খুঁজুন
, ,

বিজয়ী নানার জয়ী দৌহিত্র ইমাম হুসাইন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 20 August, 2021, 3:36 pm
বিজয়ী নানার জয়ী দৌহিত্র ইমাম হুসাইন

কাতলে হুসাইন আসল মে মারগে ইয়াযীদ হ্যায়, ইসলাম যিন্দাহ হোতা হায় হার কারবালা কে বা’দ।” অর্থাৎ, ইমাম হুসাইনের নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে ইয়াযীদেরই মৃত্যু ঘটেছে; ইসলাম প্রতিটি কারবালার পর পুনরুজ্জীবিত হয়। মুখে মুখে সমাদৃত এ সত্য উক্তি কারবালার দর্শনকে শানিত করে। মহাকবি আল্লামা ইকবালের এ পংক্তিটি কারবালায় বিজয়ী ও পরাজিত শক্তিকে এড্রেস করে দেয়। পরিস্কার জানিয়ে দেয় ইমাম হুসাইনই (রা.) বিজয়ী। বিজয়ী হুসাইনের অগ্রজ ইমাম হাসান (রা.)। বিজয় হুসাইনের গর্বিত পিতা বেলায়তের সূর্য মাওলা আলী (রা.)’র। সফলতার সৃষ্টি হুসাইনের রত্নগর্ভা জননী খাতুনে জান্নাত মা-ফাতেমা (রা.)’র জন্য। বিজয় হুসাইনের নানিজান আল্লাহর সালাম পাওয়া সৌভাগ্যবতী খাদিজাতুল কুবরা (রা.)’র। বিজয় ধ্বনি হুসাইনের নানাজান ইমামুল আম্বিয়া নূর নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দ.)’র দান। বিজয় হুসাইন খান্দানের। বিজয়ের সৃষ্টিই হুসাইনের সাওয়ারি মদিনার মুনিবের কদমে পাক থেকে। বিজয় শুধু ৬১ হিজরী সনে নয়। এ বিজয়ের সূচনা নীলগগন সৃষ্টির আগে। মালিকে হাক্বীকি মহান আল্লাহ জীব সৃষ্টির বহুকাল আগে সযত্নে নূরে মুহাম্মদি (দ.)-কে সৃষ্টি করে বিজয়ের বার্তা দিয়েছেন; অসত্য যত প্রখর হবে সত্যের সূর্যোদয় তত করিব হবে। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে তিমিরাছন্ন মক্কা নগরী মুনাওয়ার করে এ বিজনে সৃষ্টিমূল নূরে মোস্তাফা (দ.)’র আগমন মূলত মিথ্যার তিমির বিনাশী সত্যের নূর বিচ্ছুরণ। সমস্তপ্রকার সৃষ্টির মূলভিত্তি রহমতে কামেলার শুভাগমন। তাই তো মুমিন আত্মা গেয়ে উঠে ‘মোস্তফা জানে রহমাত পে লাখো সালাম’। মুমিন প্রাণে একচ্ছত্র আধিপত্য আল্লাহ-রাসূলের। মরুর দুলালের মহানুভবতার কাছে গোটা পৃথিবী নতজানু। ত্রিভুবন বিজয়ী প্রিয় মুহাম্মদ (দ.)’র শাহজাদার নাম ইমাম হুসাইন।

বিজয়ী নানার জয়ী দৌহিত্র ইমাম হুসাইন। ‘হুসাইন’ নিছক কোন নাম নয়; বরং নাম ‘হুসাইন’ রহমতের মালিকের দেওয়া জান্নাতি সুঘ্রাণ। হুসাইন সাধারণ কোন আরোহী নন; বরং হাবিবুল্লাহ (দ.)’র নূরানী কাঁধে আরোহীর নাম। মোস্তফা (দ.)’র নূরানী ঠোঁটের চিহ্ন অঙ্কিত শরীরের নাম ইমামে আলী মকাম। সৃষ্টির প্রাণ মোস্তফা (দ.)’র প্রশান্তি ইমাম হুসাইন। জান্নাতি লাল পোশাকাবৃত পবিত্র জিসিমের নাম হুসাইন ইবনে আলী। জান্নাতি ফুলের দুনিয়াবি নাম ইমাম হুসাইন। হুসাইন স্রেফ একটি ব্যক্তি নন; বরং হুসাইন একটি পৃথিবী। যে পৃথিবীতে মিথ্যার লেশমাত্র নেই। নেই অন্যায় ও অধর্মের স্থান। যে পৃথিবীতে আছে শান্তি আর মুক্তি। যে পৃথিবী হানাহানি মুক্ত, হিংসা বিদ্বেষের অস্তিত্বহীন। যে পৃথিবী প্রভুভক্তির ইমারতে গড়া। নবীপ্রেমের মজবুতিতে মুড়া। ইমাম হুসাইন একটি বিপ্লবের নাম। একটি সফল আন্দোলনের নাম। যে আন্দোলন একষট্টি হিজরির ১০ই মুহররম কারবালার প্রান্তর (ইরাকের ফোরাত প্রান্তর) থেকে চূড়ান্তভাবে শুরু হয়ে চলমান আছে আজ অবধি। চলবে কিয়ামততক। দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ, মাদক, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ইমাম হুসাইন নিঃসন্দেহে তেজোদ্দীপ্ত প্রেরণা। অভিশপ্ত ইয়াযীদের হাতে বায়াতের (আনুগত্য) অফার অগ্রাহ্য করে তার দুঃশাসন, স্বৈরাচারনীতি, অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড, ব্যভিচার, ঘৃণিত পদক্ষেপ ও গর্হিত অপরাধের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের নাম ইমাম হুসাইন। ইমাম হুসাইন একটি সাহসিকতার নাম। যে সাহসের কাছে ২২ হাজার সশস্ত্র জাহান্নামি ইয়াযীদী সৈন্য ভয়ে তরতর। ইমামে হুসাইন ধৈর্যের ইস্পাত-দৃঢ় সুউচ্চ মিনারের নাম। ইমাম হুসাইন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান পাঠ ধৈর্যের অনুশীলন। যেমন ধৈর্যের গুরুত্বারোপ করে সুরা বাকারার ১৫৩ নং আয়াতে আল্লাহর ঘোষণা- ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুছতা’ঈনূ বিসসাবরি ওয়াসসালা-তি; ইন্নাল্লা-হা মা’আসসাবিরীন। ধৈর্যই ইমাম হুসাইনের প্রধান ভূষণ। সে ধৈর্যের পাহাড়ের সামনে খোদার দ্বীন বাঁচাতে নিজের শক্তি আব্বাস আলমদারের দুই হাত কর্তিত নিথর দেহ; নিজের বুকের ধন আলী আকবরের রক্তাক্ত নিশ্চুপ শরীর; আদরের ভাই, স্নেহের ভাতিজা ও ভাগিনাদের রক্তস্নাত নিস্তব্ধ জিসিম; নবীবাগের নিষ্পাপ গোলাপ ছয়মাসের শিশু আলী আজগরের বিষাক্ত তীর বিদ্ধ নিষ্প্রাণ নূরানী শরীর; কন্যা সৈয়দা সকিনার তৃষ্ণার্ত শুকনো মুখ; স্ত্রী শাহরবানুর সন্তান হারানো বোবাকান্না; বোন জয়নাবের শোকাভিভূত চেহেরা; হুসাইন শিবিরে স্বজনহারানো গগনবিদারী আর্তনাদ ইমাম হুসাইনের সবরের পর্দায় একটুও আঘাত হানতে পারেনি। ফোরাতের পানি বন্ধ, পানির জন্য হাহাকার হৃদয়ে প্রশান্তির ফোয়ারা ইমাম হুসাইন। তৃষ্ণার্ত প্রাণে একটাই ভরসা নানাজান রহমাতুল্লিল আলামীন অমিয়সুধা হাউজে কাউসার নিয়ে অপেক্ষায় আছেন! একে একে ৭১টি তাজাপ্রাণের নিরুত্তাপ দেহ ইমামের কাঁদে উঠেছে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ করুন দৃশ্য অন্তরকে ভেঙে চুরমার করে দিলেও ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান ইমামে হুসাইন একটুও সাহস হারাননি। রক্তস্নাত ফোরাততীর সেদিন হু হু করে কেঁদেছিল নবী বংশের পবিত্র রক্ত বুকে মেখে। আকাশ বাতাস বৃক্ষলতা হুসাইন শোকে মাতম করেছিল সেদিন। আসমান ও জমিনবাসী কিয়ামত সন্নিকটে ভেবে ভীতসন্ত্রস্ত। এ হৃদয়বিদারক দৃশ্য নাড়া দিয়েছে ইতিহাসবিদ গিবনের জ্ঞানে। তাই তিনি বলেছে, In a distant age and climate the tragic scene of the death of Husayn will awaken the sympathy of the coldest reader. অর্থাৎ “সেই দূরবর্তী যুগে ও পরিবেশে ইমাম হুসাইনের মৃত্যুর শোকাবহ দৃশ্য কঠিনতম পাঠকের হৃদয়ে, সমবেদনার সঞ্চার করবে।”

