খুঁজুন
, ,

ধামাকার লেনদেনের ৭৫০ কোটি টাকা উধাও

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 September, 2021, 7:11 pm
ধামাকার লেনদেনের ৭৫০ কোটি টাকা উধাও

বিভিন্ন পণ্যে ছাড়ের ছড়াছড়ি দিয়ে আসা ‘ধামাকা শপিং ডট কম’র নেই অনুমোদন ও লাইসেন্স। নেই ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টও। ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন করা হয়েছে। গ্রাহকদের সঙ্গে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। অথচ বর্তমানে অ্যাকাউন্টে এক লাখ টাকারও কম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে বর্তমানে সেলারদের বকেয়া রয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা, ক্রেতাদের বকেয়া ১৫০ কোটি টাকা এবং ক্রেতাদের রিফান্ড চেক বকেয়া ৩৫-৪০ কোটি টাকা।

বুধবার ভোরে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধামাকা শপিংয়ের চিফ অপারেশন অফিসার (সিওও) সিরাজুল ইসলাম রানাসহ (৩৪) তিন জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশ ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-২)।

গ্রেফতার বাকি দুইজন হচ্ছেন- ধামাকা শপিংয়ের মোবাইল ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ক্যাটাগরি হেড ইমতিয়াজ হাসান সবুজ (৩১) ও ইলেক্ট্রনিক্স ক্যাটাগরি হেড ইব্রাহিম স্বপন (৩৩)।
দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর টঙ্গী পশ্চিম থানায় এক ভুক্তভোগীর দায়েরকৃত মামলা ও বেশকিছু ভুক্তভুগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ধামাকা শপিংয়ের সিওওসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৮ সালে ‘ধামাকা ডিজিটাল’ যাত্রা শুরু করলেও ২০২০ সাল থেকে ‘ধামাকা শপিং ডট কম’ নামে কার্যক্রম শুরু করে। ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে প্রতিষ্ঠানটি নেতিবাচক অ্যাগ্রেসিভ স্ট্র্যাটিজি নিয়ে মাঠে নামে।

তিনি বলেন, ধামাকা শপিংয়ের কোনো প্রকার অনুমোদন ও লাইসেন্স নেই, ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টও নেই। ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন করা হয়েছে। গ্রাহকদের সঙ্গে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। অথচ বর্তমানে অ্যাকাউন্টে এক লাখ টাকারও কম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে বর্তমানে সেলারদের বকেয়া রয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা, ক্রেতাদের বকেয়া ১৫০ কোটি টাকা এবং ক্রেতাদের রিফান্ড চেক বকেয়া ৩৫-৪০ কোটি টাকা।

গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে কয়েক মাস ধরে প্রতিষ্ঠানের অফিস এবং ডিপো ভাড়া বকেয়া রয়েছে। জুন থেকে কর্মচারীদের বেতনও বকেয়া। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ‘ধামাকা শপিং ডট কম’ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু করে, যার ফলে বর্তমানে ধামাকার প্রায় সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

মহাখালীতে তাদের প্রধান কার্যালয় এবং তেজগাঁও বটতলা মোড়ে একটি ডেলিভারি হাব রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬০০টি ব্যবসায়িক চেইন রয়েছে, এরমধ্যে নামিদামি প্রতিষ্ঠানের নামও উঠে এসেছে।

ধামাকার পরিচালনা পর্ষদের ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড, মাইক্রোট্রেড ফুড এবং বেভারেজ লিমিটেড এবং মাইক্রোট্রেড আইসিক্স লিমিটেডসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গ্রাহক চেইন বা নেটওয়ার্ক থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই ছিল ধামাকার কৌশল। এছাড়া, ‘হোল্ড মানি প্রসেস প্লান’ অর্থ্যাৎ গ্রাহক ও সরবরাহকারীর টাকা আটকে রেখে অর্থ সরিয়ে ফেলা ছিল অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, ধামাকার গ্রাহক সংখ্যা তিন লাখের বেশি। প্রতিষ্ঠানটি এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২০ শতাংশ পণ্য সরবরাহ করে অর্থ সরিয়ে গ্রাহকদের চেক প্রদান করা হয়। বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহকের বকেয়া রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অক্টোবর থেকে তারা অ্যাগ্রেসিভ বিজনেসে যায়। ধামাকা খুব অল্প সময়েই প্রচুর টাকা সরিয়ে ফেলে। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ১৪টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে। সিআইডির তদন্তেও ১১৬ কোটি টাকা অস্বচ্ছতার বিষয়টি উঠে এসেছে। বাণিজ্য মন্তণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানোর পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে। যাদের বিরুদ্ধেই মামলা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অর্থ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণ গ্রাহকরা যে টাকা দিয়েছে তা গেছে ইনভেরিয়েন্ট টেলিকমের অ্যাকাউন্টে। ধামাকার মালিকদের আরও অনেক ব্যবসা রয়েছে, সেসব ব্যবসায় সেই টাকা স্থানান্তর করা হতে পারে। এছাড়া, মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি তদন্তে বেড়িয়ে আসবে। মূলহোতা জসিম উদ্দিন চিশতির নিজস্ব সম্পদ রয়েছে ২৫০ কোটি টাকার ওপরে, সেখানেও ধামাকার গ্রাহকদের টাকা যেতে পারে।

ধামাকার মূলহোতা জসিম উদ্দিন চিশতি কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি পলাতক, আমরা জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারদের মাধ্যমে জেনেছি তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন। আমরা তাকেসহ অন্যান্য আসামিদের খুঁজছি।

এন-কে

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার অভিযোগে রাতব্যাপী অভিযান, সরেজমিনে পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 9:10 pm
চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার অভিযোগে রাতব্যাপী অভিযান, সরেজমিনে পরিদর্শন

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগ ও পাহাড়ের ঢালে নির্মাণকাজের বিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী শফিক আহমেদ এবং পুলিশ ফোর্সের সমন্বয়ে এ পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়।

পরিদর্শনকালে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ‘রুপসী’ নামক পাহাড়, আকবর শাহ থানাধীন উত্তর পাহাড়তলী মৌজার দাগ নং ১৭৭, ১৭৮, ১৮৯ ও ১৮০-এ বিদ্যমান পাহাড় এবং উত্তর পাহাড়তলী মৌজার হারবাতলী মা আমেনা মসজিদ সংলগ্ন পাহাড় সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।

পরিদর্শনকালে উত্তর পাহাড়তলী মৌজার দাগ নং ১৭৭, ১৭৮, ১৮৯ ও ১৮০-এ বিদ্যমান পাহাড়ের ঢালে কিছু দেওয়াল সদ্য নির্মিত অবস্থায় পাওয়া যায়। পাহাড়ের ঢালে এ ধরনের দেওয়াল নির্মাণের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিককে ৭ সেপ্টেম্বর সকালে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবে রাতের সরেজমিন পরিদর্শনকালে সেখানে কোনো ব্যক্তিকে পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।

এছাড়া আকবর শাহ থানাধীন উত্তর পাহাড়তলী মৌজার হারবাতলী মা আমেনা মসজিদ সংলগ্ন পাহাড় পরিদর্শনকালে পাহাড় কাটার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। পরিদর্শনকালে সেখানে কোনো ব্যক্তিকেও পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ‘রুপসী’ নামক পাহাড় পরিদর্শনকালে কোনো ব্যক্তিকে পাহাড় কাটতে দেখা যায়নি। তবে নির্মাণস্থলের ভূমির শ্রেণি ‘ছনখোলা’ বা ‘নাল’ নাকি পাহাড়—তা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড় ও পরিবেশ সুরক্ষায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পাহাড় কাটার অভিযোগ বা পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​কারাতের আসল শিক্ষা ভালো মানুষ হওয়া: মুহাম্মদ শাহেদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 8:36 pm
​কারাতের আসল শিক্ষা ভালো মানুষ হওয়া: মুহাম্মদ শাহেদ

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, জাপান কারাতে শুধু একটি মার্শাল আর্ট নয়; এটি শৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, অধ্যবসায়, সৌজন্য ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার একটি অনুশীলন। জাপানি কারাতে ঐতিহ্যে ‘সম্মান’ ও ‘শিষ্টাচার’-এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারাতে আমাদের শেখায়—শুধু শারীরিকভাবে শক্তিশালী হওয়াই যথেষ্ট নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাও জরুরি। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে মনোযোগ, ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে কারাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আজ ৭ সেপ্টেম্বর JKA WF Bangladesh Annual Karate Camp 2026 আয়োজনে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা জিমনেশিয়াম হলে বিকাল ৫ ঘটিকায় জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন (JKA) JKA World Federation Bangladesh-এর আয়োজনে ৫ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, জাপানের ঐতিহ্যবাহী কারাতে সংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সাংস্কৃতিক交流 বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের তরুণরা যদি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও কারাতের মতো শৃঙ্খলাপূর্ণ অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে তারা আরও আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। পরিশেষে, কারাতে শিক্ষার্থীদের বলব—জয়-পরাজয়ের চেয়ে বড় হলো নিয়মিত অনুশীলন, শৃঙ্খলা, প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান এবং নিজের চরিত্রকে উন্নত করা। জাপান কারাতের এই সুন্দর ঐতিহ্য আরও বিস্তৃত হোক, আমাদের তরুণ সমাজ সুস্থ, সুন্দর ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে গড়ে উঠুক—এই প্রত্যাশা করছি।

ক্যাম্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে JKA Headquarters-Gi Technical Director ও ৮ম ডানধারী শিহান কাতসুতোশি শিনা বিশেষ কারাতে সেমিনার পরিচালনা করছেন। তাঁর সরাসরি নির্দেশনায় অংশগ্রহণকারী কারাতেকা ও প্রশিক্ষকরা জাপানিজ শটোকান কারাতের বিভিন্ন উন্নত কৌশল, কাতা, কুমিতে ও কারাতে টেকনিক সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন।

ক্রীড়া সংগঠক তানভির মল্লিকের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন JKA WF Bangladesh’ এর কান্ট্রি হেড ও বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টুলু উস শামস্। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান মুহাম্মদ শাহেদকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো জানান (JKA) I JKA World Federation Bangladesh.

সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রতন তালুকদার ও মারিয়া চক্রবর্তী, অরূপ বড়ুয়া, জাফর আহমদ খোকন, জিল্লুর রহমান জুয়েল, মহিউদ্দিন মুকুল, জহিরুল ইসলাম, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, নজরুল ইসলাম, মোঃ নওশাদ, মঞ্জুর আলম, হাবিব উল্লাহ খান রাজু, মোর্শেদ কামাল, একরাম ছিদ্দিকী, মঈন উদ্দীন খান রাজিব, শফিউল বাশার সামু, আবু কাউসার, ফারুক খান, মাহবুব আলম, ফারুক ও প্রশিক্ষাণার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ।

অটোরিকশার জন্য আসছে কিউআর কোড-ডিজিটাল ট্র্যাকিং

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 8:22 pm
অটোরিকশার জন্য আসছে কিউআর কোড-ডিজিটাল ট্র্যাকিং

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে একটি ডিজিটাল, নিবন্ধিত ও শৃঙ্খলিত ব্যবস্থার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এক নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, অটোরিকশাচালকদের কর্মসংস্থান অক্ষুণ্ন রেখে ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুতই নতুন নীতিমালা ও বিধিমালা কার্যকর করা হচ্ছে। এই নীতিমালার অধীনে প্রতিটি অটোরিকশায় কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম যুক্ত করা হবে, যাতে একটি নম্বরের অধীনে অবৈধভাবে একাধিক রিকশা চালানোর সুযোগ না থাকে। একইসঙ্গে লেড-এসিড ব্যাটারি তুলে দিয়ে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক রিকশা চলাচলের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু ৭১ বিধিতে মনোযোগ আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে চালু থাকা ৫০টি এআই নির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরার সুফল ও অটোরিকশার কারণে তৈরি হওয়া সমস্যার কথা তুলে ধরে নোটিশ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা চালুর পর সড়কে লাল বাতি অমান্য করা, লাইন পরিবর্তন কিংবা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর মতো অনিয়ম অনেকাংশেই কমে এসেছে। কিন্তু হতাশাজনক বিষয় হলো, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া গতিতে চলছে। এসব যানের কোনো নম্বর প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরায় অনিয়ম শনাক্ত হলেও জরিমানা করা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রেহানা আক্তার রানু বলেন, ঢাকা শহরে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা প্রধান সড়কগুলোতেও ঢুকে পড়ছে। সঠিক কাঠামোগত নকশা না থাকায় প্রায়ই এসব বাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। তবে কম ভাড়া ও সহজলভ্যতার কারণে এটি সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই অটোরিকশা পুরো বন্ধ না করে তাদের কাঠামোগত পরিবর্তন, নম্বর প্লেট সংযোজন, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও প্রশিক্ষণের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

নোটিশের বিপরীতে দেওয়া সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজি বাইক ও তিন চাকার বৈদ্যুতিক যানগুলো গ্রামীণ ও নগর পরিবহন ব্যবস্থার একটি প্রধান অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কম খরচ ও সহজ যাতায়াতের কারণে যেমন সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে, তেমনি চালক, গ্যারেজ শ্রমিক, যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী ও চার্জিং সেবা দাতাসহ একটি বিশাল অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এর দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও রাজস্ব ক্ষতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। বিপরীতে বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই প্রায় ৪৮ হাজার অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে প্রতি বছর সরকারের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব রিকশায় যে ক্ষতিকারক লেড-এসিড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় এবং এর অনিরাপদ রিসাইক্লিংয়ের কারণে যে ধোঁয়া ও সিসা নির্গত হয়, তা বাতাস, মাটি ও পানি মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এমনকি আশেপাশে গড়ে ওঠা পোল্ট্রি শিল্পগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে দেশে মোট ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১ জন নিহত হন। এসব দুর্ঘটনার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশেই যুক্ত ছিল অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।

বর্তমান আইনি পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ডিএমপি নিয়মিত অভিযান ও ডাম্পিং পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে ডিএমপি, ডেসকো ও ডিপিডিসির যৌথ অভিযানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। সড়ক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে ঢাকা শহরের ১৭টি সিগন্যালে ৫০টি এআই ক্যামেরা থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়ায় তেজগাঁও ও রমনা বিভাগে আরও ২০০টি এআই ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে, যা পর্যায়ক্রমে পুরো রাজধানীতে সম্প্রসারণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ পেয়ে সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, তিনি রিকশা নিষিদ্ধ করার কথা বলেননি, বরং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন কেবল ঢাকাতেই অন্তত ৩০০টি নতুন অটোরিকশা যুক্ত হচ্ছে এবং প্রতিদিন ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এদের পেছনে খরচ হচ্ছে, যা বর্তমান লোডশেডিংয়ের একটি প্রধান কারণ। তিনি বাহন জব্দ করা, ডাম্পিং কিংবা পুলিশের হয়রানি বন্ধ করে এগুলোকে ভেতরের গলির রাস্তায় চালানোর নির্দেশ দেওয়া, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা, বিআরটিএ নিবন্ধন এবং এলাকাভিত্তিক জোনিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেন। শেষ পর্যায়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এই সমন্বিত ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ঠিক কবে নাগাদ তৈরি ও বাস্তবায়িত করা হবে।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে হওয়া আলোচনার সূত্রে সংসদকে নিশ্চিত করেন যে, সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান ও নীতিমালা এরইমধ্যে প্রণীত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক চূড়ান্ত হওয়া এই নীতিমালায় রূপরেখা নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে কোনো চালকের কর্মসংস্থান ব্যাহত না হয়।

মন্ত্রী জানান, নীতিমালার অধীনে একটি ডিজিটাল নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মধ্যে কিউআর কোড এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু থাকবে, যাতে একটি নম্বরের অধীনে অবৈধভাবে একাধিক রিকশা চালানোর সুযোগ না থাকে। একইসঙ্গে লেড-এসিড ব্যাটারি তুলে দিয়ে ডিজিটাল পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারে কঠোর শর্ত দেওয়া হবে।

শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও সিটি কর্পোরেশনের অসাধু কর্মচারীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঈমানদারিতার সঙ্গে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার জাতীয় স্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে অতি দ্রুত এই নীতিমালার পূর্ণ প্রয়োগ ঘটাবে।