খুঁজুন
, ,

বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায়ের উন্নয়নে অবদান রাখতে চায়: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 12 November, 2021, 10:31 am
বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায়ের উন্নয়নে অবদান রাখতে চায়: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে অবদান রাখতে চায় বাংলাদেশ। ইউনেস্কো সদর দফতরের ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর ক্রিয়েটিভ ইকোনমি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ভাষণে বাংলাদেশের এই আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “কয়েক দশক ধরে আমাদের দেশের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সদয় সমর্থনকে আমরা বিনীতভাবে স্বীকার করি। আমরা এখন আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের উন্নতির জন্য আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে অবদান রাখতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি যে, সৃজনশীল অর্থনীতিতে বিনিয়োগের ফলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সম্মিলিত লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন এবং পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বিজয়ীর প্রশংসা করে বলেন, “ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর ক্রিয়েটিভ ইকোনমি পুরস্কার পাওয়ায় আমি এমওটিআইভি ক্রিয়েটিভ লিমিটেডকে (উগান্ডা) অভিনন্দন জানাচ্ছি।”

এমওটিআইভিকে ৫৯টি মনোনীত প্রার্থী থেকে এই পুরস্কারের জন্য বাছাই করা হয়। ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে যুব উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ এমওটিআইভিকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেয়া হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, “সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ইউনেস্কো-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত বিশ্ব মানবতা ও শান্তিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের প্রতি সবচেয়ে উপযুক্ত সম্মান।”

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “এই আন্তর্জাতিক পুরস্কার যা বৈশ্বিক অগ্রাধিকার অর্থাৎ লিঙ্গ সমতা এবং গোষ্ঠী হিসেবে যুবকদের অগ্রাধিকারে অবদান রেখে সৃজনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবে।”

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ইউনেস্কো সদর দফতরের পৌঁছালে সংস্থার মহাপরিচালক অড্রে আজুল তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ অবশ্যই সৃজনশীল উদ্যোক্তা বিকাশের সর্বোত্তম অনুশীলনকে ধারণ, উদযাপন এবং যোগাযোগের মাধ্যমে একটি জ্ঞান বিনিময়ের কৌশল তৈরি করবে।”

তিনি বলেন, “এই অনুষ্ঠানটি জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত টেকসই উন্নয়নের জন্য সৃজনশীল অর্থনীতির আন্তর্জাতিক বছরের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। আমাদের অগ্রাধিকারের এই ক্ষেত্রগুলিতে ইউনেস্কোর প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ বিশেষভাবে ধন্য এবং সম্মানিত।”

প্রধানমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টিও আমি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সম্মরণ করছি। ২০১৭ সালের ৩০-এ অক্টোবর ইউনেস্কো জাতির পিতার ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’ -এ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।”

তিনি বলেন, “এ বছর আমরা আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। একইসঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। ইউনেস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদযাপনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।”

শেখ হাসিনা বলেন, “মুজিববর্ষের এই মাহেন্দ্রক্ষণে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রবর্তন এবং বিতরণের জন্য আমি ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ম্যাডাম অড্রে আজুলেকে আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বহুপাক্ষিকতাবাদের একজন একনিষ্ঠ প্রবক্তা ছিলেন। তিনি জাতিসংঘকে ‘জনগণের ভবিষ্যৎ আশা-আকাক্সক্ষার কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে বিবেচনা করতেন। জাতিসংঘের বিশেষ অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউনেস্কোর প্রতিও তিনি একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও ধারণা পোষণ করতেন।”

শেখ হাসিনা বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে জুলিও-কুরি শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। সেই পুরস্কার গ্রহণ করার সময় তিনি তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, “আমার জীবনের মূল লক্ষ্য বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা। আমি নিপীড়িত, নির্যাতিত, শোষিত, শান্তিপ্রিয় এবং স্বাধীনতাকামী মানুষদের সঙ্গে আছি- তাঁরা যেখানেই থাকুক না কেন। আমরা পৃথিবীতে শান্তি চাই। এই শান্তি অবশ্যই টেকসই হতে হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থানে বিশ্বাস করি।”

শেখ হাসিনা বলেন, “তার জ্যেষ্ঠ কন্যা হিসেবে খুব কাছ থেকে তাকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সেজন্যই আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি যে, তিনি ইউনেস্কোর একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের প্রসার এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর কর্মোদ্যোগসমূহ ইউনেস্কোর বিভিন্ন আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। অধিকন্তু, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং একটি সদ্য-স্বাধীন দেশ পরিচালনার ভিত্তি হিসেবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর নেতৃত্ব- সবই ইউনেস্কোর মূল লক্ষ্যসমূহের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।”

তিনি বলেন, “স্বাধীনতা অর্জনের পর পরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যয় সর্বোত্তম বিনিয়োগ এবং তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক ঘোষণা করেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত সদ্য-স্বাধীন দেশে নানা ধরনের অর্থনৈতিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রায় ৩৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় লাখ শিক্ষক ও কর্মচারীর চাকুরি জাতীয়করণ করেন। এই সাধারণ উদাহরণটিতেই শিক্ষাক্ষেত্রে এবং একটি জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজ গঠনে তাঁর অগ্রাধিকারের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়।”

শেখ হাসিনা বলেন, “জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমার সরকারও শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। আমরা দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামে একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেছি। দেশে এখন প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার। এগুলোর মধ্যে ৬৫, ৫৬৬টি সরকার পরিচালিত। ২০১০ সাল থেকে মাধ্যমিক স্কুল পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে। এখন প্রতি বছর প্রায় ৪০ কোটি বই বিতরণ করা হয়। পিছিয়ে-পড়া এলাকাগুলোতে প্রায় ২৯ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “বর্তমানে এক কোটি ৩ লাখেরও বেশি প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। উপবৃত্তির টাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মা অথবা বৈধ অভিভাবকদের কাছে সরাসরি পৌঁছে যায়। মাধ্যমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত আরও প্রায় ৭০ লাখ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে। মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে উপবৃত্তি ও বৃত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা ‘প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট’ প্রতিষ্ঠা করেছি।”

তিনি বলেন, “দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএস, পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক্টরাল অধ্যয়ন ও গবেষণার জন্য আমরা ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ’ চালু করেছি। এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৮০ জন স্কলারকে ফেলোশিপ দেওয়া হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশে ২০টি নতুন সরকারি প্রযুক্তি এবং সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। বর্তমানে দেশে মোট সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২। এছাড়াও, ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে নিয়োজিত আছে। বর্তমানে ৪৯২টি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হচ্ছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের উদ্যোগসমূহ ঝরেপড়া প্রতিরোধে ব্যাপক সহায়তা করেছে। প্রাক-প্রাথমিক এবং প্রাথমিক স্তরে ছাত্রভর্তির হার ৯৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০১৭ সালে স্কুলে ছেলে-মেয়ের অনুপাত বৃদ্ধি পেয়ে ৫৩:৪৭-এ দাঁড়িয়েছে, যা ২০০৯ সালে ছিল ৩৫:৬৫। ক্রমবর্ধমান হারে নারী শিক্ষা প্রসারের ফলে বাল্য বিবাহের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।”

তিনি বলেন, “শিক্ষায় বিনিয়োগ সুফল দিতে শুরু করেছে। গত এক দশকে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে। এ সময়ে, মাথাপিছু আয় তিনগুণ বেড়ে ২ হাজার ৫৫৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং দারিদ্র্যের হার ৩১.৫ শতাংশ থেকে ২০.৩ শতাংশে এ হ্রাস পেয়েছে। শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৩.৬৭ -এ হ্রাস পেয়েছে; মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লাখ জীবিত জন্মে ১৭৩ এবং মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর। বাংলাদেশ এ বছর স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার সকল শর্ত পূরণ করেছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অর্থনৈতিকভাবে একটি স্বাবলম্বী এবং ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি যখন সে লক্ষ্য পূরণের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখনই মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি পরিবারের ১৮ জন সদস্য ও নিকটাত্মীয়সহ তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ নৃশংস ঘটনায় আমার স্নেহময়ী মা, তিন ভাই, সবচেয়ে ছোটজনের বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর এবং দুই ভ্রাতৃবধূ শহিদ হন। শুধুমাত্র আমার ছোট বোন শেখ রেহানা এবং আমি সেই হত্যাকা- থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম কারণ আমরা তখন বিদেশে ছিলাম। আমরা ৬ বছর দেশে ফিরতে পারিনি; শরণার্থী হিসেবে বিদেশের মাটিতে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছি।”

তিনি বলেন, “১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আমার পিতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমার জীবন উৎসর্গ করেছি।”

এন-কে

Feb2
Feb2

সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস, আজ থেকে কার্যকর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 8:27 am
সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস, আজ থেকে কার্যকর

