খুঁজুন
, ,

নবনির্বাচিত চসিক মেয়র নগরকে সন্ত্রাস,জলাবদ্ধতামুক্ত পরিচ্ছন্ন রূপে সাজাবেন এটাই প্রত্যাশা : শিক্ষা উপমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 15 February, 2021, 11:11 pm
নবনির্বাচিত চসিক মেয়র নগরকে সন্ত্রাস,জলাবদ্ধতামুক্ত পরিচ্ছন্ন রূপে সাজাবেন এটাই প্রত্যাশা : শিক্ষা উপমন্ত্রী

২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ : শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, নগরকে সুন্দর করতে নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। নয়তো নবনির্বাচিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সফল হতে পারবেন না। তিনি নবনির্বাচিত মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীকে সৃষ্টিশীল রাজনৈতিক কর্মী উল্লেখ করে সফলতা কামনার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর মধ্যে কর্মনিষ্ঠা প্রত্যাশা করেন।

নওফেল দায়িত্ব গ্রহনের পূর্বে চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনদের পরামর্শ মতামত নিতে সুধী সমাবেশ ডাকায় নতুন মেয়রকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। নবনির্বাচিত মেয়র প্রিয় এই নগরকে সন্ত্রাস, জলাবদ্ধতামুক্ত পরিচ্ছন্ন রূপে সাজাবেন এটাই প্রত্যাশা করি।

তিনি আজ সোমবার সকালে নগরীর ইনিঞ্জনিয়ার্স ইনস্টিটিউাশন হলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরীর দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ শামসুল হক চৌধুরী এমপি, চন্দনাইশ সাতকানিয়া (আংশিক) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও (আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দীন আহম্মেদ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সদ্য বিদায়ী প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, চসিকের প্রধান নির্বাহী কাজী মুহাম্মদ মোজম্মেল হক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.আনোয়ারুল আজিম আরিফ, ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ ছালাম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. শেখ শফিউল আজম, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে সভাপতি প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন, নবনির্বাচিত কাউন্সিলরদের মধ্যে সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ হারুন, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রদীপ চক্রবর্ত্তী, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর ভাইস চ্যান্সেলর ড. রফিকুল আলম, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন বাবুল, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, মুক্তিযোদ্ধা মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহাম্মেদ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা এভভোকেট সুনীল সরকার, বদিউল আলম, শ্রমিক নেতা শফর আলী, শেখ মোহাম্মদ ইসহাক, শফিক আদনান, শফিকুল ইসলাম ফারুক, আব্দুল আহাদ, মোহাম্মদ হোসেন, আবু তাহের, সৈয়দ হাসান মাহমুদ চৌধুরী শমসের, বখতিয়ার উদ্দিন খান, আবুল মনছুর, ফিরোজ আহাম্মেদ, জাহাঙ্গীর চৌধুরী সিএনসি, মোহাম্মদ আবু তাহের।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুহাম্মদ মফিদুল আলম, চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহম্মেদ, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাসেম, উপ-সচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপু।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন অর্থ বিত্ত নয়, আমার কাছে মুখ্য বিষয় হলো জনগণ ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা। জীবনে কখনো আদর্শচ্যুত হয়ে অনৈতিক পথে পা বাড়ায়নি। মেয়রের চেয়ারে বসেও কোন দুর্নীতি ও অসততার আশ্রয় নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। চট্টগ্রামকে নিয়ে আমার স্বপ্নের কথা আমি নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেছি। সেই অনুসারে সবার বুদ্ধি পরামর্শকে বিবেচনায় নিয়ে নগরীর সব সেবাসংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে নগারিকসেবা কার্যক্রম চলমান রাখবো।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিকট তাঁকে মনোনয়ন দেয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমি চেষ্টা করবো চট্টগ্রামকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রত্যাশা পূরণের। মো. রেজাউল করিম চৌধুরী নির্বাচিত মেয়রের নির্বাহী ক্ষমতা থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করে সকল সেবা সংস্থাকে চট্টগ্রামের উন্নয়নে সমন্বয়ের মাধ্যমে জবাবদিহীতার আওতায় আনার ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, মেয়র নির্বাচিত হয়েছি মানে চট্টগ্রাম শুধু মেয়রের নয়। প্রিয় এই চট্টগ্রাম নগরী সকল চট্টগ্রামবাসীর। নগরবাসীর প্রত্যাশা ও প্রধানমন্ত্রীর আস্থা বিশ্বাসের সেই মূল্য আমি নাগরিকসেবা দিয়ে পূরণ করতে চাই।

