খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজয়ী নানার জয়ী দৌহিত্র ইমাম হুসাইন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ আগস্ট, ২০২১, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
বিজয়ী নানার জয়ী দৌহিত্র ইমাম হুসাইন

কাতলে হুসাইন আসল মে মারগে ইয়াযীদ হ্যায়, ইসলাম যিন্দাহ হোতা হায় হার কারবালা কে বা’দ।” অর্থাৎ, ইমাম হুসাইনের নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে ইয়াযীদেরই মৃত্যু ঘটেছে; ইসলাম প্রতিটি কারবালার পর পুনরুজ্জীবিত হয়। মুখে মুখে সমাদৃত এ সত্য উক্তি কারবালার দর্শনকে শানিত করে। মহাকবি আল্লামা ইকবালের এ পংক্তিটি কারবালায় বিজয়ী ও পরাজিত শক্তিকে এড্রেস করে দেয়। পরিস্কার জানিয়ে দেয় ইমাম হুসাইনই (রা.) বিজয়ী। বিজয়ী হুসাইনের অগ্রজ ইমাম হাসান (রা.)। বিজয় হুসাইনের গর্বিত পিতা বেলায়তের সূর্য মাওলা আলী (রা.)’র। সফলতার সৃষ্টি হুসাইনের রত্নগর্ভা জননী খাতুনে জান্নাত মা-ফাতেমা (রা.)’র জন্য। বিজয় হুসাইনের নানিজান আল্লাহর সালাম পাওয়া সৌভাগ্যবতী খাদিজাতুল কুবরা (রা.)’র। বিজয় ধ্বনি হুসাইনের নানাজান ইমামুল আম্বিয়া নূর নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দ.)’র দান। বিজয় হুসাইন খান্দানের। বিজয়ের সৃষ্টিই হুসাইনের সাওয়ারি মদিনার মুনিবের কদমে পাক থেকে। বিজয় শুধু ৬১ হিজরী সনে নয়। এ বিজয়ের সূচনা নীলগগন সৃষ্টির আগে। মালিকে হাক্বীকি মহান আল্লাহ জীব সৃষ্টির বহুকাল আগে সযত্নে নূরে মুহাম্মদি (দ.)-কে সৃষ্টি করে বিজয়ের বার্তা দিয়েছেন; অসত্য যত প্রখর হবে সত্যের সূর্যোদয় তত করিব হবে। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে তিমিরাছন্ন মক্কা নগরী মুনাওয়ার করে এ বিজনে সৃষ্টিমূল নূরে মোস্তাফা (দ.)’র আগমন মূলত মিথ্যার তিমির বিনাশী সত্যের নূর বিচ্ছুরণ। সমস্তপ্রকার সৃষ্টির মূলভিত্তি রহমতে কামেলার শুভাগমন। তাই তো মুমিন আত্মা গেয়ে উঠে ‘মোস্তফা জানে রহমাত পে লাখো সালাম’। মুমিন প্রাণে একচ্ছত্র আধিপত্য আল্লাহ-রাসূলের। মরুর দুলালের মহানুভবতার কাছে গোটা পৃথিবী নতজানু। ত্রিভুবন বিজয়ী প্রিয় মুহাম্মদ (দ.)’র শাহজাদার নাম ইমাম হুসাইন।

