খুঁজুন
, ,

শহীদ জমির-ফরিদ ছিলেন আদর্শিক ছাত্ররাজনীতির দুই উজ্জল নক্ষত্র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 21 November, 2019, 8:56 pm
শহীদ জমির-ফরিদ ছিলেন আদর্শিক ছাত্ররাজনীতির দুই উজ্জল নক্ষত্র

শহীদ জমির-ফরিদের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান প্রজন্মকে জাতীয়তাবাদী দর্শণ বুকে ধারণ করে আদর্শিক ছাত্র-রাজনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ডা: শাহাদাত হোসেন।

তিনি আজ ২১নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস শহীদ জমির উদ্দীন ও চপই ছাত্রদলের আহবায়ক শহীদ জাহাঙ্গীর ফরিদের ২৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহবান জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল এই স্মরণসভার আয়োজন করে। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ এর সঞ্চালনায় উক্ত স্মরণ সভায় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর প্রধান বক্তা ও নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, নগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাজিমুর রহমান, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মঞ্জুর রহমান চৌধুরী, শফিকুর রহমান স্বপন, সাংবাদিক নেতা জাহেদুল করিম কচি বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।

স্মরণসভায় ডা: শাহাদাত আরও বলেন, শহীদ জমির-ফরিদ ছিলেন আদর্শিক ছাত্ররাজনীতির দুই উজ্জল নক্ষত্র। সেদিন ধর্মীয় লেবাসে শিবির নামধারী ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাসীরা সাংগঠনিক ও আদর্শিকভাবে জমির-ফরিদকে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে চপই-র শান্ত-শ্যামল ক্যাম্পাসে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। জনপ্রিয় ছাত্রনেতাদের হত্যা করলেও তাঁদের আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি উল্লেখ করে ডা: শাহাদাত বলেন, জমির-ফরিদের মত শত শত জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক নেতাকর্মীর আত্মত্যাগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আজ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছাত্রসংগঠন। বর্তমানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও একই কায়দায় তাদের ছাত্রসংগঠনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দিয়ে সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও আজ লাঞ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি ছাত্রদের ন্যায্য অধিকারসহ গনতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বস্তরের ছাত্র ও যুব সমাজকে গনআন্দোলনের জোর প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানান।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে আবুল হাসেম বক্কর বলেন, শিবিরের সন্ত্রাসীরা জমির-ফরিদকে হত্যা করে ছাত্রদলের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চেয়েছিল। অথচ আজ ঐ খুনে সংগঠনের অস্তিত্বই হুমকীর সম্মুখীন।

চট্টলার ছাত্র-যুব সমাজ যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত বলে উল্লেখ তিনি বলেন জেলজুলুম, হামলা মামলা উপেক্ষা করে শীঘ্রি যুব ও ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মাধ্যমে দেশে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবু সুফিয়ান বলেন, যে জাতীয়তাবাদী আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জমির-ফরিদ জীবন উৎসর্গ করেছেন, সে আদর্শকে লালন করতে গিয়ে আজও হাজারো নেতাকর্মী নির্যাতিত হচ্ছে, প্রতিনিয়ত মামলা-হামলা, খুন-গুমের শিকার হচ্ছে। চপই ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন মিঠু, চমেক ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল, চমেক হোস্টেলে মেধাবী ছাত্র আবেদ হত্যাসহ বিভিন্ন সময়ে হত্যাকান্ডের শিকার মেধাবী ছাত্রদল নেতাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে আবু সুফিয়ান বলেন, ছাত্রদলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা এখনও যেকোন ত্যাগ স্বীকারে তিনি এসময় চট্টলার ছাত্র ও যুবসমাজকে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নগর যুবদলের সি: সহসভাপতি ইকবাল হোসেন, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, যুবদলের সহসভাপতি এম এ রাজ্জাক, ইকবাল হোসেন সংগ্রাম, ফজলুল হক সুমন, মো: জাহ্গাংীর আলম, আবদুল করিম, আবদুল গফুর বাবুল, জসিমুল ইসলাম কিশোর, আবু সুফিয়ান, অরুপ বড়ুয়া, সাহাবুদ্দীন সাবু, গ্জাী সালাহউদ্দীন চঞ্চল, পাঁচলাইশ থানার আহবায়ক মোহাম্মদ আলী সাকী, সি: যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, রাশেদুল হাসান লেবু, তাজুল ইসলাম তাজু, সেলিম উদ্দীন রাসেল, তৌহিদুল ইসলাম রাসেল, এমদাদুল হক বাদশা, রাঁজন খান, ইদ্রিস আলম, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, হেলাল হোসেন, গুলজার হোসেন, সহ সাধারন সম্পাদক আসাদুর রহমান টিপু, সাজ্জাদ হোসেন, জাফর আহমদ খোকন, রাসেল নিজাম, আবুল কালাম আজাদ, শওকত আলি জুয়েল, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জিল্লুর রহমান জুয়েল, মোহাম্মদ সাগীর, এড. নাজমুল হাসান, মহিউদ্দীন মুকুল, ইফতিখার শাহরিয়ার আজম, মোহাম্মদ ইয়াকুব, ইঞ্জি. শমসের আলী, সহ-সম্পাদক আতিকুর রহমান, মনোয়ার হোসেন মানিক, কমল জ্যোতি বড়–য়া, জহিরুল ইসলাম, হামিদুল হক, হাফেজ কামাল উদ্দীন, মেজবাহ উদ্দীন মিন্টু, সাইফুদ্দীন যুবরাজ, আবু বক্কর ছিদ্দিকী, আশরাফ উদ্দীন, সিরাজ শিকদার, আনোয়ার হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, নগর যুবদলের সদস্য শাবাব ইয়াজদানী, আবদুল্লাহ আল মামুন, শওকত খান রাজু, মঞ্জুর আলম মঞ্জু, এস এম আলী, আবু বক্কর বাবু, মো: হাসান, মো: জাবেদ, নগর ছাত্রদল নেতা শরিফুল ইসলাম তুহিন, আহসান উজ-জামান, সাব্বির আহমেদ, আসিফ চৌধুরী, আলী আকবর, আবু কাওছার, সাগর সুশীল, আয়াতুল্লাহ, মো: রাশেদ, সোহেল সিদ্দীকী রনি প্রমুখ।

Feb2
Feb2

ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে অশেষ কল্যাণ ও মাহাত্ম্য রয়েছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 18 August, 2026, 12:23 am
ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে  অশেষ কল্যাণ ও মাহাত্ম্য রয়েছে

বাংলাদেশ সুফিবাদী ঐক্য ফোরাম কেন্দ্রীয় পরিষদের উদ্যোগে ‘সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা আজ ১৭ আগস্ট সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবস্থ আলহাজ্ব সুলতান আহমদ হলে অনুষ্ঠিত হয়।

ফোরামের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ রানার সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় উলামা মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ বলেন, মহানবীর (দ.) দুনিয়ায় শুভাগমন হয়েছে বলেই মানবজাতিসহ সমগ্র সৃষ্টিজগৎ অস্তিত্ব লাভ করেছে। সকল সৃষ্টির উৎসই হচ্ছেন মহানবী (দ.)। তাঁর কারণে এবং তাঁরই উসিলায় সৃষ্টি জগৎ অস্তিত্ব পেয়েছে, টিকে আছে এবং টিকে থাকবে। তাই সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে অশেষ পুণ্য বরকত, কল্যাণ এবং সবিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন মানে কৃতজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পীরে ত্বরিকত আল্লামা সৈয়দ আহমদ জামাল আশরাফ আল আশরাফী জিলানী। তিনি বলেন, সমগ্র সৃষ্টির মূল হচ্ছেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)। তাঁর আনুগত্য ও আহলে বাইতে রাসুলকে (দ.) ভালোবাসা ফরজ। উপমহাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে সুফিবাদি সুন্নি মুসলমানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। অথচ আন্তঃযোগাযোগ না থাকা, অনৈক্য-বিভাজনের কারণে সুফিবাদি সুন্নি মুসলমানরা পেছনে পড়ে রয়েছে। রাজনীতি, অর্থনীতিসহ দেশ পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে আমরা নেই। ফলে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী আমাদের মাথার ওপর ছড়ি ঘুরাচ্ছে। সুফিবাদী উদারনৈতিক মানবিক ইসলামের প্রসার ঘটাতে সকল সুন্নি মতাদর্শী ও তরিকতপন্থিদের একই প্ল্যাটফরমে আসতে হবে।

মুখ্য আলোচক ছিলেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়দ অছিয়র রহমান। তিনি বলেন, মহানবীর (দ.) দুনিয়ায় শুভাগমন আল্লাহ পাকের সেরা নিয়ামত। তাই নিয়ামতের শুকরিয়া হিসেবে আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন করি। বিগত দুই বছরে বহু মাজার খানকায় হামলা হয়েছে। মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করে অসংখ্য মাজার গুঁড়িয়ে দেয়া হলেও এর বিচার হয়নি। বর্তমান সরকারকে অবিলম্বে এর প্রতিকারে এগিয়ে আসতে হবে।

উদ্বোধক ছিলেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ নাফিসুর রহমান মাইজভাণ্ডারী। স্বাগত বক্তব্য দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম বরকত আকাশ। নির্ধারিত বিষয়বস্তুর ওপর আলোচনায় অংশ নেন হযরত শাহ আমানত (রহ.) দরবার শরীফের আওলাদ শাহজাদা সৈয়দ হাবিবুল্লাহ খান মারুফ, গবেষক মুহাম্মদ আবদুর রহিম, শাহজাদা মাওলানা ফখরুল ইসলাম রিজভী, শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ গোলাম রসুল, শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ ছালেকুল মাওলা, আল্লামা শফিকুল ইসলাম আস সাঈদী, আল্লামা মঈনুদ্দিন রেজভী, মাওলানা রায়হান রেজা আশরাফী, মাওলানা আবদুল মান্নান আশরাফী,আলহাজ্ব মুহাম্মদ মুছা ও হালদা গবেষক মুহাম্মদ হারুন পাশা প্রমুখ আনিছ মুহাম্মদ বিপলু, এম মহিউল আলম চৌধুরী, আ ব ম খোরশিদ আলম খান, মাওলানা গিয়াস উদ্দিন নেজামী, মাওলানা করিম উদ্দিন নূরী, ফরিদুল আলম আশরাফী, মুহাম্মদ ইলিয়াছ সোহেল, নাজিম উদ্দিন মিয়াজী, প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা বলেন, সুন্নি সুফিবাদিরা আজ জেগে উঠেছে। তাদের কেউ পরাভূত করতে পারবে না।

ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন গোলটেবিল আলোচনায় সমবেত সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের পরিবেশনায় মিলাদ কিয়াম শেষে দেশ ও জাতির শান্তি সমৃদ্ধি কল্যাণ এবং বিশ্বের মজলুম মানবতার পরিত্রাণ কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন পীরে ত্বরিকত আল্লামা সৈয়দ আহমদ জামাল আশরাফ আল আশরাফী জিলানী।

পানি সরবরাহের জন্য টানেল ব্যবহার করে পাইপলাইন স্থাপনে সেতু কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 17 August, 2026, 6:45 pm
পানি সরবরাহের জন্য টানেল ব্যবহার করে পাইপলাইন স্থাপনে সেতু কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি

কর্ণফুলী নদী তীরে গড়ে তোলা বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পের পানি নগরীর পতেঙ্গা ও কাট্টলী এলাকায় আনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এটি ছিল সদ্য নিয়োগ পাওয়া চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলমের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম পদক্ষেপ।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৯, ৪০ ও ৪১নং ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র পানি সংকট। সাগর তীরবর্তী হওয়ায় এটি লবণাক্ততা প্রবণ এলাকা। সুপেয় পানির হাহাকার এবং পাইপলাইন না থাকায় অনেক এলাকায় ওয়াসার পানি সরবরাহ দুরুহ। এই তিন ওয়ার্ডে প্রচুর পানির চাহিদা রয়েছে।

ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার থেকে দৈনিক ২ কোটি লিটার পানি এই ওয়ার্ডগুলোতে বরাদ্দ করা সম্ভব। এতে করে এই সমস্ত এলাকায় পানির চাহিদা কিছুটা হলেও লাঘব হবে। ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার থেকে টানেল দিয়ে পানি পতেঙ্গা এলাকায় আনার বিষয়ে সেতু কর্তৃপক্ষ ও টানেলের মূল ঠিকাদারের সাথে কয়েকদফা সভা করে চট্টগ্রাম ওয়াসার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ। সভা ও চিঠি চালাচালির পর কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃক ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগারের পানি পতেঙ্গা এলাকায় সরবরাহের লক্ষ্যে পাইপলাইন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডিটেইলড ডিজাইন প্রণয়নে অনাপত্তি প্রদান করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

১১ আগষ্ট বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অপারেশন শাখার একটি পত্র মারফত এই অনাপত্তি প্রদান করা হয়। অনাপত্তি পত্রে প্রস্তাবিত পাইপলাইন স্থাপনের ক্ষেত্রে কর্ণফুলী টানেলের কাঠামোগত নিরাপত্তা, অগ্নি-নিরাপত্তা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং বিদ্যমান ইউটিলিটিসমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়সমূহ যথাযথভাবে বিবেচনা করা আবশ্যক উল্লেখ করা হয়।

সে আলোকে কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে প্রস্তাবিত পাইপলাইন স্থাপন কাজের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ডিটেইলড ডিজাইন প্রণয়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে অনাপত্তি (No Objection) প্রদান করা হয়।

এবিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসায় যোগদানের পর টানেল দিয়ে ভান্ডালজুড়ি হতে পানি পতেঙ্গা এলাকায় আনা এটি আমার প্রথম পদক্ষেপ ছিলো। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এই অনাপত্তি প্রদানে আমার প্রথম পদক্ষেপ বাস্তবায়নের পথ সুগম হলো। এজন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

তিনি আরো বলেন, টানেল দিয়ে পানি আনার জন্য পাইপলাইন স্থাপন ও অন্যান্য আনষঙ্গিক কাজ সেতু কর্তৃপক্ষ ও টানেলের মুল ঠিকাদার মাধ্যমে করার পরিকল্পনা রয়েছে। এবিষয়ে আগামীকাল ঢাকায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে পতেঙ্গা এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে এবং সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

প্রশিক্ষণ শেষে খালি হাতে ফিরবেন নারীরা, জানতে পেরেই উদ্যোগ নিলেন ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 17 August, 2026, 6:10 pm
প্রশিক্ষণ শেষে খালি হাতে ফিরবেন নারীরা, জানতে পেরেই উদ্যোগ নিলেন ডিসি জাহিদ

দুই হাতে কাপড় ধরে সেলাইয়ের কাজ শিখছিলেন নাছরিন ফারজানা। প্রশিক্ষণ শেষে এই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন তাঁর। কিন্তু নিজের কোনো সেলাই মেশিন নেই। প্রশিক্ষণ শেষ হলে মেশিনও পাবেন না। ফলে শেখা কাজটি কত দিন ধরে রাখতে পারবেন, তা নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা।

বিষয়টি জানতে পেরে থমকে দাঁড়ান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকেই যোগাযোগ করেন স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশনের সঙ্গে। তাঁর আহ্বানে পাঁচটি সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় সংস্থাটি। অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আরও ১৫টি মেশিনের ব্যবস্থা করার অঙ্গীকারও করা হয়।

মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যায় প্রশিক্ষণকক্ষের পরিবেশ। প্রশিক্ষণ শেষে খালি হাতে ফেরার শঙ্কায় থাকা ২০ নারীর সামনে খুলে যায় শেখা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।

আজ সোমবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রমের ২০২৫–২০২৭ চক্রের আওতায় আয়োজিত দিনব্যাপী ‘প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ (টিওটি) কর্মসূচি উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক।

প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলা প্রশাসক জানতে পারেন, আধুনিক দর্জিবিজ্ঞান ও এমব্রয়ডারি ট্রেডে অংশ নেওয়া নারীদের প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তখনই তিনি তাঁদের জন্য মেশিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেন।

জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত মুরাদপুর থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থী নাছরিন ফারজানা। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো ভাবিনি, প্রশিক্ষণ শেষে বিনা মূল্যে সেলাই মেশিন পাব। আজ ডিসি স্যার নিজে উদ্যোগী হয়ে আমাদের সবার জন্য নতুন সেলাই মেশিনের ব্যবস্থা করেছেন।’

তিন সন্তানের মা নাছরিনের স্বামী আগে প্রবাসে ছিলেন। বর্তমানে তিনি বেকার। সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে একটি সেলাই মেশিন পেলে ঘরে বসে কাজ করে পরিবারের আয়ে ভূমিকা রাখতে চান নাছরিন।

তিনি বলেন, ‘সেলাই মেশিন না থাকায় অনেক নারী প্রশিক্ষণ নিয়েও কাজ করতে পারেন না। নিয়মিত চর্চা না থাকায় একসময় শেখা কাজ ভুলে যান। মেশিনটি পেলে আমি কাজ করে সংসারের টানাপোড়েন কিছুটা হলেও কমাতে পারব।’

উদ্বোধনের আগে জেলা প্রশাসক ‘জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’র কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলে প্রশিক্ষণের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।

শুধু প্রশিক্ষণ গ্রহণ নয়, শেখা দক্ষতাকে আয় ও স্বাবলম্বিতার মাধ্যমে পরিণত করার তাগিদ দেন জেলা প্রশাসক। প্রশিক্ষণের পর অংশগ্রহণকারীরা কীভাবে কাজের সুযোগ পাবেন, সেই পরিকল্পনাও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের করতে বলেন তিনি।

আয়োজকেরা জানান, পাঁচটি ট্রেডে ২০ জন করে মোট ১০০ নারী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। জেলা প্রশাসক প্রতিটি ট্রেডের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। প্রশিক্ষণার্থীদের কাজের মান উন্নত করা এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রশিক্ষকদের উদ্দেশে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আমরা যে কাজই করি, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে করতে হবে। একটি সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকতে হবে। যাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের জন্য সেটি কতটা কার্যকর এবং এই দক্ষতা নিয়ে তাঁরা বাস্তবে টিকে থাকতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

জনগণকে দেশের প্রধান সম্পদ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার দায়িত্ব প্রশিক্ষকদের। একজন মানুষ প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরও যদি অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হতে না পারেন, তাহলে সেই প্রশিক্ষণের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোনো কাজই ছোট নয়। প্রশিক্ষণে ব্যয় করা সময়ের মূল্য দিতে হবে। নিষ্ঠার সঙ্গে অর্জিত দক্ষতা যেন আপনাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে শরণ, স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশন, বিভা, রিডো, ঠিকানা, স্পার, এসএসডি, পল্লী সেবা সংস্থা, প্রদীপন ও এআরপি।