ইবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী মেসে থাকা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে স্থানীয়রা। এতে এক শিক্ষার্থী গুরুতরসহ অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে স্থানীয়রা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ত্রিবেণী রোডের সাকসেস কোচিং সংলগ্ন রবিউল ইসলাম মেসে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে জানালে তারা অনেক দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসার পর পুলিশ উপস্থিত হয়। এ ঘটনায় প্রশাসনের নীরব ভূমিকার প্রতিবাদ জানিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানায়, ত্রিবেণী রোডের সাকসেস কোচিং সংলগ্ন রবিউল ইসলাম মেসে ১২ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করেন। গুরুতর আহত হওয়া আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের কামাল উদ্দীনের মাস্টার্স শেষ হয়েছে। এ জন্য সোমবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে তারা মেসে সবাই মিলে বিদায় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছিলেন।
মেসের পাশেই বাড়ি বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার জাহিদুল ইসলামের। মঙ্গলবার রাতে জাহিদ তাদের মেসে আসেন এবং কামালকে ডাকেন। এরপর শিক্ষার্থীদের চিল্লাচিল্লির কারণে তার ঘুম ভেঙে যায় বলে জানান। এর আগেও শিক্ষার্থীরা মেসে চিল্লাচিল্লি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে মেসে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে জাহিদ চটে যান এবং শিক্ষার্থীদের শাসান। একপর্যায়ে জাহিদ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এরপর জাহিদ শিক্ষার্থীদের হুমকি-ধামকি দিয়ে ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মেস থেকে চলে যান।
পরে তিনি অন্তত ৩০-৪০ জনকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের হামলা করেন। এ সময় হামলাকারীদের হাতে লাঠি, বাঁশ, কাঠ, রড লাইট ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এরপর শিক্ষার্থীরা মেস থেকে পালিয়ে ক্যাম্পাসে চলে আসেন। এতে একজন গুরুতরসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন।
আহতদের বিশ্বদ্যিালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে আওয়ামী লীগ নেতা ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রেজাউল করিম খান শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। ঘটনার পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী কামাল উদ্দীন বলেন, জাহিদ ভাই আমাদের পাশের মেসে থাকেন। মঙ্গলবার রাতে আমাদের মেসে আসেন এবং আমরা প্রতিনিয়ত চিল্লাচিল্লি করি বলে অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি রাগারাগি করেন এবং আমাদের হুমকি ধামকি দিয়ে মেস থেকে চলে যান। পরে তিনি ৩০-৪০ জনকে নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করেন। তিনি (জাহিদ) নিজেও আমাকে মেরেছে।
অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। মারামারির ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। উল্টো শিক্ষার্থীরা আমাকে বিনা কারণে অভিযুক্ত করে আমার বাড়ির গেটে ইটপাটকেল মেরেছে। আমি বিষয়টি প্রক্টরকে জানিয়েছি। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
মেস মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আমি বিচার চাইব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা শোনার পর নির্দেশনার অপেক্ষায় ছিলাম। তাই ঘটনাস্থলে যেতে দেরি হয়েছিল।
প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘটনা শোনার পর সংশ্লিষ্ট থানাকে জানিয়ে পুলিশ পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন