খুঁজুন
, ,

অপহরণের পর শিশুহত্যা, নেপথ্যে দুই স্কুলছাত্রের গেমিং ল্যাপটপের লোভ!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 4 December, 2021, 6:00 pm
অপহরণের পর শিশুহত্যা, নেপথ্যে দুই স্কুলছাত্রের গেমিং ল্যাপটপের লোভ!

কান্না থামছে না গৃহবধূ সামসুন্নাহারের। ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে আদরের সন্তানকে হারিয়ে বার বার মূর্চ্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। অপহরণকারীরা বিশেষ আইপি নম্বর ব্যবহার করে দাবি করেছিল টাকা। শেষ পর্যন্ত মুক্তিপণের টাকার জন্যে দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরের সূত্রে আসামিরা ধরা পড়ার পরও চোখ কপালে উঠেছে গোয়েন্দাদের।

পিলে চমকানার মতোই ঘটনা। জড়িত দুজনই নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা একে অপরের বন্ধু। এদের একজন মোবাইল ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে শিখেছিল অন্যকে ফোন করে নিজের নম্বর গোপন করার কৌশল। সে কৌশল কাজে লাগিয়ে গেমিং ল্যাপটপ কেনার জন্যে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই তারা অপহরণের পর খুন করে শিশু ইয়ামিনকে।

তারপর সন্দেহের তালিকা থেকে বাঁচতে নিজেরাই মিশে যায় সন্তান হারানো পরিবারের সঙ্গে। এমনকি নিখোঁজের সন্ধান চেয়ে মাইকিংয়েও অংশ নেয় দুজন। পেশাদার অপরাধীদের মতো নিখুঁতভাবে শিশু অপহরণ। তারপর অচেনা নম্বর ব্যবহার করে মুক্তিপণ দাবি। শেষে শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গুম। দুই স্কুল শিক্ষার্থীর ছকে গড়া এমন নিষ্ঠুর ও নির্মম ঘটনা ভাবিয়ে তুলেছে খোদ গোয়েন্দাদের।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে সামান্য একটি গেমিং ল্যাপটপ কেনার জন্যে অর্থ সংগ্রহে অপহরণ করা হয় মালয়েশিয়া প্রবাসীর আট বছর বয়সি সন্তান ইয়ামিনকে।

ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হাবিবুর রহমান জানান, গত নভেম্বর নিজের বাসা থেকে নিখোঁজ হয় নরসিংদীর রায়পুরা উত্তর বাখরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়ামিন। সে প্রবাসী জামাল উদ্দিন ও সামসুন্নাহার বেগম দম্পত্তির সন্তান।

ইয়ামিনের মা সামসুন্নাহার বেগম জানান, ২৮ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে ছেলে ইয়ামিনকে বাড়িতে রেখে স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে ভোট দিতে যান তিনি। বেলা ১২টার দিকে বাড়ি ফিরে সন্তানকে না পেয়ে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। তাও না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এর মধ্যে অচেনা নম্বর (আইপি নম্বর) থেকে ফোনে দাবি করা হয় মুক্তিপণ।

ঘটনার তিন দিন পর সামসুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন নরসিংদীর রায়পুরা থানায়। এর মধ্যেই চলতে থাকে মুঠোফোনে মুক্তিপণ দাবি।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে আসা মাত্রই অপহরণের ঘটনাটির ছায়া তদন্তের দায়িত্ব দেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে।’

বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে আইপি অ্যাড্রেসের মাধ্যমে আসা ফোন কল থেকে কিছুতেই অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারছিলেন না গোয়েন্দারা।

কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, ‘এর মধ্যে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে পঁচা লাশের গন্ধের সূত্রে পাওয়া যায় শিশু ইয়ামিনের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ। অপহৃত শিশুকে জীবিত ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা হারিয়ে যায়। আদরের সন্তানকে হারিয়ে পাগলপারা হয়ে যান মা। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের বিষয়টি হয়ে পড়ে চ্যালেঞ্জের।’

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, ‘তদন্তের শুরুতে আমরা সন্দেহভাজনদের প্রতি নিবিড় নজরদারি শুরু করি। কিন্তু, মোবাইলে বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে ভিপিএনের মাধ্যমে কলগুলো আসায় সেসব নম্বর ভিন্ন দেশের হওয়ায় অপরাধীদের শনাক্ত করা ছিল বেশ দুরূহ কাজ। তদন্তের শুরু থেকে প্রতিটি পর্যায়ে আমাদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম স্যার। এরই মধ্যে তড়িঘড়ি করে জড়িতেরা ভিপিএন নম্বর থেকে মুক্তিপণ টাকা পাঠানোর জন্যে একটি বিকাশ নম্বর দিলে আমরা ক্লু পেয়ে যাই। যদিও সে নম্বরটি আদতে বিকাশ নম্বর হিসেবে নিবন্ধিত ছিল না এবং ফোনটি যার নামে নিবন্ধিত তিনি সেটি ব্যবহার করছিলেন না।’

আবুল বাসার জানান, একপর্যায়ে গতকাল শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে রায়পুরা থানার উত্তর বাখরনগর এলাকা থেকে সিয়াম উদ্দিনকে (১৭) এবং রায়পুরা থানাধীন পিরিজকান্দি এলাকা থেকে রাসেল মিয়াকে (১৮) আটক করার পর জট খুলে যায় তদন্তের। আলামত হিসেবে জব্দ করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত স্কচটেপ ও বালিশ এবং অপহরণ ঘটনায় ব্যবহৃত মোবাইল ও সিম। তাদের অত্র মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

এদের মধ্যে উত্তর বাখরনগর গ্রামের সিয়াম উদ্দিন স্থানীয় ইম্পেরিয়াল মডেল হাই স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর, পিরিজকান্দি গ্রামের রাসেল মিয়া তার স্কুল জীবনের সহপাঠী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, ল্যাপটপ কিনে ইউটিউবে গেম লোড করে টাকা উপার্জনের জন্য মালয়েশিয়া প্রবাসী জামাল উদ্দিনের সন্তান ইয়ামিনকে অপহরণ ও মুক্তিপণের পরিকল্পনা করে তারা। পরিকল্পনা অনুসারে শিশুটিকে খেলার ছলে প্রতিবেশী সিয়ামের বাড়ির একটি কক্ষে নিয়ে মুখ, হাত, পা বেঁধে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পর বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে দেয়। পরে তার মায়ের কাছে অ্যাপ ব্যবহার করে ভিপিএনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

পুলিশের সামনে একেবারেই শান্ত স্বাভাবিকভাবে সিয়াম বলে, ‘আমরা টেলিভিশন আর ইউটিউবে ভারতীয় সিআইডি ক্রাইম পেট্রোল দেখে দেখে পরিকল্পনা করেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে আমরা বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফোন করেছি। যাকে ফোন করেছি তার নম্বরে অচেনা নম্বর ভেসে ওঠায় আমাদের শনাক্ত করা কঠিন ছিল।’

এ ঘটনায় সহযোগী হিসেবে সুজন মিয়া (২৪) এবং কাঞ্চন মিয়া (৫৪) নামের আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, ‘গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আবুল বাসারের নেতৃত্বে ডিবির এসআই মোহাম্মদ তানভীর মোর্শেদ, এসআই কবির উদ্দিন, এসআই মো. সফিউদ্দিন ও রায়পুরা থানা পুলিশের এসআই জহিরুল হকের টিম অল্প সময়ের ব্যবধানে এ ঘটনা উদঘাটনের মাধ্যমে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। তবে, আমাদের চিন্তা অন্য জায়গায়। এ দুই কিশোরের এমন অপরাধ সত্যিই আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। আমাদের কিশোর তরুণেরা কীভাবে বেড়ে উঠছে—সে প্রশ্নটাই চলে আসে সবার সামনে।’

এন-কে

Feb2
Feb2

প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা সফল করুন: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 10:12 pm
প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা সফল করুন: মেয়র

প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর চট্টগ্রাম পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল, সুশৃঙ্খল ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, আগামী ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন। সারাদেশে একই সময়ে শুরু হতে যাওয়া এ জাতীয় আয়োজনকে ঘিরে চট্টগ্রামে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। তাই এর সফল আয়োজনের দায়িত্ব আমাদের সকলের।

বুধবার (২৯ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সামনে রেখে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব কথা বলেন মেয়র।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এতে সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং আবু সুফিয়ান বক্তব্য রাখেন। সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আগামী ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা–২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ আয়োজন সফল করতে এখন থেকেই সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর থেকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও স্টেডিয়াম পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দর সড়কের যেসব স্থানে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, চসিকের পক্ষ থেকে সেসব কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রবেশমুখ ও অন্যান্য স্থানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যেসব কাজ প্রয়োজন, সেগুলোও দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে। লালখান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ফুলের গাছ লাগানো ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। পাশাপাশি সড়কে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত স্টিল স্ট্রাকচার ও অন্যান্য স্থাপনা দ্রুত অপসারণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেয়র আরও বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যানজটমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে ভ্রাম্যমাণ দোকান ও সড়কের ওপর থাকা বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব স্থাপনা অপসারণ না করলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে মেয়র বলেন, এটি শিশু কিশোর ও তরুণদের জন্য একটি জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া আয়োজন। তাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ৭৮টি স্কুল, ২৮টি কলেজ ও একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উপযুক্ত বয়সের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনায় নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাদক ও অপরাধ থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে ক্রীড়ার বিকল্প নেই। তাই প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা সফল করার মাধ্যমে চট্টগ্রামে ক্রীড়ার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে হবে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করতে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, চসিক, সিডিএ, শিক্ষা বিভাগ, ক্রীড়া সংগঠক, শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, পরিচ্ছন্নতা, সড়ক ব্যবস্থাপনা, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

অক্টোবরে রাজধানীতে বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরামের সুফী কনফারেন্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 10:09 pm
অক্টোবরে রাজধানীতে বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরামের সুফী কনফারেন্স

বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরাম আয়োজিত  সুফী কনফারেন্স আগামী আগস্ট মাসে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হবে, এ উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতি সভা সংগঠনের চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মুহাম্মদ রানার সভাপতিত্বে ও সংগঠনের মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের সঞ্চালনায় চট্টগ্রামের একটি অভিজাত রেস্তোরায় আজ বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে দিক নির্দেশনামূলক আলোচনায় অংশগ্রহণ নেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক এস এম বরকত আকাশ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মুহাম্মদ মুছা, হালদা গবেষক মুহাম্মদ হারুন পাশা, যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ ইলিয়াছ সোহেল, সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন মিয়াজী, মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, আসন্ন পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে একটি গোলটেবিল আলোচনা ও আগামী অক্টোবরে রাজধানীতে সুফী কনফারেন্সের বিভিন্ন দিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে আহবান জানানো হয়।

বিমানবন্দর থেকে মোহরার মিড আইল্যান্ড সাজবে সবুজে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 9:14 pm
বিমানবন্দর থেকে মোহরার মিড আইল্যান্ড সাজবে সবুজে: মেয়র

নগরীর বিমানবন্দর থেকে মোহরা পর্যন্ত সড়কের মিড আইল্যান্ড বিভিন্ন প্রজাতির ফুল গাছ দিয়ে সাজানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত।

বুধবার আগ্রাবাদ থেকে লালখানবাজার রোডে বৃক্ষায়নের এ কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকি করেন মেয়র। এসময় বন ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী জয় সার্বিক সবুজায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়ে মেয়রকে অবহিত করেন৷

এসময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে আসে, তাহলে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এ লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে নগরীতে ১০ লক্ষ গাছ রোপণ করা হচ্ছে। নগরীর মোহরা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সব মিড আইল্যান্ডকে ফুল ও সবুজে ভরিয়ে তোলা হবে। সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন খালি জায়গা, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হবে। ইতোমধ্যে বিমানবন্দর রোডকে বিভিন্ন রঙ্গিন ফুল দিয়ে রাঙানো হয়েছে৷ দেওয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিং মধ্যবর্তী সড়কদ্বীপে ২৬ প্রজাতির ৬৫০০ চারা লাগানো হচ্ছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, কামিনী, কাঞ্চন, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, শিউলিসহ প্রায় ১০ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় জাতের গাছ। টাইগারপাস থেকে লালখানবাজারে লাগানো হছে পাতাবাহারসহ বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন গাছ। প্রতিদিন পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কারসহ এইসব গাছ রক্ষণাবেক্ষণেরও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা মহামারির সময় মানুষ অক্সিজেনের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করেছে। গাছ আমাদের জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশকে সুস্থ রাখে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ফল দেয়, কাঠ দেয়, ওষুধ দেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আমরা গাছ থেকে শুধু নিতে জানি, গাছের পরিচর্যা করতে চাই না। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের নিয়মিত পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর একটি নগরী। এখানে সমুদ্র, পাহাড়, নদী, খাল, উপত্যকা ও জলাশয় রয়েছে। আল্লাহ আমাদের অনেক সম্পদ দিয়েছেন। কিন্তু এসব সম্পদের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি কর্ণফুলী ও হালদা নদীসহ নগরীর খাল ও জলাশয় রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত খাল নদীতে গিয়ে জমা হয় এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।