খুঁজুন
, ,

অস্তিত্বহীন ফাজিলপুর ঘাটের ইজারা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বছরে মোটা অংকের চাঁদা আদায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 28 November, 2021, 5:51 pm
অস্তিত্বহীন ফাজিলপুর ঘাটের ইজারা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বছরে মোটা অংকের চাঁদা আদায়

তাহেরপুর  থেকে ফিরে ঘাটের কোনো অস্তিত্ব নেই, তবে আছে ইজারা। এলাকাবাসি জানান গত ২০ বছর আগে ছিল তাহিরপুরের রক্তি নদীর তীরে ফাজিলপুর খেয়া ঘাটটি। তবে এখনও আছে কাগজে-কলমে, যার কারণে ইজারা দেওয়া হয়। এ অস্তিত্বহীন ঘাটের ইজারা বাতিল করতে বিগত বছরে একাধিকবার মানববন্ধনও করেছেন এলাকাবাসি। তবে এখনও বাতিল হয়নি অস্তিত্বহীন ঘাটের ইজারা। কোনো প্রকার রশিদ ছাড়াই নৌকা থেকে আদায় করা হয় টাকা ,স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ ঘাটে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫০টি নৌকা থেকে গড়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয় চাঁদা। এ হিসেবে প্রতি বছরে চাঁদা ওঠে কমপক্ষে ৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এ চাঁদাবাজির বৈধতা পেতে নেওয়া হয় অস্তিত্বহীন ঘাটের ইজারা। আর ইজারা নেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা মিলে। এ ঘাটে এখন আর কেউ স্বেচ্ছায় নৌকা ভেড়ান না, কিন্তু জোর করে নৌকা ভেড়াতে বাধ্য করা হয়। না হলে মাঝনদীতে নৌকা আটকে রাখা হয়। আর এভাবেই এখানে নৌকা ঘাটের নামে আদায় করা হচ্ছে চাঁদা। বর্তমানে যাদুকাটা নদীর লাউড়েরগড় মহাল থেকে বালু ও পাথর বোঝাই করে নৌযান ফাজিলপুর দিয়ে চলাচল করছে।জানা যায়- চলতি বাংলা সালের জন্য ৩১ লাখ টাকায় অস্তিত্বহীন ঘাটের ইজারা নিয়েছেন উজান তাহিরপুর গ্রামের মৃত আলী নুরের ছেলে মঈনুল হক। তার সঙ্গে আরো ৭ জন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা জড়িত, আছেন বিএনপির কর্মীও। আর এদের পিছনে রয়েছেন তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও এক সাংগঠনিক সম্পাদক। গত বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রক্তি নদীর পশ্চিম পাড় ফাজিলপুর আর পূর্ব পাড় বড়খলা। বর্তমানে টোল আদায় করা হচ্ছে বড়খলা থেকে। তবে পশ্চিম পাড়ে ঘাটের কোনো অস্তিত্ব নেই। সেই সাথে এ ঘাটের নৌকা ভিড়ানোর কোনো ধরনের প্রয়োজনীয়তা চোখে পড়েনি।

এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ নদী দিয়ে চলাচলকারী একাধিক নৌকা মালিক ও শ্রমিকেরা জানান, ফাজিলপুরে তাদের নৌকা কোনো কারণেই ভিড়াতে হয় না। তবে মাঝনদীতে বালু-পাথর বোঝাই নৌকা আটকিয়ে টাকা আদায় করা হয়। টাকা না দিলে নৌকা আটক করে রাখে ইজারাদারের লোকজন। এসময় তারা খারাপ ভাষায় গালাগলি ও মারধর করে। স্থানীয় বালুপাথর ব্যবসায়ী নজির আহমদ জানান, এ নদীতে চলতি নৌকা থেকে টাকা আদায় করা অবৈধ। নৌকা ঘাটে ভিড়ায়ে মাল লোড-আনলোড করলে টাকা আদায় করা বৈধ। তবে অনেক বছর আগে ফাজিলপুরে লোড-আনলোড হতো, কিন্তু দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এখানে নৌকা থেকে বালুপাথর লোড-আনলোড হয় না। একটি নৌকাও ফাজিলপুরে ভিড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না।এ নদী দিয়ে চলাচলকারী বেশির ভাগ বড় নৌকা বাজিতপুর নৌপরিবহন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের। এ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বলেন, নৌকা মালিক শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছি এ চাঁদাবাজি বন্ধ করতে, কিন্তু এলাকার স্থানীয় কয়েকজন লোকের কারণে বন্ধ হচ্ছে না। অচিরেই আমরা এ চাঁদাবাজি বন্ধের আন্দোলনে নামবো। এ ঘাটটি বন্ধ করলে নৌযান চালক ও মালিকরা স্বস্তি পাবে।ফাজিলপুর-আনোয়ারপুর ক্রাশার মিল শ্রমিক সর্দার সমবায় সমিতির সভাপতি ফেরদৌস আলম বলেন, এই ঘাটের ইজারার প্রয়োজনীয়তা গত ২০বছর আগে ছিল। এখন অস্তিত্বহীন ঘাটের ইজারা দেওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। এখানে ইচ্ছে মতো বালুপাথর বোঝাই নৌকা থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। চলন্ত নৌকা থামিয়ে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি চলে। কোনো প্রকার রশিদ ছাড়াই তারা এ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।যাদুকাটা নৌযান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক মিয়া বলেন, এ ঘাটটি উঠে গেলে এ নদী দিয়ে চলাচলকারী নৌকা ও শ্রমিকদের জন্য ভালো হয়। প্রতিদিন বড় ও মাঝারি মিলে প্রায় দেড় শতাধিক নৌকা প্রতিদিন এই নদী দিয়ে চলাচল করে।

ইজারাদার মঈনুল হক বলেন, বৈধ ইজারাদার হিসেবে টোল আদায় করছি। রশিদ দিয়েই টাকা নেওয়া হচ্ছে নৌকা থেকে। উপজেলা প্রশাসন আমাদের বৈধ ইজারা দিয়েছে। তবে মাঝনদীতে বালু-পাথর বোঝাই নৌকা আটকিয়ে টাকা আদায় করার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সব প্রক্রিয়া মেনে ফাজিলপুর নৌকাঘাট হিসেবে এটি ইজারা হচ্ছে। এ নৌকাঘাটে নৌকা ভেড়ালে টোল আদায় করা যাবে। নৌকা না ভিড়ালে টোল আদায় করার কোনো নিয়ম নেই। অতিরিক্ত টোল আদায় বা ইজারার প্রয়োজনীয়তা আছে কি না এ বিষয়ে প্রশাসনকে জানালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Feb2
Feb2

জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিক ফল : শামীম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 4 August, 2026, 8:10 pm
জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিক ফল : শামীম

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও র‌্যালি-পূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরের জামিয়াতুল ফালাহ মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এমপি, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এমপি এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শামসুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং স্বৈরাচারবিরোধী ধারাবাহিক রাজনৈতিক লড়াইয়ের স্বাভাবিক পরিণতি। দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন, গণতান্ত্রিক সংকট ও মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্রদলের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের নেতা ওয়াসিম আকরাম চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ছিলেন। আন্দোলনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের ধারাবাহিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং দেশবাসীকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। এই অর্জনকে অর্থবহ করতে হলে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন আরও বেগবান করতে হবে। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এমপি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ছিল না। এটি ছিল ছাত্র-জনতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবী এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত আত্মত্যাগের ফসল। দীর্ঘদিনের বৈষম্য, ভোটাধিকার হরণ, দমন-পীড়ন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভই শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছিল।

তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন, কারাবরণ, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। এই দীর্ঘ আন্দোলনই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জন্য একটি শক্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তি তৈরি করেছিল। ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে কারও অবদান খাটো না করে প্রত্যেকের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। ৫ আগস্টের বিজয় সমগ্র জাতির সম্মিলিত আত্মত্যাগের অর্জন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাঈদ আল নোমান এমপি বলেন, বিএনপির একটি শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তি রয়েছে এবং সেই ভিত্তিই জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কারণেই ৫ আগস্টের বিজয় সম্ভব হয়েছিল।
তিনি বলেন, সেদিন সরকারের দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে লাখো মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছেই স্বৈরাচারের পতন ঘটে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—জাতীয় ঐক্য অটুট থাকলে কোনো অন্যায় কিংবা স্বৈরাচার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন,প্রত্যেকটি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সমর্থন ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে অবিস্মরণীয়। এই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা আমার আপনার সকলের দায়িত্ব। যারা শহীদ হয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন এবং যারা বছরের পর বছর গুম, খুন, কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণেই দেশের মানুষ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। দেশের মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করেছে, সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এই বিজয় অর্জিত হয়েছে।যদি এই আন্দোলন ব্যর্থ হতো তাহলে ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের অনেকের ফাঁসি দিয়ে দিত। অনেক নেতাকর্মীদের গুম ও ক্রস ফাইয়ারের শিকার হতে হতো। কিন্তু ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে, জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে কোনো স্বৈরাচার টিকে থাকতে পারে না।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শামসুল আলম। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, কাজী বেলাল উদ্দিন, শফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম চৌধুরী (রাসেল), শিহাব উদ্দিন মুবিন, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, সদস্য ইকবাল চৌধুরী, আবুল হাসেম, ইস্কান্দর মির্জা।

নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরাপদ করতে ৩৮ ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছে: চসিক মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 4 August, 2026, 8:03 pm
নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরাপদ করতে ৩৮ ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছে: চসিক মেয়র

নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলিত ও জনবান্ধব করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে নগরজুড়ে ৩৮টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ৭–৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নতুন ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (৩ আগস্ট) নগরীর ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের কাঠগড় মোড়ে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণকাজের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

মেয়র জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ‘বিমানবন্দর সড়ক সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে এসব ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৯টি ফুটওভার ব্রিজের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে, ২১টির নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এসব ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে ব্যস্ত সড়কে পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। যেসব ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে, সেগুলো সংস্কারের উদ্যোগও নেয়া হবে।

কাঠগড় মোড়ে নির্মাণাধীন ফুটওভার ব্রিজটি ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ৩৫ মিটার, যা প্রায় ১১৫ ফুট এবং প্রস্থ ৩ মিটার। এতে দুই পাশে একটি করে মোট দুটি সিঁড়ি থাকবে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এ এলাকায় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারে ফুটওভার ব্রিজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে এটি সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর পাশাপাশি যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, নগরীর উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়; বরং নাগরিকদের জীবন ও চলাচলকে নিরাপদ করা। পরিকল্পিত ফুটওভার ব্রিজ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পথচারী ও যানবাহন—উভয়ের জন্যই একটি নিরাপদ নগর গড়ে তোলাই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মোহাইমিনুল ইসলাম মাহিসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

৮ ব্র্যান্ডের রং ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়ংকর মাত্রার মার্কারি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 4 August, 2026, 7:39 pm
৮ ব্র্যান্ডের রং ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়ংকর মাত্রার মার্কারি

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (BDS) অনুযায়ী নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বিপজ্জনক মাত্রায় ক্ষতিকর মার্কারির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে ৮টি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে। এসব ক্রিমের বিক্রয়-বিতরণ, মজুদ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

বাংলাদেশ মানের চেয়ে অতি বিপজ্জনক মাত্রার মার্কারিযুক্ত পণ্য ব্যবহার করলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা থাকায় জনসাধারণকে এসব পণ্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিএসটিআইয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, দেশীয় বাজারে বিভিন্ন রং ফর্সাকারী ক্রিম পাওয়া যাচ্ছে। এসব পণ্য বৈধভাবে আমদানি করা হচ্ছে না। লাগেজ বা বিভিন্ন চোরাই পথে দেশীয় বাজারে এসব পণ্য প্রবেশ করছে এবং বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বিএসটিআই চোরাই পথে আসা এসব পণ্যের মান যাচাই করতে পারছে না। বাজার থেকে সংগ্রহ করা এমন রং ফর্সাকারী ক্রিম বিএসটিআই ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষায় ৮টি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে অত্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রার মার্কারি (Mercury) শনাক্ত হয়েছে। এসব পণ্যে মার্কারির উপস্থিতি বাংলাদেশ মান (বিডিএস ১৩৮২) অনুযায়ী নির্ধারিত সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১.০০ (এক) পিপিএমের বহুগুণ বেশি পাওয়া গেছে।

বাজার থেকে সংগৃহীত নমুনা বিএসটিআই পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে পাকিস্তানের এস.জে এন্টারপ্রাইজের চাঁদনি হোয়াটেনিং ক্রিমে ১২০.৩৯ পিপিএম; পাকিস্তানের কিউসিআই কোম্পানির নিউ ফেস বিউটি ক্রিমে ৪৪.৭২ পিপিএম, পাকিস্তানের লোয়া ইন্টারন্যাশনালের নাভিয়া বিউটি ক্রিমে এবং নাভিয়া হোয়াটেনিং ক্রিমে যথাক্রমে ৫৯.৮২ পিপিএম এবং ৭৯.৭০ পিপিএম; পাকিস্তানের নুর এন্টারপ্রাইজের নুর হোয়াটেনিং ক্রিমে ৮২.৭৬ পিপিএম, পাকিস্তানের ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ডিউ বিউটি ক্রিমে ১২৩.৩৭ পিপিএম; পাকিস্তানের গৌরি কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গৌরি বিউটি ক্রিমে ৫৬.৯৩ পিপিএম এবং চায়নার জিএলডিজেবি (হারবিন) কসমেটিকস কোম্পানি লিমিটেডের ন্যাচারাল পার্ল স্ক্রিন ক্রিমে ৬৭.৪৯ পিপিএম মার্কারির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। ভোক্তার জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাই বিএসটিআইয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যে কোনো প্রতিষ্ঠান ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাত করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএসটিআই দেশের বাজারকে নিরাপদ রাখতে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ, বাজার তদারকি এবং মোবাইল কোর্ট ও সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম জোরদার করেছে।

পাশাপাশি তিনি অজ্ঞাত বা অনুমোদনবিহীন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম ক্রয় ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, প্রসাধনী ক্রয়ের আগে অবশ্যই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও পণ্যের বৈধতা যাচাই করা এবং সন্দেহজনক কোনো পণ্য সম্পর্কে তথ্য থাকলে বিএসটিআইকে অবহিত করার জন্যও অনুরোধ জানান।

দীর্ঘদিন মার্কারিযুক্ত স্কিন ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থায়ী দাগ, অ্যালার্জি, কিডনির ক্ষতি, স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা এবং গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।