খুঁজুন
সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্রাক্ষারসে উৎসারিত স্বাদু শরবত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
দ্রাক্ষারসে উৎসারিত স্বাদু শরবত

‘পাখিরোষ’ নামে একটি ছোটগল্পের বই প্রকাশ হতে চলেছে। গল্পকার আশরাফ জুয়েল। তার আগে এর পাণ্ডুলিপি পাঠের সুযোগ হলো। সুযোগ না বলে সৌভাগ্য বলাই সম্ভবত শ্রেয়; এই কারণে যে পাণ্ডুলিপিটি পড়া না হলে বইটি পড়া হতো কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না; যা দুর্ভাগ্যই হতো। কেননা, তাতে মিস করে যেতাম আকালে কিছু কালীন ফল ভোগের স্বাদ।

আশরাফ জুয়েলকে আগে পড়িনি, এমন নয়। তার পূর্বোক্ত গ্রন্থ না হলেও প্রথম শ্রেণির সাময়িকীতে প্রকাশিত কয়েকটি গল্প পড়েছি। একটি ধারণাও তৈরি আছে তার সম্পর্কে। কিন্তু ‘পাখিরোষ’ পাণ্ডুলিপির গল্পগুলো আগের ধারণাকে ভেঙে দিয়ে নতুন চিন্তায় দাঁড় করিয়েছে। সিরিয়াস, একটু কঠিন, প্রবল প্রতীকী অথচ স্পষ্ট, ঝরঝরা, কুলীন, কর্দমাক্ত সন্ধ্যা খুঁড়ে দিবালোকের নির্যাস তুলে আনার পূত প্রচেষ্টা। যেন কোমল কঠিন তুলি হাতে সমকাল ব্যবহারে যাপিত জীবনের মুখ আঁকা।

ছোটগল্পের ছক-ছবি-ছত্র নির্ণয় করে পাণ্ডিত্য প্রকাশের শক্তি আমার নেই; ভালোলাগার, খারাপলাগার অনুভূতিটুকু ব্যক্ত করার সামর্থ্য আছে বলে বলতে দ্বিধা নেই, পাণ্ডুলিপিটির পাঠ সন্তুষ্ট করেছে তার নিজগুণে, বৈশিষ্ট্যে, বিশিষ্টতায়। ক্ষয় ধরা রক্তিম, খুনি, ভণ্ড, ভণ্ডুল সময়কে নির্ভর করে নির্মিত নির্মাণ এই পাণ্ডুলিপির স্বতন্ত্র সারমর্ম। যা পাঠে নৈত্যিক দিনকে, রাতকে দেখা যায় আয়নার সমনে উপবিষ্ট হয়ে।

গল্পকারের ভাষ্যে আকারে-ইঙ্গিতে কোনো গল্প পরাবাস্তবতার আদলে অঙ্কিত, কোনো গল্পে জাদুবাস্তবতার অবিমিশ্র রেখা আঁকা। আবার কোনো গল্প ইশারাপ্রবণ। পাঠ করতে গিয়ে এমন উপমা-ইঙ্গিতের মুখোমুখি হতে হয়, আগে যা অধিত ছিল না অন্য কোথাও। হয়তো ছিলও। তবে উপস্থাপনের ভঙ্গি প্রাজ্ঞ মুন্সিয়ানার স্বাক্ষর রাখে। বাস্তবতার নিরিখে আঁকা যে গল্পটি, তাও রূঢ় বাস্তবতার বোতাম উন্মুখ করে চেনার ভেতর অচেনার গাম্ভীর্যে। যেখানে ছোট ছোট করে নোটের মতো বাক্য, যেখানে জীবন এক শিশিরবিন্দু, ফের চৈত্রের দাবানলে ঝরা লবণ ফোটা! যেন জীবনকে ছেড়ে যাওয়া দুরহ কর্মক্লান্তি কিংবা বহন করা এক নন্দিত নরক নিরিখ।

‘পাখিরোষ’ পাণ্ডুলিপিতে মোট গল্প দশটি। মনে করি, পাণ্ডুলিপিটিতে গল্পসংখ্যা যদি দুই, তিন বা চারও হতো, তাতে পাণ্ডুলিপিটির আবির এতটুকু ম্লান হতো না এই কারণে যে, এই পাণ্ডুলিপিটিতে ‘ছায়াসন্দেহ, ঘন বাতাসের সুলেখা, বিজ্ঞাপিত সুখ, পাখিরোষ, হত্যাখামার’ নামক চারটি সূক্ষ্ম সেলাইয়ের গল্প আছে। প্রকৃতপক্ষে একটি বইয়ে কয়টি ভালো লেখা হলে বইটিকে ভালো বলা যায়? খুব বেশি মনে হয় প্রয়োজন হয় না। দু-তিনটি হোঁচটহীন লেখা হলেই পাঠক খুশি থাকে। হোক তা গল্পের, কবিতার, প্রবন্ধের, ভ্রমণ বা অন্য গ্রন্ধ। আলোচিত বইটি যদি শুধু ‘পাখিরোষ ও হত্যাখামার’ গল্প দুটি নিয়ে প্রস্তুত হতো, তা হলেও এর কথা কথালাপে বলতাম গল্প দুটির প্রতি নির্মোহ ভালোলাগার হেতু। কোথাও যদি ছোটগল্প নিয়ে আড্ডা করি, অবশ্যই এই গল্পকারের এই দুটি ছোটগল্পের কথা টানব। কম সময়ে ভাবনায় অধিক জমিন দখল করে নেওয়ার দক্ষতার জন্যে। বাকি ‘সুখনিদ্রা পারত্যাজ্যে, জাগো মৃগরাজতেজে’, ‘একটি নোংরামূল্যের গল্প’, ‘গর্ভনাশ’, ‘এতো নিশ্চিত হইয়া মানুষ নিজের মৃত্যুকে খায় ক্যামনে’, অপ্রকাশিত ভাবনার কাফকা’ গল্প ছয়টি ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া যাবে এমনটিও নয়। ভালোর মধ্যে ভালোর কথা টানতে এর স্থান পরে হলেও বিষয়ে ব্যতিক্রমী টান স্পর্শ করে এই গল্পগুলোর ভেতরে প্রবেশ করতে পারলে।

আশরাফ জুয়েল পূতচর্চার কল্লোলিত মানুষ; তার গল্প তার সম্পর্কে এ কথা স্বীকার করায়। স্বীকার করায় বলেই তার গল্পের গভীরে একটা চিৎকার ঘুরে বেড়ায়। হাহাকার হাউমাউ করে কাঁদে। সে কান্নাটা দিনক্ষয়ের কান্না। খুন হয়ে যাওয়ার পর সুজনের শক্ত কান্না। স্বজনের সব হারানোর শোকাচ্ছন্ন বেদনা। তার পর আজীবন তার রেশ বহন করে চলার যন্ত্রণা। এই যে আমাদের চারপাশ, বোবা পরিবেশ, বধির সমাজ, রাষ্ট্র, দেশ, উশৃঙ্খল পৃথিবী; এর বিপরীতে কী অমানবিক পোড়ন লতার মতো লতিয়ে উঠছে, কী অবক্ষয় ঘটছে, কতটা নিচে নেমে যাচ্ছে সভ্যতা, স্বচ্ছতা, সদাচরণ; তার কি কোনো খোঁজ আছে তাদের কাছে, যারা রোজ রক্তস্নান না করলে ঘুমাতে যেতে পারে না, নাশতার টেবিলে বসতে পারে না? খোঁজ কি আছে তাদের কাছে, যারা অনৈতিকতায় না মাতলে তাদের মাদল বাজে না? আশরাফ জুয়েল সেই চিত্রটা ভিন্ন ও বিভিন্ন ফর্মে চিহ্নিত করে এক মলাটের মধ্যে পরিবেশন করেছেন। পরিবেশনটা সবার সমান উপভোগ্য হবে এমন কথা নেই, কিন্তু অনেকের হবে বিশ্বাস।

তবে পাণ্ডুলিপিতে কয়েকটি ছেদ চোখে পড়েছে। দু-একটি গল্পের শিরোনাম সরলের দাবি রাখে। পরা ও জাদুবাস্তবতায় আরেকটু ঘনবুনন হলে ভালো। ইশারা যেন ইঙ্গিতের ঙ-এ বিলীন না হয়ে দৃষ্টির সীমায় থাকে, তার দিকে নজর ঋজু হওয়া উৎকৃষ্ট। তদতিরিক্ত আশরাফ জুয়েলের কথা বিন্যাস প্রশংসার। সাধুবাদ পাওয়ার। পাণ্ডুলিপি থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত ‘পাখিরোষ’ বইটি পাঠকের সমাদর পাবে, বড় মুখ করে বলছি। সব ঠিক থাকলে বইটি প্রকাশ হবে ‘ঐতিহ্য’ প্রকাশনী থেকে।

এন-কে

Feb2

বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের পাইলট উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের পাইলট উদ্বোধন

নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে সরকারের বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ার শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে তিনি গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় গিয়ে সুবিধাভোগী নারীদের হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এ সময় কর্মসূচির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় নিম্ন আয়, অসচ্ছল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। এই অর্থ মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানকে ঘিরে সকাল থেকেই আশপাশের ইউনিয়ন ও উপজেলার নারী-পুরুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠ ও আশপাশ এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতারাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। কর্মসূচি শেষে তিনি বাগবাড়ী এলাকায় একটি খাল খনন প্রকল্প পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। এছাড়া তিনি তাঁর পৈতৃক বাড়িতে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান শেষে শহরে আয়োজিত জনসভায় যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফরে নতুন প্রটোকল জারি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ণ
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফরে নতুন প্রটোকল জারি

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফরকে ঘিরে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার বা প্রটোকল নির্ধারণ করে নতুন নির্দেশাবলি জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দায়িত্ব ও উপস্থিতির বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে।

আজ (সোমবার) মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফরকে ঘিরে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার (প্রটোকল) সংক্রান্ত নির্দেশাবলি প্রকাশ করা হয়, যা গত ১৬ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা হয়।

বিশেষ নির্দেশাবলি
• মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীদের বিদেশ গমন ও দেশে ফেরার সময় মন্ত্রণালয়/বিভাগের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সচিব/যুগ্ম সচিব বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।

• দেশের অভ্যন্তরে সফরকালে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী তার ঢাকা ত্যাগ ও প্রত্যাবর্তনস্থলে মন্ত্রণালয়/বিভাগের মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর একান্ত সচিব উপস্থিত থাকবেন।

• জেলা সদরে যথাসম্ভব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর আগমন ও বিদায়ের স্থানে অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন।

• জেলা সদরে উপস্থিত থাকার জন্য জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারের নিজের সরকারি সফর বাতিল বা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে না। এ ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক/অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন। মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রী ইচ্ছা প্রকাশ করলে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার তাঁর সফরসূচি বাতিল করবেন।

• উপজেলা সদর বা উপজেলার অন্য কোনো স্থানে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর সফরকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন। আবশ্যক না হলে জেলা প্রশাসক কিংবা পুলিশ সুপারের এক্ষেত্রে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই।

• আগমন ও প্রস্থানের সময় আবশ্যক না হলে বিমানবন্দর বা রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকা/চট্টগ্রাম/কক্সবাজার/যশোরের জেলা প্রশাসকের উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। যশোর ও কক্সবাজারের পুলিশ সুপার/মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।

• কোনো জেলা/উপজেলায় আগমন/প্রস্থানের সময় আশপাশের জেলার বিমানবন্দর/রেলস্টেশন ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হলে ট্রানজিট স্থানে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের উপযুক্ত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।

• বিভাগীয় কমিশনার, সদরদপ্তরে উপস্থিত থাকলে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর আগমনের পর সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করতে পারেন।

• মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

• রেলযোগে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশ সুপার তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট রুটের সকল পুলিশ স্টেশন/ফাঁড়িকে অবহিত করবেন। যে স্টেশনে ট্রেন থেকে অবতরণ এবং ট্রেনে পুনরায় আরোহণ করবেন বা কোনো জংশনের যে স্থানে ট্রেন বদলের প্রয়োজন হবে সেসব স্থানে পুলিশের একজন পরিদর্শক/উপপরিদর্শক উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও রেলযোগে চট্টগ্রামে গমন ও প্রস্থানের সময় সেখানে চট্টগ্রাম রেলওয়ের পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন।

সাধারণ নির্দেশাবলি
• মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীদের সফরসূচি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে যথাসময়ে পাঠাতে হবে। সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তন হলে তাও যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাতে হবে।

• সার্কিট হাউজ/সরকারি রেস্ট হাউজ ছাড়া নিজ বাড়ি কিংবা অন্যত্রে অবস্থানের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রাচার সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশাবলি প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

• সফরসূচি প্রণয়নের সময় সফরটি, সরকারি নাকি ব্যক্তিগত তা মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীদের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। সরকারি সফরের সময় মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীদের জন্য যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ব্যক্তিগত সফরের জন্য যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হলে এ সংক্রান্ত সেবার মূল্য পরিশোধের প্রচলিত নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

• মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর একান্ত সচিব/সহকারী একান্ত সচিবগণ মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী এ সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট এ সংক্রান্ত জারি করা নির্দেশাবলির জায়গায় নতুন এই নির্দেশাবলি কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।

৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিতে সৌদির তাগিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০২ অপরাহ্ণ
৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিতে সৌদির তাগিদ

সৌদি আরবে অবস্থানরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যু করার প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ।

সোমবার (২০ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিস কক্ষে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ অনুরোধ জানান।

বৈঠককালে তারা দুদেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, সৌদি আরবে বসবাসরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার (মিয়ানমার নাগরিক) বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান, পর্যটন ও জ্বালানি খাতে সৌদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত নতুন পোর্টফোলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। জনশক্তি রপ্তানি ছাড়াও বাংলাদেশের জ্বালানি ও পর্যটন খাতে সৌদি আরবের বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

তিনি এসব খাতে বিনিয়োগসহ দুদেশের সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেন।

সৌদি আরবে অবস্থানরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যুর প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রদূত এই প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে মন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস বা প্রমাণক সাপেক্ষে ইতোমধ্যে ২২ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হয়েছে।

এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দেন, পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, যেসব মিয়ানমার নাগরিকের বাংলাদেশি ডকুমেন্টস রয়েছে বা যারা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে, তাদের দ্রুত পাসপোর্ট প্রদান করতে হবে।

এক্ষেত্রে সৌদি আরব থেকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিয়ে পুনরায় যাচাই-বাছাই করার জন্যও তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান।

মন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আগামী জুলাই মাসের প্রথমার্ধে তিনি সৌদি আরব সফর করতে পারেন বলে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।