খুঁজুন
, ,

গ্র‍্যান্ড লাইফ এক্সপোর প্রথম দিনে চট্টগ্রামে ‘কোভিড হিরোদের’ সম্মাননা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 20 February, 2021, 1:57 am
গ্র‍্যান্ড লাইফ এক্সপোর প্রথম দিনে চট্টগ্রামে ‘কোভিড হিরোদের’ সম্মাননা

২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ : করোনাভাইরাস মহামারীতে অসাধারণ উদ্যোগ ও অসামান্য অবদান রাখায় চট্টগ্রামে ৮ ব্যক্তি ও ১০টি সংগঠন ও ২টি প্রতিষ্ঠানকে ‘কোভিড হিরো’স অব চট্টগ্রাম’ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নগরীর পেনিনসুলা হােটেলের ডালিয়া হলে ‘গ্র্যান্ড লাইফ এক্সপাে-২০২১’ অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

চট্টগ্রামের তরুণ উদ্যোক্তাদের আয়ােজনে ১৯, ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি তিন দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন নবনির্বাচিত সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

বিএফইউজে’র নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক নেতা আজহার মাহমুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেই আমার মন উৎফুল্ল হয়েছে। আজকের এই অনুষ্ঠানের আয়োজকদের আমি ধন্যবাদ জানাই, কারণ তারা কোভিড হিরোদের সংবর্ধিত করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পশুর ঘরে জন্মগ্রহণ করলেই পশু হওয়া যায়। কিন্তু মানুষের ঘরে জন্মগ্রহণ করলেই মানুষ হওয়া যায় না। মানুষ হওয়ার জন্য মানবিকতা ও মনুষ্যত্ব থাকতে হয়, অর্জন করতে হয়। আমি আশা করবো এই সৃজনশীল ও মানবিক মানুষেরা আরও এগিয়ে যাবেন।’

চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের উদ্যোক্তা ও সিইও ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, ‘ফিল্ড হাসপাতাল ছোট একটা স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এখন এই হাসপাতাল এখন অনেক বড় হয়েছে, চট্টগ্রামবাসীর হাসপাতাল হয়েছে। এই হাসপাতাল আমার একার নয়, এর সাথে অনেক নিবেদিত প্রাণ মানুষেরা যুক্ত আছেন। আমি তাদের প্রতিনিধিত্ব করেছি মাত্র।’

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে একুশে পত্রিকা সম্পাদক ও চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের উদ্যোক্তা আজাদ তালুকদার বলেন, ‘আমি বরাবরই বিখ্যাত হওয়ার চেয়ে সুন্দর জীবনের অধিকারী হতে চেয়েছি। সেলিব্রিটি হওয়া, বিখ্যাত হওয়া কিংবা সম্মাননা পাওয়ার জন্য আমি ফিল্ড হাসপাতালের কাজের সাথে যুক্ত হইনি। সুন্দর জীবনবোধের অংশ হিসেবে ফিল্ড হাসপাতালের উদ্যোক্তা হিসেবে আমার যুক্ত হওয়া।’

র‌্যাংকস এফসি’র সিইও তানভীর শাহরিয়ার রিমন বলেন, ‘কোভিড হিরোদের নিয়ে বলতে গেলে আমাদের শ্রদ্ধেয় আজাদ তালুকদার, ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া, ওসি মহসিনদের কথা বলতে হয়। আমি কোভিড হিরো হওয়ার মত কিছু করিনি। তারপরও আমাকে এই সম্মাননা দেওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি৷ এই সম্মাননা আমাকে ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু করতে অনুপ্রেরণা যোগাবে।’

নগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি শাহ মুহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, ‘লকডাউন চলাকালীন সময়ে পুলিশ যখন সবাইকে ঘরে রাখতে চেষ্টা করছিল, তখন খেটে খাওয়া মানুষেরা কষ্ট পাচ্ছিলেন। সে সময় এসব খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে ২৪ হাজার পরিবারকে আমরা সহায়তা করার চেষ্টা করেছি। এটা আমাদের বড় একটি অর্জন বলা যায়। কি করতে পেরেছি তা জানি না, তবে মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও কমানোর প্রচেষ্টা করেছি।’

মহিউদ্দিন মাসুমের সঞ্চালনায় সম্মাননা অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের কোভিড হিরো হিসেবে আজাদ তালুকদার, ড. বিদ্যুৎ বড়ুয়া, এডভোকেট রেহানা বেগম রানু, তানভীর শাহরিয়ার রিমন, আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন লায়ন্স ক্লাব, গাওসিয়া কমিটি, আল-মানহিল কল্যাণ ফাউন্ডেশন, কর্ণফুলী ফাউন্ডেশনের সৈয়দ জালালউদ্দিন আহমেদ রুম্মান, অক্সিজেন ফর লাইফ ফাউন্ডেশনের রাকিব উদ্দিনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

এছাড়াও চেইঞ্জ মেকার অব চট্টগ্রামের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য আরশাদুল আলম বাচ্চু, অসীম কুমার দাশ, দৃষ্টি চট্টগ্রামকে। কর্পোরেট কোভিড কন্ট্রিবিউটর হিসেবে ইস্পাহানি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

‘হিরো ইন সার্ভিস’ হিসেবে নগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি শাহ মুহাম্মদ আব্দুর রউফ, সাংবাদিক নেতা সাইদুল ইসলাম, ডবলমুরিং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন, বাকলিয়া থানার ওসি রুহুল আমিন ও এসআই মৃণাল মজুমদারকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

সামাজিক সংগঠন এবিসি’র আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক লাইফ ফর লাইফ ও ওমেন্স কন্সেপ্ট।

Feb2
Feb2

নেপালে শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ নিখোঁজ ৪০০, নিহত ৫৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 7:59 pm
নেপালে শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ নিখোঁজ ৪০০, নিহত ৫৫

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ৪০০ জন পর্যটক নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ট্যুরিজম বোর্ডের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জনই বিদেশি নাগরিক। ১০৫ জন ভারতীয় এবং ১১১ জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনাক্ত হওয়া বাকিদের মধ্যে নেপালের স্থানীয়, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের নাগরিক আছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রাত সাড়ে ৭টার পর বার্তা সংস্থা রয়টার্স ৫৫ জন নিহতের তথ্য দিয়েছে। নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত বাড়ছে। এই বন্যায় প্রতিবেশী তিব্বতেও ‘ব্যাপক হতাহতের’ খবর দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি। দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বতে কৈলাস মানসসরোবরে যাওয়া প্রায় ৪০০ তীর্থযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

বুধবার ভোরে আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুওয়া জেলায় চীন সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, হিমালয় ঘেঁষা চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় সকালে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর শুরু হয় তুষারধস। সেখান থেকে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। শিশির খানাল জানান, তাঁর দেশ চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ২৬ পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সামরিক সদস্য নিখোঁজ আছেন।

এদিকে দ্য কাঠমান্ডু পোস্টকে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজন ভক্ত কায়স্থ জানিয়েছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, তুষারধস লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দিলে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। একই সময় ভূমিকম্পও অনুভূত হয়।

নেপাল পুলিশ ও এএফপির প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, নদীর প্রবল স্রোত আশপাশের বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কাদামাটির মধ্যে একটি বাড়ির শুধু ওপরের তলা বেরিয়ে আছে। নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তারা হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্যদের পাঠিয়েছে।

জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। বেশ কয়েকটি মহাসড়কও বন্ধ হয়ে গেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, নেপালের অংশে বন্যার কারণে তিব্বতের গিরং বন্দরে ব্যাপক হতাহত ও বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এসব প্রতিবেদনে তিব্বতে আহত বা নিহতের সংখ্যা জানানো হয়নি।

বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 6:24 pm
বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে এসব পণ্যের অনুকূলে দেওয়া বিএসটিআই লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য না কেনার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

আজ বুধবার বিএসটিআই জানিয়েছে, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে বেশ কিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেলেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হয়।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি। পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে তা ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারি পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান অনুযায়ী অকৃতকার্য হয়েছে। এসব মসলায় মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েলের তালিকায় রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।

পরীক্ষায় এসব ঘি ও বাটার অয়েলে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রোধে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন মহাপরিচালক।

জুলুসে জনসমুদ্র চট্টগ্রাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 2:35 pm
জুলুসে জনসমুদ্র চট্টগ্রাম

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে জশনে জুলুস। ৫৫তম জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দিয়েঠেন পাকিস্তানের দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.)। সঙ্গে ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ)।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঐতিহ্যের জশনে জুলুস শুরু হয়।

ভিড় পেরিয়ে সেই জুলুস অপরপ্রান্ত টাইগারপাসে পৌঁছে দুপুর সাড়ে ১২টায়। এ সময় আকাশ মেঘে ছেয়ে যায়, ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি শুরু হয়।

বৃষ্টিতে ভিজেই হুজুর কেবলার গাড়ি অনুসরণ করে জুলুস। আবার একই পথে ফিরে যায় জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে।

জুলুস অংশগ্রহণকারী ও পথচারীদের পানি, শরবত, খেজুর, কলা, বিরিয়ানি বিতরণ করছেন বিভিন্ন সংগঠন ও আগ্রহী মানুষেরা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাইরে প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক জলুসের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলুস চলাকালে লালখান বাজার-মুরাদপুর ফ্লাইওভার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ছিল।

জুলুসের কারণে বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে বাস, ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেলে আশেকরা আসেন নগরে। স্বাভাবিকভাবেই কিছু সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।

১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম নগরে এ জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

পীর আল্লামা সাবির শাহ বলেন, প্রিয় নবীর আগমনে খুশি উদযাপন করা কোরআন, হাদিস দ্বারা স্বীকৃত। আল্লাহ নেয়ামত প্রাপ্তিতে আনন্দ তথা ঈদ উদযাপন করতে বলেছেন। তাই সর্বকালের, সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (দ) প্রত্যেক সৃষ্টির জন্য নেয়ামত। জশনে জুলুস এমন একটা কর্মসূচি যেখানে শরীয়ত বিরোধী কোনো কাজ হয় না। কোরআন তেলাওয়াত, নাতে রাসুল (দ) পাঠ, রাসুলের সীরাত আলোচনা হয় এখানে। তাই ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করতে পারা ভাগ্যের ব্যাপার।

জুলুসে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এডিশনাল সেক্রেটারি আলহাজ শামসুদ্দিন, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দীন, ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মাহমুদ নেওয়াজ, মহিউদ্দিন খোকনসহ গাউসিয়া কমিটির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।