খুঁজুন
, ,

৬ মাস পর আসল মায়ের কোলে শুভ, লালিত মায়ের চোখে স্বপ্নভঙ্গের জল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 23 November, 2019, 6:11 pm
৬ মাস পর আসল মায়ের কোলে শুভ, লালিত মায়ের চোখে স্বপ্নভঙ্গের জল

৬ মাস পর ভিক্ষুক মা ফিরে পেয়েছে তার হারানো শিশু, অন্যদিকে ৬ মাস ধরে লালিত সন্তানকে ফিরিয়ে দিয়ে অঝর নয়নে কাঁদছে নিঃসন্তান গৃহবধু

২৪ ঘন্টা স্পেশাল : দীর্ঘ ৬ মাস পর ভিক্ষুক মায়ের কোলে ফিরেছে শিশু শুভ। ভিক্ষুক মায়ের অভিযোগের সূত্র ধরে দীর্ঘ ৬ মাসের পুলিশের নিরবিচ্ছিন্ন প্রচেষ্ঠায় চুরি হওয়া ৬ মাসের শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। সে সাথে শিশু পাচারকারী চক্রের মুলহোতাসহ এ চক্রের ২ নারী সদস্যসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

শিশু পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেফতারের পর তাদের দেয়া তথ্যমতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানার কাশেম আলী টেন্ডল বাড়ির দুবাই প্রবাসী সাইফুল্লার নিঃসন্তান স্ত্রী তাসমিনা আক্তার জেলীর হেফাজত থেকে শিশু শুভকে উদ্ধার করে পুলিশ।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংবাদ সম্মেলনে শিশু পাচারকারী চক্রকে গ্রেফতার এবং শিশুটিকে উদ্ধারের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) আমেনা বেগম।

চট্টগ্রামে আর কারো সন্তান এভাবে চুরি বা অপহরণ হয়ে থাকলে পুলিশকে জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়ে আমেনা বেগম বলেন যদি কারো সন্তান অপহরণ বা চুরি হয়ে থাকে তবে এই চক্রের সদস্যদের আবার রিমান্ডে এনে প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারা আর কোন শিশু অপহরণের সাথে জড়িত কি-না তা খুঁজে বের করা হবে জানিয়েছে আমেনা বেগম।

শনিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার বিবরণে আমেনা বেগম বলেন, শিশু শুভর মা শিরিন বেগম (২৫)’র স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করার পর থেকে ৬ মাস বয়সী শুভ এবং তার সাত বছর বয়সী এক কন্যা সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিতে ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেচে নন। গত ১৫ মার্চ বিকেলে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন নেভী কলোনী সংলগ্ন ফুটপাতে শিশু শুভকে নিয়ে ভিক্ষা করছিলেন।

শিশু পাচারকারী ২ সদস্য

সেদিন শিরিন বেগমের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কথার ছলে তাকে জুস খাওয়ান দুজন পথচারী। জুস খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর শিরিন বেগমকে আগ্রাবাদস্থ মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করে আত্মীয় পরিচয়ে শুভকে চুরি করে নিয়ে যায় পাচারকারীরা।

ঘটনার ২দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে গত ১৮ মার্চ ভিক্ষুক মা শিরিন বেগম নগরীর ইপিজেড থানায় তার শিশু পুত্র শুভ অপহরণ হয়েছে উল্লেখ করে এজাহার দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর থেকেই পুলিশ শিশু উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। বন্দর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এবং বন্দর থানার ওসি মীর নুরুল হুদা সার্বক্ষণিকভাবে ভিক্ষুক শিরিনের অপহরণ হওয়া শিশু উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেন। বন্দর থানার এস আই কামাল হোসেন পায় মামলার তদন্তভার।

শিশু শুভর মায়ের কথামতো পুলিশ চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের সেদিনকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে শিশু পাচারকারীচক্রটিকে শনাক্ত করে। গত ২৮ জুলাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এ চক্রের অন্যতম সদস্য ইকবাল হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এ চক্রের অন্যতম সদস্য জাফর সাদেকের তথ্য প্রকাশ করে ইকবাল।

তার দেয়া তথ্যমতে বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে গত ৩ নভেম্বর এ চক্রের মুল মাস্টার মাইন্ড জাফর সাদেককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর শিশুটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পায় পুলিশ। তার তথ্যের সূত্র ধরে একই দিন এ চক্রের নারী সদস্য পারভিন আক্তারকেও গ্রেফতার করা হয়। গত ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর পাঁচলাইশ থানার শূলকবহর এলাকা থেকে এ চক্রের আরেক নারী সদস্য সালেহা আলেয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তিনি জানান, পাচারকারী চক্রের তিন হাত বদল হয়ে শিশুটি পৌছে যায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানার কাশেম আলী টেন্ডল বাড়ির দুবাই প্রবাসী সাইফুল্লার নিঃসন্তান স্ত্রী তাসমিনা আক্তার জেলীর হাতে। তিনি পাচারকারী চক্রের কাছ থেকে মাত্র দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে শুভকে কিনে নিয়েছিলো। শুক্রবার তার হেফাজত থেকে শিশু শুভকে উদ্ধার করে পুলিশ।

শিশুটি জেলীর হাতে কিভাবে গেলো সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে গ্রেফতার জাফর সাদেকের বরাতে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) আমেনা বেগম বলেন, শিশুটিকে চুরি করে প্রথমে রাখা হয়েছিলো নগরীর মেহেদীবাগস্থ ন্যাশনাল হাসপাতাল ও সিগমা ল্যাবের টেকনোলজিস্ট পারভিন আক্তারের হেফাজতে। সেখান থেকে পাচারকারী চক্রের অপর সদস্য সালেহা বেগম আলেয়ার (৫২) মাধ্যমে শিশুটিকে ফটিকছড়ির এক নিঃসন্তান দম্পত্তির কাছে বিক্রি করে দেন।

নিঃসন্তান গৃহবধু শিশু শুভর লালিত মা তাসমিনা আক্তার জানান, পাচারকারী চক্রের সদস্য আলেয়া তাকে জানায়, শিশুটির মা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর শিশুটিকে দেখাশুনার জন্য কেউ না থাকায় শিশু শুভর পিতা তাকে দত্তক দিতে চাই। এ কথা শুনে শিশুটিকে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করলে আলেয়ার এক খালার মাধ্যমে প্রথমে আড়াই লক্ষ টাকা প্রদানের প্রস্তাব করে।

পরে অনেক দেন দরবারে দেড় লক্ষ টাকায় রাজি হলে স্ট্যাম্প করে শিশুটিকে কিনে নেন এবং সন্তানের অভাব পুরণে নিজ সন্তানের মতোই শিশু শুভকে ৬ মাস ধরে লালন পালন করে আসছেন।

তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, দীর্ঘ ৬ মাস ধরে লালন পালন করার পর পুলিশের কাছ থেকেই জানতে পারি শিশুটি চুরি করা হয়েছে। শিশুটির আসল মায়ের কাছে তাকে তুলে দিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন জেলী। পুলিশের প্রেস ব্রিফিং-চলাকালীন শুভকে কোলে নিয়ে সারাক্ষণই নিরবে চোখের পানি ফেলছিলেন জেলী।

অপরদিকে দীর্ঘ ৬ মাস পর নিজে হারিয়ে ফেলা সন্তান কোলে পেয়ে আনন্দিত ভিক্ষুক শিরিন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রশাসনের প্রতি।

রাজীব সেন প্রিন্স

Feb2
Feb2

ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 10:09 am
ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক-কে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ভুটানের রাজাকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করে। বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন।

এসময় রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। জবাবে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি শুভকামনা জ্ঞাপন করেন।

আলাপকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি বলেন, ভুটান সবসময় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে। কারণ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ভুটান।

বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতা, রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও শুভ কামনাও রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে ভুটানের রাজা শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

ভুটানের রাজা তার দূরদর্শী ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং এ উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভুটানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।