খুঁজুন
সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপহরণের পর শিশুহত্যা, নেপথ্যে দুই স্কুলছাত্রের গেমিং ল্যাপটপের লোভ!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ৬:০০ অপরাহ্ণ
অপহরণের পর শিশুহত্যা, নেপথ্যে দুই স্কুলছাত্রের গেমিং ল্যাপটপের লোভ!

কান্না থামছে না গৃহবধূ সামসুন্নাহারের। ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে আদরের সন্তানকে হারিয়ে বার বার মূর্চ্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। অপহরণকারীরা বিশেষ আইপি নম্বর ব্যবহার করে দাবি করেছিল টাকা। শেষ পর্যন্ত মুক্তিপণের টাকার জন্যে দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরের সূত্রে আসামিরা ধরা পড়ার পরও চোখ কপালে উঠেছে গোয়েন্দাদের।

পিলে চমকানার মতোই ঘটনা। জড়িত দুজনই নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা একে অপরের বন্ধু। এদের একজন মোবাইল ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে শিখেছিল অন্যকে ফোন করে নিজের নম্বর গোপন করার কৌশল। সে কৌশল কাজে লাগিয়ে গেমিং ল্যাপটপ কেনার জন্যে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই তারা অপহরণের পর খুন করে শিশু ইয়ামিনকে।

তারপর সন্দেহের তালিকা থেকে বাঁচতে নিজেরাই মিশে যায় সন্তান হারানো পরিবারের সঙ্গে। এমনকি নিখোঁজের সন্ধান চেয়ে মাইকিংয়েও অংশ নেয় দুজন। পেশাদার অপরাধীদের মতো নিখুঁতভাবে শিশু অপহরণ। তারপর অচেনা নম্বর ব্যবহার করে মুক্তিপণ দাবি। শেষে শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গুম। দুই স্কুল শিক্ষার্থীর ছকে গড়া এমন নিষ্ঠুর ও নির্মম ঘটনা ভাবিয়ে তুলেছে খোদ গোয়েন্দাদের।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে সামান্য একটি গেমিং ল্যাপটপ কেনার জন্যে অর্থ সংগ্রহে অপহরণ করা হয় মালয়েশিয়া প্রবাসীর আট বছর বয়সি সন্তান ইয়ামিনকে।

ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হাবিবুর রহমান জানান, গত নভেম্বর নিজের বাসা থেকে নিখোঁজ হয় নরসিংদীর রায়পুরা উত্তর বাখরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়ামিন। সে প্রবাসী জামাল উদ্দিন ও সামসুন্নাহার বেগম দম্পত্তির সন্তান।

ইয়ামিনের মা সামসুন্নাহার বেগম জানান, ২৮ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে ছেলে ইয়ামিনকে বাড়িতে রেখে স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে ভোট দিতে যান তিনি। বেলা ১২টার দিকে বাড়ি ফিরে সন্তানকে না পেয়ে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। তাও না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এর মধ্যে অচেনা নম্বর (আইপি নম্বর) থেকে ফোনে দাবি করা হয় মুক্তিপণ।

ঘটনার তিন দিন পর সামসুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন নরসিংদীর রায়পুরা থানায়। এর মধ্যেই চলতে থাকে মুঠোফোনে মুক্তিপণ দাবি।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে আসা মাত্রই অপহরণের ঘটনাটির ছায়া তদন্তের দায়িত্ব দেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে।’

বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে আইপি অ্যাড্রেসের মাধ্যমে আসা ফোন কল থেকে কিছুতেই অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারছিলেন না গোয়েন্দারা।

কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, ‘এর মধ্যে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে পঁচা লাশের গন্ধের সূত্রে পাওয়া যায় শিশু ইয়ামিনের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ। অপহৃত শিশুকে জীবিত ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা হারিয়ে যায়। আদরের সন্তানকে হারিয়ে পাগলপারা হয়ে যান মা। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের বিষয়টি হয়ে পড়ে চ্যালেঞ্জের।’

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, ‘তদন্তের শুরুতে আমরা সন্দেহভাজনদের প্রতি নিবিড় নজরদারি শুরু করি। কিন্তু, মোবাইলে বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে ভিপিএনের মাধ্যমে কলগুলো আসায় সেসব নম্বর ভিন্ন দেশের হওয়ায় অপরাধীদের শনাক্ত করা ছিল বেশ দুরূহ কাজ। তদন্তের শুরু থেকে প্রতিটি পর্যায়ে আমাদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম স্যার। এরই মধ্যে তড়িঘড়ি করে জড়িতেরা ভিপিএন নম্বর থেকে মুক্তিপণ টাকা পাঠানোর জন্যে একটি বিকাশ নম্বর দিলে আমরা ক্লু পেয়ে যাই। যদিও সে নম্বরটি আদতে বিকাশ নম্বর হিসেবে নিবন্ধিত ছিল না এবং ফোনটি যার নামে নিবন্ধিত তিনি সেটি ব্যবহার করছিলেন না।’