ইমাম হুসাইন আপোষহীন এক বীরের নাম। স্ত্রী বিধবা হয়ে যাওয়ার শঙ্কা, সন্তান এতিম হয়ে যাওয়ার ভাবনা ইমামকে সত্যের দৃঢ়মূল পথ থেকে সরাতে পারেনি। অদম্য এক বীরপুরুষ ইমামে হুসাইন। জান যাবে যাক, ইসলাম বেঁচে থাক। এ শ্লোগানটিই ইমামের শির উন্নত রেখেছেন। প্রিয় নবী তথা নানার রেখে যাওয়া সত্য দ্বীন ইসলাম বাঁচতে চায়। জান বাঁচার অবলম্বন অক্সিজেন হলেও দ্বীন বাঁচার অবধারিত অবলম্বন হলো রক্ত। মুমূর্ষু দ্বীন ইসলাম হুসাইনের পবিত্র রক্তে ফের জান ফিরে পাবে। এটা তো জানে রহমত (দ.)’র সন্দেহাতীত ভবিষ্যদ্বাণী ছিলো।

তাতেও ত্যাগের প্রতিবিম্ব ইমাম হুসাইন ভয়ে মুখ লুকাননি। ইমাম হুসাইন একটি প্রেরণার নাম। ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়েও শান্তির বার্তা দিতে শেখায়। ইতিহাসবিদ ইবনে জারির তাবারির মতে, রক্তপাত বন্ধের দৃঢ়হৃদয়ে ইমাম হুসাইন ইয়াযীদ বাহিনীকে অসাধারণ তিনটি প্রস্তাব পেশ করেন। ইমামকে মদিনায় ফিরে যেতে দেয়া হোক কিংবা পাশ্ববর্তী যেকোনো সীমান্তে যেতে দেয়া হোক অথবা ইয়াযীদের সাথে আলোচনার জন্য তাকে দামেস্কে পাঠানো হোক। তার সাথে তিনি (ইমাম) বোঝাপড়া করে নেবেন। এতে সারা মিল্লাতের কল্যাণ নিহিত। কিন্তু ইবনে জিয়াদ নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে তার হাতে আনুগত্যের শপথ নিতে নির্লজ্জ আদেশ দেয়। সত্যের জিবন্ত উদাহরণ ইমাম হুসাইন ঘৃণাভরে তার এ আদেশ প্রত্যাখ্যান করেন। এ প্রসঙ্গে উইলিয়াম মুর বলেন, Well had it been for the Umayyad house, if the prayer had been agreed to. অর্থাৎ “ইমাম হুসাইনের সংলাপের এ অনুরোধ যদি মেনে নেয়া হতো, উমাইয়াদের জন্য মঙ্গল বয়ে আনত।”

ইমাম পারতেন ইয়াযীদের দুঃশাসনে নিশ্চুপ থেকে বিলাসী জীবন বরণ করতে। না স্বাধীনচেতা ইমাম হুসাইন সেই নির্লজ্জ প্রস্তাবে গা না ভাসিয়ে গ্রহণ করলেন সংগ্রামী জীবন। এটা তো নানাজান সৈয়দুল মুরসালিনের শিক্ষা। যেখানে লাত মানাত উজ্জার পূজার গান, সেখানে মোস্তফা (দ.)’র এক আল্লাহর শ্লোগান। যেখানে ফেরাউনের মিথ্যা ধর্মের ইমারত, সেখানেই মুসা (আ.)’র সত্য দ্বীনের রিয়াজত। যেখানে ইয়াযীদের অন্ধকার, সেখানেই হুসাইনী আফতাব। সেদিন ইমাম হুসাইন অন্যায়ের কাছে মাথানত না করে সত্যান্বেষণীদের অন্তরে চিরজীবী হয়ে গেছেন। আপাতত দৃষ্টিতে একষট্টি হিজরির শাহাদাতে কারবালায় কেউ কেউ ইয়াযীদের বিজয় দেখলেও বোদ্ধামহল ঘুনাক্ষরে হুসাইনের পরাজয় দেখছেন না। বরং সেদিন চুড়ান্ত বিজয়ের রাজমুকুট ইমাম হুসাইনের রক্তাক্ত নূরানী শিরেই দিচ্ছেন তাঁরা। ঐতিহাসিকদের মতে কারবালার ট্রাজেডিতে সাময়িক জয়লাভ ইয়াযীদ তথা উমাইয়া বংশের জন্য ছিল মূলত পরাজয়ের নামান্তর। কারবালার প্রান্তে নবী পরিবারের মর্মান্তিক, গগনস্পর্শী শাহাদাতের দৃশ্য সারা দুনিয়ার বিবেচক মানুষের কাছে ইয়াযীদকে বানিয়েছে খলনায়ক। তার উপর মানুষ এমনভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে যে, প্রায় চৌদ্দশ বছরেও কোনো মা তার ছেলের নাম ইয়াযীদ রাখেননি। আর অন্যদিকে অন্তঃসত্ত্বা মার ব্যকুলহৃদয় ফুটফুটে একটি পুত্র সন্তান দুনিয়ায় এলেই নাম দিব ‘হুসাইন’। ডায়রির কোনে অনেক পিতা লিখে রাখেন, পুত্র সন্তানের নাম হবে আলী আকবর বা আলী আজগর। আউট অফ সাইট, আউট অফ মাইন্ড থিউরিতে পরে কত শতবর্ষী মানুষ মরার আগেই মরে যায়। মানুষের স্মরণ থেকে চলে যায়। কিন্তু নবী বাগের গুলিস্তাঁ নওজোয়ান আলী আকবর আর দুধের শিশু আলী আজগর কোটি প্রাণে চিরসজীব। ইমাম হুসাইন সত্যের পক্ষে লড়াই করে শুধু সফলতার সর্বোচ্চ মঞ্জিল এচিভ করেছেন তা নয়; বরং মুসলিম প্রাণে অমরত্বও লাভ করেছেন। জয় করেছেন সুবিবেচকদের হৃদয়। অবশ্য ইমাম হুসাইনের ভালোবাসার নাম ঈমানও বটে। তাই ‘হুসাইন’ নামের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে, মুসলিম বিশ্বের প্রায় ব্যক্তির নামের আগে পরে ‘হুসাইন’ শব্দের অলঙ্করণযুক্ত। ইমাম হুসাইনের বিজয় আজও চলমান। মুসলিম প্রাণের রাজপ্রাসাদে ইমাম হুসাইনেরই বসবাস। পক্ষান্তরে ক্ষমতা দখলের সাড়ে তিন বছরের মাথায় বুজুর্গ পিতা আমিরে মোয়াবিয়া (রা.)’র অসিয়ত অমান্যকারী ইয়াযীদের ভাগ্যে করুন পরিনতি নেমে আসে। মাত্র অর্ধশত বছরের মধ্যেই নবী পরিবারকে কষ্ট দিয়ে উল্লাস করা নরপিশাচদের মর্মান্তিক মৃত্যুর স্বাক্ষী হয়েছিল সৃষ্টিকুল। সীমালঙ্ঘনকারী ইয়াযীদের কবর অযত্নে পড়ে আছে সিরিয়ার এক কবরস্থানে। যেকোনো জাতি-গোষ্ঠীর কাছে ইয়াযীদ অশুভশক্তির প্রতিশব্দ। অত্যাচারীর সমার্থক শব্দ হিসেবে ইয়াযীদ ব্যবহার করে মানুষ। কুফার সেই লোভী গভর্নর ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদেরও হয়েছিল মর্মান্তিক মৃত্যু। তার মস্তকও করা হয়েছে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন। তার আলোকিত রাজপ্রাসাদও কালের আবর্তে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যায়। আর ইমাম হুসাইন ও কারবালার শহীদগণ আমাদের স্মৃতির ক্যাম্পাসে চির অমলিন। আমাদের হৃদয়ের আকাশে ধ্রুবতারা।

ঈমান-ইসলামের সেতুবন্ধন ইমাম হুসাইন। দ্বীনের বাস্তব নির্যাস ইমাম হুসাইন। সুলতানুল হিন্দ খাজা গরীব নেওয়াজ কতইনা উত্তম বলেছেন, “শাহ আস্ত হুসাইন, বাদশাহ আস্ত হুসাইন। দ্বীন আস্ত হুসাইন, দ্বীন পানাহ আস্ত হুসাইন। সারদ্বাদ নাদ্বাদ, দাস্ত দ্বারে দাস্ত ইয়াজিদ। হাক্বকা কে বিনা লা-ইলাহা আস্ত হুসাইন।” পৃথিবীর যে প্রান্তে অন্যায়ের অন্ধকার নেমে আসবে, সে প্রান্তে হুসাইনী সূর্যোদয় অন্ধকার বিনাশীবে। জুলুমের দাবানল যতই ভয়াবহ হোক, হুসাইনী বারিধারার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করবেই। পৃথিবীর দেশে দেশে সত্যের পক্ষে অপ্রতিরোধ্য শক্তির অন্তরালে এক একজন ইমাম হুসাইন বাস করে বলে, আজ পর্যন্ত সব যৌক্তিক আন্দোলন সফল হয়েছে। আদর্শের প্রতীক হুসাইন। সিরাতুল মুস্তাকিমের পথিক হুসাইন। জান্নাতের যুবকদের নেতৃত্ব হাসনাইনে করিমাইনের দস্তে। ইমাম হুসাইন জয়ী। বিজয় হুসাইনীদের জন্যই।

চিরকাল হুসাইনী শক্তির কাছে ইয়াযীদী পরাশক্তি বধ হবেই। হায়দারী হাক শয়তানি ডাককে পরাভূত করবেই। সর্বজয়ী ইমাম হুসাইন শঙ্কিত আত্মায় প্রশান্তির আবেহায়াত। সত্য, সভ্য ও সুন্দরের জয় মানে হুসাইনের জয়। কারণ সত্য, সভ্য ও সুন্দরের বাস্তব সংজ্ঞা ইমামে হুসাইন। দুনিয়াবাসীর স্থীর বিশ্বাস ন্যায় ও ত্যাগের সুউচ্চ মিনার নন্দিত ইমাম হুসাইন। আর শয়তানের আপডেট ভার্সন হলো নিন্দিত ইয়াযীদ।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও সংগঠক
সাইফুল ইসলাম চৌধুরী
প্রতিষ্ঠাতা: আলো একাডেমি

Feb2
Feb2

তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে নিকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 4:05 pm
তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে নিকার

তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ (নিকার)।

উপজেলা তিনটি হচ্ছে- চট্টগ্রামের ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহের ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’। একটি নতুন থানা হচ্ছে চট্টগ্রামের ‘হালদা’।

বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকার ১২১তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে এসব উপজেলা ও থানা অনুমোদন দেওয়া হয়।

এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পূর্বাঞ্চল নতুন শহর প্রকল্প এলাকার নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলা প্রকল্পের অংশগুলো ঢাকার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নিকার প্রস্তাব অনুযায়ী তিনটি নতুন উপজেলা হচ্ছে, চট্টগ্রাম জেলা ফটিকছড়ি উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে ভাগ করে ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা।

চট্টগ্রামের হাটাজারি থানাকে বিভক্ত করে গঠন করা হয়েছে ‘হালদা থানা’।

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকার বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

গাঢ় নীল-হালকা জলপাই শার্ট ও খাকি প্যান্টে ফিরলো পুলিশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 3:40 pm
গাঢ় নীল-হালকা জলপাই শার্ট ও খাকি প্যান্টে ফিরলো পুলিশ

গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙয়ের শার্ট এবং খাকি রঙের প্যান্টে ফিরলো পুলিশ। ৫ আগস্টের পরই পুলিশকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে পোশাক পরিবর্তন করা হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেটি আবার বদলানোর সিদ্ধান্ত হয়।

বিএনপি সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের পর আজ বুধবার (১ জুলাই) গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙয়ের শার্ট এবং খাকি রঙের প্যান্টের নতুন ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেলো পুলিশ কর্মকর্তাদের।

বুধবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে গাঢ় নীল শার্টে ও খাকি প্যান্টে এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে হালকা জলপাই রঙয়ের শার্ট ও খাকি প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।

ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ জানান, আজকে থেকে নতুন পোশাক পরছে পুলিশ সদস্যরা। এখনো সব পুলিশ সদস্যের হাতে পৌঁছেনি নতুন পোশাক। পর্যায়ক্রমে সব সদস্যই পাবেন। যারা পেয়েছেন তারা নতুন ইউনিফর্মেই দায়িত্ব পালন করছেন।

এখানে উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে সংস্কারের দাবি ওঠে। উঠে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের দাবিও। গত বছর ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুলিশের শার্টের রং আইরন বা লোহা-ধূসর, আর প্যান্টের রং ছিল কফি শেল বা কফি-বাদামি ধূসর করা হয়। গত বছরের ২৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ।

যদিও সেই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক পুলিশ সদস্য পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। পোশাকের রং নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

নির্বাচিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসতেই নতুন করে পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের দাবি উঠে। গত ১৮ জুন পোশাকের রঙ পরিবর্তন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর।

প্রজ্ঞাপনে পুলিশের শার্ট ও প্যান্টের পাশাপাশি জার্সি, কার্ডিগান, পুলওভার, জ্যাকেট, নারীদের পোশাক, মাথার আবরণ এবং পূর্ণহাতা পোশাকের রং–সংক্রান্ত বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়।

নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগে লোহা-ধূসর রঙের শার্টের ওপর লোহা-ধূসর রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার ব্যবহারের কথা ছিল। নতুন বিধানে সেটির পরিবর্তে নীল রঙের শার্টের ওপর গাঢ় নীল রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার যুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলা পুলিশ এবং এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র‍্যাব ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে ট্রাউজার হবে খাকি রঙের টিসি টুইল কাপড়ের। শার্ট হবে গাঢ় নীল রঙের টিসি প্লেইন ফেব্রিক কাপড়ের। শার্টের সামনে চারটি পকেট থাকবে। সামনের অংশে সমদূরত্বে সাতটি বোতাম থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে নারী পুলিশের পোশাকের বিষয়েও বিস্তারিত বলা হয়। নারী পুলিশ চাইলে শাড়ি পরতে পারবেন। জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে গাঢ় নীল ব্লাউজ পরা যাবে। মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে হালকা জলপাই রঙের ব্লাউজের কথা বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নারী পুলিশ সদস্যরা চাইলে মাথার আবরণ ব্যবহার করতে পারবেন। ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত নারী পুলিশ সদস্যরাও সারা বছর পূর্ণহাতা শার্ট বা ব্লাউজ পরতে পারবেন। গর্ভাবস্থায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটপ্রধানের পূর্বানুমোদন নিয়ে নারী পুলিশ সদস্য সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে মৌসুম অনুযায়ী শার্টের ধরনও নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালে শার্ট হবে অর্ধহাতা। শীতকালে শার্ট হবে পূর্ণহাতা। মাথার আবরণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সেটি অনুমোদিত গাঢ় নীল রঙের হবে।

৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দিতে হবে : নাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 3:25 pm
৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দিতে হবে : নাহিদ

সরকারের উদ্দেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দিতে হবে। তা না হলে জনগণ নিজেরাই জাদুঘর খুলে প্রবেশ করবে।

বুধবার (১ ‍জুলাই) রায়েরবাজারে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গণকবর জিয়ারত শেষে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার ধীরগতিতে হচ্ছে। এটা আরও দ্রুত করতে হবে। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দেশে ফেরাতে হবে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু নামকাওয়াস্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পালন করলে চলবে না। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সরকার এখনো কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। আশা করছি, সরকার দ্রুতই কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

এ সময় ১৪ দলীয় নেতা হাসানুল হক ইনুকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী উল্লেখ করে এই এনসিপির নেতা বলেন, ইনুর ১০ বছরের সাজা হতে পারে না। আমরা আপিলের মাধ্যমে তার কঠোর শাস্তি প্রত্যাশা করছি।