খুঁজুন
, ,

সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালের বেহাল দশা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 16 November, 2019, 10:10 am
সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালের বেহাল দশা

নীলফামারী প্রতিনিধি॥ এক সময় দেশের সর্ববৃহৎ হাসপাতাল নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতাল। ১৮৭০ সালে রেলওয়ে কারখানা স্থাপিত হওয়ার পর শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য তৈরী করা হয়, ৮২ শয্যার হাসপাতালটি। বর্তমানে জনবল সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় রোগীদের ভিড়ে একসময় সরগম থাকতো সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতাল। কিন্তু এখন ১২-১৫জন রোগী হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। আর ইনডোরে গড়ে ১০-১২ জন রোগী ভর্তি থাকে। ৮২ শয্যার এই হাসপাতালে কোন কোন সময় এক থেকে দুইজন রোগী ভর্তি থাকেন।

কারণ,জনবল সংকট ও চিকিৎসকের পদ শুন্য। রোগীর খাওয়া নিয়ে বড় সমস্যায় থাকেন আত্বীয় স্বজনেরা। রোগী পরিবহনের জন্য নেই কোন সুব্যবস্থা। এমন পরিস্থিতির জন্য চিকিৎসক ও জনবল সংকটকে দায়ি করছেন হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে একশত ৫২ জন কর্মকর্তা কর্মচারী বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন, মাত্র ৭৪ জন। এর মধ্যে সহকারী সার্জন ৫ জনের বিপরীতে আছেন একজন, মেট্রোন পদ শুন্য, ফার্মাসিষ্ট আটজনের বিপরীতে কর্মরত আছেন তিন জন, সিনিয়র নার্স ৭জনের বিপরীতে রয়েছেন একজন, স্টোর কিপার পদ শুন্য, ইউডিএ পদে একজনও নেই, স্টেনো টাইপিস্ট পদ শুন্য, স্যানিটেরী পরিদর্শক একজনও নেই, বাবুর্চি পদটি দির্ঘদিন ধরে শুন্য, জুনিয়ার নার্স তিনজনের বিপরীতে রয়েছেন একজন। এখানে পদ খালি রয়েছে ৭৮ টি।

এদিকে, এ্যাম্বুলেন্স চালক দুইজনের একজনও নেই, আয়া ও সুইপার পদে ৬৩ জনের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৫ জন, খালাসি পাঁচজনের বিপরীতে একজন, ওয়ার্ডবয় ১৪ জনের বিপরীতে ১২জন, ট্রেচার কেরিয়ার (রোগী বহনকারী) একজনও নেই, এ্যাম্বুলেন্স ক্লিনার একজনের বিপরীতে একজনও নেই, অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) দুইজনের বিপরীতে একজন, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ল্যাব এ্যাটেন্ড পদটি শুন্য, চৌকিদার চারজনের বিপরীতে দুইজন, আয়া ছয়জনের স্থলে চারজন, কুক দুইজনের বিপরীতে একজন কর্মরত আছেন।

হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানায়, ৮২ শয্যা হাসপাতালে একশত ৫২ পদের মধ্যে বর্তমানে ৭৪টি পদে লোকবল আছে। আর গুরত্বপূর্ন ৭৮টি পদই শুন্য রয়েছে। ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। বছরের পর বছর পদ গুলো শূণ্য রয়েছে। কারখানার শ্রমিকরা বলছেন, শুধুমাত্র নামেই চলছে হাসপাতালের কর্যক্রম। নরমালী সেবার জন্য যেতে হয় রংপুর মেডিকল কলেজ হাসপাতালে।

হাসপাতালের প্রধান সহকারী সেগুপ্তা বাহার বলেন, একসময় হাসপাতালে প্রচুর রোগী আসতো। আর এখন চিকিৎসক নেই, তাই রোগীও আসেনা। অন্যান্য সুযোগ সুবিধা না থাকায় রোগিরা বাহিরে চিকিৎসা নিচ্ছে। এটি সচল করা হলে রেলওয়ে কর্মকর্তাচারীদের পাশপাশি স্থানীয়দের দোড়গোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌছে দেয়া সম্ভব হতো।

ইনডোরের (পুরুষ ওয়ার্ডের) সড়ক দূর্ঘটনার রোগী ও কারখানার (অবঃ) শ্রমিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এখানে সাধারন চিকিৎসা ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না। নেই কোন অর্থপেডিকস চিকিৎসক না আছে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। নেই কোন গাইনী চিকিৎসক। তবে দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল সৈয়দপুর হাসপাতাল।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৮২ শয্যার হাসপাতালে রোগীর খাবার বরাদ্দ নেই। তাই রেলওয়ের কারখানার সাধারন শ্রমিকরাও হাসপাতাল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অথচ এখানে যে অবকাঠামো রয়েছে তাতে মেডিকেল কলেজ খোলা যায়। অযত্ন আর অবহেলায় অনেক দামি যন্ত্রপাতি নষ্টের পথে।

অবসরে যাওয়া রেলওয়ে খালাসি তহুরা বেগম বর্হিবিভাগে বলেন, হাসপাতালে নারীদের জন্য গাইনী চিকিৎসক নেই। নারীদের সমস্যার ব্যাপারে কোন ধরনের সেবা এখানে পাওয়া য়ায় না।

তিনি বলেন, রেলওয়ের কর্মচারীদের চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতাল স্থাপিত হলেও শুধু নামেই রেলওয়ে কারখানার হাসপাতাল। এখানে নেই পর্যাপ্ত ঔষুধ ও চিকিৎসক। শুধু বিভাগীয় তত্বাবধায়ক ডা. শামীম আরা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

আশা করি, জনবান্ধব এই সরকার নারীদের কথা বিবেচনা করে চিকিৎসার জন্য একজন গাইনী চিকৎসকের ব্যবস্থা করবেন।

হাসপাতালের সিস্টার ইনচার্জ মশিউর রহমান জুয়েল বলেন, সরকারী ভাবে ঔষুধ সরবারহ ৩২%-১৪% করা হয়েছে। দির্ঘ এক বছর ধরে হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া হাতে গুনা দু,একটি পরীক্ষা ছাড়া সব ধরনের পরীক্ষা (টেস্ট) বাহির থেকে করে আনতে হয়। যন্ত্রপাতি থাকলেও জনবল সংকটে এসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রেলওয়ের শ্রমিক কর্মচারীরা।

তিনি আরো বলেন, রেলওয়ে চিকিৎসা সেবার নীতিমালা অনুযায়ী একজন রোগী (কর্মচারী) ১৫ হাজার ৮৩০ টাকার নিচে যারা বেসিক পাবে তারাই শুধু খাওয়ার বরাদ্দ পাবে। এর উপরে এক টাকা বেশী হলে নিজস্ব খরচে খেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে।

এ ব্যাপারে, সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালের বিভাগীয় মেডিকেল কর্মকর্তা (ডিএমও) ডা. শামীম আরা বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশ যেমন পুলিশ বিভাগের নিয়ন্ত্রনে, তেমনী রেলওয়ের হাসপাতালটি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের অধিনে নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দুই বছর ধরে একাই চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। জনবল সংকটের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে বার বার জানিয়ে কোন কাজ হচ্ছে না। খাওয়ার বরাদ্দের বিষয়টি সম্পূর্ন রেলপথ মন্ত্রনালয়ের। এখানে আমার কোন হাত নেই।

এ ব্যাপারে, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবাধয়ক (ডিএস) ভারপ্রাপ্ত জয়দুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল কতৃপক্ষ সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছে ভাল সেবা দেওয়ার জন্য। তবে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত হাসপাতালটি। সেখানে রয়েছে জনবল সংকট, চিকিৎসক সংকট, ঔষুধের সংকট, রোগী পরিবহনের নেই এ্যাম্বুলেন্স। তবে শুনেছি কিছুদিন আগে একজন ডেন্টাল চিকিৎসক যোগদান করেছে। আশা করি, দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা হবে। তবে তিনি দাবি করেন, রেলপথ মন্ত্রানালয় থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের অধিনে হাসপাতালটি নেয়া হলে দ্রুত সমস্যা গুলো সমাধান হত।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিকলীগের সাধারন সস্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুল মোমিন বলেন, দেশের সবচেয়ে বৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতাল, সেখানে চিকিৎসক সংকটের কারনে চিকিৎসা সেবা একবারে মুখ থুবড়ে পড়ছে। কারখানার শ্রমিকরা অল্প বেতনে চাকুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। জনবল সংকটের কারনে অসুস্থ্য শ্রমিকরা মান সম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।এই শ্রমিকরাই রেল মন্ত্রনালয়ের চালিকা শক্তি। তাদের চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারী বরাদ্দ, রোগীর খাওয়া, ঔষুধের পরিমান বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি। জরুরী অবস্থায় একজন রোগীকে রংপুরে পাঠানোর বাহন এ্যাম্বুলেন্সটি দির্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এটি বরাদ্দের জন্য জোর আবেদন করেন রেলপথ মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিস্ট কতৃপক্ষের কাছে।

তিনি শ্রমিকদের কল্যাণে বলেন, তালিকা ভুক্ত যে কোন কর্মকর্তা কর্মচারী অসুস্থ্য হলে তাদের সরকারীভাবে হাসপাতালে খাবার বরাদ্দের দাবি করেন।

তিনি বলেন, বিট্রিশদের তৈরী আইন বাদ দিয়ে হাসপাতালটিকে ঢেলে সাজানোর জন্য কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন। শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে জনবান্ধব হাসপাতালে পরিনত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালটিকে আধুনিকায়ন করার আহব্বান জানান তিনি।

Feb2
Feb2

দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শহরের জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 7:40 pm
দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শহরের জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

একসময় চট্টগ্রাম নগরের অলিগলিতে ছড়িয়ে ছিল পুকুর, দিঘি, ডোবা ও জলাধার। নগর যত বেড়েছে, ততই সংকুচিত হয়েছে এসব প্রাকৃতিক জলভূমি। কোথাও উঠেছে বহুতল ভবন, কোথাও দোকান-গুদাম, কোথাও গড়ে উঠেছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। এতে শুধু দেশীয় মাছের আবাসস্থলই হারায়নি, বৃষ্টির পানি ধারণ ও ভূগর্ভে পানি প্রবেশের স্বাভাবিক ব্যবস্থাও ক্রমে দুর্বল হয়েছে। এমন বাস্তবতায় চট্টগ্রামের একটি শতবর্ষী ঐতিহাসিক জলাধারে মাছের পোনা অবমুক্ত করে জলজ জীববৈচিত্র্য ও নগরের জলাধার সংরক্ষণের গুরুত্ব সামনে আনল চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার ঐতিহাসিক আগ্রাবাদ ডেবায় এ মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি আয়োজন করে মহানগর বিএনপি।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ এমপি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য ও জীবিকার সঙ্গে মৎস্যসম্পদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির একটি বার্তা দেওয়া হলো।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সারাদেশে খাল খননসহ নদী-নালা দখলমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। নদী ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা গেলে দেশীয় মাছের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকাও আরও সমৃদ্ধ হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে নাজিমুর রহমান বলেন, নদী, খাল-বিল ও জলাশয় দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে পরিকল্পিতভাবে পোনা অবমুক্তকরণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার সারাদেশে নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন এবং দখলমুক্ত করার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের এই পোনা অবমুক্তকরণ। নদী ও জলাশয়ে দেশীয় মাছের নিরাপদ বিচরণ ও প্রজননের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে দেশের মৎস্যসম্পদ আরও সমৃদ্ধ হবে। এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শওকত আজম খাজা ও ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মহানগর বিএনপির সদস্য নুরুদ্দীন হোসেন নুরু, আবু মুসা ও জাফর আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক হাজী নুরুল হক, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবদুল আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া, মো. জাফর, সাইদুর রহমান, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, তৈয়ব চৌধুরী, মো. শাহজাহান ও সেকান্দর সুমনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বার্থের চর্চা ভুলে বিবেকের চর্চা করুন: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 7:24 pm
স্বার্থের চর্চা ভুলে বিবেকের চর্চা করুন: ডিসি জাহিদ

সমাজে মানবিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঠেকাতে ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা থেকে বেরিয়ে বিবেকের চর্চায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, অন্যের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করলেও নিজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এই অবস্থার পরিবর্তন প্রত্যেককে নিজের জায়গা থেকেই শুরু করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার পটিয়ায় এক অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সুধীজন ও উপকারভোগীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এমন একটা সময় পার করছি, যখন মূল্যবোধ ও মানবিকতার ভয়াবহ অবক্ষয় হচ্ছে। আমরা বিবেকের চর্চা থেকে দূরে সরে এসেছি। আমাদের চিন্তাভাবনা এখন নিজের স্বার্থের চর্চাকে ঘিরে।’

মানুষ অন্যের কাছ থেকে সেবা নেওয়ার সময় নিজের প্রাপ্তির বিষয়ে সচেতন থাকলেও অন্যকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে একই দায়িত্ববোধ অনেক সময় দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সেবা যিনি দিচ্ছেন এবং যিনি নিচ্ছেন, দুজনই একই সমাজের অংশ। তাই অন্যকে দোষারোপ না করে প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব নিয়ে ভাবতে হবে।

‘করিম কী করল, রহিম কী করল—সেটা না ভেবে আমার কী করা উচিত, সেটি যদি আমি ভাবি, তাহলে পরিবর্তন হবে,’ বলেন তিনি।

মানুষের মধ্যে পারস্পরিক মমত্ববোধ কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিজের স্বার্থের বাইরে সমাজ ও মানুষের প্রতিও মায়া ও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ৪০ কেজি ওজনের একটি বস্তা তুলতে কষ্ট হলেও ৬০ কেজি ওজনের নিজের সন্তানকে কোলে নিতে সেই কষ্ট অনুভূত হয় না। কারণ, সন্তানের প্রতি মায়া আছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি দপ্তরে গেলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন—এমন আস্থা এখনো পুরোপুরি তৈরি করা যায়নি। শুধু সকাল ৯টায় অফিসে এসে বিকেল ৫টায় চলে যাওয়ার মানসিকতা নিয়ে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘গভীরভাবে ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।’

সরকারি কর্মকর্তারা শুধু রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নেন না উল্লেখ করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বশীল পদে থাকার কারণে তাঁরা ও তাঁদের পরিবার সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা পান। তাই সমাজ ও মানুষের প্রতিও তাঁদের দায়িত্ব রয়েছে। একজন কর্মকর্তা তাঁর কর্মক্ষেত্রে নতুন কী যোগ করলেন এবং তাঁর কাজে সমাজ ও দেশ কীভাবে উপকৃত হলো, সেটিও ভাবতে হবে।

সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, আইনের বাইরে গিয়ে কারও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে আইনের মধ্যে যতটুকু করা সম্ভব, তা করতে হবে। সমাধান সম্ভব না হলেও সেবাপ্রত্যাশীর কথা শুনে তাঁকে সঠিক পরামর্শ দিতে হবে।

সরকারি প্রকল্পে অর্থের অপচয় রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না; সেই প্রকল্প সমাজ ও মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলছে, তা দেখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কোনো অর্থের যেন অপচয় না হয়। প্রতিটি চালের হিসাব আমরা চাই। প্রত্যেক জায়গায় সততা ও স্বচ্ছতা দেখতে চাই।’

পদ ও দায়িত্ব স্থায়ী নয়—এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, একসময় চাকরি শেষ হবে, চেয়ারও থাকবে না। তখন যেন আফসোস করতে না হয় যে দায়িত্বে থাকার সময় মানুষের জন্য আরও কিছু করা যেত।

তরুণ প্রজন্মকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু ভালো ফল ও ডিগ্রি অর্জনই শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে পারে না। তরুণদের মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একজন শিক্ষার্থী ভালো ফল করার পাশাপাশি সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠছেন কি না, সমাজের জন্য কাজ করছেন কি না এবং মানুষের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ তৈরি হচ্ছে কি না—সেটিও দেখতে হবে।

সন্তান ও আর্থিক সামর্থ্য থাকার পরও অনেক মা-বাবার পাশে কেউ থাকেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন তাঁদের বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হচ্ছে, সেটিও সমাজকে ভাবতে হবে। পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নতুন প্রজন্মের সামনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে হবে। শুধু ভালো হওয়ার উপদেশ না দিয়ে নিজেদের আচরণের মধ্য দিয়েও সেই দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে।

মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মাদকসেবীদের ধরে নিয়ে এলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। পরিবার ও সমাজে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

অভিভাবকদের নিজেদের আচরণেও পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি রাত ১২টায় ফিরবেন আর বলবেন, আমার সন্তান সন্ধ্যা ৬টায় ফিরবে—এটা কি হয়? আপনাকে পরিবর্তন হতে হবে, আমাকে পরিবর্তন হতে হবে।’

বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংক ও এস আলমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের প্রসঙ্গও তোলেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মানবিক বিবেচনায় তাঁদের কথা শোনা হয়েছে এবং বিষয়টি যথাযথ পর্যায়ে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় করণীয় নিয়ে চেষ্টা করা হবে।

তবে দাবি আদায়ে আইন লঙ্ঘন বা সড়ক বন্ধ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন।

পটিয়াকে ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে এটি বড় একটি এলাকা। স্থানীয় সাংবাদিকেরা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন, সেগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

বক্তব্যের শেষ দিকে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু একে অন্যকে দায়ী করে সমাজের পরিবর্তন হবে না। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

‘আমরা সমাজের চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করে আগামী দিনে একটি নতুন বাংলাদেশ, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে আপনি-আমি এবং আমাদের সন্তানেরা নিরাপদে বসবাস করবে,’ বলেন জাহিদুল ইসলাম।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বায়েজিদ থানা ছাত্রদল নেতার পাশে চমেক ছাত্রদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 3:16 pm
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বায়েজিদ থানা ছাত্রদল নেতার পাশে চমেক ছাত্রদল

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বায়েজিদ বোস্তামী থানা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আলম বাপ্পির চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন চমেক ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।

চমেক ছাত্রদলের সভাপতি ডা. হাসিবুল হাবিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে গিয়ে শওকত আলম বাপ্পির চিকিৎসার সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় তারা তার স্বাস্থ্যের অগ্রগতি, চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা করেন।

প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন চমেক ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ইমন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুশফিকুর রহমান, ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমান, ছাত্রনেতা কলিমুল্লাহ, নাদিম সামীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এ সময় নেতৃবৃন্দ শওকত আলম বাপ্পির দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তার চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।