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন আজ ১ জুলাই থেকে এ বাজেট কার্যকর হচ্ছে। তিন সপ্তাহের আলোচনা, সমালোচনা ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর পর কণ্ঠভোটে গতকাল মঙ্গলবার বাজেট পাস হয়। তার আগে সোমবার অর্থবিলে মোট ৬৮টি সংশোধনী আনা হয়েছে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট এবং চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন। এরপর সংসদ সদস্যরা টানা তিন সপ্তাহ বাজেটের ওপর আলোচনা করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা করনীতি, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ নিয়ে সমালোচনা করেন।

বাজেটে মানবিক অর্থনীতি গড়ে তোলার একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী বাজেটে তিন বছর মেয়াদি রোড ম্যাপ দিয়েছেন। এর আওতায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা এবং গতিশীলতার জন্য পুনর্গঠনের কাজ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিএনপি সরকার। ধাপে ধাপে এ কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে। বাজেট পাসের আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সমাপনী বক্তব্যে বলেন, সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাজেট আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, স্বতন্ত্র ও বিরোধী দলের সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

সোমবার সংসদে অর্থ বিল-২০২৬ পাস হয়। এর মাধ্যমে শুল্ক-করের পরিবর্তনগুলো কার্যকর করা হয়। এ বিলে যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করা। অন্যদিকে ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন দাখিলের শর্ত থেকেও ফিরে এসেছেন অর্থমন্ত্রী। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ, যাদের করযোগ্য আয় নেই, তারা বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পাবেন। বহুল আলোচিত আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসেছে সরকার। এসব পরিবর্তনসহ বেশকিছু পরিবর্তন এনে সোমবার সংসদে অর্থবিল পাস করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেও বেশকিছু ছাড় দেওয়া কিংবা নতুন আরোপিত কর বা শুল্ক বাতিল করেছেন অর্থমন্ত্রী, যা সংসদে পাস হয়েছে। অবশ্য বিস্তর ছাড় দেওয়ার পরও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিশাল রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। ক্ষুদ্র মুদি দোকানদারদের প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন তিনি। তবে অপেক্ষাকৃত বড়দের ওপর এই প্যাকেজ ভ্যাট থাকবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বাজেট পাস হয়। বাজেট পাসের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। দাবিগুলো কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা মোট ১ হাজার ৩৪২টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে কণ্ঠভোটে সব প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। পরে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

পাস হওয়া বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট ৮ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার চেয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। এবারের বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এবারের বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এমবাপের জোড়া গোলে শেষ ষোলোতে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 8:11 am
এমবাপের জোড়া গোলে শেষ ষোলোতে ফ্রান্স

ফুটবল মাঠে দাপট ধরে রেখেছে গত দুই বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলা ফ্রান্স। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফাইনালের ভেন্যু নিউজার্সি স্টেডিয়ামে তারা সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারাল। চলতি আসরে দ্বিতীয়বার জোড়া গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে। ছয় গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসির পাশে বসলেন তিনি। তার সঙ্গে মাইকেল অলিসের দুরন্ত পারফরম্যান্সে শেষ ষোলোতে পৌঁছে গেল ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমার্ধে মনে হচ্ছিল সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্স হয়তো বিরতিতে যাওয়ার আগে গোল করতে পারবে না। অফসাইডের কারণে এমবাপের গোল বাতিল হওয়ার পর দুইবার গোলপোস্টে আঘাত। আর কয়েকটি শট গোলবারের পাশ দিয়ে গেছে কয়েকবার।

ফ্রান্সের মুহুর্মুহু আক্রমণের পরও গোল না হওয়ার হতাশা শেষ পর্যন্ত কেটে যায়। একাধিক সুযোগ নষ্ট করার পর ৪৫ মিনিটে এমবাপে গোলমুখ খোলেন। বক্সের বাম প্রান্তে বল পেয়ে চমৎকার পায়ের কাজে তার মার্কারকে পরাস্ত করেন, তারপর বেশ কাছ থেকে দূরের পোস্ট দিয়ে জাল কাঁপান। তারপরই দৌড়ে যান মা হারিয়ে কঠিন সময় পার করা কোচ দিদিয়ের দেশমকে সান্ত্বনা দিতে। প্রথমার্ধ শেষে ফ্রান্স ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। সুইডেন কয়েকটি সুযোগ পেলেও ফরাসি গোলকিপার মাইক মাইগনানের সত্যিকারের পরীক্ষা নিতে পারেনি।

১৭ মিনিটে এমবাপে প্রথম আক্রমণে যান। তার দুর্বল শট সহজেই সুইডিশ কিপার হাতে নেন। তিন মিনিট পর বারকোলার শক্তিশালী শট গোলবারের ওপর দিয়ে যায়। ২১তম মিনিটে অলিসের বাড়ানো বলে মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে জালে বল ঠেলে দেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

হাইড্রেশন ব্রেকের পর ফিরে রাবিওর একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন সুইডেন কিপার জেটারস্ট্রম। ৩৩ মিনিটে অলিসের পাস থেকে দূরের পোস্টে দাঁড়ানো এমবাপের দারুণ একটি শট গোলপোস্টে আঘাত করে। পরের মিনিটে রাবিও আবার বল গোলবারের ওপর দিয়ে মারেন।

৩৭ মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে চোখ ধাঁধানো এক গোলের খুব কাছে ছিলেন। কিন্তু তার ওভারহেড কিক গোলপোস্টে লাগে। ফিরতি বলে শট নিতে পারেননি উসমান দেম্বেলে। বিরতির দুই মিনিট আগে অলিসের একটি শট গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। তারপরই হতাশা দূর করা এক গোল করেন এমবাপে। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ১৭তম এবং এই আসরে পঞ্চম গোল করে নরওয়ের আর্লিং হালান্ডের পাশে বসেন।

বিরতির পরও মাঠে ফিরে আক্রমণ অব্যাহত রাখে ফ্রান্স। ৫৩ মিনিটে বারকোলা গোলদাতার খাতায় নাম লিখেন। এবারও গোল বানিয়ে দেন অলিস। তারই অ্যাসিস্টে ৭৪ মিনিটে এমবাপে নিজের জোড়া গোলের দেখা পান। প্রথম গোলের মতো এবারও বক্সের একই প্রান্ত থেকে জালে বল আছড়ে ফেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। এমবাপে তার ১৮তম গোলের দেখা পান, সর্বকালের শীর্ষ বিশ্বকাপ গোলদাতা মেসির (১৯) চেয়ে এক গোল পেছনে তিনি।

এমবাপের দ্বিতীয় গোলের আগে তাকে ও অলিসকে রুখে দিয়েছিলেন জেটারস্ট্রম। দুজনই ৮৬ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন। পুরো ম্যাচে ফ্রান্স ২৫টি শট নিয়েছে, বিপরীতে সুইডিশদের শট ছিল ৮টি। ১২টি শট টার্গেটে রেখেছিল ফরাসিরা, ৯টি সেভে ব্যবধান আরও বাড়তে দেননি সুইডেন কিপার।

শেষ ষোলোতে ফ্রান্স মুখোমুখি হবে জার্মানিকে বিদায় করা প্যারাগুয়ের। ১৯৯৮ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের পথে ফরাসিরা শেষ ষোলোতে এই দক্ষিণ আমেরিকানদের ১-০ গোলে হারিয়েছিল। আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। ফ্রান্স যেভাবে খেলছে, তাতে করে প্যারাগুয়ের সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

আইভরি কোস্টকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে নরওয়ে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 8:00 am
আইভরি কোস্টকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে নরওয়ে

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ের রূপকথা শেষ ৩২ এ ফুরিয়ে যায়নি। ডালাস স্টেডিয়ামে তারা আইভরি কোস্টকে হারিয়েছে। আর্লিং হালান্ডের গোলে ২-১ ব্যবধানে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে ব্রাজিলের সামনে তাদের কঠিন পরীক্ষা।

প্রথমার্ধে আর্লিং হালান্ডের কপাল খারাপই বলতে হয়। তৃতীয় মিনিটে বক্সের সেন্টার থেকে তার একটি হেড ব্লকড। বিরতির তিন মিনিট আগে পা বাড়িয়ে দিয়ে তার নিশ্চিত গোল ঠেকালেন আইভরি কোস্টের এক ডিফেন্ডার। মাঝে তার একটি ট্রেডমার্ক হেড সেভ করেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার।

নরওয়ের গোলমেশিন গোল না পেলেও শেষ ৩২ এর ম্যাচে আইভরি কোস্ট পেছনে পড়েছে। মার্টিন ওডেগার্ডের অ্যাসিস্টে ৩৯ মিনিটে আন্তোনিও নুসা বক্সের বাম দিকে বল পেয়ে পায়ের কাজ দেখিয়ে কিছু জায়গা বের করেন। তারপর ডান পায়ের কোণাকুনি শটে ফোফানাকে পরাস্ত করে বিশ্বকাপে নরওয়ের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হলেন তিনি। নুসার একমাত্র গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে ফেরা দলটি।

আর ওডেগার্ড বিশ্বকাপ ইতিহাসের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিজের প্রথম তিন ম্যাচেই অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়লেন। তার আগে ১৯৮৬ ও ২০০২ সালে যথাক্রমে এই রেকর্ড গড়েন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইগোর বেলানোভ ও জার্মানির মাইকেল বালাক।

