খুঁজুন
শুক্রবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘হত্যার রাজনীতি চিরতরে নির্মূল করাই ২১ আগস্টের প্রত্যয়’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
‘হত্যার রাজনীতি চিরতরে নির্মূল করাই ২১ আগস্টের প্রত্যয়’

‘হত্যার রাজনীতি চিরতরে নির্মূল করাই ২১ আগস্টের প্রত্যয়’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশ থেকে হত্যা-সন্ত্রাসের রাজনীতি চিরতরে নির্মূল করাই ২১ আগস্টের প্রত্যয়। তিনি আজ বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বিএসএমএমইউ’র ডা. মিলন হলে ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে ও আহতদের স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষায় আলোচনা সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।

ড. হাছান বলেন, ‘২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্ঞাতসারে তার পুত্র তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় আওয়ামী লীগকে নেতৃতশূন্য করার উদ্দেশ্যে এই গ্রেনেড হামলা হয়েছে। এই হামলা ১৯৭৫ সালের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার ধারাবাহিকতাতেই পরিচালিত। ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী জিয়া পরিবারই তখন ক্ষমতায় ছিল। ক্ষমতা নিষ্কন্টক করতে হাজার হাজার সেনাসদস্যকে হত্যা করে জিয়াউর রহমান এদেশে হত্যার রাজনীতি শুরু করেন এবং খালেদা জিয়া তা অব্যাহত রাখেন।’

জিঘাংসার রাজনীতি আমাদের উন্নয়ন-অগ্রগতির অন্যতম প্রধান অন্তরায় উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে হত্যা করে নির্মূল করতে হবে এই রাজনীতি যারা করে, তারা রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত। আর এই দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতিটা করে বিএনপি এবং জামাত।’

‘দেশে সত্যিকার অর্থে সুস্থধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হলে যারা হত্যা-সন্ত্রাসের রাজনীতি করে, মানুষের ওপর পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করা ও মানুষকে জিম্মি করার রাজনীতি করে; তাদের রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত’, বলেন ড. হাছান।

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় আহত ও ক্ষতবাহী আওয়ামী লীগের তৎকালীন পরিবেশ ও বন বিষয়ক সম্পাদক হাছান মাহমুদ তার বক্তৃতায় সেদিনের হামলা ও রক্তপাতের ভয়াবহতার বর্ণনা দেন। গ্রেনেড হামলায় রক্তাক্ত মানুষের কয়েকটি ছবি দেখান সংসদ সদস্য নাসিমা ফেরদৌসী।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় ‘২১ আগস্ট বাংলাদেশ’ সংগঠনের সভাপতি এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বিশেষ অতিথি ও মুখ্য আলোচক, বিএসএমএমইউ’র উপ-উপাচার্য ডা. ছায়েফ উদ্দিন আহমদ শুভেচ্ছা বক্তা হিসেবে এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নাসিমা ফেরদৌসী এমপি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন গ্রেনেড হামলায় আহতদের পক্ষে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন।

এন-কে

Feb2

এনসিপিতে যোগ দিলেন সাবেক যুবদল নেতা ইসহাক সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
এনসিপিতে যোগ দিলেন সাবেক যুবদল নেতা ইসহাক সরকার

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার। এর পাশাপাশি আরও যোগ দিয়েছেন শের ই বাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনী ফেরসামিন হক ইকবাল, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনি।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন তারা। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মঞ্চে তাদের নাম ঘোষনা করেন এবং ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। তবে শের ই বাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনী ফেরসামিন হক ইকবাল দেশের বাহিরে থাকায় স্বশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ইসহাক সরকার সব সুযোগ সুবিধাকে ঠেলে দিয়ে জনগের পক্ষে, তরুণদের পক্ষে যোগ দিয়েছেন। নুরুজ্জামান কাফি, মহিউদ্দিন রনি সবাই জুলাইয়ের পরিচিত মুখ। জুলাইয়ে তাদের অনেক ত্যাগ আছে।

বিএনপি সরকার সবসময় আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে: অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
বিএনপি সরকার সবসময় আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি সরকার সবসময় আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে। প্রত্যেকবার বিএনপি সরকারের সময়ে শেয়ার বাজার ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ছিল। এখনো হবে কিন্তু একটু সময় দিতে হবে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সরস্বতী জ্ঞান মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ২৩০ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো সব লুটপাট করে ধ্বংস করা হয়েছে। শেয়ার বাজার ধ্বংস, জনগণের অর্থ ব্যাংকগুলো দিতে পারছে না। অনেকে ট্রিটমেন্ট করবে সেই টাকা ব্যাংক থেকে নিতে পারছে না। এর থেকে দুঃখজনক কিছু আছে? এসব রিকভার করার দায়িত্ব এখন বিএনপির কাঁধে এসেছে। এটাকে ঘুরিয়ে আনতে একটু সময় দিতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি।

আমরা স্থিতিশীল, সহনশীল ও সংবেদনশীল রাজনীতির পথে চলছি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই রাজনীতির পথে যারা বাঁধাগ্রস্ত হবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। সমাজে কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ থাকে। এরা কোনো দলের না। আইন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

লোডশেডিং সম্পর্কে আমির খসরু মাহমুদ বলেন, লোডশেডিংয়ের সংকট নেই এ কথা বলা যাবে না। সংকটের কথা চিন্তা করে আমরা অনেক দেরিতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছি। ওয়াশিংটনে জ্বালানি তেলের দাম দিগুণ করা হয়েছে, সেই জায়গায় বাংলাদেশে ১০-১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের তো সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দেশটাকে তো চালাতে হবে। সরকার চলে ট্যাক্সের টাকায়। এজন্য আমাদেরকে সাবধান হতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের কৃচ্ছ্রসাধনও করতে হবে, যাতে ঘরের লাইট অফ না হয়, কোনো কলকারখানা বন্ধ না হয়, মানুষের কাজকর্মে কোনো অসুবিধা না হয়। আমরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আল ফোরকানের সভাপতিত্বে সরস্বতী জ্ঞান মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন প্রমুখ।

থমথমে সিটি কলেজ: ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ, চিহ্নিত অস্ত্রধারীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ণ
থমথমে সিটি কলেজ: ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ, চিহ্নিত অস্ত্রধারীরা

চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসজুড়ে চরম আতঙ্ক ও অচলাবস্থা বিরাজ করছে। গ্রাফিতি বিকৃতিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘাত ব্যাপক সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় বর্তমানে ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও কড়া তল্লাশির কারণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষার পরিবেশ।

এই ঘটনার উত্তাপ শুধু চট্টগ্রামেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্যাম্পাসের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, জড়িতদের শনাক্তে কাজ করার কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা। তবে, এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।

থমথমে কলেজে বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা, তদন্ত কমিটি গঠন

বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাসজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাটেনি আতঙ্ক। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ফটকসহ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কলেজে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের কঠোর তল্লাশি এবং পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সব ধরনের শ্রেণি কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া সাপেক্ষে আগামী রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে পুরোদমে ক্লাস শুরু হতে পারে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকার পাশাপাশি আশপাশের এলাকাতেও টহল জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রয়েছে। পুরো ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। দ্রুতই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দেশজুড়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের সংঘর্ষের জের ধরে সারাদেশে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। ঘটনার পরদিন ২২ এপ্রিল বিকেলে চট্টগ্রামের পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছাত্রদল। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল নগরীর নিউ মার্কেট ও স্টেশন রোড এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের ‘গুপ্ত রাজনীতি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল ও দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল। তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আহত কর্মীদের ওপর হামলার বিচারের দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছে।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতেই চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলন করে আহত কর্মীদের অবস্থা তুলে ধরে ইসলামী ছাত্রশিবির। পরদিন বুধবার ডাকসুর ভিপি সাদিক কাইয়ুমের নেতৃত্বে শিবিরের একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল চট্টগ্রামে পৌঁছায়। তারা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ও বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি পেশ করেন। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল করার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রাফিতি বিকৃতির প্রকৃত ঘটনা ব্যাখ্যা করতে অনলাইন ও অফলাইনে প্রচারপত্র বিলি করেছে সংগঠনটি। তারা দোষী শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার এবং ক্যাম্পাসে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।

