বীরত্ব ধরে রাখতে বাবার জন্মভূমিতে ছেলে গড়ে তুলেছেন স্মৃতিসৌধ
মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে চট্টগ্রামে অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট স্টোর থেকে বিস্ফোরক ও জনবল দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেছিলেন রাওয়ালপিন্ডি থেকে চট্টগ্রামে বদলি হয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবী লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আব্দুল কাদির। পাকিস্তানিদের কাছে এটাই ছিল তার সবচেয়ে বড় অপরাধ। তার চট্টগ্রামের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে তাকে হত্যা করে পাক-সেনারা। প্রায় ৩ যুগ পর বাবার দেহাবশেষের সন্ধান পান তার সন্তান সাংবাদিক নাদীম কাদির। সেই বীরত্ব গাথা ধরে রাখতে বাবার জন্মভূমিতে নিজের জীবনের সব সঞ্চয় ব্যয় করে গড়ে তুলেছেন স্মৃতিসৌধ।
একজন ক্যাপ্টেনের নেতৃত্বে ১০-১২ জন সিপাহী চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। ন্যূনতম শ্রদ্ধা না দেখিয়ে সিনিয়র অফিসার লেফটেনেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরকে ‘দেশদ্রোহী, গাদ্দার ও হিন্দু’ বলে গালি দিয়ে তাদের সঙ্গে মার্শল ল’ হেডকোয়ার্টারে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, পরিবারকে কিছু বলার থাকলে বলে নাও। দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল।
সেই কৈশোরে পাপাকে শেষ দেখার বর্ণনা দিয়েছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক নাদীম কাদির তার ‘মুক্তিযুদ্ধ: অজানা অধ্যায়’ গ্রন্থে। ৩৬ বছর পর ২০০৭ সালে পাঁচলাইশে এই বীর শহীদের দেহাবশেষের খোঁজ পান তিনি। মহান এই শহীদের জন্ম ১৯২৯ সালের ২ জানুয়ারি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মোস্তফাপুর গ্রামে। দেশের জন্য আত্মোৎস্বর্গকৃত এই বীরের স্মৃতিতে সেখানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ প্রায় শেষ করে এনেছেন তার সন্তান নাদীম কাদির।
এখানে এসে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও একজন বীর সেনা কর্মকর্তার আত্মত্যাগের ইতিহাস। স্মৃতিসৌধে আছে এলাকার জীবিত ও মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতম লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আব্দুল কাদির। তারই নামে নামকরণ করা হয়েছে নাটোরের কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্টের। ২০১১ সালে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সেখানে পুনঃসমাহিত করা হয়।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন