খুঁজুন
, ,

৮ লাখ ডলারের সমস্যা কীভাবে মেটাবে আফগান দূতাবাস ও তালেবান?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 27 December, 2021, 11:05 am
৮ লাখ ডলারের সমস্যা কীভাবে মেটাবে আফগান দূতাবাস ও তালেবান?

তাজিকিস্তানে আফগানিস্তান দূতাবাসের অ্যাকাউন্টের প্রায় আট লাখ মার্কিন ডলার ফেরত চেয়েছে তালেবান সরকার। কিন্তু, আফগান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ জহির আগবার বলে দিয়েছেন—ওই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। সংবাদমাধ্যম দ্য ফ্রন্টিয়ার পোস্ট ও হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর জানিয়েছে।

গত ২৩ ডিসেম্বর এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত জহির আগবার বলেন, ‘তালেবানের অর্থ ফেরত দাবি করার কোনো অধিকার নেই। কারণ, আফগান দূতাবাস ইসলামিক রিপাবলিক অব আফগানিস্তানের একটি সরকারি বিভাগ। এখানে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা হয়, যে সম্পর্কে তালেবানদের প্রশ্ন করার অধিকার নেই।’

তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে আফগান দূতাবাসে স্থানান্তরিত আট লাখ মার্কিন ডলার নিয়ে বিরোধের তথ্য কাবুল পাজওক সংবাদ সংস্থা প্রকাশ করেছিল। ওই সংস্থার মতে, সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির শাসনের শেষ দিনগুলোতে সাত লাখ ৮৬ হাজার ডলার ‘ভুলবশত’ দুশানবে-তে আফগান দূতাবাসের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছিল। এখন তালেবান ওই অর্থ কাবুলে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করে দূতাবাসকে চিঠি পাঠিয়েছে।

পাজওক সংবাদ সংস্থা বলছে, ওই অর্থ ইচ্ছাকৃতভাবে স্থানান্তর করা হয়েছিল এবং পরে দূতাবাসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেওয়া হয়।

আফগান রাষ্ট্রদূত জহির বলেন, ‘প্রথমত, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবানকে স্বীকৃতি দিইনি। অন্যদিকে, আমাদের টাকা ফেরত চাওয়ার তালেবান কে? দুশানবে-তে আফগান দূতাবাস হলো আরেকটি ছোট আফগানিস্তান, যেখানে অনেক লোক বাস করে এবং এখানে কাজ করে। প্রায় ১০ হাজার আফগান দুশানবে-তে বাস করে। তাদের আমরা সাহায্য করতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দূতাবাসের তলোয়ার তালেবানের বিরুদ্ধে ধারাল এবং তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে।’

পাজওক বলছে, বিপুল ওই অর্থ দূতাবাসের ব্যয়ে স্থানান্তর করে সাবেক আফগান সরকার। তবে, মুহম্মদ জহির আগবার আফগান সরকারের সাবেক উপপ্রধান আমরুল্লাহ সালেহের পরামর্শে দূতাবাসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই অর্থ তুলে নেন।

পাজওক দুশানবে-তে আফগান দূতাবাসে তালেবানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, গত ৩১ জুলাই আফগান অর্থ মন্ত্রণালয়, কূটনীতিক এবং স্থানীয় কর্মীদের বেতন ও স্বাস্থ্য বীমার জন্য ৮৭ হাজার ডলার ছাড়াও ভুলবশত সাত লাখ ৮৫ হাজার ৬২৮ ডলার স্থানান্তর করে।

তালেবান অর্থ মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, অতিরিক্ত অর্থ ‘আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্থানান্তর করা হোক।’

আফগান দূতাবাসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাতে পাজওক লিখেছে, ‘আগের সরকারের শেষ দিনগুলোতে দূতাবাসের বেতন, বীমা এবং পরবর্তী তিন বছরের খরচের জন্য অর্থগুলো তাজিকিস্তানে স্থানান্তর করা হয়েছিল।’

পাজওকের একটি সূত্রের মতে, দুশানবে-তে দূতাবাসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে আফগানিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘এটি সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে স্থানান্তরিত সরকারি অর্থ। তাই আজ হোক বা কাল, দূতাবাস সক্রিয় হলে আগবার যেখানেই থাকুন, তাঁকে অর্থ ফিরিয়ে দিতে হবে।’

কাবুলের সংবাদপত্র আরও উল্লেখ করেছে, মুহাম্মদ জহির আগবার হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তালেবানের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। আগবার বলেছেন, ‘তালেবান শাসন ও তালেবানের চিঠি আমাদের জন্য আনুষ্ঠানিক নয়। তাজিকিস্তানের আফগান দূতাবাস আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্যত পরিচালনা করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রথম ভাইস-প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুসারে এ দূতাবাস কাজ করে।’

এন-কে

Feb2
Feb2

আজ ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 16 July, 2026, 11:18 am
আজ ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস

আজ ১৬ জুলাই, ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস। ২০২৪ সালের এই দিনে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলা ছাত্র আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ নিহত হন। তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং আন্দোলন নতুন মোড় নেয়। একই দিনে চট্টগ্রাম ও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকজন নিহত হন।

এই দিনটি উপলক্ষে সারা দেশে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, শোক ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও স্মরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ ও গুলি চালায়। এতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।

দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে এবং দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

একই দিনে চট্টগ্রামে সংঘর্ষে কলেজশিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম, ওমরগণি এমইএস কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ এবং ফার্নিচার কর্মচারী মো. ফারুক নিহত হন। রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় সংঘর্ষে প্রাণ হারান হকার মো. শাহজাহান ও সাবুজ আলী। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ওই দিন অন্তত ছয়জন নিহত হন।

ঘটনার পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি জেলায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং আবাসিক হল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়।

১৬ জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে।

জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক বাণীতে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাতির প্রতিরোধের প্রতীক। শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও পৃথক বাণীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

গত বছর থেকে ১৬ জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন হিসেবে ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড খেলা দেখার সময় তরুণকে ছুরিকাঘাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 16 July, 2026, 9:03 am
চট্টগ্রামে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড খেলা দেখার সময় তরুণকে ছুরিকাঘাত

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার দুই নম্বর গেট এলাকায় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের খেলা দেখার সময় জনসমাগমের মধ্যে এক তরুণকে ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহত তরুণের নাম মো. আসাদুল হক (২১)। তিনি বাঁশখালীর ছনুয়া এলাকার শিকদার বাড়ির ইয়াছিন আলীর ছেলে। বর্তমানে নগরীর হামজারবাগ এলাকার সরওয়ারের বাড়িতে থাকেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ সোহেল রানা জানান, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের খেলা চলাকালে জনসমাগমের মধ্যে অজ্ঞাত কয়েকজন দুর্বৃত্ত আসাদুল হককে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে তার বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে রাত ২টা ২৯ মিনিটে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

তিনি আরও জানান, আহত আসাদুল হক বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 16 July, 2026, 8:44 am
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

চলতি বিশ্বকাপে নকআউটে আর্জেন্টিনার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল কয়েকবার। কিন্তু প্রত্যেক ম্যাচ জেতার পর কোচ ও অধিনায়কের কণ্ঠে ছিল একই কথা- এই দল হাল ছাড়ে না। ইংল্যান্ড এক গোল দেওয়ার পর হয়তো সেই কথা ভুলে গিয়েছিল। গোল খাওয়ার পরই একের পর এক সুযোগ তৈরি করে তাদের মনোবলে আঘাত করে আর্জেন্টিনা। তারপর ওই যে হাল না ছাড়ার মানসিকতা! আর্জেন্টিনা আবার ঘুরে দাঁড়াল। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের উদাহরণ আরেকবার তৈরি করে তারা টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালের টিকিট পেল। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার খুব কাছে পৌঁছাল তারা।

নকআউটে বেশ ভুগতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। কেপ ভার্দে, মিশর, তারপর সুইজারল্যান্ড। প্রত্যেকেই নাভিশ্বাস ছুটিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের উদাহরণ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালেও তারা পিছিয়ে পড়েছিল। কিন্তু শেষ বলে কথা নেই। শেষ দিকে আবার বাজিমাত করল তারা। ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের আক্ষেপকে আরও বাড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে আলবিসেলেস্তেরা।

প্রথমার্ধে কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি দুই দল। কেউই লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি বদলে যায়। ইংল্যান্ড আচমকা লিড নেয়। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে তারা ৬০ বছর পর ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু ওই গোলের পর থেকে তারা রক্ষণেই ব্যস্ত ছিল। সেই সুযোগ নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। তারপর গোলও পেয়ে যায়। এনজো ফার্নান্দেজ, তারপর লাউতারো মার্তিনেজ জালের দেখা পান। দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট করেন মেসি। আগামী ১৯ জুলাই তারা ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে।

আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে দুই দলের আক্রমণভাগের কোনো নৈপুণ্য দেখা যায়নি। লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেইনরা এই সময়ে কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য স্কোরে। প্রথম ৪৫ মিনিটে ছিল ফাউলের ছড়াছড়ি।

হাইড্রেশন ব্রেকের আগেই ১১ ফাউল। আর্জেন্টিনার ৬টির বিপরীতে ইংল্যান্ডের পাঁচ। প্রথমার্ধের পানি পানের বিরতির আগে ম্যাচে শারীরিক লড়াইটাই বেশি হয়েছে। হাফটাইমের আগে বাকি সময়েও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রথমার্ধ শেষে দুই দল মোট ১৯টি ফাউল করেছে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা করেছে ১২টি, বাকি সাতটি ইংল্যান্ডের। তবে রেফারি ইসমাইল বেশ সংযত ছিলেন। মাত্র দুইবার হলুদ কার্ড বের করেছেন তিনি, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের একজন করে সেটা দেখেছেন।