জাতীয় সংসদেও সংঘর্ষের উত্তাপ

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের সংঘর্ষের ঘটনাটি জাতীয় সংসদেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার দিন রাতেই সংসদে এ নিয়ে কথা বলেন জামায়াত নেতা ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, জুলাই-আগস্টে যারা সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছিল, তারাই সিটি কলেজে হামলা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, হামলায় এক শিবির নেতার পা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে এবং হামলাকারীদের অনেকেই চিহ্নিত সন্ত্রাসী।

পরদিন বুধবার (২২ এপ্রিল) এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন বিএনপি নেতা ও খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা। তিনি হামলার জন্য সরাসরি শিবিরকে দায়ী করে বলেন, ছাত্রদল কেবল ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখেছিল বলেই তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, যা মূলত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। বিরোধী দলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, যারা আমাদের ভোট দিয়েছে তারা অন্যায় দেখে বসে থাকবে না, তারা এর প্রতিবাদ করবে।

ওয়াদুদ ভুঁঞার এই বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বিএনপি সংসদ সদস্যের ভাষাকে ‘অসংসদীয়’ উল্লেখ করে তা রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংসদের ভেতরে দাঁড়িয়ে এভাবে হুমকির সুরে কথা বলা এবং জনগণকে উসকে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়; এটি চরম বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত দেয়।

সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে

ঘটনার মূলে ছিল গত ২০ এপ্রিল (সোমবার) ক্যাম্পাসের একটি গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক। কলেজের একটি ভবনে জুলাই বিপ্লব স্মরণে আঁকা ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা গ্রাফিতি থেকে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে সেখানে ‘গুপ্ত’ লিখে দেয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বাধীন একদল নেতাকর্মী। মামুন এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলকে ‘আদু ভাই’ সম্বোধন করে পাল্টা প্রচারণা শুরু করে।

এই তিক্ততা থেকেই মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে দুই পক্ষ প্রথম দফায় সংঘর্ষে জড়ায়। পরে প্রশাসন ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে, এই ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে নিউমার্কেট এলাকায় ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল বের করলে ছাত্রদল তাতে বাধা দেয়। এর ফলে দ্বিতীয় দফায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে বহিরাগতরা যুক্ত হয়ে ধারালো ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। এর মধ্যে পাহাড়তলী ওয়ার্ড শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থী আশরাফের পায়ের গোড়ালি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।

সংঘর্ষে বহিরাগতদের অংশগ্রহণ ও শনাক্তকরণ

মঙ্গলবার বিকেলে নিউমার্কেট মোড়ে সংঘটিত দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষে কেবল শিক্ষার্থী নয়, উভয় পক্ষের হয়ে বিপুলসংখ্যক বহিরাগতও অংশ নেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সূত্রমতে, ছাত্রদলের পক্ষে আশপাশের বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দেন। অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের পক্ষে মাঠে নামেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষ চলাকালে অনেককেই হেলমেট পরা অবস্থায় ধারালো ও দেশীয় অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হতে দেখা যায়।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে কিরিচ হাতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে; তিনি ওমরগণি এমইএস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মির্জা ফারুক। এছাড়া লাঠি হাতে থাকা অন্য একজনকে রিয়াজউদ্দিন বাজারের তামাকুমণ্ডি লেন বণিক সমিতির প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ছাদেক হোসাইন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের অন্তত আটজন সক্রিয় সংঘাতকারীকে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তবে, ঘটনার এক দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো পক্ষ থেকেই এখনও আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি। এ বিষয়ে সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশীদ জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই নামগুলো প্রকাশ করা হচ্ছে না, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।