খুঁজুন
শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্তিত্বহীন ফাজিলপুর ঘাটের ইজারা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বছরে মোটা অংকের চাঁদা আদায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২১, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
অস্তিত্বহীন ফাজিলপুর ঘাটের ইজারা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বছরে মোটা অংকের চাঁদা আদায়

তাহেরপুর  থেকে ফিরে ঘাটের কোনো অস্তিত্ব নেই, তবে আছে ইজারা। এলাকাবাসি জানান গত ২০ বছর আগে ছিল তাহিরপুরের রক্তি নদীর তীরে ফাজিলপুর খেয়া ঘাটটি। তবে এখনও আছে কাগজে-কলমে, যার কারণে ইজারা দেওয়া হয়। এ অস্তিত্বহীন ঘাটের ইজারা বাতিল করতে বিগত বছরে একাধিকবার মানববন্ধনও করেছেন এলাকাবাসি। তবে এখনও বাতিল হয়নি অস্তিত্বহীন ঘাটের ইজারা। কোনো প্রকার রশিদ ছাড়াই নৌকা থেকে আদায় করা হয় টাকা ,স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ ঘাটে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫০টি নৌকা থেকে গড়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয় চাঁদা। এ হিসেবে প্রতি বছরে চাঁদা ওঠে কমপক্ষে ৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এ চাঁদাবাজির বৈধতা পেতে নেওয়া হয় অস্তিত্বহীন ঘাটের ইজারা। আর ইজারা নেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা মিলে। এ ঘাটে এখন আর কেউ স্বেচ্ছায় নৌকা ভেড়ান না, কিন্তু জোর করে নৌকা ভেড়াতে বাধ্য করা হয়। না হলে মাঝনদীতে নৌকা আটকে রাখা হয়। আর এভাবেই এখানে নৌকা ঘাটের নামে আদায় করা হচ্ছে চাঁদা। বর্তমানে যাদুকাটা নদীর লাউড়েরগড় মহাল থেকে বালু ও পাথর বোঝাই করে নৌযান ফাজিলপুর দিয়ে চলাচল করছে।জানা যায়- চলতি বাংলা সালের জন্য ৩১ লাখ টাকায় অস্তিত্বহীন ঘাটের ইজারা নিয়েছেন উজান তাহিরপুর গ্রামের মৃত আলী নুরের ছেলে মঈনুল হক। তার সঙ্গে আরো ৭ জন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা জড়িত, আছেন বিএনপির কর্মীও। আর এদের পিছনে রয়েছেন তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও এক সাংগঠনিক সম্পাদক। গত বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রক্তি নদীর পশ্চিম পাড় ফাজিলপুর আর পূর্ব পাড় বড়খলা। বর্তমানে টোল আদায় করা হচ্ছে বড়খলা থেকে। তবে পশ্চিম পাড়ে ঘাটের কোনো অস্তিত্ব নেই। সেই সাথে এ ঘাটের নৌকা ভিড়ানোর কোনো ধরনের প্রয়োজনীয়তা চোখে পড়েনি।

এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ নদী দিয়ে চলাচলকারী একাধিক নৌকা মালিক ও শ্রমিকেরা জানান, ফাজিলপুরে তাদের নৌকা কোনো কারণেই ভিড়াতে হয় না। তবে মাঝনদীতে বালু-পাথর বোঝাই নৌকা আটকিয়ে টাকা আদায় করা হয়। টাকা না দিলে নৌকা আটক করে রাখে ইজারাদারের লোকজন। এসময় তারা খারাপ ভাষায় গালাগলি ও মারধর করে। স্থানীয় বালুপাথর ব্যবসায়ী নজির আহমদ জানান, এ নদীতে চলতি নৌকা থেকে টাকা আদায় করা অবৈধ। নৌকা ঘাটে ভিড়ায়ে মাল লোড-আনলোড করলে টাকা আদায় করা বৈধ। তবে অনেক বছর আগে ফাজিলপুরে লোড-আনলোড হতো, কিন্তু দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এখানে নৌকা থেকে বালুপাথর লোড-আনলোড হয় না। একটি নৌকাও ফাজিলপুরে ভিড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না।এ নদী দিয়ে চলাচলকারী বেশির ভাগ বড় নৌকা বাজিতপুর নৌপরিবহন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের। এ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বলেন, নৌকা মালিক শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছি এ চাঁদাবাজি বন্ধ করতে, কিন্তু এলাকার স্থানীয় কয়েকজন লোকের কারণে বন্ধ হচ্ছে না। অচিরেই আমরা এ চাঁদাবাজি বন্ধের আন্দোলনে নামবো। এ ঘাটটি বন্ধ করলে নৌযান চালক ও মালিকরা স্বস্তি পাবে।ফাজিলপুর-আনোয়ারপুর ক্রাশার মিল শ্রমিক সর্দার সমবায় সমিতির সভাপতি ফেরদৌস আলম বলেন, এই ঘাটের ইজারার প্রয়োজনীয়তা গত ২০বছর আগে ছিল। এখন অস্তিত্বহীন ঘাটের ইজারা দেওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। এখানে ইচ্ছে মতো বালুপাথর বোঝাই নৌকা থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। চলন্ত নৌকা থামিয়ে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি চলে। কোনো প্রকার রশিদ ছাড়াই তারা এ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।যাদুকাটা নৌযান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক মিয়া বলেন, এ ঘাটটি উঠে গেলে এ নদী দিয়ে চলাচলকারী নৌকা ও শ্রমিকদের জন্য ভালো হয়। প্রতিদিন বড় ও মাঝারি মিলে প্রায় দেড় শতাধিক নৌকা প্রতিদিন এই নদী দিয়ে চলাচল করে।

ইজারাদার মঈনুল হক বলেন, বৈধ ইজারাদার হিসেবে টোল আদায় করছি। রশিদ দিয়েই টাকা নেওয়া হচ্ছে নৌকা থেকে। উপজেলা প্রশাসন আমাদের বৈধ ইজারা দিয়েছে। তবে মাঝনদীতে বালু-পাথর বোঝাই নৌকা আটকিয়ে টাকা আদায় করার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সব প্রক্রিয়া মেনে ফাজিলপুর নৌকাঘাট হিসেবে এটি ইজারা হচ্ছে। এ নৌকাঘাটে নৌকা ভেড়ালে টোল আদায় করা যাবে। নৌকা না ভিড়ালে টোল আদায় করার কোনো নিয়ম নেই। অতিরিক্ত টোল আদায় বা ইজারার প্রয়োজনীয়তা আছে কি না এ বিষয়ে প্রশাসনকে জানালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Feb2

বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী

বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সকালে যখন আমি ঢাকা থেকে প্লেনে উঠলাম, তখন প্লেনে পত্রিকা থাকে, আমি পত্রিকাগুলো দেখলাম কী কী নিউজ আছে। পত্রিকাগুলোর মধ্যে দেখলাম সবগুলো পত্রিকা কমবেশি একটি নিউজ করেছে যে, প্রতিবছর বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে গত পরশুদিন বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।

তিনি বলেন, যেই বাজেট উপস্থাপন করলে জিনিসের দাম বাড়ে না, সেই বাজেট জনগণের পক্ষের বাজেট। এই বাজেটে আমরা বিভিন্ন ওষুধপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসার যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলোর ওপর থেকে আমরা ট্যাক্স কমিয়ে এনেছি।

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোকে বাঁচিয়ে রেখে পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার ( ১৩ জুন) কর্ণফুলী উপজেলার চাদগাঁও বেড়িবাঁধ এলাকায় আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচির আওতায় মাত্র দুই মাসে এক লাখ বৃক্ষরোপণ করে আলোচনায় আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সারা দেশে আজ থেকে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান এ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে ৭০ হাজার বৃক্ষরোপণের কার্যক্রম শুরু করেছি। আগামী পাঁচ বছরে শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই প্রায় দেড় কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। চলতি বছর জেলায় প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, “পৃথিবী মানুষের বসবাসের একমাত্র গ্রহ। কিন্তু মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণেই পরিবেশ বিপর্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ যে গাছগুলো রোপণ করা হচ্ছে, সেগুলো সঠিকভাবে পরিচর্যা করা গেলে ভবিষ্যতে পরিবেশগত ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।”

