প্রতিপক্ষের ইটের আঘাতে নারীসহ গুরুতর আহত ২
হাটহাজারীতে প্রতিপক্ষের ছোড়া ইটের আঘাতে এক নারীসহ তিনজন আহত হয়েছে। শনিবার রাত পৌণে আটটার দিকে উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব মন্দাকিনী গ্রামের নোয়া মিয়া সওদাগর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, ঐ বাড়ির মৃত আবুল খায়েরের স্ত্রী ফিরোজা বেগম(৬৯), মৃত আতর মিয়ার পুত্র মোঃ জসিম (৫৬), মৃত আবুল কাশেমের পুত্র মোঃ শাহজান (৪২)। গুরুতর আহত হয়ে ফিরোজা বেগম ও জসিম চমেক চিকিৎসাধীন আছেন।এ ঘটনায় আহতদের পরিবার গতকাল রোববার হাটহাজারী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে বলে জানা গেছে।
আহত ফিরোজা বেগমের পুত্র মোঃ লোকমান ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ঘটনার রাতে আমার ভাইপুত আরাফাত গ্যারেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে একই বাড়ির নুর ইসলামের ছেলে মন্নান (২৩) আর মৃত শফিউল আলমের ছেলে মুসা (৩২) তাকে উদ্দেশ্য করে উত্তেজিত করার লক্ষে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। এতে আরফাত গালমন্দের প্রতিবাদ করলে তারা আরফাতকে মারধর করে। মারধরের ঘটনাটি আরফাতের বাড়িতে জানতে পারলে দাদি ফিরোজা বেগম ও জসিম তাকে বাঁচাতে আসে। ঠিক ঐ মূহুর্তে ইকবালের নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী মন্নানের অপর ভাই মিঠু(৩০), মুসার ভাই মোঃ নেজাম (৪২), মৃত নুর আহমদের ছেলে আবু সালাম (৫০) সবাইকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে ইটের আঘাতে ঘটনাস্থলেই ফিরোজা বেগমের মাথা ফেটে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। মাথা ফেটে গুরুতর আহত হয় জসিম ও শাহজান। একইসাথে বর্ণনাকারী লোকমান ও আরাফাত সামান্য আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দিলেও ফিরোজা বেগম ও জসিমকে চমেক পাঠিয়ে দেয়। তিনি আরো বলেন, রাস্তার বিরোধ নিয়ে তারা বার বার আমাদের উপর হামলা করে। অথচ রাস্তার বিরোধ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মিটমাট হয়েছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে জেয়ারতকালে হামলাকারীরা শাহজান, আজম, সুমন ও সবুরকে মারধর করে। সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিচার দিলে তারা আগামি শুক্রবার বিচারের দিন ধার্য্য করলেও ঠিক পরেরদিন শনিবার এ ঘটনা ঘটায়। তারা সমাজের কাউকে তোয়াক্কা করেনা।
জানতে চাইলে মৃত নুর ইসলামের পুত্র অভিযুক্ত মন্নানের মুঠোফোনে বার বার ফোন দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা এস আই প্রদীপ জানান, খবর পেয়ে ঘটনারদিন রাতেই ওসি স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি।অফিসার ইনচার্জ মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ করেছে কিনা এখনো জানিনা। করে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন