খুঁজুন
, ,

সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালের বেহাল দশা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 16 November, 2019, 10:10 am
সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালের বেহাল দশা

নীলফামারী প্রতিনিধি॥ এক সময় দেশের সর্ববৃহৎ হাসপাতাল নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতাল। ১৮৭০ সালে রেলওয়ে কারখানা স্থাপিত হওয়ার পর শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য তৈরী করা হয়, ৮২ শয্যার হাসপাতালটি। বর্তমানে জনবল সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় রোগীদের ভিড়ে একসময় সরগম থাকতো সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতাল। কিন্তু এখন ১২-১৫জন রোগী হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। আর ইনডোরে গড়ে ১০-১২ জন রোগী ভর্তি থাকে। ৮২ শয্যার এই হাসপাতালে কোন কোন সময় এক থেকে দুইজন রোগী ভর্তি থাকেন।

কারণ,জনবল সংকট ও চিকিৎসকের পদ শুন্য। রোগীর খাওয়া নিয়ে বড় সমস্যায় থাকেন আত্বীয় স্বজনেরা। রোগী পরিবহনের জন্য নেই কোন সুব্যবস্থা। এমন পরিস্থিতির জন্য চিকিৎসক ও জনবল সংকটকে দায়ি করছেন হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে একশত ৫২ জন কর্মকর্তা কর্মচারী বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন, মাত্র ৭৪ জন। এর মধ্যে সহকারী সার্জন ৫ জনের বিপরীতে আছেন একজন, মেট্রোন পদ শুন্য, ফার্মাসিষ্ট আটজনের বিপরীতে কর্মরত আছেন তিন জন, সিনিয়র নার্স ৭জনের বিপরীতে রয়েছেন একজন, স্টোর কিপার পদ শুন্য, ইউডিএ পদে একজনও নেই, স্টেনো টাইপিস্ট পদ শুন্য, স্যানিটেরী পরিদর্শক একজনও নেই, বাবুর্চি পদটি দির্ঘদিন ধরে শুন্য, জুনিয়ার নার্স তিনজনের বিপরীতে রয়েছেন একজন। এখানে পদ খালি রয়েছে ৭৮ টি।

এদিকে, এ্যাম্বুলেন্স চালক দুইজনের একজনও নেই, আয়া ও সুইপার পদে ৬৩ জনের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৫ জন, খালাসি পাঁচজনের বিপরীতে একজন, ওয়ার্ডবয় ১৪ জনের বিপরীতে ১২জন, ট্রেচার কেরিয়ার (রোগী বহনকারী) একজনও নেই, এ্যাম্বুলেন্স ক্লিনার একজনের বিপরীতে একজনও নেই, অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) দুইজনের বিপরীতে একজন, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ল্যাব এ্যাটেন্ড পদটি শুন্য, চৌকিদার চারজনের বিপরীতে দুইজন, আয়া ছয়জনের স্থলে চারজন, কুক দুইজনের বিপরীতে একজন কর্মরত আছেন।

হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানায়, ৮২ শয্যা হাসপাতালে একশত ৫২ পদের মধ্যে বর্তমানে ৭৪টি পদে লোকবল আছে। আর গুরত্বপূর্ন ৭৮টি পদই শুন্য রয়েছে। ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। বছরের পর বছর পদ গুলো শূণ্য রয়েছে। কারখানার শ্রমিকরা বলছেন, শুধুমাত্র নামেই চলছে হাসপাতালের কর্যক্রম। নরমালী সেবার জন্য যেতে হয় রংপুর মেডিকল কলেজ হাসপাতালে।

হাসপাতালের প্রধান সহকারী সেগুপ্তা বাহার বলেন, একসময় হাসপাতালে প্রচুর রোগী আসতো। আর এখন চিকিৎসক নেই, তাই রোগীও আসেনা। অন্যান্য সুযোগ সুবিধা না থাকায় রোগিরা বাহিরে চিকিৎসা নিচ্ছে। এটি সচল করা হলে রেলওয়ে কর্মকর্তাচারীদের পাশপাশি স্থানীয়দের দোড়গোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌছে দেয়া সম্ভব হতো।

ইনডোরের (পুরুষ ওয়ার্ডের) সড়ক দূর্ঘটনার রোগী ও কারখানার (অবঃ) শ্রমিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এখানে সাধারন চিকিৎসা ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না। নেই কোন অর্থপেডিকস চিকিৎসক না আছে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। নেই কোন গাইনী চিকিৎসক। তবে দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল সৈয়দপুর হাসপাতাল।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৮২ শয্যার হাসপাতালে রোগীর খাবার বরাদ্দ নেই। তাই রেলওয়ের কারখানার সাধারন শ্রমিকরাও হাসপাতাল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অথচ এখানে যে অবকাঠামো রয়েছে তাতে মেডিকেল কলেজ খোলা যায়। অযত্ন আর অবহেলায় অনেক দামি যন্ত্রপাতি নষ্টের পথে।

অবসরে যাওয়া রেলওয়ে খালাসি তহুরা বেগম বর্হিবিভাগে বলেন, হাসপাতালে নারীদের জন্য গাইনী চিকিৎসক নেই। নারীদের সমস্যার ব্যাপারে কোন ধরনের সেবা এখানে পাওয়া য়ায় না।

তিনি বলেন, রেলওয়ের কর্মচারীদের চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতাল স্থাপিত হলেও শুধু নামেই রেলওয়ে কারখানার হাসপাতাল। এখানে নেই পর্যাপ্ত ঔষুধ ও চিকিৎসক। শুধু বিভাগীয় তত্বাবধায়ক ডা. শামীম আরা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

আশা করি, জনবান্ধব এই সরকার নারীদের কথা বিবেচনা করে চিকিৎসার জন্য একজন গাইনী চিকৎসকের ব্যবস্থা করবেন।

হাসপাতালের সিস্টার ইনচার্জ মশিউর রহমান জুয়েল বলেন, সরকারী ভাবে ঔষুধ সরবারহ ৩২%-১৪% করা হয়েছে। দির্ঘ এক বছর ধরে হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া হাতে গুনা দু,একটি পরীক্ষা ছাড়া সব ধরনের পরীক্ষা (টেস্ট) বাহির থেকে করে আনতে হয়। যন্ত্রপাতি থাকলেও জনবল সংকটে এসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রেলওয়ের শ্রমিক কর্মচারীরা।

তিনি আরো বলেন, রেলওয়ে চিকিৎসা সেবার নীতিমালা অনুযায়ী একজন রোগী (কর্মচারী) ১৫ হাজার ৮৩০ টাকার নিচে যারা বেসিক পাবে তারাই শুধু খাওয়ার বরাদ্দ পাবে। এর উপরে এক টাকা বেশী হলে নিজস্ব খরচে খেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে।

এ ব্যাপারে, সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালের বিভাগীয় মেডিকেল কর্মকর্তা (ডিএমও) ডা. শামীম আরা বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশ যেমন পুলিশ বিভাগের নিয়ন্ত্রনে, তেমনী রেলওয়ের হাসপাতালটি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের অধিনে নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দুই বছর ধরে একাই চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। জনবল সংকটের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে বার বার জানিয়ে কোন কাজ হচ্ছে না। খাওয়ার বরাদ্দের বিষয়টি সম্পূর্ন রেলপথ মন্ত্রনালয়ের। এখানে আমার কোন হাত নেই।

এ ব্যাপারে, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবাধয়ক (ডিএস) ভারপ্রাপ্ত জয়দুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল কতৃপক্ষ সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছে ভাল সেবা দেওয়ার জন্য। তবে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত হাসপাতালটি। সেখানে রয়েছে জনবল সংকট, চিকিৎসক সংকট, ঔষুধের সংকট, রোগী পরিবহনের নেই এ্যাম্বুলেন্স। তবে শুনেছি কিছুদিন আগে একজন ডেন্টাল চিকিৎসক যোগদান করেছে। আশা করি, দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা হবে। তবে তিনি দাবি করেন, রেলপথ মন্ত্রানালয় থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের অধিনে হাসপাতালটি নেয়া হলে দ্রুত সমস্যা গুলো সমাধান হত।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিকলীগের সাধারন সস্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুল মোমিন বলেন, দেশের সবচেয়ে বৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতাল, সেখানে চিকিৎসক সংকটের কারনে চিকিৎসা সেবা একবারে মুখ থুবড়ে পড়ছে। কারখানার শ্রমিকরা অল্প বেতনে চাকুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। জনবল সংকটের কারনে অসুস্থ্য শ্রমিকরা মান সম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।এই শ্রমিকরাই রেল মন্ত্রনালয়ের চালিকা শক্তি। তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারী বরাদ্দ, রোগীর খাওয়া, ঔষুধের পরিমান বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি। জরুরী অবস্থায় একজন রোগীকে রংপুরে পাঠানোর বাহন এ্যাম্বুলেন্সটি দির্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এটি বরাদ্দের জন্য জোর আবেদন করেন রেলপথ মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিস্ট কতৃপক্ষের কাছে।

তিনি শ্রমিকদের কল্যাণে বলেন, তালিকা ভুক্ত যে কোন কর্মকর্তা কর্মচারী অসুস্থ্য হলে তাদের সরকারীভাবে হাসপাতালে খাবার বরাদ্দের দাবি করেন।

তিনি বলেন, বিট্রিশদের তৈরী আইন বাদ দিয়ে হাসপাতালটিকে ঢেলে সাজানোর জন্য কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন। শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে জনবান্ধব হাসপাতালে পরিনত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালটিকে আধুনিকায়ন করার আহব্বান জানান তিনি।

Feb2
Feb2

দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হয়ে কাজ করার আহ্বান ভূমি প্রতিমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 10:49 pm
দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হয়ে কাজ করার আহ্বান ভূমি প্রতিমন্ত্রীর

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী চট্টগ্রাম শহর ও হাটহাজারীতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

দিনব্যাপী এইব্যস্ত সূচি শেষে আজই তিনি ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার (কেবিনেট) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ছাত্রসমাজ, প্রকৌশলী, শিক্ষক ও সাধারণ জনগণকে দেশের মানুষের কল্যাণে এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজেদের নিবেদিত করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের স্নাতক কোর্সের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুয়েটে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা দেশের মেধার এক অনন্য অংশে নিজেদের যুক্ত করেছেন। জীবনের এই নতুন অধ্যায়কে অর্থবহ করতে গভীর অধ্যবসায় ও গবেষণামুখী দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে হবে।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের সুনামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও কানাডাসহ উন্নত দেশের গুগল, অ্যামাজন, টেসলা, সিমেন্স এবং স্যামসাং-এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দক্ষতার সাথে কাজ করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের আধুনিকায়নের চিত্র তুলে ধরে ব্যারিস্টার মীর হেলাল জানান, বর্তমানে দেশের ভূমি সেবার সিংহভাগ কার্যক্রমই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় এসেছে। ‘ভূমি অ্যাপ’-এর সাহায্যে নাগরিকরা ঘরে বসেই ভূমি উন্নয়ন কর, নামজারি ও ই-পর্চা সেবা পাচ্ছেন এবং মাঠপর্যায়ের তদারকিতে ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সমস্ত ডিজিটাল সফটওয়্যার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ও বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের শ্রমে তৈরি এবং অত্যন্ত সাশ্রয়ী খরচে প্রস্তুতকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারের উদ্ভাবক স্বয়ং চুয়েটেরই একজন শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের মাদকের করাল গ্রাস থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক মানুষের মেধা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়। তাই সমস্ত প্রতিকূলতা জয় করে আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

এর পর চট্টগ্রাম নূরানী তালিমুল কোরআন বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল এমপি বলেন, একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

দিনের অপর কর্মসূচি চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ও ফার্ম-বেজড ক্যাম্পাসে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম বিভাগের আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচি’র উদ্বোধন করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের উল্লেখযোগ্য অংশ ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপের কথা স্মরণ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের দূরদর্শী রূপকার। গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবন, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠন, খাল খনন কর্মসূচি এবং সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি এদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে সূচনা করেছিলেন, তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়। দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে তাঁর দেখানো গণমুখী ও উৎপাদনমুখী রাজনীতিকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”

এরপর প্রতিমন্ত্রী হাটহাজারী ফতেয়াবাদ-রামদাশহাট-মদুনাঘাট সড়ক মেরামতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED), হাটহাজারীর বাস্তবায়নে এই সড়কটি এই অঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের এই মেলবন্ধনকে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ঘোষণা ও মূল দর্শন অনুযায়ী—‘আমাদের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা, মেধার মূল্যায়ন করা এবং তৃণমূলের মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।’ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ আজ প্রযুক্তিনির্ভর, স্বনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের এই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের সাথে একাত্ম হয়ে আমাদের তরুণদের মেধা, নতুন প্রযুক্তি এবং টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়নকে কাজে লাগাতে হবে। তবেই আমরা একটি স্বৈরাচারমুক্ত, বৈষম্যহীন এবং স্বাবলম্বী বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারব।”

ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং সর্বস্তরের জনগণকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন এবং আজ অপরাহ্নেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

ভূমি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর দেশীয় প্রযুক্তিতেই : মীর হেলাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 6:51 pm
ভূমি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর দেশীয় প্রযুক্তিতেই : মীর হেলাল

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবা ও সফটওয়্যার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের মেধায় তৈরি। এমনকি স্বল্প ব্যয়ে তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারের উদ্ভাবকও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) একজন শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) চুয়েটের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, চুয়েটে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে তারা দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটি বিশেষ অংশে পরিণত হয়েছেন। এই যাত্রাকে সফল করতে কঠোর অধ্যবসায়, গবেষণার মনোভাব এবং আত্মোন্নয়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন। গুগল, অ্যামাজন, টেসলা, সিমেন্স ও স্যামসাংয়ের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে তারা দক্ষতার পরিচয় দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। বর্তমান শিক্ষার্থীরাও একদিন একইভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে মীর হেলাল বলেন, বর্তমানে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, নামজারি, ই-পর্চাসহ অধিকাংশ ভূমিসেবা ‘ভূমি অ্যাপ’-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামে জিওফেন্সিং প্রযুক্তিনির্ভর একটি অ্যাপের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সাফল্য-ব্যর্থতা, আনন্দ-বেদনা থাকবে। তবে কোনো পরিস্থিতিতেই মাদকের আশ্রয় নেওয়া যাবে না। মাদক কখনো সমস্যার সমাধান নয়; এটি মেধা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে। তিনি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ়চেতা ও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে প্রতিকূলতা মোকাবিলার আহ্বান জানান।

‘বরবাদ’-এর পর ফের হৃদয়ের ছবিতে শাকিব খান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 6:34 pm
‘বরবাদ’-এর পর ফের হৃদয়ের ছবিতে শাকিব খান

গত বছরের রোজার ঈদে মুক্তি পায় মেহেদী হাসান হৃদয়ের ‘বরবাদ’। ঢালিউডে নতুন ইতিহাস রচনা করে ছবিটি। দেশ-বিদেশে বিপুল সাফল্য পায়। নির্মাতাদের দাবি অনুসারে, ছবিটি ৭৫ কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা করেছিল। আর ছবিতে শাকিব খানের লুক-অভিনয়ও ছিল আলোচনার তুঙ্গে।

‘বরবাদ’-এর আকাশচুম্বী সাফল্যের পর ইন্ডাস্ট্রি ও দর্শক সবার অপেক্ষা, ফের কবে হৃদয়ের ছবিতে শাকিব অভিনয় করবেন। এবার সেই খবরই দিলেন তারা। শাকিব ও হৃদয় দুজনেই যৌথভাবে জানালেন, ফিরছেন তারা।

আজ বিকেলে ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেছেন শাকিব। সেখানে তার সঙ্গে বসে রয়েছেন হৃদয়, ও প্রযোজক শাহরিন সুলতানা সুমি। ছবির ক্যাপশনে ‘রাজকুমার’ লিখেছেন, “বরবাদ’ টিম আবার ফিরছে। আবারও ইতিহাস তৈরি করা যাক।”

এই পোস্টের পরই দর্শকের মধ্যে বিপুল উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। মন্তব্যের ঘরে হাজারো কমেন্ট। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলছেন, হৃদয়ের গল্পে নতুন রূপে শাকিবকে দেখার অপেক্ষায় তারা।

এদিকে প্রযোজক সুমি জানালেন, কিছুদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটির ঘোষণা দেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে শুটিং। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের ঈদে মুক্তি পাবে ছবিটি।

‘বরবাদ’-এ শাকিবের নায়িকা ইধিকা পাল। তাদের রসায়ন দারুণ পছন্দ করেছিল দর্শক। নতুন ছবিতেও তিনি থাকবেন কিপ্রসঙ্গত, ‘বরবাদ’-এর পর সিয়াম আহমেদকে নিয়ে ‘রাক্ষস’ বানিয়েছেন হৃদয়। এছাড়া ‘বিদায়’ নামে আরো একটি ছবির শুটিংও সম্পন্ন করে রেখেছেন এই নির্মাতা। সেখানে রয়েছেন বাপ্পারাজ ও প্রার্থনা ফারদিন দীঘি।