প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলের কেউই লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেনি। এমনকি শট নিতেও দেখা যায়নি কাউকে। দুই দলই একে অন্যের অর্ধে গিয়ে আক্রমণ চালালেও সুবিধা করতে পারেনি। দুই কিপারকেও বড় কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি।

এই সময়ে আর্জেন্টিনা ৫৮ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল। তাদের প্রধান তারকা লিওনেল মেসিও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। পানি পানের বিরতির আগে তার ফ্রি কিক জর্ডান পিকফোর্ড পাঞ্চ করে কর্নার বানান। কর্নারেও শট নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এনজো ফার্নান্দেজ পিকফোর্ডকে ফাউল করায় সেটি কাজে লাগেনি।

৩৩ মিনিটে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ইংল্যান্ডের ফ্রি কিক ঠেকাতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ডেক্লান রাইসের ফ্রি কিকে স্টোনসের হেড সাইড নেটে লাগে। দুই মিনিট পর ইংল্যান্ডের ফাইনাল থার্ডে তিন চারজন খেলোয়াড়ের বাধার মুখে পড়েন মেসি। এলিয়ট অ্যান্ডারসন তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন। ফ্রি কিক থেকে মেসির পাস ধরে ইংল্যান্ডের বক্স থেকে ফিরে আসা বলে শট নেন এনজো। ৩৯ মিনিটে তার শক্তিশালী শট অল্পের জন্য গোলবারের ওপর দিয়ে যায়।

তিন মিনিট পর রজার্সকে পেছন থেকে টেনে ধরে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। প্রথমার্ধে তিন মিনিটের ইনজুরি টাইমেও কোনো দল লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি। তবে বিরতি থেকে ফিরে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

ইংলিশ খেলোয়াড়রা ডান দিক থেকে গতি বাড়িয়ে পাল্টা আক্রমণ চালায়। কেইন নিচে নেমে রজার্সকে বল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজ অ্যাক্রোব্যাটিক ভঙ্গিতে বলটি ক্লিয়ার করে দেন। আলগা বলটি পেয়ে রাইস রজার্সকে খুঁজে নেন। তার দুর্দান্ত ক্রস বক্সের মধ্যে ঢোকে। ব্যাকপোস্টে গর্ডন মলিনার পেছন থেকে বল কেড়ে নিয়ে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। ৫৫ মিনিটে গোল করে ইংলিশরা।

এর আগে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্জেন্টাইন কিপারের লম্বা পাসের পর ডান দিক থেকে ডি বক্সে আক্রমণ চালায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেখানে মেসি ও আলভারেজের দারুণ বোঝাপড়ায় আলভারেজ পোস্টে একটি জোরালো শট নেন।পিকফোর্ড চমৎকারভাবে বাঁচিয়ে দেন। ফিরতি শটটি জালের বাইরের অংশে লাগলেও সেটি সম্ভবত ডিফেন্ডারের গায়ে লেগেছিল এবং রেফারির পক্ষ থেকে কর্নারের সংকেত দেওয়া হয়।

৬৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বদলি নেমেই ম্যাচে ছাপ রাখেন গঞ্জালেজ। পরের মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি লম্বা বল হেড করেছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ড বিপদমুক্ত করে।

৬৯ মিনিটে ডানদিক থেকে মেসির ক্রসে দারুণ এক হেড করেছিলেন গঞ্জালেজ। কিন্তু পিকফোর্ড নিচু ডাইভে অবিশ্বাস্য সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেন।

৭২ মিনিটে আর্জেন্টিনা তিনটি পরিবর্তন আনে। সিমিওনে, মলিনা ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে উঠিয়ে দে পল, মোন্তিয়েল ও ওতামেন্দিকে নামান স্কালোনি।

চার মিনিট পর দে পলের বাড়ানো ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটে গঞ্জালেজের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। লাইন্সম্যান ততক্ষণে অফসাইডের পতাকা ওড়ান।

৮৪ মিনিটে এনজোর শট গোলপোস্টের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান পিকফোর্ড। পরের মিনিটে কর্নার থেকে মেসির বাড়ানো বলে ২৫ গজ দূর থেকে শট নেন তিনি। বল পিকফোর্ডের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়।

ইংল্যান্ডের কাছে গোল হজমের পর একাধিক সুযোগ নষ্ট হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গোল শোধ দেয় আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে সমতা ফেরানো গোলের পর অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করেনি তারা। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো গোল করলেন। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট পোস্টে গিয়ে লাগে। ফিরতি বল থেকে মেসি ডান দিক থেকে একটি ক্রস দেন। গোলপোস্টের একেবারে কাছ থেকে হেডে লাউতারো গোল করেন।