খুঁজুন
, ,

তারেক রহমান বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রাণপুরুষ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 20 November, 2019, 5:18 pm
তারেক রহমান বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রাণপুরুষ

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রাণপুরুষ, তৃণমূল রাজনীতির ধারক বাহক, এই দেশ মা, মাটি ও মানুষের সন্তান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্যাতিত জননেতা দেশনায়ক তারেক রহমানের ৫৫তম জন্মদিন আজ।

এমন এক সময়ে আজ আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন পালন করছি যখন দেশে গণতন্ত্রের লেবাচে একদলীয় বাকশালী শাসন চলছে। গুম, খুন, অপহরণ হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

মিথ্যা মামলায় সাজানো রায় দিয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে রেখেছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করে গোটা দেশকে জেলা খানায় পরিণত করেছে এই সরকার। বাক ও ব্যক্তির স্বাধীনতা হরণ করে অঘোষিত বাকশালী কায়দায় দেশ চলছে। আওয়ামীলীগের লুটপাটের কারণে ধ্বংসের মুখে দেশের অর্থনীতি।

তিনি আরো বলেন, তারেক রহমান এমনই একজন নেতা যার বহুমুখি প্রতিভায় দেশের জনগণের কাছে অতি প্রিয়। বিএনপিসহ সাধারণ মানুষের কাছে তিনি একজন জনপ্রিয় নেতা। জনগণকে আপন করে নেয়ার যাদুকরী ক্যারিষমেটিক নেতৃত্ব মার্জিত ব্যবহারের কারণে আর এসব গুণাবলী তাকে বিষ্ময়কর জনপ্রিয়তার অধিকারী করে তুলে।

তারেক রহমান এদেশের মা, মাটি ও মানুষের সন্তান। এই দেশের মা, মাটি ও মানুষকে কেন্দ্র করেই তার সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড শুরু করেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথ ধরেই শহর কেন্দ্রিক রাজনীতিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছিলেন হাটে, মাঠে-ঘাটে, গ্রামে-গঞ্জে। এই কারণেই তৃণমূল রাজনীতির প্রাণপুরুষ হয়ে উঠেন তারেক রহমান।

তারেক রহমান রাজনীতিতে এসে বুঝতে পেরেছিলেন দেশের উন্নয়ন চাইলে গ্রামে-গঞ্জের উন্নয়ন করতে হবে। তাই তিনি পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করেই গ্রাম-গঞ্জের পথে-প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তিনি গ্রাম অঞ্চলের কৃষক-মজুর-খেটে খাওয়া গরীব-দু:খী মানুষের কাছে গরীব দু:খী মানুষের কাছে গিয়ে তাদের সুখ-দু:খ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। দু:খী মানুষের কাছে দাঁড়িয়েছেন।

তারেক রহমান বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরী করতে তৃণমূল ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলন করেছিলেন। এসব সম্মেলনে কর্মীরা দলীয় রাজনীতি ও সংগঠন সম্পর্কে মন খুলে কথা বলেছিলেন। এ সভাগুলোতে তারেক রহমান মূলত দলের গঠনতন্ত্র, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যত পরিকল্পন নিয়ে নেতাকর্মীদের সাথে দীর্ঘ মতবিনিময় করেছেন।

কিন্তু তারেক রহমান সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার পর তার জনপ্রিয়তা ও জাতীয়তাবাদী শক্তির জাগরণে বিএনপি ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র শুরু হয়। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ২০০৭ সালের ১/১১ সৃষ্টি হয় এবং তারেক রহমানকে গ্রেফতার করে অমানষিক নির্যাতন করা হয়।

তিনি আজ ২০ নভেম্বর বুধবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও ড্যাব’র সার্বিক সহযোগিতায় ২০ নং দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডের বলুয়ার দীঘির উত্তর পাড়ের মাঠে তারেক রহমানের ৫৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের তারুন্যের রাজনীতির আইডল। বহুমাত্রিক ষড়যন্ত্রের নাগপাশ ছিন্ন করে তিনি রাজনীতির নতুন আলোর দিশা ছাড়িয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। যিনি স্বপ্ন দেখান তাঁর জাতিকে, স্বপ্ন দেখান বাংলাদেশকে। যিনি স্বপ্ন দেখেন তাঁর জাতির মুক্তির। তাই তো দৃপ্ত শপথে তাঁর সাহসী উচ্চারণ-“যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমিই বাংলাদেশ”

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই নব জাগরণের সৃষ্টি হয়েছে বিএনপিতে। আজ দেশে জালিমের শাসন বিদ্যমান। অচিরেই জালিমের দু:শাসনের কবল থেকে দেশ ও দেশের মানুষ মুক্তি পাবে এবং তারেক রহমান বীরের বেশে দেশে ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ।

২০ নং দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সাব্বির আহমদের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী, সাংবাদিক জাহেদুল করিম কচি, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, আনোয়ার হোসেন লিপু, শাহেদ বক্স, গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক থানা বিএনপির সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরী, সম্পাদক মাঈন উদ্দিন মো. শহীদ, ডা. সরওয়ার আলম, সহ সম্পাদক একে এম পেয়ারু, সালাহ উদ্দিন কায়সার লাবু, মো. ইদ্রিস আলী, সালাহ উদ্দিন লাতু, ডা. লুসি খান, ডা. শাকিরুর রশিদ, থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন, নগর বিএনপির সদস্য ইউসুফ সিকদার, জাকির হোসেন, আলী ইউসুফ, নূর আহমদ পিন্টু, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আকতার খান, নবাব খান, আবদুল্লা আল ছগির।

বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পে ডাক্তারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডা. দাউদ সিদ্দিকী, ডা. ইফতেখার রিজবী, ডা. মিজানুর রহমান, ডা. রিতু বড়–য়া, ডা. সায়েম, ডা. সাদ্দাম হোসেন, ডা. ফারহাদ তালেব, ডা. আনোয়ার হোসেন. ডা. ইমরান সোহেল, ডা. ফাজলে রাব্বি, এম এ রাজ্জাক, এফ এ রুমি।

ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামাল আহমদ, আবুল কালাম, লেয়াকত আলী, আবুল মনসুর, এম এ হাসেম, আলাউদ্দিন, আশু, হারুন, জুয়েল, হামিদ, নূর হোসেন নুরু প্রমুখ।

Feb2
Feb2

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব: এরশাদ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 9:41 pm
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব: এরশাদ উল্লাহ

চট্টগ্রাম ৮ আসনের এমপি ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক এরশাদ উল্লাহ বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে এ্যাব চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দ অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে এসেছেন। কেউ যেন খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আজ ২০ জুলাই সোমবার বিকেলে এ্যাব চট্টগ্রামের উদ্যোগে ৩ নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের চালিতাতলী ও ওয়াজেদিয়ার বিগত টানা বর্ষনে জলাবদ্ধ এলাকায় উপহার সামগ্রী বিতরণ কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন,”দুর্যোগ সাময়িক, কিন্তু আমাদের মানবিকতা স্থায়ী। আমরা জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্হাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, এ্যাব চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দ অতীতের ন্যায় আপনাদের দুর্দিনে পাশে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। আজকের এই ত্রাণসামগ্রী হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সব কষ্ট দূর করতে পারবে না, তবে তাদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সহমর্মিতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনে সব সময় পাশে আছে। আসুন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহবানে আমরা সবাই মিলে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসি এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াই।

এ্যাব চট্টগ্রামের উপহার সামগ্রী ২০০ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয় যার পরিমাণ ১ টন ৬০০ শত কেজি। ৩ নং ওয়ার্ডের চালিতাতলী দারোগা বাপের বাড়ী এবং ওয়াজদিয়া বোর্ড অফিস এলাকায় এসব উপহার দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি ও এ্যাব চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম এর সভাপতিত্বে ও আইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সন্মানি সম্পাদক প্রকৌশলী খান মোঃ আমিনুর রহমান সুমনের পরিচালনায় উপহার সামগ্রী বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরাম পিআরইউ’র আহ্বায়ক ও দৈনিক দিনকাল চট্টগ্রামের ব্যুরো চীফ হাসান মুকুল, বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল করিম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কমিটি’র সদস্য মোহাম্মদ ইউসুফ, চুয়েট ছাত্রদলের সাবেক ভিপি প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, প্রকৌশলী রাশেদ আলম, প্রকৌশলী রফিকুন নবী, প্রকৌশলী কামরুল হাসান, প্রকৌশলী আবুল বাশার, প্রকৌশলী ইমাদুল হক শাহিন, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, প্রকৌশলী শাহীন, পিআরইউ’র সদস্য লেখক জহিরুল ইসলাম জহির, বিএনপি’র নেতা মোহাম্মদ ইসমাইল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাজ্জাদ হোসেন খাঁন, ২ নং জালালাবাদ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাভেদ ওমর, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহি রুবেল, ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রদল নেতা মোঃ জাহেদ হোসেন ইফতি‌, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল থানার সাধারণ সম্পাদিকা মিসেস নাসিম আলম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

বন্যাদুর্গত প্রতিবন্ধীদের আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ত্রাণ নিয়ে হাজির মানবিক ডিসি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 8:28 pm
বন্যাদুর্গত প্রতিবন্ধীদের আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ত্রাণ নিয়ে হাজির মানবিক ডিসি

একটি লিখিত আবেদন হাতে পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ২০০ জন বন্যাদুর্গত প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণের ব্যবস্থা করলেন সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। শুধু বরাদ্দ অনুমোদনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, পূর্বনির্ধারিত ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেও নিজে উপস্থিত থেকে তাঁদের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় মানবিক প্রশাসনের আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে নগরীর লালখানবাজারস্থ শহীদ নগর সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ২০০ জন বন্যাদুর্গত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এর আগে রোববার (১৯ জুলাই) সামাজিক সেবামূলক সংস্থা ডিজএ্যাবল্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (ডিডিআরসি)-এর নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু ও যুবকদের অনেকেই সাধারণ ত্রাণকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না। তাঁদের জন্য জরুরি খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।

আবেদন পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেও ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী মানুষ। তাই তাঁদের বিষয়ে আবেদন পাওয়ার পর তিনি মনে করেছেন, দেরি না করে দ্রুত তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই প্রশাসনের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করেছে। সম্মিলিত এই প্রচেষ্টার ফলেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “আমরা সবাইকে নিয়ে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের বাদ দিয়ে কখনোই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়া সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের প্রতিটি সেবায় তাঁদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”

ডিডিআরসির নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ জেলা প্রশাসকের তাৎক্ষণিক সাড়ার প্রশংসা করে বলেন, আবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক সঙ্গে সঙ্গেই সহায়তার আশ্বাস দেন এবং ব্যস্ততার মধ্যেও নিজে উপস্থিত হয়ে ত্রাণ বিতরণ করেন। মানুষের কল্যাণে তাঁর আন্তরিকতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তিনি জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বিতরণ করা ২০০টি ত্রাণ প্যাকেটের প্রতিটিতে ছিল ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি চিড়া, ১ কেজি চিনি, ফ্যামিলি সাইজ বিস্কুট, ৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, লাইটার, ওরস্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডিডিআরসি এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে ধারাবাহিকভাবে মাঠে কাজ করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। উদ্ধার, আশ্রয়, চিকিৎসা, খাদ্য সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের জন্য পৃথক সহায়তার এই উদ্যোগকে মানবিক প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিশু আয়নী হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 8:12 pm
শিশু আয়নী হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী এলাকায় নয় বছরের শিশু আয়নীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হত্যা ও লাশ গুমের আলোচিত মামলায় আসামি মো.রুবেলকে (৩৮) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২০ জুলাই) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এই রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই আদালত আসামি মো. রুবেলকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেন।

এছাড়া অন্য একটি ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরেকটি ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়নী। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না মেলায় তার মা পাহাড়তলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

তদন্তে স্থানীয় সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের নয়দিন পর পাহাড়তলীর মুরগি ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে আয়নীর গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির ব্যবহৃত পোশাক ও স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর রুবেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার দায় স্বীকার করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

লাশ উদ্ধারের পর আয়নীর মা চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ নালিশি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত শেষে পুলিশ রুবেলের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।

তবে বিচার চলাকালে মামলার নথি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত ধর্ষণের অভিযোগের পরিবর্তে অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে বিচারকার্য পরিচালনা করেন। পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে বিড়ালছানা দেওয়ার কথা বলে রুবেল শিশুটিকে তার ফুফুর খালি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে নিজের সবজিবাহী ভ্যানে করে ডোবায় ফেলে দেন। গ্রেপ্তারের থেকে আসামি রুবেল কারাগারে রয়েছেন।