত কমিটির আহবায়ক নুরুল কবির সলিল ও যুগ্ম আহবায়ক আবছার উদ্দিনের।

অন্যদিকে, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মাদ নেজামুদ্দীন নদভী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম আমিনকে পাশ কাটিয়ে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিরুদ্ধে। তাছাড়া কোন মতামতও নেয়া হয়নি লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকেও। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতাকে সন্তুষ্ট করতেই তাঁর অনুসারীদের নিয়ে তড়িঘড়ি করে একতরফাভাবে এ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, সাংগঠনিক কর্মকান্ডকে গতিশীল করতে লোহাগাড়া উপজেলা কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দুটি কমিটি অনুমোদন করা হয়নি। আমরা অফিসিয়ালি সুজন- হুমায়ুনের নেতৃত্বাধীন কমিটিই পাবলিষ্ট করেছি।

কমিটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে দলের স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের মতামত নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে এদের কোন মতামত নেয়া হয়নি। দক্ষিণ জেলা কমিটিকে থাকা লোহাগাড়ার নেতাদের সুপারিশে এ কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কয়েকজনের ফেসবুক পোষ্টে দেখেছি ; আবার অনেকেই আমার মেসেঞ্জারেও পাঠিয়েছে।

সভাপতি সুজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ব্যাপারে আমি অবগত নই। তবে, এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি দেখবো।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু মুঠোফোনে বলেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্তৃক ৪৭ দিনের মাথায় এক উপজেলায় দুটি কমিটি ঘোষণার বিষয়ে আমি অবগত নই। কমিটিতে নৌকার বিরোধিতাকারী, শিবির ক্যাডার, নারী নির্যাতন মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি স্থান পাওয়ার বিষয়ে আমি খোঁজ নিচ্ছি। এ মুহুর্তে আমি একটি মিটিং এ আছি ভাই জানালেন আফজালুর রহমান বাবু।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ- প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সন্তান হিসেবে লোহাগাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি ঘোষণার বিষয়ে আমার কোন মতামত চাওয়া হয়নি এবং এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

আওয়ামী লীগের দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর আবু রেজা মুহাম্মাদ নেজামুদ্দীন নদভী বলেন, দলের স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে লোহাগাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আমার মতামত নেওয়া উচিত ছিল জেলা কমিটির। কিন্তু আমার কোন মতামত নেয়া হয়নি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ফেসবুকে কমিটি দেখেছি মাত্র। বিপ্লব বড়ুয়াকে সন্তুষ্ট করতেই মধ্যরাতে ফেসবুকে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। জানতে পারলাম নৌকার বিরোধিতাকারী, ছাত্রলীগ নেতা হত্যার সাথে জড়িত, সাতকানিয়ার চিহ্নিত শিবির ক্যাডার, নারী নির্যাতন মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও মোটরসাইকেল মেকানিকসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে মোটা অংকের লেনদেনও হয়েছে বলে আমি শুনেছি।

লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, লোহাগাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আমাদের কাছ থেকে কোন মতামত নেয়া তো দুরের কথা জানিও না কমিটি দেয়া হচ্ছে। সাতকানিয়া থেকে শিবির ক্যাডারকে ভাড়া করে এনে লোহাগাড়ায় নেতা বানানো হচ্ছে বিষয়টি বুঝলাম না। আর উপজেলা ও ইউপি নির্বাচনে প্রকাশ্যে নৌকার বিরোধিতা করা ও এলডিপির সভাপতির পক্ষে ভুমিকা পালনকারী ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি করা কর্ণেল অলির এজেন্ডা বাস্তবায়ন নয় কি? জেলা ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে প্রশ্ন রাখেন লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গত উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী খোরশেদ আলম চৌধুরী।

২৪ ঘণ্টা/আজাদ

Feb2

জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিন বাহিনীর অতর্কিত হামলার ঘটনায় আগে থেকে যথাযথ নজরদারি করতে না পারার কথা স্বীকার করেছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব এবং পুলিশের চৌকি ছিল। ঠিকভাবেই কাজ করা হচ্ছিল। তবে আমাদের কিছু দুর্বলতা ছিল। সেভাবে মনিটর করতে পারিনি।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘কোনোভাবেই ইয়াসিন বাহিনী বা অবৈধ দখলদার কেউ জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশ করতে পারবে না, টিকতেও পারবে না। আমরা তাদেরকে যেভাবেই হোক উচ্ছেদ করবই। এ পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন কোনো শক্তি নেই যে, সেখানে নতুন করে ঢুকতে পারবে।’

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও জানান র‍্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ঈদের জামাত ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, রাতের টহল ও নিরাপত্তা চৌকি বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক জোরপূর্বক কোনো হাটে নিতে না পারে, সে বিষয়েও র‍্যাব সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ফাঁকা ঢাকায় চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে দিন-রাত বাড়তি পেট্রোল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

পবিত্র হজ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র হজ আজ

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’… ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান। যার অর্থ: ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোন শরিক নেই।’

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। আজ প্রভাত থেকে আরাফার আদিগন্ত মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করছেন।

আজ ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত ২০ লক্ষাধিক মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারের বেশি।

আজ ৯ জিলহজ মূল হজের দিন তারা এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরো প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত। মুসলমানদের অতি পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে পুনরায় মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। জিলহজের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত।

মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে (আ.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন তার সবচেয়ে প্রিয় কিছু আল্লাহর জন্য কোরবানি করেন। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সবচেয়ে প্রিয়। মিনার এই স্থানে তিনি আল্লাহকে খুশি করতে যখন নিজের সবচেয়ে প্রিয় পুত্রকে নিয়ে যান, তখন সেখানে উপস্থিত হয় শয়তান। যেটি নবি ইব্রাহিমকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচনা দিচ্ছিল। ঐ সময় ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। এখন হাজিরা এ স্থানে প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মারেন।

মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ি তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ি তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরিফে পুনরায় সাত বার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজব্রত পালন।

এদিকে গতকাল সারা দিন ও রাতে হজযাত্রীরা মিনায় অবস্থান করেন। সেখানেই শুরু হয় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতি বছর হজের সময় মুসলিমদের অস্থায়ী আবাস হিসেবে মিনায় বসানো রাখা হয়েছে লাখ লাখ তাঁবু। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার অদূরের মিনা যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ। ফোমের নিচে বালু। মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

পবিত্র হজ উপলক্ষ্যে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। মোতায়েন আছে ১ লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

এদিকে সৌদিতে গতকাল গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরম। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছিল, তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের প্রাণঘাতী গরমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।