অনুষ্ঠানে একটি সোনালু গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।

কর্মসূচির আওতায় কর্ণফুলী বেড়িবাঁধের চাদগাঁও এলাকায় প্রায় ১ দশমিক ৫০ একর জমিতে ১৯ প্রজাতির ১ হাজার ২০০টি চারা রোপণ করা হয়। রোপিত চারার মধ্যে রয়েছে সোনালু, চালতা, জারুল, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, বকুল, পলাশ, মহুয়া, কাঞ্চন, আমলকি, অর্জুন, জলপাই, কাঠবাদাম, ঝাউ, হিজল, বহেরা, চিকরাশি ও মেহগনি।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণ করা হবে। এর মধ্যে বন বিভাগের আওতায় প্রায় ১৮ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে ৭ লাখ ৫০ হাজার, দক্ষিণ বন বিভাগে ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০, উপকূলীয় বন বিভাগে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ এবং চট্টগ্রাম বোটানিক্যাল গার্ডেনে ১৫ হাজার ২৮৯টি চারা রোপণ করা হবে।

এ ছাড়া সিডিএ ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে কর্ণফুলী বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে প্রায় ১৬ হাজার গাছ লাগানো হবে।

গাছের সুরক্ষার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রতিটি চারার উচ্চতা ন্যূনতম পাঁচ ফুট নিশ্চিত করা হয়েছে। গবাদিপশুর ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নাগরিক সচেতনতা। এই গাছ আমাদের পরিবেশ, জীবন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করবে।”

তিনি আরও বলেন, “করোনাকালে আমরা অক্সিজেনের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছি। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজের গাছ মনে করে এসব চারার পরিচর্যা করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোছাইন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা, উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম এ হাসান এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সরকারের এই বৃহৎ সবুজায়ন কর্মসূচি চট্টগ্রামে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন। সত্যি আপনারা ভাগ্যবান যে এক মন্ত্রী সব মন্ত্রণালয় চালায়। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কথাও তাকে বলতে হয়।

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সমাবেশে নেতাকর্মীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিলে জামায়াত আমির বলেন, নিজেদের সন্তানকে ভুয়া বলতে নেই। নিজের সন্তান কানা হলেও তো পদ্মলোচন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য আমার কষ্ট হয় উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি আশেপাশে কাদেরকে বসিয়েছেন? ওনি কুমিল্লায় এসে ইপিজেড দেন। ফরিদপুরে গিয়ে সয়াবিন তেল দেন। তিনি দিনাজপুরে গিয়ে আম উপহার দেন। সিলেটে গিয়ে সাড়ে নয় ঘণ্টা উপহার দেন। জাতীয় সংসদে গিয়ে প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দেন। আর কক্সবাজারে এসে তিনি বলেন বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও ধূমপান জাতীয় দ্রব্যমূল্যের টেক্স বাড়ানো হয়েছে বলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছে—এগুলো মিথ্যা, আর ভুয়া।

জামায়াত আমির বলেন, ‘বিরোধী দলের কেউ এটা করেনি। আমার করুনা লাগে। প্রধানমন্ত্রীর পদটা রাষ্ট্রীয় পদ। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। তার দিকে তাকিয়ে বিশ্বের লোকজন বাংলাদেশকে হিসাব করবে। তার মুখ দিয়ে যদি অনবরত এসমস্ত ভুলভাল কথা বের হতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ লজ্জিত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ওদেরকে চিহ্নিত করুন যারা আপনাকে ভুল বুঝাচ্ছে। তারা আপনার সম্মান আর বাংলাদেশের সম্মান ধ্বংস করছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। নইলে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু আপনি হবেন না, গোটা জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন।

বাজেটে বিরোধী দল প্রতিক্রিয়া জানাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এতে রাগ করার কি আছে? অল্পতে ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে? তবে হা জনগণ যখন দেখবেন, জনআকাঙ্খা বাস্তবায়নে আপনি এবং আপনার সরকার আন্তরিক, তখন আপনাদের প্রশংসা করবে। কিন্তু যখন জনগণ দেখবে আপনারা ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অপমান অগ্রাহ্য করছেন, তখন জনগণ বসে বসে আঙুল চষবে না।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন– জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হকসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা।