খুশকি দূর করতে যা করবেন
অনেকেই চুলের সমস্যার চেয়ে খুশকির সমস্যায় বেশি ভোগেন। কারও কারও এ সমস্যা থাকে সারা বছর আবার কারও কারও হয়ে থাকে ঋতুভিত্তিক। সে যাই হোক, মাথার এই খুশকি তাড়াতে পারেন নিম ব্যবহার করে। কীভাবে নিম ব্যবহার করে প্রাকৃতিক উপায়ে খুশকি দূর করবেন, আসুন, তা জেনে নিই আজকের আয়োজনে–
নিম একটি ঔষধি গাছ। এর ডাল, পাতা, রস সবই কাজে লাগে। এটি একটি বহুবর্ষজীবী ও চিরহরিৎ বৃক্ষ। আকৃতিতে ৪০-৫০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এর কাণ্ডের ব্যাস ২০-৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে।
ডার্মাটোলজিস্টরা বলছেন, নিম ব্যবহার করে সহজেই মাথার খুশকি দূর করা সম্ভব। বাড়ির আশপাশে থাকা এই নিম খুশকি তাড়াতে আর ভালো সমাধান হতে পারে না।
আপনার যদি খুব শুষ্ক মাথার ত্বক হয় এবং সেই সঙ্গে খুশকির উপদ্রব থাকে, তবে প্রায়ই আপনাকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। খুশকির সবচেয়ে খারাপ দিক হলো, এটি আপনার মাথার ত্বকের পাশাপাশি মুখ ও ঘাড়ের ত্বককেও প্রভাবিত করতে পারে।
আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, মাথার চুলে থাকা ম্যালাসেজিয়া গ্লোবসা নামের একধরনের ফাঙাসই খুশকির জন্য দায়ী। এই ফাঙাসগুলো ত্বকের জমে থাকা তেল খেয়ে বেঁচে থাকে। এর কারণে ত্বকের কোষগুলোর দ্রুত মৃতু ঘটে, যা পরে খুশকিতে রূপান্তরিত হয়।
ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বলছে, নিয়মিত চুল পরিষ্কার না করলে চুলে খুশকির সমস্যা দেখা দেয়। খুশকি থেকে মুক্তি পেতে অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পুগুলো ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তারা। এ ক্ষেত্রে শ্যাম্পুর মধ্যে যে উপাদান থাকতে হবে তা হলো, জিঙ্ক পাইরিথিওন, স্যালিসিলিক অ্যাসিড, সেলেনিয়াম সালফাইড, কিটোকোনাজল কিংবা কোলটার। তবে এ ধরনের শ্যাম্পু কীভাবে ব্যবহার করবেন, তা জানার জন্য অবশ্যই ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।
তারা আরও বলেন, যেসব শ্যাম্পুতে কোলটার থাকে, তা ব্যবহার করার আগে অবশ্যই ভালো করে ব্যবহারবিধি পড়ে নিন। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, এই ধরনের খুশকি দূর করার শ্যাম্পু ব্যবহার করার পরও যদি খুশকি না যায়, তবে এটি হতে পারে সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, সোরিয়াসিস ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা একজিমার মতো রোগ। এসব রোগের ক্ষেত্রে দেরি না করে অবশ্যই ভালো কোনো স্কিন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন