খুঁজুন
, ,

গুগলকে দেড় হাজার কোটি টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 14 September, 2021, 4:54 pm
গুগলকে দেড় হাজার কোটি টাকা জরিমানা

সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলকে ১৭৭ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি) জরিমানা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। অ্যান্ড্ররয়েড অপারেটিং সিস্টেমে (ওএস) কাস্টমাইসড ভার্সন বন্ধ রাখার কারণে এ জরিমানা গুনতে হচ্ছে গুগলকে।

সম্প্রতি মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের (ওএস) বাজার নিয়ন্ত্রণে গুগলে আধিপত্য আচরণের লাগাম টানতে টেলিকমিউনিকেন বিজনেস আইন পাস করে দক্ষিণ কোরিয়া। এটি ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। সেই আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে গুগলকে।

গুগল এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। তাদের মতে, এই রায়ের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়ডের সঙ্গে সামঞ্জ্যপূর্ণ সুবিধা ও কাস্টমারদের পছন্দ উপেক্ষা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কোরিয়া ফেয়ার ট্রেড কমিশন (কেএফটিসি) জানিয়েছে, ‍গুগলের মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম (ওএস) একচেটিয়া বাজারে রয়েছে।

কেএফটিসির চেয়ারম্যান জোহ সুং-উক এক বিবৃতিতে বলেন, কোরিয়া ফেয়ার ট্রেড কমিশনের সিদ্ধান্তটি যথার্থ। মোবাইল ওএস ও অ্যাপ মার্কেটে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সারা বিশ্বে ৮০ ভাগ মোবাইল ফোনে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। জনপ্রিয় এই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমটি যাতে স্থানীয় স্মার্টফোন নির্মাতারা মডিফাই (কাস্টমাইসড) করতে না পারে, তার সব ব্যবস্থা করে রেখেছে গুগল। সেজন্যই কার্যকর ব্যবস্থা নিল দক্ষিণ কোরিয়া।

এর আগে ফ্রান্সে বাজারে গুগলের কর্তৃত্ববাদী বাজারের কারণে ২৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার জরিমানা করেছে ফ্রান্সের প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফ্রেঞ্চ কমপিটিশন অথরিটি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছিল, গুগল অনৈতিকভাবে ব্যবসায়ের সুযোগ নিয়ে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করেছিল।

এন-কে

Feb2
Feb2

৪৫ বছর পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী আটক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 16 July, 2026, 4:00 pm
৪৫ বছর পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী আটক

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে আটকের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর তাকে আটক করা হয়েছে। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানানো হয়নি।

আটকের স্থান, অভিযান পরিচালনার প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হলে তা পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে আসতে পারে নতুন মুখ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 16 July, 2026, 3:46 pm
মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে আসতে পারে নতুন মুখ

৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা নিয়ে যাত্রা করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারে বড় ধরনের রদবদলের গুঞ্জন উঠেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক পরিবহন ও কৃষিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে আসতে পারে নতুন মুখ। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো নিয়েও আলোচনা চলছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।

এর আগে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরে ধাপে ধাপে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ জনে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, তারেক রহমান সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যাও সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এটি কোনো বিচিত্র ব্যাপার নয়, বরং অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসাটাই নিয়ম। তবে তার মানে এই নয় যে, এটি এখনই হবে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো সময়েই হতে হবে। এগুলো নিয়ে কথা বলার একমাত্র এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যখন উপযুক্ত বিবেচনা করবেন, তখনই কাউকে নতুন দায়িত্ব দিতে পারেন কিংবা কারও দায়িত্ব পরিবর্তন করতে পারেন।’

রাজনৈতিক সূত্র বলছে, সম্ভাব্য এই রদবদলে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টামণ্ডলীতে যুক্ত হতে পারেন।

আলোচনার কেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

চলমান আলোচনায় সবচেয়ে বড় ফোকাস শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘিরে। দুর্যোগকালীন পরীক্ষা গ্রহণ নিয়ে নেওয়া কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিব্রত বলে জানা গেছে।

এ কারণে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে অন্য মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে শিক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহাদী আমিনকে। তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত নেতৃত্বের মাধ্যমে শিক্ষা খাতের সংস্কার আরও গতিশীল করতেই এমন চিন্তাভাবনা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়েও রদবদলের হাওয়া লাগতে পারে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন সেমিনার ও সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ‘অতিকথনে’ প্রধানমন্ত্রী রীতিমতো ক্ষুব্ধ।

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সম্প্রতি আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিতের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের লোকজন লাইসেন্স বাঁচাতে কোটি টাকা নিয়ে তার পেছনে ঘুরেছে। পরে ওই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি মন্ত্রীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে ওই বক্তব্যের প্রমাণ তুলে ধরার দাবি জানান।

এ ছাড়া কয়েকদিন আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে তাকে মূল বিষয়ের বাইরে কথা বলতে নিষেধ করেন প্রধানমন্ত্রী। সব মিলিয়ে তাকে অন্য মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে দেওয়ার জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। সে ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী করা হতে পারে। স্বাস্থ্য খাতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার বিষয়টি এক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারে।

রদবদলের পর মন্ত্রিসভায় নতুন করে কয়েকজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টেরিয়ান, পোড় খাওয়া রাজনীতিক এবং দুই-একজন তরুণ মুখ দেখা যেতে পারে। কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও কাজের ধীরগতি ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত এটি কাটিয়ে উঠতে চায় সরকার।

এর অংশ হিসেবে তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এক মন্ত্রী এবং দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আরেক মন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের দপ্তর কমানোর আলোচনা চলছে।

গুঞ্জন রয়েছে, তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ওই মন্ত্রীর একটি মন্ত্রণালয় সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে দেওয়া হতে পারে। তিন মন্ত্রীর দায়িত্ব কমার পাশাপাশি একজন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বদলাতে পারে।

নোয়াখালী অঞ্চল থেকে একজন প্রবীণ নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ছয়বারের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের নাম আলোচনায় রয়েছে। সংসদীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দেওয়া হতে পারে।

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন যারা

মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে বেশকিছু নাম শোনা যাচ্ছে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আব্দুস সালাম আজাদ, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, খন্দকার আবু আশফাক, নজরুল ইসলাম আজাদ ও মো. মজিবুর রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে।

টেকনোক্র্যাট কোটায় আলোচনায় আছেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, শামসুজ্জামান দুদু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিব উন নবী খান সোহেল।

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে জোটের শরিক দলগুলো থেকেও কয়েকজনের নাম আলোচনায় আছে। এর মধ্যে রয়েছেন আন্দালিব রহমান পার্থসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা। বিভিন্ন সময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা কয়েকজনকেও দেখা যেতে পারে নতুন মন্ত্রিসভায়। তবে চূড়ান্ত তালিকায় কারা থাকছেন, তা জানতে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

রদবদলের গুঞ্জন নিয়ে যা বলছেন মন্ত্রী ও নেতারা

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কবে নাগাদ আসবে এটি একমাত্র প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন।’

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘কী হবে তা আমরা জানি না। ফেসবুকে দেখা যাচ্ছে অনেকে মন্ত্রী হবেন, রদবদল হবে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘পরিবর্তন হতে পারে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ভালো বলতে পারবেন। যদি পরিবর্তন হয়, তবে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাকে মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত করা যায়, তা তিনিই ভালো বোঝেন।’

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘বিষয়টি আমার নলেজে নেই।’

সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই সম্ভাব্য রদবদলের ছক সাজানো হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

আবু সাঈদ এই আন্দোলনের শহীদদের ইমাম: নাহিদ ইসলাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 16 July, 2026, 3:07 pm
আবু সাঈদ এই আন্দোলনের শহীদদের ইমাম: নাহিদ ইসলাম

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। কোটা সংস্কারের দাবিতে চলছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। উত্তপ্ত সেই সময়ে রংপুরে আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। সেদিন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন তিনি। তার মৃত্যু মুহূর্তেই বদলে দেয় আন্দোলনের গতিপথ। একটি প্রাণহানি পরিণত হয় গণপ্রতিরোধের প্রতীকে। সে সময়ের সমন্বয়ক ও ছাত্রনেতাদের মতে, শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যুতেই জুলাই আন্দোলন আরও গতি পায়।

সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে আসা আবু সাঈদ ছোটবেলা থেকেই ছিলেন প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। সহপাঠীদের স্মৃতিচারণ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে কখনো পিছিয়ে যাননি তিনি। জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার আত্মত্যাগ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।

সমন্বয়ক ও ছাত্রনেতাদের মতে, আবু সাঈদের মৃত্যু কোটা সংস্কার আন্দোলনকে বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ দেয়। তার রক্ত মানুষের মধ্যে প্রতিবাদের নতুন শক্তি জাগিয়ে তোলে। নীরব দর্শক হয়ে থাকা অসংখ্য মানুষও নেমে আসেন রাজপথে।

ইতিহাসের পাতায় ১৬ জুলাই তাই শুধু একটি তারিখ নয়; এটি একটি মোড় বদলের দিন। আবু সাঈদকে জুলাইয়ের শহিদদের অগ্রগামী প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে সাবেক সমন্বয়করা বলেন, তার আত্মত্যাগ জাতি দীর্ঘদিন স্মরণ করবে।

এ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আবু সাঈদ মাঠ ছাড়ে নাই। সে কিন্তু কথা রাখছে। তো এইটা পরবর্তীতে সবাইকেই অনুপ্রাণিত করছে। একজন ছাত্র আবু সাঈদ যদি এভাবে মারা যেতে পারে, বুলেটের সামনে দাঁড়াতে পারে ন্যায়বিচারের জন্য… বিবেকের তাড়না সবাইকে তখন মাঠে নামতে বাধ্য করেছে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আবু সাঈদ তো এই আন্দোলনের মনে করি শহীদদের ইমাম বা এ আন্দোলনের নেতৃত্ব… এক প্রকার স্পিরিচুয়াল নেতৃত্ব কিন্তু আবু সাঈদ হয়ে উঠেছিল এবং আবু সাঈদ রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক ছিল। ফলে আবু সাঈদের মৃত্যু আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছিল।’

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘দুই হাত পেতে দিয়ে, প্রসারিত করে দিয়ে, আবু সাঈদ গুলি বুকে ধারণ করছে। এই দৃশ্য বাংলাদেশের আপামর জনতাকে বিশেষত তরুণদেরকে সেই আন্দোলনে জীবন দেয়ার জন্য আগ্রহী করে তুলেছিল, উদগ্রীব করে তুলেছিল এবং মানুষেরা সেই সাহস নিয়ে, সেই প্রেরণা নিয়ে শহীদ হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদের শহীদ হওয়া এবং এই ১৬ তারিখে জুলাই শহীদ দিবস, সেটার মধ্য দিয়ে আবু সাঈদকে স্মরণে রাখা, সেটা বাংলাদেশের মানুষ যতদিন বাংলাদেশ আছে ততদিন পর্যন্তই স্মরণে রাখবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিচার নিশ্চিত যদি আমরা করতে না পারি তাহলে এই বাংলাদেশে ভয়ঙ্কর পরিণতি আমাদেরকে আজ হোক কাল হোক ভোগ করতেই হবে।’