পান থেকে চুন খসলেই কর্মী তাড়াচ্ছে নিটল মটরর্স লিমিটেড
দেশের সর্ববৃহৎ ভারতীয় TATA গাড়ি আমদানি ও বাজারজাত করন কোম্পানি নিটল মটর্স লিমিটেড। কয়েক হাজার কর্মী চাকরী করেন এই কোম্পানিতে। দীর্ঘ ত্রিশ বছর ভারতীয় TATA গাড়ি আমদানি করে দেশের বাজারে বিক্রি ও সেবা দিয়ে আসছে। দেশের পন্যবাহি গাড়ির বাজারে ৭০ শতাংশ এখনো TATA গাড়ির দখলে। এতো বড় একটি বাজার দখলে কোম্পানির বিশাল কর্মীবাহিনীর রয়েছে ব্যাপক অবদান। কোম্পানির হিসাব অনুযায়ী ২০১৫ সালে তাদের কর্মী সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার।
জানা গেছে, উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের সেচ্চাচারীতা ও আত্মীয়করনে, অযোগ্য ও মেধাশুন্য হয়ে উঠেছে দেশের প্রথম শ্রেণীর এই প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীটি। সময় উপযোগী সিদ্যান্ত, নেতৃত্বহীনতা ও মেধাশূণ্যতার ফলে গত ৫ বছরে কোম্পানিটি দেশের বাজারে তাদের কর্তৃত্ব হারাতে বসেছে। অপর দিকে গত ৫ বছরে মেধাবী ও নেতৃত্ব দানে সক্ষম কর্মীদের সামান্য ভূল ত্রুটি উদ্দেশ্য প্রনোদিত ইস্যু তৈরি করে চাকরীচ্যুত করা হয়েছে কয়েক হাজার কর্মীকে। কিন্তু কথা ছিলো আত্মীকরনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত অযোগ্য, দূর্ণীতিগ্রস্থ, মেধাশূণ্যদের শনাক্ত করে ছাটাই করে কোম্পানির একটি যোগ্য কর্মদক্ষ কর্মীবাহিনী গঠন করা। বাস্তবে হয়েছে বিপরীত, উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই, কর্মক্ষেত্রে যারা উদ্ধতনদের তোষামোদ করেনা, সৎ, পরীশ্রমী, মেধাবী, কর্মদক্ষ, কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় যারা সচেতন, দূর্ণীতি মুক্ত ও দূর্ণীতির বিরুদ্ধে যারা সক্রিয় তাদের চিহ্নীত করে সামান্য ইস্যুকে কেন্দ্র করে চাকরীচ্যুত করা হচ্ছে। বর্তমানে তা আরো জোরালো হয়েছে। পান থেকে চুন খসলেই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে শত শত কর্মচারীদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাদিক কর্মচারী জানান, নিলট মটরর্সে কর্মক্ষেত্রে অতীতে চাকরীর নিরাপত্তা থাকলেও বর্তমানে তা শূন্যের কোটায়। উদ্ধতন কর্তৃপক্ষ তাদের নিকটতম আত্মীয় স্বজন ছাড়া অন্যদের সামান্য তম ত্রুটি পেলেই চাকরীচ্যুত করছে। আর তাদের আত্মীয়, পরিচিত, পরিজন কর্মীদের বেলায় ভিন্ন আচরন করছে। উদ্ধতনদের সাথে মাঠ পর্যায়ে যেসব কর্মীদের আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে তারা ব্যাপক অনিয়ম দূর্ণীতি করে কোম্পানীর সম্পদ আত্মসাৎ করছে। উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দূর্ণীতির তথ্য প্রমান সহ অভিযোগ করলেও পুতুল অডিট করে তাদের দূর্ণীতি থেকে দায় মুক্তি দেওয়া হয়। যারা দূর্ণীতিতে নিমজ্জিত উদ্ধতন কর্তৃপক্ষ তাদের লালন পোষন করে তাদের দ্রুত প্রমোশন ও বেতন বৃদ্ধি করে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার ব্যাবস্থা করে দেওয়া হয়। অপর দিকে সৎ যোগ্যরা সময় মতো পদউন্নতি ও বেতন বৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত হন। এতে কর্মক্ষেতে কোনঠাসা হয়ে প্রতিযোগীতার দৌড়ে পিছিয়ে পড়েন সৎ যোগ্য বেধাবী কর্মদক্ষ কর্মীরা। উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের দ্বীমুখি আচরনে কর্মক্ষেত্রে নিরাস হয়ে অনেক যোগ্য কর্মী চাকরী ছেড়ে ভিন্ন কোম্পানিতে নিজেদের কর্মযোগ্যতা প্রমান করেছেন। আবার অনেক যোগ্য কর্মী কোম্পানীকে ভালোবেসে শত নীপিড়নে কোনঠাসা হয়েও দূর্ণীতিবাজদের সাথে একপ্রকার যুদ্ধ করে টিকে আছে। তাদের চোখে একটাই আশা একদিন না একদিন এমন আবস্থার পরিবর্তন আসবেই। আত্মীয়করন ও দূর্ণীতিবাজ মুক্তহবে কর্মক্ষেত্র। সততা, কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার উপযুক্ত মূলায়ন করবে কোম্পানি সে আশায় টিকে আছে এখনো শত শত যোগ্য কর্মী। তাদের প্রয়োজন কোম্পানি ম্যানেজমেন্টের সুদৃষ্টি। এতে উপকৃত হবে কোম্পানি নিজেই।
এব্যাপারে জানতে চাইলে কোম্পানির মানবসম্পদ বিভাগের ডিরেক্টর অবসর প্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল কাজী আনোয়ারুল ইসলাম জানান, কোন ডিভিশান থেকে ডিভিশান প্রধানরা কোন কর্মীর বিরুদ্ধে টার্মিনেশন দাখিল করলে সেটা বাস্তবায়ন করাই আমাদের কাজ। কিন্তু তা যাচাই বাচাই করার সময় আমাদের থাকেনা কারন ৫ হাজার কর্মীর মধ্যে এটা করার আমাদের সম্ভব হয়না।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন