খুঁজুন
, ,

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনই সঙ্কট মুক্তির একমাত্র পথঃ শামীম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 8 October, 2021, 8:44 pm
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনই সঙ্কট মুক্তির একমাত্র পথঃ শামীম

দেশের সঙ্কট নিরসনে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। তিনি বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে গ্রহণযোগ্য সরকার থাকতে হবে। বর্তমান সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে যে নিরপেক্ষ সরকার ও নির্দলীয় নির্বাচন কমিশন হবে সেই কমিশনের অধীনে দেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন হবে।

তিনি শুক্রবার (৮ অক্টোবর) বিকালে নগরীর ওয়াসা মোড়স্থ মুনতাসির সেন্টারে খুলশী থানা বিএনপির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

শামীম বলেন, দেশে একটা স্বচ্ছ নির্বাচন হবে এটাই হচ্ছে জনগণের আকাঙ্ক্ষা। জনগণ যাকে ইচ্ছা ভোট দিবে। কারণ জনগণ হচ্ছে দেশের মালিক। কিন্তু এটা তো সরকার ভুলে গেছে। তারা তো আবারো কে এম নূরুল হুদার মতো কাউকে নির্বাচন কমিশনার বানাতে ওঠেপড়ে লেগেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন হতে পারে না। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো নির্বাচন নির্বাচন খেলায় জনগণ আৱ অংশ নেবে না। ২০১৪ সালে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলো। আর ২০১৮ সালের নির্বাচনে আগের রাতেই ভোট চুরি করে নিয়েছিলো আওয়ামী লীগ। এখন তারা বলছে আগামী সংসদ নির্বাচনে ১৫০ টি আসনে ইভিএম ব্যবহার হবে। তাহলে তো ১৫০ টি আসন নিয়ে গেলে আর তো কিছু লাগে না। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে আগামী দিনের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহবান জানান।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্র অবশিষ্ট নেই। ফ্যাসিবাদ সরকারের অধীনে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। বিএনপিসহ বিরোধীদলগুলো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো স্পেস পাচ্ছে না। শুধু বিএনপি নয়, সব রাজনৈতিক দল একটি দুর্বিষহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সরকার গৃহবন্দি করে রেখেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আট হাজার মাইল দূর থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার নেতৃত্বে বিএনপি আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত হয়েছে। চট্টগ্রামে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো অনেক শক্তিশালী হয়েছে।

ডা. শাহাদাত বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। এরা জবরদস্তিমূলক দখলদার সরকার। বিএনপি এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আওয়ামীলীগ যদি সত্যিকার অর্থে একটি নির্বাচন চায়, তাহলে আগে সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের বিষয়ে একমত হতে হবে। তারপর একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। এছাড়া নির্বাচন হলে তা হবে একটি প্রহসনের নির্বাচন। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহবান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ ভিপি বলেন, বিএনপি কখনোই অদৃশ্য শক্তির বলে ক্ষমতায় আসেনি। যতবার ক্ষমতায় এসেছে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে। বর্তমান সরকার অদৃশ্য শক্তির সহায়তায় আগের রাতে ভোটবাক্স ভরে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে।

খুলশী থানা বিএনপির আহবায়ক ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. শাহ আলমের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সি. যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, যুগ্ম আহবায়ক এস এম সাইফুল আলম, এস কে খোদা তোতন, শফিকুর রহমান স্বপন, কাজী বেলাল উদ্দিন, ইসকান্দর মির্জা, আহবায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, মো. কামরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন নগর বিএনপি নেতা ইউছুপ জামাল, আবদুল হালিম স্বপন, ইউছুপ আলী, মনিরুল ইসলাম মনির, ওয়ার্ড় বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আবুল কাশেম মজুমদার, জাহিদ মাষ্টার, সাধারণ সম্পাদক, নাসিম আহমেদ, এস এম আজাদ, বিএনপি নেতা তোফাজ্জল হোসেন, ইব্রাহিম খোকন প্রমুখ।

Feb2
Feb2

চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লংমার্চ’ শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 10:12 am
চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লংমার্চ’ শুরু

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ‘লংমার্চ’ শুরু হয়েছে।

এর আগে আজ (শনিবার) সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ করেন ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশ শেষে চট্টগ্রাম অভিমুখী এ ‘লং মার্চ’ শুরু হয়।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়ায়াতরে মাধ্যমে শুরু হওয়া সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

এতে বক্তব্য রাখছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চের বহর রওনা হয়।

লং মার্চের রুটে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হবে। প্রথমটি নারায়ণঞ্জের কাচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্টান্ডে, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল, মীরের সরাই এবং সবশেষ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

সিফাতকে ছেড়ে দেন, ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন : শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 9:57 am
সিফাতকে ছেড়ে দেন, ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন : শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতিষ্ঠ হয়ে, বিরক্ত হয়ে সিফাত নামের একজন তরুণ কী বলেছিল, তাতে বাংলাদেশ উলটপালট হয়ে যাওয়ার মতো করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় নিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে। ওকে ছেড়ে দেন। ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন। যদি না ছাড়েন, তাহলে মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদিকে একদম ওলটপালট করে দিয়েছিল। কখন যে পচা শামুকে পা কাটবে, কেউ বলতে পারবে না।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, সিফাতের মুখের ভাষা দিয়ে নয়, কিন্তু যে বিষয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, এই বিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জন করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি স্পষ্ট, ছয় দফা দাবি আপনারা দেখেছেন। তার সাথে সপ্তম দফা হবে, কোনো চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বাংলাদেশে আমরা বরদাস্ত করব না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ চাঁদাবাজদের জ্বালায় অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত। গ্যাস নাই, পানি নাই, ইলেকট্রিসিটি নাই। কিন্তু গ্যাসের বিলও যথারীতি আছে। কারেন্টের ভূতুড়ে বিল আছে। পানির জন্য কথা বলা যাবে না।

তিনি বলেন, ঢাকাবাসী আপনারা দোয়া করবেন। আমরা আপনাদের এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই অঙ্গীকার পূরণ করতেই আমরা এই কর্মসূচি শুরু করেছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের কর্মসূচির ঔষধ ইতোমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্রিয়া হলে মোবারকবাদ। প্রতিক্রিয়া হলে আমরা বলে দিচ্ছি। আপনারা বলছেন, এই করলে সেই করলে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।’

তিনি আরও বলেন, আমরা আজ কোনো দল, ব্যক্তিগোষ্ঠীর জন্য এই রাস্তায় নামিনি। আমরা নেমেছি বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি। জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব। আমাদের এই আন্দোলন চলবে রাস্তায়, রাজপথে এবং জাতীয় সংসদে। সমান্তরালে আন্দোলন চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হবে।

আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক, আমাদের লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 9:11 am
আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক, আমাদের লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন, আমাদের এই লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই পৌঁছাবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বাংলাদেশের মানুষ লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে সবাই ঢাকায় একত্রিত হয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। এবার আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বিভাগের উদ্দেশ্যে লং মার্চের যাত্রা শুরু করেছি। নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে যাচ্ছে, সেই স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য আমাদের এই লং মার্চ।’

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এই লং চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে লং মার্চ। এই লং মার্চ যারা তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে লং মার্চ। এই লং মার্চ যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে লং মার্চ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা দলে দলে এই লং মার্চে অংশগ্রহণ করুন। এই লং মার্চ কোনো ১১ দলের লং মার্চ নয়। এই লং মার্চ বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের লং মার্চ।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা লং মার্চ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করব। যদি সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, এই লং মার্চের ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে।’