আইভরি কোস্টও নরওয়ের বক্সে আক্রমণ করেছিল। কিন্তু লক্ষ্যে ছিল না বল। ২১ মিনিটে ঘিসলাইন কোনানের ডানপায়ের শট কাছের পোস্ট দিয়ে বাইরের জালে জড়ায়। সাত মিনিট পর নিকোলাস পেপের ডান পায়ের শট বাঁ দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৩৫ মিনিটে এমানুয়েল আগবাদুর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট রুখে দেন নরওয়েজিয়ান কিপার ওরহান নাইলান্ড। শেষ মুহূর্তে তার একটি হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়।

৫৫তম মিনিটে পেপে বক্সের মাঝখান থেকে বাম পায়ে শট নেন। নাইলান্ড সেটি ডানদিকের নিচু কোণা দিয়ে চমৎকারভাবে বাঁচিয়ে দেন। আইভরি কোস্টের এটিই ছিল ততক্ষণ পর্যন্ত ম্যাচের সেরা সুযোগ। নরওয়ের বক্সে হেগেম একটি শট ব্লক করার পর বলটি ফাঁকায় পেপের কাছে চলে আসে, কিন্তু নাইলান্ড কাছের পোস্টে দুর্দান্তভাবে বলটি আটকে দেন।

দুই মিনিট পর ফ্রাঙ্ক কেসির বক্সের মাঝখান থেকে নেওয়া ডান পায়ের শট নাইলান্ড ডানদিকের নিচু কোণায় রুখে দেন। এই শটটিতে অ্যাসিস্ট করেছিলেন পেপে।

৬৭তম মিনিটে একেবারে গোলমুখ থেকে নরওয়ের সুযোগ ফিরে আসে। হেগেমের বক্সের মাঝখান থেকে নেওয়া ডান পায়ের শটটি প্রতিহত হয়। গোলটা না হওয়া ছিল বিস্ময়কর। কর্নার থেকে সরলথ বলটি ফ্লিক করে হেগেমের দিকে বাড়িয়ে দেন এবং হেগেম মাত্র চার গজ দূর থেকে একটি নিচু ভলি মারেন। কিন্তু গোল লাইনের ওপর থাকা আমাদ দিয়ালো বলটি আটকে দেন এবং শেষ মুহূর্তে বিপদমুক্ত করে আইভরি কোস্ট।

৭৪তম মিনিটে নরওয়েকে ধাক্কা দেয় আফ্রিকানরা। দিয়ালো ডানপ্রান্ত থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পেপের সাথে ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢোকেন। কিছুক্ষণ আগে গোললাইনে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচানো ম্যানইউ তারকা একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কোণাকুণি শটে গোলরক্ষক নাইলান্ডকে পরাস্ত করে ম্যাচে সমতা ফেরান।

তবে সমতা বেশিক্ষণ থাকেনি। ৮৬তম মিনিটে হালান্ড ঠিক সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় হাজির হয়ে যান। অস্কার ববের ডিফেন্স-চেরা পাসের পর প্যাট্রিক বার্গের কাট-ব্যাক থেকে একদম কাছ থেকে আলতো টোকায় বল জালে জড়ান তিনি। নরওয়ের হয়ে এটি তার ৫৩ ম্যাচে ৬০তম গোল এবং এই বিশ্বকাপের পঞ্চম গোল।

একেবারে শেষ মুহূর্তে নরওয়ের রক্ষাকর্তা হন নাইলান্ড। ৯৬তম মিনিটে দিয়ালো ফ্রি কিকে বক্সের বাইরে থেকে বাম পায়ে শট নেন। ডানদিকে দুই কদম সরে উড়ে গিয়ে বাম হাতে বল বাম কোণার ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দিয়ালোর নেওয়া শটে বল নিশ্চিতভাবেই উঁচু কোণা দিয়ে জালে জড়াতো। কিন্তু নাইলান্ড ত্রাতা হয়ে এসে রুখে দিলেন।

নরওয়ে জিতলেও আইভরি কোস্ট মোট শট নিয়েছিল ১৪টি, বিপরীতে প্রতিপক্ষের শট ছিল ৯টি। মূলত গোলকিপার নাইলান্ড চার সেভে দ্য এলিফ্যান্টদের রুখে দিয়েছেন। আগামী ৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে ইউরোপিয়ান দেশটি।

এর আগে নিজেদের শেষ বিশ্বকাপেও শেষ ষোলোতে উঠেছিল নরওয়ে। ১৯৯৮ সালে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলোতে তারা ইতালির কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। ওই আসরেই ব্রাজিলকে গ্রুপ ম্যাচে পরাজিত করেছিল তারা।