বিজয়ী নানার জয়ী দৌহিত্র ইমাম হুসাইন। ‘হুসাইন’ নিছক কোন নাম নয়; বরং নাম ‘হুসাইন’ রহমতের মালিকের দেওয়া জান্নাতি সুঘ্রাণ। হুসাইন সাধারণ কোন আরোহী নন; বরং হাবিবুল্লাহ (দ.)’র নূরানী কাঁধে আরোহীর নাম। মোস্তফা (দ.)’র নূরানী ঠোঁটের চিহ্ন অঙ্কিত শরীরের নাম ইমামে আলী মকাম। সৃষ্টির প্রাণ মোস্তফা (দ.)’র প্রশান্তি ইমাম হুসাইন। জান্নাতি লাল পোশাকাবৃত পবিত্র জিসিমের নাম হুসাইন ইবনে আলী। জান্নাতি ফুলের দুনিয়াবি নাম ইমাম হুসাইন। হুসাইন স্রেফ একটি ব্যক্তি নন; বরং হুসাইন একটি পৃথিবী। যে পৃথিবীতে মিথ্যার লেশমাত্র নেই। নেই অন্যায় ও অধর্মের স্থান। যে পৃথিবীতে আছে শান্তি আর মুক্তি। যে পৃথিবী হানাহানি মুক্ত, হিংসা বিদ্বেষের অস্তিত্বহীন। যে পৃথিবী প্রভুভক্তির ইমারতে গড়া। নবীপ্রেমের মজবুতিতে মুড়া। ইমাম হুসাইন একটি বিপ্লবের নাম। একটি সফল আন্দোলনের নাম। যে আন্দোলন একষট্টি হিজরির ১০ই মুহররম কারবালার প্রান্তর (ইরাকের ফোরাত প্রান্তর) থেকে চূড়ান্তভাবে শুরু হয়ে চলমান আছে আজ অবধি। চলবে কিয়ামততক। দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ, মাদক, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ইমাম হুসাইন নিঃসন্দেহে তেজোদ্দীপ্ত প্রেরণা। অভিশপ্ত ইয়াযীদের হাতে বায়াতের (আনুগত্য) অফার অগ্রাহ্য করে তার দুঃশাসন, স্বৈরাচারনীতি, অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড, ব্যভিচার, ঘৃণিত পদক্ষেপ ও গর্হিত অপরাধের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের নাম ইমাম হুসাইন। ইমাম হুসাইন একটি সাহসিকতার নাম। যে সাহসের কাছে ২২ হাজার সশস্ত্র জাহান্নামি ইয়াযীদী সৈন্য ভয়ে তরতর। ইমামে হুসাইন ধৈর্যের ইস্পাত-দৃঢ় সুউচ্চ মিনারের নাম। ইমাম হুসাইন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান পাঠ ধৈর্যের অনুশীলন। যেমন ধৈর্যের গুরুত্বারোপ করে সুরা বাকারার ১৫৩ নং আয়াতে আল্লাহর ঘোষণা- ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুছতা’ঈনূ বিসসাবরি ওয়াসসালা-তি; ইন্নাল্লা-হা মা’আসসাবিরীন। ধৈর্যই ইমাম হুসাইনের প্রধান ভূষণ। সে ধৈর্যের পাহাড়ের সামনে খোদার দ্বীন বাঁচাতে নিজের শক্তি আব্বাস আলমদারের দুই হাত কর্তিত নিথর দেহ; নিজের বুকের ধন আলী আকবরের রক্তাক্ত নিশ্চুপ শরীর; আদরের ভাই, স্নেহের ভাতিজা ও ভাগিনাদের রক্তস্নাত নিস্তব্ধ জিসিম; নবীবাগের নিষ্পাপ গোলাপ ছয়মাসের শিশু আলী আজগরের বিষাক্ত তীর বিদ্ধ নিষ্প্রাণ নূরানী শরীর; কন্যা সৈয়দা সকিনার তৃষ্ণার্ত শুকনো মুখ; স্ত্রী শাহরবানুর সন্তান হারানো বোবাকান্না; বোন জয়নাবের শোকাভিভূত চেহেরা; হুসাইন শিবিরে স্বজনহারানো গগনবিদারী আর্তনাদ ইমাম হুসাইনের সবরের পর্দায় একটুও আঘাত হানতে পারেনি। ফোরাতের পানি বন্ধ, পানির জন্য হাহাকার হৃদয়ে প্রশান্তির ফোয়ারা ইমাম হুসাইন। তৃষ্ণার্ত প্রাণে একটাই ভরসা নানাজান রহমাতুল্লিল আলামীন অমিয়সুধা হাউজে কাউসার নিয়ে অপেক্ষায় আছেন! একে একে ৭১টি তাজাপ্রাণের নিরুত্তাপ দেহ ইমামের কাঁদে উঠেছে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ করুন দৃশ্য অন্তরকে ভেঙে চুরমার করে দিলেও ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান ইমামে হুসাইন একটুও সাহস হারাননি। রক্তস্নাত ফোরাততীর সেদিন হু হু করে কেঁদেছিল নবী বংশের পবিত্র রক্ত বুকে মেখে। আকাশ বাতাস বৃক্ষলতা হুসাইন শোকে মাতম করেছিল সেদিন। আসমান ও জমিনবাসী কিয়ামত সন্নিকটে ভেবে ভীতসন্ত্রস্ত। এ হৃদয়বিদারক দৃশ্য নাড়া দিয়েছে ইতিহাসবিদ গিবনের জ্ঞানে। তাই তিনি বলেছে, In a distant age and climate the tragic scene of the death of Husayn will awaken the sympathy of the coldest reader. অর্থাৎ “সেই দূরবর্তী যুগে ও পরিবেশে ইমাম হুসাইনের মৃত্যুর শোকাবহ দৃশ্য কঠিনতম পাঠকের হৃদয়ে, সমবেদনার সঞ্চার করবে।”

ইমাম হুসাইন আপোষহীন এক বীরের নাম। স্ত্রী বিধবা হয়ে যাওয়ার শঙ্কা, সন্তান এতিম হয়ে যাওয়ার ভাবনা ইমামকে সত্যের দৃঢ়মূল পথ থেকে সরাতে পারেনি। অদম্য এক বীরপুরুষ ইমামে হুসাইন। জান যাবে যাক, ইসলাম বেঁচে থাক। এ শ্লোগানটিই ইমামের শির উন্নত রেখেছেন। প্রিয় নবী তথা নানার রেখে যাওয়া সত্য দ্বীন ইসলাম বাঁচতে চায়। জান বাঁচার অবলম্বন অক্সিজেন হলেও দ্বীন বাঁচার অবধারিত অবলম্বন হলো রক্ত। মুমূর্ষু দ্বীন ইসলাম হুসাইনের পবিত্র রক্তে ফের জান ফিরে পাবে। এটা তো জানে রহমত (দ.)’র সন্দেহাতীত ভবিষ্যদ্বাণী ছিলো।

তাতেও ত্যাগের প্রতিবিম্ব ইমাম হুসাইন ভয়ে মুখ লুকাননি। ইমাম হুসাইন একটি প্রেরণার নাম। ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়েও শান্তির বার্তা দিতে শেখায়। ইতিহাসবিদ ইবনে জারির তাবারির মতে, রক্তপাত বন্ধের দৃঢ়হৃদয়ে ইমাম হুসাইন ইয়াযীদ বাহিনীকে অসাধারণ তিনটি প্রস্তাব পেশ করেন। ইমামকে মদিনায় ফিরে যেতে দেয়া হোক কিংবা পাশ্ববর্তী যেকোনো সীমান্তে যেতে দেয়া হোক অথবা ইয়াযীদের সাথে আলোচনার জন্য তাকে দামেস্কে পাঠানো হোক। তার সাথে তিনি (ইমাম) বোঝাপড়া করে নেবেন। এতে সারা মিল্লাতের কল্যাণ নিহিত। কিন্তু ইবনে জিয়াদ নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে তার হাতে আনুগত্যের শপথ নিতে নির্লজ্জ আদেশ দেয়। সত্যের জিবন্ত উদাহরণ ইমাম হুসাইন ঘৃণাভরে তার এ আদেশ প্রত্যাখ্যান করেন। এ প্রসঙ্গে উইলিয়াম মুর বলেন, Well had it been for the Umayyad house, if the prayer had been agreed to. অর্থাৎ “ইমাম হুসাইনের সংলাপের এ অনুরোধ যদি মেনে নেয়া হতো, উমাইয়াদের জন্য মঙ্গল বয়ে আনত।”

