খুঁজুন
, ,

শহীদ জমির-ফরিদ ছিলেন আদর্শিক ছাত্ররাজনীতির দুই উজ্জল নক্ষত্র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 21 November, 2019, 8:56 pm
শহীদ জমির-ফরিদ ছিলেন আদর্শিক ছাত্ররাজনীতির দুই উজ্জল নক্ষত্র

শহীদ জমির-ফরিদের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান প্রজন্মকে জাতীয়তাবাদী দর্শণ বুকে ধারণ করে আদর্শিক ছাত্র-রাজনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ডা: শাহাদাত হোসেন।

তিনি আজ ২১নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস শহীদ জমির উদ্দীন ও চপই ছাত্রদলের আহবায়ক শহীদ জাহাঙ্গীর ফরিদের ২৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহবান জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল এই স্মরণসভার আয়োজন করে। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ এর সঞ্চালনায় উক্ত স্মরণ সভায় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর প্রধান বক্তা ও নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, নগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাজিমুর রহমান, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মঞ্জুর রহমান চৌধুরী, শফিকুর রহমান স্বপন, সাংবাদিক নেতা জাহেদুল করিম কচি বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।

স্মরণসভায় ডা: শাহাদাত আরও বলেন, শহীদ জমির-ফরিদ ছিলেন আদর্শিক ছাত্ররাজনীতির দুই উজ্জল নক্ষত্র। সেদিন ধর্মীয় লেবাসে শিবির নামধারী ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাসীরা সাংগঠনিক ও আদর্শিকভাবে জমির-ফরিদকে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে চপই-র শান্ত-শ্যামল ক্যাম্পাসে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। জনপ্রিয় ছাত্রনেতাদের হত্যা করলেও তাঁদের আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি উল্লেখ করে ডা: শাহাদাত বলেন, জমির-ফরিদের মত শত শত জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক নেতাকর্মীর আত্মত্যাগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আজ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছাত্রসংগঠন। বর্তমানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও একই কায়দায় তাদের ছাত্রসংগঠনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দিয়ে সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও আজ লাঞ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি ছাত্রদের ন্যায্য অধিকারসহ গনতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বস্তরের ছাত্র ও যুব সমাজকে গনআন্দোলনের জোর প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানান।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে আবুল হাসেম বক্কর বলেন, শিবিরের সন্ত্রাসীরা জমির-ফরিদকে হত্যা করে ছাত্রদলের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চেয়েছিল। অথচ আজ ঐ খুনে সংগঠনের অস্তিত্বই হুমকীর সম্মুখীন।

চট্টলার ছাত্র-যুব সমাজ যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত বলে উল্লেখ তিনি বলেন জেলজুলুম, হামলা মামলা উপেক্ষা করে শীঘ্রি যুব ও ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মাধ্যমে দেশে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবু সুফিয়ান বলেন, যে জাতীয়তাবাদী আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জমির-ফরিদ জীবন উৎসর্গ করেছেন, সে আদর্শকে লালন করতে গিয়ে আজও হাজারো নেতাকর্মী নির্যাতিত হচ্ছে, প্রতিনিয়ত মামলা-হামলা, খুন-গুমের শিকার হচ্ছে। চপই ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন মিঠু, চমেক ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল, চমেক হোস্টেলে মেধাবী ছাত্র আবেদ হত্যাসহ বিভিন্ন সময়ে হত্যাকান্ডের শিকার মেধাবী ছাত্রদল নেতাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে আবু সুফিয়ান বলেন, ছাত্রদলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা এখনও যেকোন ত্যাগ স্বীকারে তিনি এসময় চট্টলার ছাত্র ও যুবসমাজকে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নগর যুবদলের সি: সহসভাপতি ইকবাল হোসেন, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, যুবদলের সহসভাপতি এম এ রাজ্জাক, ইকবাল হোসেন সংগ্রাম, ফজলুল হক সুমন, মো: জাহ্গাংীর আলম, আবদুল করিম, আবদুল গফুর বাবুল, জসিমুল ইসলাম কিশোর, আবু সুফিয়ান, অরুপ বড়ুয়া, সাহাবুদ্দীন সাবু, গ্জাী সালাহউদ্দীন চঞ্চল, পাঁচলাইশ থানার আহবায়ক মোহাম্মদ আলী সাকী, সি: যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, রাশেদুল হাসান লেবু, তাজুল ইসলাম তাজু, সেলিম উদ্দীন রাসেল, তৌহিদুল ইসলাম রাসেল, এমদাদুল হক বাদশা, রাঁজন খান, ইদ্রিস আলম, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, হেলাল হোসেন, গুলজার হোসেন, সহ সাধারন সম্পাদক আসাদুর রহমান টিপু, সাজ্জাদ হোসেন, জাফর আহমদ খোকন, রাসেল নিজাম, আবুল কালাম আজাদ, শওকত আলি জুয়েল, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জিল্লুর রহমান জুয়েল, মোহাম্মদ সাগীর, এড. নাজমুল হাসান, মহিউদ্দীন মুকুল, ইফতিখার শাহরিয়ার আজম, মোহাম্মদ ইয়াকুব, ইঞ্জি. শমসের আলী, সহ-সম্পাদক আতিকুর রহমান, মনোয়ার হোসেন মানিক, কমল জ্যোতি বড়–য়া, জহিরুল ইসলাম, হামিদুল হক, হাফেজ কামাল উদ্দীন, মেজবাহ উদ্দীন মিন্টু, সাইফুদ্দীন যুবরাজ, আবু বক্কর ছিদ্দিকী, আশরাফ উদ্দীন, সিরাজ শিকদার, আনোয়ার হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, নগর যুবদলের সদস্য শাবাব ইয়াজদানী, আবদুল্লাহ আল মামুন, শওকত খান রাজু, মঞ্জুর আলম মঞ্জু, এস এম আলী, আবু বক্কর বাবু, মো: হাসান, মো: জাবেদ, নগর ছাত্রদল নেতা শরিফুল ইসলাম তুহিন, আহসান উজ-জামান, সাব্বির আহমেদ, আসিফ চৌধুরী, আলী আকবর, আবু কাওছার, সাগর সুশীল, আয়াতুল্লাহ, মো: রাশেদ, সোহেল সিদ্দীকী রনি প্রমুখ।

Feb2
Feb2

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা আছে, এ বিষয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই: মুহাম্মদ এয়াকুব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 16 August, 2026, 5:36 pm
প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা আছে, এ বিষয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই: মুহাম্মদ এয়াকুব

সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানও বর্তমানে তেল আমদানি করছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের মহাসচিব ও জেওসিএল লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এয়াকুব বলেছেন, “তারেক রহমানের সরকার, জনগনের সরকার। জ্বালানী তেলের সংকট নিরসনে তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটার সাথে আমরা একমত।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অনেক ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ক্রুড অয়েল আমদানি করে। সেই তেল তারা পরিশোধন করেন। সেই তেলও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের মাধ্যমে আমরা বিক্রি করি। অর্থাৎ ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তেল আমদানি এখন চলমান রয়েছে ।”

“দেশের ও জনগনের স্বার্থে সরকার যদি বেসরকারিভাবে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেয়, এখানে আমাদের মতামত হচ্ছে, যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের জন্য, দেশকে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছেন। তাঁর সে কথার উপর আমাদের আস্থা রয়েছে,” তিনি বলেন।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড (জেওসিএল) কার্যালয় ‘যমুনা ভবনে’র অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের হয়রানি, অস্থায়ী শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ীকরণসহ বিভিন্ন দাবীতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে জেওসিলসহ জ্বালানীখাতের সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

এই শ্রমিক নেতা বলেন, “দেশের আয়তনের চাইতে জনসংখ্যা অনেক বেশি। তাই এই জনসংখ্যার মৌলিক অধিকার পুরণ করতে গিয়ে সরকারকে অনেক সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। বিশেষ করে জ্বালানী তেলের সংকট নিরসনেরকল্পে দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে যে ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে সেটার সাথে আমরা একমত পোষন করি।”

“যেহেতু তারেক রহমানের সরকার জনগনের সরকার, শ্রমিক বান্ধব সরকার। আমরা মনে করি এমন কোনো কিছু উনি চাপিয়ে দেবেন না, যেটায় এই সেক্টর ক্ষতিগ্রস্থ হবে, দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে,” তিনি যোগ করেন।

এ সময় জেওসিএল এর এই নেতা অভিযোগ করেন, সরকারে ঘাপটি মেরে থাকা একটি কুচক্রী মহল শ্রমিক অধিকার খর্ব করে জ্বালানীখাতকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।

সেই লক্ষে, অযাচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শ্রমিকদের বিদ্যমান ২২টি সুনির্দিষ্ট সুবিধা কর্তনের পাঁয়তারা, দ্বিপাক্ষিক চুক্তিনামার মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা যুগোপযোগী করায় গড়িমসি, জ্বালানীখাতে শ্রমআইনকে শ্রমিকবান্ধবের পরিবর্তে শ্রমিকবিরোধী আইনে পরিণত করার তোড়জোড় চলছে।

শ্রমিক নেতা এয়াকুব বলেন, ‘সরকার শ্রমিকদের নায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলছে। এজন্য নানামুখি উদ্যোগও গ্রহন করা হচ্ছে। কিন্তু জ্বালানী খাতে এর উল্টোটাই ঘটছে। বিপিসির আওতাধীন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, এসএওসিএল, এলপিজিসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে শ্রমিকদের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিবর্তে কমানোর পাঁয়তারা চলছে।”

“শ্রমিক নেতাদের নানাভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের নায্য অধিকার আদায়ের পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টাও হচ্ছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা জ্বালানী খাতে শান্তি চায়,” তিনি যোগ করেন।

তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, “আমরা জানিয়ে দিতে চাই, জ্বালানী খাতে কাউকে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা কেবল তাদের নায্য অধিকার চায়। হয়রানী বন্ধ চায়। অযাচিত হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশ চায়।’

সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি থেকে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। সেগুলো হলো –

দুই বছর পর পর দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে বিপিসির তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা যুগোপযোগী করা হয়। কিন্তু সর্বশেষ চুক্তির মেয়াদ ১৯ মাস পার হতে চললেও কোম্পানীসমূহের অবহেলা ও গড়িমসির কারণে নতুন চুক্তি করা যাচ্ছে না।

এছাড়া জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে গত ১৭ জুন বিপিসির আওতাধীন কোম্পানীগুলোর প্রান্তিক সুবিধা নীতিমালা-২০২৬ (খসড়া) প্রণয়ণের নামে শ্রমিক-কর্মচারিদের বিদ্যমান ২২টি সুবিধা কাটছাঁট করতে চাইছে।

একইভাবে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ (অদ্যাবধি সংশোধিত) এর ২ (৬২) ধারায় সংজ্ঞায়িত ‘শিল্প বিরোধ এবং শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ সংক্রান্ত ধারা- ২০৯, ২১০ ও ২১১ রহিতকরণের মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারিদের অধিকার আদায়ে প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা সিবিএ নেতাদের ক্ষমতা খর্ব করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

আবার খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকেই গত ২৬ জুলাই জারিকৃত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বিপিসির পরিচালককে (অপারেশন) আহবায়ক করে আট সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের কার্যক্রম মনিটরিং এবং জবাবদিহির সুপারিশ চাওয়া স্পর্শকাতর এই খাতের শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে বেশকিছু সংখ্যক শ্রমিক কোম্পানি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার শ্রমিক হিসেবে ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ ভিত্তিতে খুবই অল্প বেতনে চাকরি করে আসলেও লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।

যমুনা অয়েল কোম্পানি লেবার ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পদ্মা অয়েল শ্রমিক-কর্মচারি ইউনিয়ন সভাপতি জসিম উদ্দিন, এলপিজি শ্রমিক-কর্মচারি ইউনিয়ন সভাপতি মনির হোসেন, বিপিসির শ্রমিক-কর্মচারি ইউনিয়ন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, পদ্মা অয়েল শ্রমিক-কর্মচারি ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক সেলিম কবির চৌধুরী, যমুনা অয়েল লেবার ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ মন্নান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ফেডারেশন হচ্ছে জ্বালানী তেল ও গ্যাসখাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের শীর্ষ সংগঠন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, পদ্মা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড, মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেড, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, ইস্টার্ন রিফাইনারী লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ও এলপি গ্যাস লিমিটেডের সিবিএ সংগঠনগুলো নিয়ে সম্মিলিত এই সংগঠন।