জাতীয় সংসদের হুইপ এম সামশুল হক নতুন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীকে সময়সূচী নির্ধারণ করে জনগণ তথা নগরবাসীকে সময় দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি চট্টগ্রামের স্থানীয় সংসদদের ডেকে মাঝে-মাঝে চা চক্রের আয়োজনের পাশাপাশি পরামর্শ নিতে বলেন। শামসুল হক বলেন, নতুন মেয়র বুদ্ধিমান ও কৌশলী। তিনি সফল হবেন এটাই প্রত্যাশা আমাদের। তিনি মহিলা কাউন্সিলরদেরও উন্নয়ন কাজের সাথে যুক্ত করবেন এটা আশা রাখি।

সংসদ সদ্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নতুন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ত্যাগী রাজনীতিক। আমার প্রত্যাশা চট্টগ্রামের স্বার্থে ও উন্নয়নের তাগিদে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মাঝে মাঝে ডেকে আলাপ-পরামর্শ করবেন। তিনি মহেশ খাল, চাক্তাই খাল খননের পর এরই দুই খালে ওয়াটারবাস চালু করতে নতুন মেয়রকে পরামর্শ দেন। এতে নগরীর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পাবে বলে উল্লেখ করেন এমপি নজরুল।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড। তাই চট্টগ্রামকে নিয়ে ভাবতে হবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য মেয়রের ভূমিকা আছে। তাই নতুন মেয়রকে চট্টগ্রাম নগরীর স্বার্থে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। মেয়রকে তাঁর সমস্যাগুলো সবার সাথে শেয়ার করতে হবে। মেয়র ডাকলে সব সেবাসংস্থা যাতে আসেন এর নিশ্চয়তা চাই।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম হচ্ছে দুধেল গাভী। চট্টগ্রাম দুধ দেয়, বাংলাদেশ তা খায়। তিনি বলেন, আজকে অনুষ্ঠানের আলোচকরা এখানে নগর সরকারের কথা বলেছেন। এই প্রস্তাব আমি ৩০ বছর পূর্বে দিয়েছিলাম। তখন কর্পোরেশনে কাউন্সিলর ছিলো তিন ধরনের। নির্বাচিত, অফিসিয়াল ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর। তখন অফিসিয়াল কাউন্সিলররা অর্থ্যাৎ নগরীর সেবাসংস্থার প্রধানদের চসিকের সাধারণ সভায় আসা লাগতো। এখন কেন আসেন না! তাদের আসাটা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ কেন করা হবে? এর সুরাহা হওয়া চাই। ঢাকায় পৌর করের হার ১৪% হলে চট্টগ্রামের পৌরকর ১৭% আদায় কেন হবে এর মিমাংসা হওয়া উচিত। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সম্মান মানে চট্টগ্রামের সম্মান উল্লেখ করে নগরীর স্বার্থে নবনির্বাচিত মেয়রের পদ মর্যাদা পূর্নমন্ত্রীর সম ও কাউন্সিলরদের পদমর্যাদা উপ-সচিবের সম করা উচিত বলে উল্লেখ করেন। যে আইন পাশ হয়েছে তিনি মেয়র থাকাকালে বলেন, নবনির্বাচিত মেয়র ও তাঁর নির্বাচিত পর্ষদকে স্মরণ করিয়ে দেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সদ্য বিদায়ী প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, আমি দায়িত্ব পেয়ে ৬ মাস চেষ্টা করেছি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে ঢেলে সাজাতে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনুধাবন করলাম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে খালি প্রত্যাশা করলে হবে না। কর্পোরেশনকে সক্রিয় করতে গেলে সরকারিভাবে চসিকের কর্তৃত্ব আইন করে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন রেজাউল করিম ভাই পরিক্ষীত। আমার প্রত্যাশা তিনি পৌরকর বাড়িয়ে কর্পোরেশনের আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন না। বিদায়ী প্রশাসক সুজন বলেন নগরীর অধিবাসীদের মধ্যে মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষ এই শহরের উপকারভোগী। বাকি ৮০ থেকে ৭০ শতাংশ সুবিধা নিচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর, রেলওয়ে, কাস্টমস, ওয়াসাসহ অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক বীমা স্টীল রিরোলিং মিলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন নগরে ৩০ হাজার ভারি যানবাহন চলে। এ শহরে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা হয় মূলত বন্দর কাস্টমস কেন্দ্রিক। অথচ শহরের সড়কগুলো ভারি যানবাহন লরি চলাচলের উপযোগী করে তৈরি করা যাচ্ছে না। কারণ অর্থের অভাব। তাই নগরবাসীর উপর পৌরকরের বোঝা চাপিয়ে নয়, নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারি বড় বড় প্রতিষ্ঠান ও বেসরাকরি প্রতিষ্ঠান থেকে ১ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। এই টাকাতেই চট্টগ্রাম অপরূপ সুন্দর নগরে পরিণত হবে।

বোয়ালখালী আসনের সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমি ১৯৭৩ সনে এই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কমিশনার ছিলাম। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বলবো, নতুন মেয়র স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। এটাই আশা রাখি। তিনি বিদায়ী প্রশাসকের সাথে নতুন মেয়রের ঘনিষ্ঠ সুসম্পর্ক আছে উল্লেখ করে প্রয়োজনে বিদায়ী প্রশাসকের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানান মেয়রকে। মোছলেম উদ্দীন কাউন্সিলরদেরও নগরীর উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা দেখবেন বলে প্রত্যাশা করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী নতুন মেয়রকে তাঁর ঘরের দুয়ার সর্ব সাধারনের জন্য উম্মুক্ত রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন আপনি জনগণের ও নগবাসীর মেয়র।

কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেলকে স্বাগত বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মোট ২৮ ধরনের নাগরিক সেবা প্রদান করে থাকে। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সেবা প্রদান করে চসিক। বর্তমানে নগরে সরকারের ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান আছে জানিয়ে কর্পোরেশনের সার্বিক কাজে নতুন মেয়রের পাশপাশি কাউন্সিলরগণের ইতিবাচক সহযোগিতা প্রত্যশা করেন। তিনি বলেন আইন অনুযায়ী কাউন্সিলররা পাবলিক সার্ভেন্ট। কাজেই তা বিবেচনা করে নাগরিক সেবা দিবেন এটা প্রত্যাশা করি।

শুরুতে পবিত্র কোরান তেলাওয়াত, গীতা পাঠ ও বাইবেল থেকে পাঠের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:56 pm
চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি::চট্টগ্রামের মুনছুরাবাদে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের কার্যালয়ের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, চট্টগ্রামের ইয়াবা সম্রাট নামে খ্যাত জয় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ নানা নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি করে । প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক জাত দ্রব্য বিক্রি হয় কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রেশন স্টোর ও পুলিশের ব্র্যাক থেকেও ইয়াবা সাপ্লাই করে জয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জয় এর এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে কিছু অসাধু গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য জড়িত । ফলে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে জয়।

‎অনুসন্ধানে জানাযায়, গনি আহামদের ছেলে জাবেদ ওরফে জয়, কাজীর দেউড়ি ২ নং গলির বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাকলিয়া থানার বলির হাট এলাকায় বসবাস করে।

সুত্র জানায়, ডিবি পুলিশের কনেস্টেবল আজাদ, রবিউল,  হানিফ, সঞ্জয়, আব্দুর রহিম, ইয়াবা সম্রাট জাবেদ ওরফে জয় এর সহযোগী বলে জানা গেছে।

‎এছাড়া কর্ণফুলী ক্লাব থেকে রূপসা বেকারী পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ জয়কে ডিবি অফিসার হিসাবে চিনে ও জানে, অনেকেই আবার জয়কে জয় স্যার বলে সম্বোধন করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য বলেন, আইনের লোকেরা যখন বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ে তখন কিছুই বলার থাকে না। পুলিশের ব্র্যাকে মাদক দ্রব্য রেখে গোয়েন্দা পুলিশের অফিসের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে চট্টগ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মিস্ত্রী পাড়ার বিপ্লব ও বউ বাজারে ডাইল নুরুকে নিয়ে জয় যে মাদকের হাট বসায় তা মেনে নেওয়ার নয়। গোয়েন্দা পুলিশের যে সদস্যরা জয়ের সাথে জড়িত তারা সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক তাদের টাকার দাপটে আমরা অসহায়। খোদ উর্ধ্বতনরাও টাকার কাছে জিম্মি বলে মনে হয়।

‎নেশাগ্রস্থ অবস্থায় জয় যখন পুলিশ ব্র্যাকে শুয়ে থাকে তখনও কিছুই বলার থাকেনা। সন্ধ্যা হলে নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আসে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে ।

‎সিএমপিতে দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার মাদক সম্ম্রাট ইছহাক, সোবহান, ও পাহারতলীর মাদক সম্ম্রাট টেক্সি জসিম আলমগীর ও কদম তলীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি আলো সহ আরো অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীর নিকট মাদক ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় করে আসছে।

ক্লাবের ভিতরে মাঠে চেয়ার নিয়ে বসে থাকে, জয় , ডাইল নুরু ও ইয়াবা সম্রাট বিপ্লব। পার্টি আসলে ব্র্যাক থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ে আসে অসাধু পুলিশ সদস্যরা।

‎এই বিষয়ে জয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। একবার বলেন আমি ফার্নিচার ব্যবসায়ী, আবার বলেন আমি এইসব ছেড়ে দিয়েছি। আবার অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলেন, আমি জানি কে এইসব আমার ব্যাপারে বলেছে। আপনার খবর নিয়ে দেখবো আপনি কে ?

‎মাদকের ব্যাপারে সারাদেশের প্রসাশন জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করলেও সিএমপি গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনে এমন কান্ডকে ভাবিয়ে তোলে সচেতন মহলকে।

‎এই বিষয়ে ডিসি (ডিবি উত্তর) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:29 pm
সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। একই আদেশে কয়েকজন ওসিকে বদলি এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে নতুন কর্মকর্তাদের থানায় পদায়ন করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক নুর আহমদকে কর্ণফুলী থানার ওসি, সিটিএসবির মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলশী থানার ওসি এবং কর্ণফুলী থানার বর্তমান ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিনকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিবি বন্দর জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডলকে হালিশহর থানার ওসি এবং খুলশী থানার বর্তমান ওসি মোজাম্মেল হককে পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাঁচলাইশ মডেল থানার বর্তমান ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে বদলি করে সিটিএসবিতে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটিএসবির মোহাম্মদ একরাম উল্লাহকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

সিএমপির জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 8:20 pm
পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি সুদৃঢ় করে সরকার ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে তাদের সুনাগরিক ও মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

আজ রোববার রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করার বৃহৎ দর্শন নিয়ে ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যেন তারা ঘরে বসেই উপার্জন করতে পারেন এবং এই আয়কে সরকার করমুক্ত ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্নয়ন বোর্ডকে নতুন নতুন স্কিম গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার জনগণের সেবক। সেবার মানসিকতা নিয়ে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে যেন জনগণকে সেবার জন্য বারবার অফিসে আসতে না হয়, বরং সেবা পৌঁছে যায় মানুষের দোরগোড়ায়। এসডিজি অর্জনে মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন বোর্ডকে সমন্বিত পরিবারের মতো কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি বোর্ডের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা, পেনশন সুবিধার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ এবং পাড়া কেন্দ্রের কর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ডিপিপি (DPP) সংশোধনের আশ্বাস দেন।

দিনব্যাপী সফরকালে প্রতিমন্ত্রী ৫০ জন নারীকে সেলাই মেশিন ও ২৫০টি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া তিনি রাঙ্গামাটি শিশু পার্কের ওয়াচ টাওয়ার, জেলা পরিষদের ই-লার্নিং সেন্টার এবং খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে মহাপুরম খালের ওপর ব্রিজের উদ্বোধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, সদস্য (পরিকল্পনা) জাহিদ ইকবালসহ সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।