ইমাম পারতেন ইয়াযীদের দুঃশাসনে নিশ্চুপ থেকে বিলাসী জীবন বরণ করতে। না স্বাধীনচেতা ইমাম হুসাইন সেই নির্লজ্জ প্রস্তাবে গা না ভাসিয়ে গ্রহণ করলেন সংগ্রামী জীবন। এটা তো নানাজান সৈয়দুল মুরসালিনের শিক্ষা। যেখানে লাত মানাত উজ্জার পূজার গান, সেখানে মোস্তফা (দ.)’র এক আল্লাহর শ্লোগান। যেখানে ফেরাউনের মিথ্যা ধর্মের ইমারত, সেখানেই মুসা (আ.)’র সত্য দ্বীনের রিয়াজত। যেখানে ইয়াযীদের অন্ধকার, সেখানেই হুসাইনী আফতাব। সেদিন ইমাম হুসাইন অন্যায়ের কাছে মাথানত না করে সত্যান্বেষণীদের অন্তরে চিরজীবী হয়ে গেছেন। আপাতত দৃষ্টিতে একষট্টি হিজরির শাহাদাতে কারবালায় কেউ কেউ ইয়াযীদের বিজয় দেখলেও বোদ্ধামহল ঘুনাক্ষরে হুসাইনের পরাজয় দেখছেন না। বরং সেদিন চুড়ান্ত বিজয়ের রাজমুকুট ইমাম হুসাইনের রক্তাক্ত নূরানী শিরেই দিচ্ছেন তাঁরা। ঐতিহাসিকদের মতে কারবালার ট্রাজেডিতে সাময়িক জয়লাভ ইয়াযীদ তথা উমাইয়া বংশের জন্য ছিল মূলত পরাজয়ের নামান্তর। কারবালার প্রান্তে নবী পরিবারের মর্মান্তিক, গগনস্পর্শী শাহাদাতের দৃশ্য সারা দুনিয়ার বিবেচক মানুষের কাছে ইয়াযীদকে বানিয়েছে খলনায়ক। তার উপর মানুষ এমনভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে যে, প্রায় চৌদ্দশ বছরেও কোনো মা তার ছেলের নাম ইয়াযীদ রাখেননি। আর অন্যদিকে অন্তঃসত্ত্বা মার ব্যকুলহৃদয় ফুটফুটে একটি পুত্র সন্তান দুনিয়ায় এলেই নাম দিব ‘হুসাইন’। ডায়রির কোনে অনেক পিতা লিখে রাখেন, পুত্র সন্তানের নাম হবে আলী আকবর বা আলী আজগর। আউট অফ সাইট, আউট অফ মাইন্ড থিউরিতে পরে কত শতবর্ষী মানুষ মরার আগেই মরে যায়। মানুষের স্মরণ থেকে চলে যায়। কিন্তু নবী বাগের গুলিস্তাঁ নওজোয়ান আলী আকবর আর দুধের শিশু আলী আজগর কোটি প্রাণে চিরসজীব। ইমাম হুসাইন সত্যের পক্ষে লড়াই করে শুধু সফলতার সর্বোচ্চ মঞ্জিল এচিভ করেছেন তা নয়; বরং মুসলিম প্রাণে অমরত্বও লাভ করেছেন। জয় করেছেন সুবিবেচকদের হৃদয়। অবশ্য ইমাম হুসাইনের ভালোবাসার নাম ঈমানও বটে। তাই ‘হুসাইন’ নামের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে, মুসলিম বিশ্বের প্রায় ব্যক্তির নামের আগে পরে ‘হুসাইন’ শব্দের অলঙ্করণযুক্ত। ইমাম হুসাইনের বিজয় আজও চলমান। মুসলিম প্রাণের রাজপ্রাসাদে ইমাম হুসাইনেরই বসবাস। পক্ষান্তরে ক্ষমতা দখলের সাড়ে তিন বছরের মাথায় বুজুর্গ পিতা আমিরে মোয়াবিয়া (রা.)’র অসিয়ত অমান্যকারী ইয়াযীদের ভাগ্যে করুন পরিনতি নেমে আসে। মাত্র অর্ধশত বছরের মধ্যেই নবী পরিবারকে কষ্ট দিয়ে উল্লাস করা নরপিশাচদের মর্মান্তিক মৃত্যুর স্বাক্ষী হয়েছিল সৃষ্টিকুল। সীমালঙ্ঘনকারী ইয়াযীদের কবর অযত্নে পড়ে আছে সিরিয়ার এক কবরস্থানে। যেকোনো জাতি-গোষ্ঠীর কাছে ইয়াযীদ অশুভশক্তির প্রতিশব্দ। অত্যাচারীর সমার্থক শব্দ হিসেবে ইয়াযীদ ব্যবহার করে মানুষ। কুফার সেই লোভী গভর্নর ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদেরও হয়েছিল মর্মান্তিক মৃত্যু। তার মস্তকও করা হয়েছে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন। তার আলোকিত রাজপ্রাসাদও কালের আবর্তে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যায়। আর ইমাম হুসাইন ও কারবালার শহীদগণ আমাদের স্মৃতির ক্যাম্পাসে চির অমলিন। আমাদের হৃদয়ের আকাশে ধ্রুবতারা।

