ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী চট্টগ্রাম শহর ও হাটহাজারীতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী এইব্যস্ত সূচি শেষে আজই তিনি ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার (কেবিনেট) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন।
বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ছাত্রসমাজ, প্রকৌশলী, শিক্ষক ও সাধারণ জনগণকে দেশের মানুষের কল্যাণে এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজেদের নিবেদিত করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের স্নাতক কোর্সের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুয়েটে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা দেশের মেধার এক অনন্য অংশে নিজেদের যুক্ত করেছেন। জীবনের এই নতুন অধ্যায়কে অর্থবহ করতে গভীর অধ্যবসায় ও গবেষণামুখী দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে হবে।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের সুনামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও কানাডাসহ উন্নত দেশের গুগল, অ্যামাজন, টেসলা, সিমেন্স এবং স্যামসাং-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দক্ষতার সাথে কাজ করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের আধুনিকায়নের চিত্র তুলে ধরে ব্যারিস্টার মীর হেলাল জানান, বর্তমানে দেশের ভূমি সেবার সিংহভাগ কার্যক্রমই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় এসেছে। ‘ভূমি অ্যাপ’-এর সাহায্যে নাগরিকরা ঘরে বসেই ভূমি উন্নয়ন কর, নামজারি ও ই-পর্চা সেবা পাচ্ছেন এবং মাঠপর্যায়ের তদারকিতে ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সমস্ত ডিজিটাল সফটওয়্যার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ও বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের শ্রমে তৈরি এবং অত্যন্ত সাশ্রয়ী খরচে প্রস্তুতকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারের উদ্ভাবক স্বয়ং চুয়েটেরই একজন শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের মাদকের করাল গ্রাস থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক মানুষের মেধা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়। তাই সমস্ত প্রতিকূলতা জয় করে আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।
এর পর চট্টগ্রাম নূরানী তালিমুল কোরআন বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল এমপি বলেন, একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
দিনের অপর কর্মসূচি চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ও ফার্ম-বেজড ক্যাম্পাসে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম বিভাগের আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচি’র উদ্বোধন করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের উল্লেখযোগ্য অংশ ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপের কথা স্মরণ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের দূরদর্শী রূপকার। গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবন, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠন, খাল খনন কর্মসূচি এবং সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি এদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে সূচনা করেছিলেন, তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়। দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে তাঁর দেখানো গণমুখী ও উৎপাদনমুখী রাজনীতিকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”
এরপর প্রতিমন্ত্রী হাটহাজারী ফতেয়াবাদ-রামদাশহাট-মদুনাঘাট সড়ক মেরামতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED), হাটহাজারীর বাস্তবায়নে এই সড়কটি এই অঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের এই মেলবন্ধনকে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ঘোষণা ও মূল দর্শন অনুযায়ী—‘আমাদের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা, মেধার মূল্যায়ন করা এবং তৃণমূলের মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।’ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ আজ প্রযুক্তিনির্ভর, স্বনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের এই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের সাথে একাত্ম হয়ে আমাদের তরুণদের মেধা, নতুন প্রযুক্তি এবং টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়নকে কাজে লাগাতে হবে। তবেই আমরা একটি স্বৈরাচারমুক্ত, বৈষম্যহীন এবং স্বাবলম্বী বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারব।”
ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং সর্বস্তরের জনগণকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন এবং আজ অপরাহ্নেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
আপনার মতামত লিখুন