খুঁজুন
রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অটোমেশন সেবার আওতায় বেনাপোল স্থলবন্দর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
অটোমেশন সেবার আওতায় বেনাপোল স্থলবন্দর

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের পর এবার অটোমেশন সেবার আওতায় এসেছে বেনাপোল স্থলবন্দর। প্রায় দেড় বছর পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের পর এবার পূর্ণাঙ্গরূপে অটোমেশন সেবার আওতায় আসলো দেশের সবচেয়ে বড় বন্দরটি। ফলে আমদানি পণ্যের সকল তথ্য এখন কম্পিউটার ডাটা বেজে এন্ট্রি হবে।

অটোমেশন সেবা চালু হওয়ায় ঘরে বসেই কম্পিউটার আর মোবাইলের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করা যাচ্ছে। এর ফলে ভারত থেকে পণ্য আমদানি এবং খালাসে ফিরবে স্বচ্ছতা। দ্রুত বাণিজ্য সম্পাদনের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও গতিশীলতাও বাড়বে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, দেশের স্থলপথে সবচেয়ে বড় আর বেশি রাজস্ব দাতা বেনাপোল স্থলবন্দর। ১৯৭২ সাল থেকে বেনাপোল বন্দরের সাথে ভারতের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু। আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে নিরাপদ বাণিজ্য নিশ্চিত করতে অনেক আগেই অটোমেশন পদ্ধতি চালু করে বেনাপোল কাস্টমস হাউজ। তবে বন্দরে অটোমেশন না থাকায় কাজের সমন্বয়ে ব্যবসায়ীদের বেশ বেগ পেতে হতো।

বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০১৯ সালে জুলাইয়ে বেনাপোল বন্দরে পরীক্ষামূলকভাবে অটোমেশন কার্যক্রম চালু হয়। চলতি মাসে এসে পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়ায় এ অটোমেশন সেবা পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বন্দরের প্রশাসনিক ভবন, রাজস্ব দপ্তর, এন্টি শাখা, ওয়ার হাউজ সর্বত্রই অটোমেশন পদ্ধতিতে কার্য সম্পাদন হচ্ছে।

আমদানি পণ্য বন্দরে প্রবেশ থেকে শুরু করে রাজস্ব পরিশোধ পর্যন্ত সব তথ্য থাকছে কর্মকর্তাদের নজরে। মোবাইলের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরাও ঘরে বসেই তাদের পণ্যের অবস্থান জানতে পারছেন। ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দর এলাকায় প্রবেশের পর মালামালের সঠিকতা নিরুপণ, স্কেলে ওজন, শেড বা ইয়ার্ডে পোস্টিং, পণ্য বন্দরে আনলোড করে ভারতীয় গাড়ি ফিরে যাবার যাবতীয় তথ্য অটোমোশনের কারণে সহজেই নির্ণয় করা যাবে। এর ফলে সুফল পেতে শুরু করেছেন বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীরা।

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, প্রতিবছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা আমদানি ও ৮ হাজার কোটি টাকার রফতানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। সরকারের রাজস্ব আদায় হয় ৫ হাজার কোটি টাকা। তবে এই বন্দরটি এতদিন আধুনিকায়নে পিছিয়ে ছিল। আগে শুল্ক ফাঁকি থেকে শুরু করে একজনের পণ্য অন্যজন নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বন্দরে। তবে এখন সে সুযোগ আর নেই। বন্দর অটোমেশন আওতায় আসায় বাণিজ্যক নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বেড়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর ওয়ার হাউজ সুপার ধুননঞ্জয় বার্মা বলেন, আমদানি পণ্যের তথ্য আগে খাতা-কলমে এন্ট্রি করে তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এখন সম্পূর্ণ কম্পিউটারে ডাটাবেজ এন্ট্রিতে অটোমেশন সুবিধার মাধ্যমে দ্রুত তথ্য প্রদান করা যায়। বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এসব তথ্য চোখের পলকে দেখতে পারছেন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, কাস্টমসের পাশাপাশি বন্দর অটোমেশন হওয়াতে বাণিজ্যে গতি ও স্বচ্ছতা বেড়েছে। আমদানিকারকেরা তথ্য চাইলে দ্রুত সরবরাহ করতে পারি। তারা ইচ্ছে করলে নিজেরাও আমদানির তথ্য মোবাইলে দেখতে পারবেন। তবে বন্দরের সাথে কাস্টমসের অটোমেশন সংযোগ হলে আরও বেশি সুফল পাওয়া যাবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, চট্রগ্রামের পর প্রথম বেনাপোল বন্দর অটোমোশনে যুক্ত হলো। ২০১৯ সালের শেষে দিকে পাইলট প্রকল্প হিসাবে পরীক্ষামূলক এই বন্দরে অটোমেশন কার্যক্রম শুরু করা হয়। গুগলক্রমে ঢুকে আমদানিকৃত পণ্যের মেনিফেস্ট নম্বর এন্ট্রি করে ওয়েভ এ্যাড্রেসে সার্চ দিয়ে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক তার পণ্যের অবস্থান নিশ্চিত হতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, এই সেবা চালু হওয়ায় সুফল পেতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। পণ্য আমদানি থেকে শুরু করে রাজস্ব পরিশোধ পর্যন্ত সব তথ্য নজরদারীতে থাকে। এটি বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ডাটাসফট নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গত ২০ আগস্ট বেনাপোল বন্দরে অটোমোশন কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়।

গতবছর নৌপরিবহন মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী অটোমোশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেও জনবলের অভাবে তা চালু হয়নি বলে জানান তিনি।

এন-কে

Feb2

হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পবিত্র হজ পালনে হজযাত্রীদের সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভা কক্ষে হজ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, পবিত্র হজ সামনে। আজ (রোববার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে হজ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির বৈঠক হয়েছে। হজযাত্রীরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হন, সেগুলো চিহ্নিত করে তা কীভাবে দূর করা যায় কিংবা কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে সভায় প্রধানমন্ত্রী কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এবার হজযাত্রীদের সেবায় যারা নিয়োজিত থাকবেন, তারা সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে হবে। হাজীদের যাতে কোনো দুর্ভোগ পোহাতে না হয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

এদিকে, আগামী ১৮ এপ্রিল রাত থেকে এ বছর হজের ফ্লাইট শুরু হবে। বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরব যাবেন। এ বছর সরকারি উদ্যোগে ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি উদ্যোগে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালন করবেন। এসব হজযাত্রীর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যাবেন ৫০ শতাংশ। অন্যরা সোদিয়া এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাস বিমান সংস্থার ফ্লাইটে যাবেন।

সভায় হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, হাজীদের সব তথ্যাদি অনলাইনে সন্নিবেশিত করা, হজ এজেন্সির কাজের মূল্যায়ন, যেসব হজ এজেন্সি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করা, হাজীদের গাইডের জন্য মোয়াল্লেম সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসীদের থেকে নিয়োগের (আগামী হজে থেকে) ব্যবস্থা করা প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ, হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার ও মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এবছর বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী হজ পালন করবেন। আসছে ১৮ এপ্রিল হজ ফ্লাইট শুরু হবে।

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন কারামুক্ত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন কারামুক্ত

হত্যাচেষ্টা মামলায় দুপুরে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্ত হলেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন তিনি।

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার বলেন, কারাগারে জামিননামা পৌঁছানোর পরই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুযায়ী একটু আগে তাকে (সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী) রিলিজ করা হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৮ জুলাই রাজধানীর লালবাগ থানাধীন আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে অন্যান্য আন্দোলনকারীর সঙ্গে মিছিল করছিলেন মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক ব্যক্তি। ঘটনার দিন আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে তার বাম চোখ নষ্ট হয়ে যায়। গত ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন আশরাফুল।

এর আগে, তার আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিজবাহ জানিয়েছিলেন, আর কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় শিরীন শারমিনের কারামুক্তিতে বাধা নেই।

দাম বাড়ল ফার্নেস অয়েলের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
দাম বাড়ল ফার্নেস অয়েলের

ফার্নেস অয়েলের (এইচএফও) দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ৭০ টাকা ১০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ লিটারে দাম বেড়েছে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা। নতুন এই মূল্য রোববার মধ্যরাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।

রোববার জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানায়, বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশন আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৪(৪) ও ৩৪(৬) অনুসারে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে গণশুনানি শেষে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশ অনুযায়ী ফার্নেস অয়েলের মূল্য প্রতি তিন মাস অন্তর বা প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয়ের বিধান রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের মার্চ মাসে অপরিশোধিত তেল আমদানি না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত ফার্নেস অয়েলের গড় দর এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে ১৫ মার্চ একটি কমিটি গঠন করা হয়, যা মার্চ মাসের প্ল্যাটস সূচকভিত্তিক গড় মূল্য এবং বিনিময় হার বিশ্লেষণ করে এপ্রিল মাসের জন্য নতুন মূল্য সুপারিশ করে। পরে ৫ ও ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিশন সভায় ওই সুপারিশ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন দামের ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাত এবং বৃহৎ জ্বালানি নির্ভর প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন খরচ বাড়ার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়েও পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।