ঈমান-ইসলামের সেতুবন্ধন ইমাম হুসাইন। দ্বীনের বাস্তব নির্যাস ইমাম হুসাইন। সুলতানুল হিন্দ খাজা গরীব নেওয়াজ কতইনা উত্তম বলেছেন, “শাহ আস্ত হুসাইন, বাদশাহ আস্ত হুসাইন। দ্বীন আস্ত হুসাইন, দ্বীন পানাহ আস্ত হুসাইন। সারদ্বাদ নাদ্বাদ, দাস্ত দ্বারে দাস্ত ইয়াজিদ। হাক্বকা কে বিনা লা-ইলাহা আস্ত হুসাইন।” পৃথিবীর যে প্রান্তে অন্যায়ের অন্ধকার নেমে আসবে, সে প্রান্তে হুসাইনী সূর্যোদয় অন্ধকার বিনাশীবে। জুলুমের দাবানল যতই ভয়াবহ হোক, হুসাইনী বারিধারার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করবেই। পৃথিবীর দেশে দেশে সত্যের পক্ষে অপ্রতিরোধ্য শক্তির অন্তরালে এক একজন ইমাম হুসাইন বাস করে বলে, আজ পর্যন্ত সব যৌক্তিক আন্দোলন সফল হয়েছে। আদর্শের প্রতীক হুসাইন। সিরাতুল মুস্তাকিমের পথিক হুসাইন। জান্নাতের যুবকদের নেতৃত্ব হাসনাইনে করিমাইনের দস্তে। ইমাম হুসাইন জয়ী। বিজয় হুসাইনীদের জন্যই।

চিরকাল হুসাইনী শক্তির কাছে ইয়াযীদী পরাশক্তি বধ হবেই। হায়দারী হাক শয়তানি ডাককে পরাভূত করবেই। সর্বজয়ী ইমাম হুসাইন শঙ্কিত আত্মায় প্রশান্তির আবেহায়াত। সত্য, সভ্য ও সুন্দরের জয় মানে হুসাইনের জয়। কারণ সত্য, সভ্য ও সুন্দরের বাস্তব সংজ্ঞা ইমামে হুসাইন। দুনিয়াবাসীর স্থীর বিশ্বাস ন্যায় ও ত্যাগের সুউচ্চ মিনার নন্দিত ইমাম হুসাইন। আর শয়তানের আপডেট ভার্সন হলো নিন্দিত ইয়াযীদ।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও সংগঠক
সাইফুল ইসলাম চৌধুরী
প্রতিষ্ঠাতা: আলো একাডেমি

Feb2

সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলীয় আসন সংখ্যার অনুপাতে জোটটি মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে এই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ তালিকাটি প্রকাশ করেন।

জামায়াতের আট নারী যাচ্ছেন সংসদে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যাচ্ছেন দুজন। এ ছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন এবং জুলাই শহীদ পরিবারের একজনকে নারী আসনের সংসদ সদস্য করা হচ্ছে এই জোট থেকে।

প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন— নুরুন্নিসা সিদ্দীকা (সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), মারজিয়া বেগম (সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী (আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি), নাজমুন নাহার নীলু (প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি), অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান (কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সাবেক সেক্রেটারি, সিলেট মহানগরী), সাজেদা সামাদ (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা), শামছুন্নাহার বেগম (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা), ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ (কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, নারী অধিকার আন্দোলন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মনিরা শারমিন (কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক) ও ডা. মাহমুদা আলম মিতু (কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব) এনসিপি। ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (সভাপতি, জাগপা) ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং রোকেয়া বেগম (জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা)।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্য ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে। সেই অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াত জোট ১৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি জোট ৩৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। দলের পক্ষ থেকে মনোনীত প্রার্থীদের এরই মধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো জুলাই বিপ্লবে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৬ বছর বয়সী শিশু জাবির। তার মায়ের এই মনোনয়নকে জোটের পক্ষ থেকে একটি সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় হওয়ায় আজ রাতেই সব শরিক দল চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। খাল খনন করতে পারলে বন্যার সময় মানুষ, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল রক্ষা করা যাবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বগুড়ার বাগবাড়ী নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে চৌকিদহ খালটা কাটলাম। এখানে যদি কোনো মুরুব্বি থাকেন- যাদের বয়স ৬০-৭০ এর বেশি, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, এই খালটা আমার আব্বা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে কেটেছিলেন। এই খালটা আমরা কাটলাম, প্রায় এক কিলোমিটার মতো লম্বা। এই খালটা কাটার ফলে বর্ষার সময় অতিবৃষ্টিতে আশেপাশে যে পানি উঠে, তা এখানে জমা হবে। আবার শুকনা মৌসুমে যখন পানি পাওয়া যায় না, তখন এই খালে পানি থাকলে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদের জন্য পানি পাবে। অর্থাৎ এলাকার মানুষের উপকার হবে।

স্থানীয়দের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চলুন আমরা এই খালটা পুনঃখনন করি, পানি ফিরিয়ে আনি। খালের দুই পাশে গাছ লাগাই। খালের মধ্যে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটাও দেখা হবে- যাতে এলাকার বেকার তরুণরা কাজ পায়। মা-বোনেরাও পাশে শাকসবজি চাষ করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ যেমন পানির কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। তাই খাল খনন জরুরি।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। এই খাল কাটাসহ যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা যেন সফল হয়-সেজন্য দোয়া করবেন। এটা তো নিজের বাড়ি, ঘরের লোকজন। কয়েকদিন পর আবার আসবো ইনশাআল্লাহ।

এর আগে দুপুর ২টায় নিজ জন্মভূমি বাগবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে বাগবাড়ীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। পরে বিকেল ৩টায় শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ মাঠে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন।

বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে পৌঁছালে খালের দুই পাড়ে অবস্থান নেওয়া হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

খাল খনন কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তাই সিরিজ হার ঠেকাতে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না স্বাগতিকদের। মিরপুরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কোনো ভুল করলেন না মেহেদী হাসান মিরাজরা। নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৯৮ রানে থেমে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। জবাবে ৮৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

১৯৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই চার হাঁকান বাংলাদেশের ওপেনার সাইফ হাসান। একই ওভারে আরও একটি চার মারেন তিনি। কিন্তু ৬ বলের বেশি খেলতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার। প্রথম ওভারের ষষ্ঠ বলেই সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৮ রান।

এরপর ক্রিজে আসেন সৌম্য সরকার। নিজের খেলা প্রথম বলেই দুই রান নেন সৌম্য। এরপর দেখে-শুনে খেলার ইঙ্গিত দিচ্ছিলো সৌম্যর ব্যাট। কিন্তু ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলেই হাঁকান এক দুর্দান্ত ছক্কা। একই ওভারের শেষ বলে ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন সৌম্য। তার ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ৮ রান।

তৃতীয় উইকেটে ব্যাট করতে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাকে নিয়েই দলীয় স্কোর বড় করতে থাকেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দুজন মিলে গড়েন ১২০ রানের জুটি। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। এই দুই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পান। তবে জয় নিয়ে ফিরতে পারেননি দুজনের কেউই।

জেইডেন লেনক্সের করা বলে কটবিহাইন্ড হওয়ার আগে ৭৬ রান করেন তিনি। মাত্র ৫৮ বলে খেলা ইনিংসটি ১০টি চার ও চারটি ছয়ে সাজানো। শান্ত অবশ্য আউট হননি। রিটায়ার্ট হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ৭১ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৫০ রান করেন তিনি।

এর আগে মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে সুবিধা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয় বাংলাদেশ। দুটি উইকেটই নেন নাহিদ। অষ্টম ওভারে হেনরি নিকোলসকে ১৩ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশি পেসার। পরের ওভারেও প্রথম বলে তিনি উইল ইয়াংকে (৭) সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানান তিনি। পরে সৌম্য সরকার তুলে নেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম লাথামের উইকেট। ৩৫ বলে ১৪ রান করেন তিনি।

৫২ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর নিউজিল্যান্ডের ওপেনার নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস ৫৬ রানের জুটি গড়েন। ২৭তম ওভারের শেষ বলে ফিফটি করেন কেলি। আব্বাসকে ১৯ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ। উড়ন্ত ক্যাচে তাকে ফেরান লিটন। কেলি সেঞ্চুরির বেশ কাছে গিয়েও ব্যর্থ হন। শরিফুল ইসলাম তাকে ৮৩ রানে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান। কিউই ওপেনারের ১০২ বলের ইনিংসে ছিল ১৪ চার।

সেট ব্যাটার আউট হওয়ার পর ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন। জশ ক্লার্কসনকে আউট করেন রিশাদ হোসেন। আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ডিন ফক্সক্রফট ১৫ রান করে নাহিদের শিকার হন। ব্লেয়ার টিকনারকে বদলি ফিল্ডার আফিফ হোসেনের ক্যাচ বানান শরিফুল।

নিজের শেষ ওভারে নাহিদ পঞ্চম উইকেট তুলে নেন। জেইডেন লেনক্স খালি হাতে ফেরেন বাংলাদেশি পেসারের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে। ১৮৩ রানে ৯ উইকেট তোলার পর নিউজিল্যান্ডকে দুইশর মধ্যে আটকানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কাভারে নাথান স্মিথের কঠিন ক্যাচ নিতে না পারার প্রায়শ্চিত্ত কিছুক্ষণ পরই করেন তাওহীদ হৃদয়। তাসকিন আহমেদের বলে উইলিয়াম ও’রোর্কের ক্যাচ নেন তিনি। ৪৮.৪ ওভারে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।