আবুল বাসার জানান, একপর্যায়ে গতকাল শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে রায়পুরা থানার উত্তর বাখরনগর এলাকা থেকে সিয়াম উদ্দিনকে (১৭) এবং রায়পুরা থানাধীন পিরিজকান্দি এলাকা থেকে রাসেল মিয়াকে (১৮) আটক করার পর জট খুলে যায় তদন্তের। আলামত হিসেবে জব্দ করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত স্কচটেপ ও বালিশ এবং অপহরণ ঘটনায় ব্যবহৃত মোবাইল ও সিম। তাদের অত্র মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

এদের মধ্যে উত্তর বাখরনগর গ্রামের সিয়াম উদ্দিন স্থানীয় ইম্পেরিয়াল মডেল হাই স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর, পিরিজকান্দি গ্রামের রাসেল মিয়া তার স্কুল জীবনের সহপাঠী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, ল্যাপটপ কিনে ইউটিউবে গেম লোড করে টাকা উপার্জনের জন্য মালয়েশিয়া প্রবাসী জামাল উদ্দিনের সন্তান ইয়ামিনকে অপহরণ ও মুক্তিপণের পরিকল্পনা করে তারা। পরিকল্পনা অনুসারে শিশুটিকে খেলার ছলে প্রতিবেশী সিয়ামের বাড়ির একটি কক্ষে নিয়ে মুখ, হাত, পা বেঁধে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পর বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে দেয়। পরে তার মায়ের কাছে অ্যাপ ব্যবহার করে ভিপিএনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

পুলিশের সামনে একেবারেই শান্ত স্বাভাবিকভাবে সিয়াম বলে, ‘আমরা টেলিভিশন আর ইউটিউবে ভারতীয় সিআইডি ক্রাইম পেট্রোল দেখে দেখে পরিকল্পনা করেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে আমরা বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফোন করেছি। যাকে ফোন করেছি তার নম্বরে অচেনা নম্বর ভেসে ওঠায় আমাদের শনাক্ত করা কঠিন ছিল।’

এ ঘটনায় সহযোগী হিসেবে সুজন মিয়া (২৪) এবং কাঞ্চন মিয়া (৫৪) নামের আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, ‘গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আবুল বাসারের নেতৃত্বে ডিবির এসআই মোহাম্মদ তানভীর মোর্শেদ, এসআই কবির উদ্দিন, এসআই মো. সফিউদ্দিন ও রায়পুরা থানা পুলিশের এসআই জহিরুল হকের টিম অল্প সময়ের ব্যবধানে এ ঘটনা উদঘাটনের মাধ্যমে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। তবে, আমাদের চিন্তা অন্য জায়গায়। এ দুই কিশোরের এমন অপরাধ সত্যিই আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। আমাদের কিশোর তরুণেরা কীভাবে বেড়ে উঠছে—সে প্রশ্নটাই চলে আসে সবার সামনে।’

এন-কে

Feb2

চমেক হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে : ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
চমেক হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে : ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ছিল। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অনেক ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছিল। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বিবেচনায় নতুন করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি সোমবার (৮ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে চমেক হাসপাতালে রোগী ও লাশ নীতিমালায় বর্ণিত এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া পূন:মূল্যায়ন বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, নতুন ভাড়ার তালিকা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, লবি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানিয়ে দেওয়া হবে, যাতে রোগী ও স্বজনরা সহজেই ভাড়া সম্পর্কে জানতে পারেন। নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায় নিতে হবে এবং অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ ফেরত দিতে হবে।

তিনি বলেন, কেউ যদি নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেয়, তাহলে অভিযোগের ভিত্তিতে সেই টাকা ফেরত দিতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

মেয়র আরও জানান, চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা গন্তব্যের জন্য নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ফিটনেস যাচাইয়ে বিআরটিএ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া হবে।

সভায় তিনি ঘোষণা দেন, প্রবর্তক মোড় থেকে অলিখা মসজিদ পর্যন্ত এলাকাকে ‘নিরাপদ জোন’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ এলাকায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স, ডাবের গাড়ি, খাবারের ভ্যান কিংবা অন্য কোনো ভ্রাম্যমাণ দোকান বসতে দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট স্থানে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং এবং ফল ও ডাব বিক্রেতাদের জন্য পৃথক জোন নির্ধারণ করা হবে।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ডাব ও তালের খোসা, প্লাস্টিক বোতল, টায়ার কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে কাজ করে। তাই এসব বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা যাবে না।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমাদের লক্ষ্য ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ামুক্ত, পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তোলা। এ জন্য নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।

মেয়র জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করে সেখানে গ্রিন প্ল্যান্টেশন, ফুলের টব, গ্রাফিতি ও নান্দনিক সাজসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে। একইসঙ্গে হাসপাতাল এলাকায় সার্বক্ষণিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ২০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, বাথরুম ও অন্যান্য সেবার মান তদারকির জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হবে। বর্তমানে ৭৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগী ও স্বজনের চাপ থাকলেও অবকাঠামো সে অনুপাতে বাড়েনি। ফলে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভা শেষে হাসপাতাল এলাকার অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং, ফল বিক্রেতাদের নির্ধারিত স্থান এবং নতুন ভাড়ার তালিকা বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন মেয়র।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, ডা. এস এম সারোয়ার আলম, ডিসি ট্রাফিক নেছার আহমেদ, চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সাইফুদ্দীন সালাম মিটু, সালাউদ্দীন আলী, ডা. সামিউল করিম, বিআরটিএ প্রতিনিধি উথোয়াইনু চৌধুরী, চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ, সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ চৌধুরী সহ অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি, পুলিশ এবং বিআরটিএ’র প্রতিনিধিরা।

আমরা পুলিশ বাহিনীকে আরও বেশি ‘বুস্ট আপ’ করতে চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
আমরা পুলিশ বাহিনীকে আরও বেশি ‘বুস্ট আপ’ করতে চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সদস্যদের উৎসাহিত করতে বাহিনীকে আরও বেশি ‘বুস্ট আপ’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনকারী ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা ও আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পুলিশ কতটা পরিশ্রম ও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হলে পুলিশ সদস্যরা আরও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হবেন এবং ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ আগে হয়েছে কি না, আমি জানি না।

আমরা পুলিশ বাহিনীকে আরও বেশি ‘বুস্ট আপ’ করতে চাই, যাতে তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনটি আলোচিত ঘটনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনকারী পুলিশ সদস্যদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পুলিশ সদস্য, দৌলতদিয়ায় নৌ দুর্ঘটনায় যাত্রীদের প্রাণ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নৌ পুলিশের তিন সদস্য এবং মুন্সীগঞ্জে সংঘটিত সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চার আসামিকে গ্রেপ্তারে অবদান রাখা তিন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

তিনি বলেন, সব মিলিয়ে আজ ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের মনোবল বৃদ্ধি পাবে এবং অন্যরাও ভালো কাজ করতে উৎসাহিত হবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন সদস্যকে বিশেষ ব্যাজও প্রদান করা হয়েছে।

বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশের ওষুধ বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১৪০ দেশে আমাদের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদকরা ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারলে এই পরিসর আরও বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছর সরকারগুলো কোনো ভেন্টিলেটর, মেশিন, ভ্যাকসিন দিয়ে যায়নি। এমনকি সিরিঞ্জও ছিল না। প্রাইভেট এন্টারপ্রেনারদের সহায়তায় হামের মতো বিপদগুলো মোকাবিলা করেছে সরকার।

‘হামের এন্টিবডি তৈরি হতে ২০ জুন পর্যন্ত সময় লাগবে’, যোগ করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এছাড়া, ডেঙ্গুরোগীর চিকিৎসার সুবিধার্থে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ অনুদান হিসেবে আজ এক লাখ ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (আইভি স্যালাইন) দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেন্ট্রাল স্টোরে ডেঙ্গুর এক লাখ স্যালাইন আছে, আর ২০ থেকে ২৫ হাজার স্যালাইন বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছে বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে। তবে, হঠাৎ আরও স্যালাইনের প্রয়োজন পড়তে পারে।

রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজের জবাব দেওয়ার আরও দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ সময় না দিলে তারা আদালতের সুবিধা নিতে পারে। এ জন্য আদ-দ্বীন হাসপাতালকে আরও দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) তারা উত্তর দেবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।

তিনি বলেন, আইনানুগভাবে কী কী ব্যত্যয় ঘটেছে এবং কী ধরনের অপরাধ করেছে, এর ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ কাকে কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেবে, সেটি তাদের ব্যাপার। সরকার তার অবস্থানে ঠিক আছে। জনস্বার্থ সংরক্ষণ থেকে এক বিন্দু পিছপা হব না।

এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপরও যারা আক্রান্ত হবেন, তাদের যথাসময়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্যকে পুনর্গঠন করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রধান কর্মপন্থা হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে যে কাজ চলছে, সেখানে স্টেকহোল্ডারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

‘ওষুধ শিল্পকে আরও বিকশিত করতে পলিসি সাপোর্টের চিন্তা করছে সরকার। দেশের মানুষকে সঠিক ওষুধ, সঠিক মূল্য কিংবা বিনামূল্যে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার’, যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।