খুঁজুন
, ,

শহীদ জমির-ফরিদ ছিলেন আদর্শিক ছাত্ররাজনীতির দুই উজ্জল নক্ষত্র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 21 November, 2019, 8:56 pm
শহীদ জমির-ফরিদ ছিলেন আদর্শিক ছাত্ররাজনীতির দুই উজ্জল নক্ষত্র

শহীদ জমির-ফরিদের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান প্রজন্মকে জাতীয়তাবাদী দর্শণ বুকে ধারণ করে আদর্শিক ছাত্র-রাজনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ডা: শাহাদাত হোসেন।

তিনি আজ ২১নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস শহীদ জমির উদ্দীন ও চপই ছাত্রদলের আহবায়ক শহীদ জাহাঙ্গীর ফরিদের ২৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহবান জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল এই স্মরণসভার আয়োজন করে। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ এর সঞ্চালনায় উক্ত স্মরণ সভায় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর প্রধান বক্তা ও নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, নগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাজিমুর রহমান, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মঞ্জুর রহমান চৌধুরী, শফিকুর রহমান স্বপন, সাংবাদিক নেতা জাহেদুল করিম কচি বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।

স্মরণসভায় ডা: শাহাদাত আরও বলেন, শহীদ জমির-ফরিদ ছিলেন আদর্শিক ছাত্ররাজনীতির দুই উজ্জল নক্ষত্র। সেদিন ধর্মীয় লেবাসে শিবির নামধারী ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাসীরা সাংগঠনিক ও আদর্শিকভাবে জমির-ফরিদকে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে চপই-র শান্ত-শ্যামল ক্যাম্পাসে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। জনপ্রিয় ছাত্রনেতাদের হত্যা করলেও তাঁদের আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি উল্লেখ করে ডা: শাহাদাত বলেন, জমির-ফরিদের মত শত শত জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক নেতাকর্মীর আত্মত্যাগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আজ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছাত্রসংগঠন। বর্তমানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও একই কায়দায় তাদের ছাত্রসংগঠনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দিয়ে সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও আজ লাঞ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি ছাত্রদের ন্যায্য অধিকারসহ গনতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বস্তরের ছাত্র ও যুব সমাজকে গনআন্দোলনের জোর প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানান।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে আবুল হাসেম বক্কর বলেন, শিবিরের সন্ত্রাসীরা জমির-ফরিদকে হত্যা করে ছাত্রদলের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চেয়েছিল। অথচ আজ ঐ খুনে সংগঠনের অস্তিত্বই হুমকীর সম্মুখীন।

চট্টলার ছাত্র-যুব সমাজ যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত বলে উল্লেখ তিনি বলেন জেলজুলুম, হামলা মামলা উপেক্ষা করে শীঘ্রি যুব ও ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মাধ্যমে দেশে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবু সুফিয়ান বলেন, যে জাতীয়তাবাদী আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জমির-ফরিদ জীবন উৎসর্গ করেছেন, সে আদর্শকে লালন করতে গিয়ে আজও হাজারো নেতাকর্মী নির্যাতিত হচ্ছে, প্রতিনিয়ত মামলা-হামলা, খুন-গুমের শিকার হচ্ছে। চপই ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন মিঠু, চমেক ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল, চমেক হোস্টেলে মেধাবী ছাত্র আবেদ হত্যাসহ বিভিন্ন সময়ে হত্যাকান্ডের শিকার মেধাবী ছাত্রদল নেতাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে আবু সুফিয়ান বলেন, ছাত্রদলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা এখনও যেকোন ত্যাগ স্বীকারে তিনি এসময় চট্টলার ছাত্র ও যুবসমাজকে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নগর যুবদলের সি: সহসভাপতি ইকবাল হোসেন, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, যুবদলের সহসভাপতি এম এ রাজ্জাক, ইকবাল হোসেন সংগ্রাম, ফজলুল হক সুমন, মো: জাহ্গাংীর আলম, আবদুল করিম, আবদুল গফুর বাবুল, জসিমুল ইসলাম কিশোর, আবু সুফিয়ান, অরুপ বড়ুয়া, সাহাবুদ্দীন সাবু, গ্জাী সালাহউদ্দীন চঞ্চল, পাঁচলাইশ থানার আহবায়ক মোহাম্মদ আলী সাকী, সি: যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, রাশেদুল হাসান লেবু, তাজুল ইসলাম তাজু, সেলিম উদ্দীন রাসেল, তৌহিদুল ইসলাম রাসেল, এমদাদুল হক বাদশা, রাঁজন খান, ইদ্রিস আলম, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, হেলাল হোসেন, গুলজার হোসেন, সহ সাধারন সম্পাদক আসাদুর রহমান টিপু, সাজ্জাদ হোসেন, জাফর আহমদ খোকন, রাসেল নিজাম, আবুল কালাম আজাদ, শওকত আলি জুয়েল, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জিল্লুর রহমান জুয়েল, মোহাম্মদ সাগীর, এড. নাজমুল হাসান, মহিউদ্দীন মুকুল, ইফতিখার শাহরিয়ার আজম, মোহাম্মদ ইয়াকুব, ইঞ্জি. শমসের আলী, সহ-সম্পাদক আতিকুর রহমান, মনোয়ার হোসেন মানিক, কমল জ্যোতি বড়–য়া, জহিরুল ইসলাম, হামিদুল হক, হাফেজ কামাল উদ্দীন, মেজবাহ উদ্দীন মিন্টু, সাইফুদ্দীন যুবরাজ, আবু বক্কর ছিদ্দিকী, আশরাফ উদ্দীন, সিরাজ শিকদার, আনোয়ার হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, নগর যুবদলের সদস্য শাবাব ইয়াজদানী, আবদুল্লাহ আল মামুন, শওকত খান রাজু, মঞ্জুর আলম মঞ্জু, এস এম আলী, আবু বক্কর বাবু, মো: হাসান, মো: জাবেদ, নগর ছাত্রদল নেতা শরিফুল ইসলাম তুহিন, আহসান উজ-জামান, সাব্বির আহমেদ, আসিফ চৌধুরী, আলী আকবর, আবু কাওছার, সাগর সুশীল, আয়াতুল্লাহ, মো: রাশেদ, সোহেল সিদ্দীকী রনি প্রমুখ।

Feb2
Feb2

ইরান থেকে শিখে এসে বাংলাদেশে অনলাইনে সিসা কারবার, গ্রেপ্তার ৩

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 3 July, 2026, 2:39 pm
ইরান থেকে শিখে এসে বাংলাদেশে অনলাইনে সিসা কারবার, গ্রেপ্তার ৩

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সিসার চালানসহ মাদক কারবারি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ডিএনসি বলছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুই সহোদর ইরান থেকে সিসা বিক্রির কার্যক্রম শিখে এসে বাংলাদেশে অনলাইনে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করত।

গ্রেপ্তাররা হলেন আহমেদ শরীফি (৩৪) ও মেহদাদ শরীফি (৩৪) ইরানি বংশোদ্ভূত নাগরিক। এছাড়া অপর ব্যক্তি হলেন মো. মাকসুদ আলম (৪০)।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সেগুনবাগিচায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন।

মোহাম্মদ বদরুদ্দীন বলেন, রাজধানীর গুলশান ও ভাটারা এলাকায় সমন্বিত বিশেষ অভিযান চালিয়ে দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক পরিমাণ সিসা উদ্ধারসহ একটি আন্তঃজেলা অনলাইন মাদক সরবরাহকারী চক্রের মূলহোতা দুই সহোদরসহ মোট ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গ্রেপ্তারকালে তাদের কাছ থেকে ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা , ৪১টি হুক্কা, ৪০ কেজি সিসা সেবনের কয়লা, ৫টি মোবাইল ফোন ও বিপুল পরিমাণ সিসা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি নামের এই দুই সহোদরের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনার মাধ্যমে ঢাকাসহ সারাদেশে অনলাইনে অবৈধ সিসা ও সিসা সেবনের উপকরণ বিক্রি ও সরবরাহ করে আসছে। ওই পেইজের মাধ্যমে অর্ডার করা দুইটি সিসা র চালান দেশীয় কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পাঠানো হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির একটি বিশেষ রেইডিং টিম গত ২ জুলাই রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা এলাকায় প্রথম অভিযান চালায়। সেখান থেকে ওই ফেসবুক পেজের নামে পাঠানো ১ কেজি সিসা সহ একটি পার্সেল জব্দ করা হয়। তারপর একই দিন রমনা থানাধীন মালিবাগ থেকে একই পেজের নামে পাঠানো আরও ১ কেজি সিসা সহ দ্বিতীয় পার্সেলটি জব্দ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, জব্দ করা পার্সেল দু’টির প্রেরক-ঠিকানা যাচাই করে অভিযানিক দল একই দিনে গুলশান থানাধীন কালাচাঁদপুরে একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওই দুই সহোদরকে ভাড়া বাসা থেকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ওই ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা এবং ২০টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার দুই সহোদর জানায়, তাদের সরবরাহ করা সিসা র একটি বড় অংশ আসত মো. মাকসুদ আলম নামে আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে, যিনি ভাটারা থানাধীন নূরেরচালা এলাকায় বসবাস করেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন রাতে অভিযানিক দলটি নূরেরচালাস্থ একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে মাকসুদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে আরও ১৮ কেজি সিসা ও ২১টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়।

মোহাম্মদ বদরুদ্দীন বলেন, গ্রেপ্তার দুই সহোদর বাংলাদেশি নাগরিক হলেও তাদের পূর্বপুরুষ ইরানি। তারা দুইজনও দীর্ঘ সময় ইরানে অবস্থান করেছেন। সেখানে থাকার সময় তারা সিসা ব্যবসার কার্যক্রম, বাজারব্যবস্থা এবং সরবরাহ পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশে ফিরে তারা একই ব্যবসায়িক মডেল অনুসরণ করে অনলাইনে সিসা বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেন। তারা একটি ফেসবুক পেজ চালু করেন, যা বাংলাদেশে অনলাইনে সিসা বিক্রয়কারী প্রথম দিকের পেজগুলোর অন্যতম। তারা ফেসবুকের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ, পণ্যের ছবি প্রকাশ, অর্ডার গ্রহণ, মূল্য নির্ধারণ এবং ডেলিভারির সমন্বয় করতো। অর্ডার নিশ্চিত হওয়ার পর দেশীয় কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পার্সেল পাঠাতো।

ডিএনসি জানায়, চক্রটি মূলত বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ব্যবহার করে পণ্যের মূল্য গ্রহণ করত। বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত একাধিক মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তারা অর্থ সংগ্রহ করত, যাতে প্রকৃত লেনদেনের উৎস ও সুবিধাভোগীদের পরিচয় গোপন রাখা যায়। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসব আর্থিক লেনদেন, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট এবং অর্থের প্রবাহ যাচাই করা হচ্ছে।

ডিএনসি আরও জানায়, অভিযানে জব্দ করা মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস এবং অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে একটি বিস্তৃত গ্রাহক ডাটাবেস উদ্ধার করেছে ডিএনসি। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য ক্রেতার তথ্য, যোগাযোগের ইতিহাস, অর্ডারের বিবরণ এবং লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে।

এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিয়মিত ক্রেতা, পরিবেশক, সহযোগী এবং এই নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান ডিএনসির অতিরিক্ত এই পরিচালক।

বিশ্বকাপ থেকে এক কিংবদন্তির বিদায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 3 July, 2026, 12:01 pm
বিশ্বকাপ থেকে এক কিংবদন্তির বিদায়

দুই তারকা একসঙ্গে নামল বিদায়ের মঞ্চে, যেখানে একজনের জন্য সাজানো ছিল বিদায়ের আয়োজন। যার শেষ হলো নাটকীয়ভাবে। শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার সমতাসূচক গোল বাতিল হওয়ায় লুকা মদ্রিচের বিশ্বকাপ শেষ হলো নাটকীয় ও আবেগঘন। আর অন্তত আরেকটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেন আরেক তারকা ও পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থকে নিয়ে সিআরসেভেন বলেন, ‘আমি লুকার সাথে অনেক বছর খেলেছি। ও ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি, এখনও। আমি তাকে বহুবার এই কথা বলেছি। সবকিছুর জন্য তোমাকে অভিনন্দন। তোমার ক্যারিয়ারের আগামী বছরগুলোর জন্য আমার অনেক অনেক শুভকামনা রইল।’ ম্যাচ শেষ হতেই সৌজন্যতা বিনিময়ের সময় মদ্রিচকে জড়িয়ে ধরেন রোনালদো। তারপর মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন। শেষ করেন আবার দুজন দুজনকে আলিঙ্গন করেন।

হেরে যাওয়া ম্যাচে ৪০ বছর বয়সেও নিজের জাত চেনালেন মদ্রিচ। ৬৬ বার বলে পা ছুঁয়েছেন, তিনটি ট্যাকেল সম্পন্ন করেছেন এবং দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের অর্ধে দুটি বিপজ্জনক ক্রস দিয়েছেন। জোসকো জিভারদিওলের গোল বাতিল হওয়ার পর ম্যাচ শেষের বাঁশি যখন বাজল, বিমর্ষ মদ্রিচ হাঁটুতে হাত দিয়ে ঝুঁকলেন। হতাশার সমাপ্তির পর আবেগ লুকাতে পারেননি।

তবে এটাই কি শেষ? ক্রোয়েশিয়া কোচ জ্লাতকো দালিচ আশা রাখলেন। তার মতে, ‘হয়তো’ এটাই মদ্রিচের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। তিনি যোগ করলেন, ‘কেবল ঈশ্বর জানেন, পরের চার বছর কী হবে। দেখা যাক, আমরা ক্রোয়েশিয়ায় গিয়ে এনিয়ে কথা বলব।’

মদ্রিচের প্রশংসা করে কোচ বললেন, ‘লুকা খুব ভালো খেলেছিল। আবারও সে ছিল আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আমি খুব দুঃখিত যে তার শেষটা এভাবে হলো। সে আবারও তার দৃঢ়তা ও সামর্থ্য দেখাল। শেষ পর্যন্ত সে ক্রোয়েশিয়াকে নেতৃত্ব দিয়েছে।’

মদ্রিচের নেতৃত্বে ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া রানার্সআপ ও তৃতীয় হয়েছিল। এটি ছিল তার পঞ্চম বিশ্বকাপ। চলতি আসরে চার ম্যাচের সবগুলোতে শুরু থেকে ছিলেন তিনি।

২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে তুলে ব্যালন ডি’অর জেতেন মদ্রিচ। মাদ্রিদে তিনি ছয়টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও চারটি লা লিগা জেতেন। রিয়ালসহ ক্লাব ক্যারিয়ারে সব মিলিয়ে ২৩ মৌসুম খেলেছেন তিনি ডায়নামো জাগবের ও টটেনহাম হটস্পারে। গত মৌসুমে ছিলেন এসি মিলানে।

মদ্রিচ শেষ বিশ্বকাপ খেলার পর প্রতিপক্ষ কোচের প্রশংসাও পেলেন। পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ বললেন, ‘আপনি এমন একজন খেলোয়াড়ের কথা বলছেন, যে লম্বা ক্যারিয়ার পার করেছে এবং এখনও চিন্তা করার ক্ষমতা সম্পন্ন একজন তরুণের মতো খেলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খেলার চিন্তাভাবনার দিকটা নিয়ে খুব কমই কথা বলা হয়। সবকিছুই কৌশল, কারিগরি দিক আর শারীরিক দিককে কেন্দ্র করে কথা হয়। এমন খেলোয়াড়ের কথা খুব কমই বলা হয়, যে বল পায়ে রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমার মনে হয়, মদ্রিচ এর একটি চমৎকার উদাহরণ। খেলার গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে সে নিজের ছন্দ খুঁজে নেয় এবং সঠিক সিদ্ধান্তটি নেয়।’

৮৮ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে জিতল সুইজারল্যান্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 3 July, 2026, 11:41 am
৮৮ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে জিতল সুইজারল্যান্ড

আলজেরিয়াকে শেষ ৩২-এ থামিয়ে দিলো সুইজারল্যান্ড। টানা চতুর্থবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে খেলা নিশ্চিত করল তারা, তবে নকআউটে তাদের জয় এলো ৮৮ বছর পর।

১০ মিনিটে ব্রিল এম্বোলো সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। অবশ্য সব কৃতিত্ব জোহান মানজাম্বির। এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আলজেরিয়ার অর্ধ থেকে বল টেনে নেন। তারপর বল নিয়ন্ত্রণে রেখে বক্সে ঢোকেন। ছয় গজ বক্সের মধ্যে এম্বোলোর জন্য সহজ বল বানিয়ে দেন। লিড নেয় সুইজারল্যান্ড।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে মাত্র ৪৮ সেকেন্ড লেগেছে সুইজারল্যান্ডের ব্যবধান দ্বিগুণ করতে। আলজেরিয়া বল বিপদমুক্ত করতে চাইলেও পারেনি। ড্যান এনডোয়ে বক্সের প্রান্তে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দূরের কোণা দিয়ে জাল কাঁপান।

৮১ মিনিটে সহজ একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করে সুইজারল্যান্ড। দূরের পোস্টে দাঁড়িয়ে থাকা রেইডার গোড়ালির শটে ফাঁকা জালে বল না জড়িয়ে গোলরক্ষকের হাতে তুলে দেন।

১৯৩৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে জিতল সুইজারল্যান্ড। ওইবার তারা শেষ ষোলো পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল। জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ আটে হাঙ্গেরির কাছে ২-০ গোলে হারে তারা।

শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড খেলবে কলম্বিয়া বা ঘানার বিপক্ষে। দুই দল শেষ ৩২ এর মুখোমুখি হবে আজ।