তামিম বললেন ‘তানজিদ বগুড়ার’, প্রধানমন্ত্রীর জবাব ‘ও বাংলাদেশের ছেলে’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 16 August, 2026, 1:49 pm
তামিম বললেন ‘তানজিদ বগুড়ার’, প্রধানমন্ত্রীর জবাব ‘ও বাংলাদেশের ছেলে’

বাংলাদেশ দল যখন অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে, তখন কিশোরগঞ্জের পথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কলে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের অভিনন্দন জানান। এ সময় ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন তামিম ইকবাল। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার একটি কথোপকথন বেশ আলোচিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে দলের খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদ ও তানজিদ হাসানের সঙ্গে কথা বলেন। নিজের কর্মব্যস্ততার ফাঁকেই তৎক্ষণাৎ ক্রিকেটারদের সাথে ভিডিও কলে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ক্রিকেটারদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

তারেক রহমানের বাড়ি বগুড়ায়, তানজিদেরও বাড়ি একই জেলায়। সেই কথাই প্রধানমন্ত্রীকে উল্লেখ করেন তামিম। তানজিদের সঙ্গে তারেক রহমান কথা বলার সময় বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হস্তক্ষেপ করে বলেন, ‘ও তানজিদ হাসান, বগুড়ার ছেলে, সেঞ্চুরি করেছে।’ সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিসিবি সভাপতিকে সংশোধন করে দিয়ে বলেন, ‘বগুড়ার না, ও বাংলাদেশের ছেলে। সে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে, বগুড়াকে না।’

এ সময় ক্রিকেটারদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে অপেক্ষা করছি আপনাদের স্বাগত জানানোর জন্য। সবার শরীর ভালো আছে তো? একটু (ক্লান্তি) হবে স্বাভাবিক। গরম কেমন ওখানে? ভালো গরম? দেশের মতো? আসেন আপনারা সুস্থভাবে। বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। দলের খেলোয়াড়দের দৃঢ় মনোবল, আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও দলগত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

সরকার প্রধান বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরের টেস্টেও বাংলাদেশ ভালো খেলবে এবং সিরিজ জয়ের এই সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দেবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল তারা।

বাংলাদেশকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 16 August, 2026, 1:36 pm
বাংলাদেশকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

তিনি বলেন, আজকে এখানে যে মাছ অবমুক্ত করা হলো, এই মাছগুলো যখন বড় হবে, ডিম পাড়বে, বিভিন্ন খালে-বিলে ঢুকবে, তখন উপকার কাদের হবে? লন্ডনের মানুষের উপকার হবে নাকি জাপানের মানুষের উপকার হবে? উপকার হবে বাংলাদেশের মানুষের।

রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষ ও গ্রামের মানুষের কল্যাণ। জনগণ বিগত নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল বিএনপিকে বিজয়ী করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতিটাই হচ্ছে এমন একটি রাজনীতি, যেই রাজনীতি বাস্তবায়ন করলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে, গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে। এই রাজনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের আগে তারা খাল খননের কর্মসূচি শুরুর কথা বলেছিলেন। সরকার গঠনের পর আল্লাহর রহমতে সারা দেশে খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। পাশাপাশি খালের আশপাশের এলাকার মানুষও পানির সুবিধা পাচ্ছেন।

তারেক রহমান বলেন, শুধু খাল খনন করলেই হবে না, খালের পানি যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। কৃষিতে সেচ সুবিধার পাশাপাশি মাছের উৎপাদন বাড়াতেও এসব জলাশয় কাজে লাগাতে হবে।

তিনি জানান, আজ ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন নদী ও বড় বড় খালে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে একদিকে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবেন, অন্যদিকে মাছ আহরণের মাধ্যমে দেশের মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণে সহায়তা হবে।

নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই নারী সমাজকে পিছিয়ে রেখে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার সময় নারীদের শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং নারীদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দেশের নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার অংশীদার করতে হবে। নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক মানুষ করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। মাছের পোনা অবমুক্তকরণকে ঘিরে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মৎস্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর শাহে আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো.শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি মো. ফজলুর রহমান প্রমুখ।