কুপ্রস্তাব আর হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা মিত্র
প্রিয়াঙ্কার ফোনে খারাপ মেসেজ আসত। খারাপ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রিয়াঙ্কাকে হেনস্তা করা হতো। ভয় পেতেন প্রিয়াঙ্কা। বাড়ি ফিরে কাঁদতেন।
‘ছদ্মবেশী’ সিরিয়ালে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করার পর একটু বিরতি নিয়ে আবারও ‘খড়কুটো’ ও ‘মোহর’-এ পার্শ্বচরিত্রে ফিরেছেন প্রিয়াঙ্কা মিত্র। ‘খড়কুটো’র চিনি ইতিবাচক ও ‘মোহর’-এর দিয়া নেতিবাচক। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রিয়াঙ্কার অভিনয়ে ব্যালান্স রয়েছে। তাকে পরীক্ষামূলক চরিত্রে নেওয়ার জন্য ম্যাজিক মোমেন্টস-এর কাছে কৃতজ্ঞ প্রিয়াঙ্কা।
মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের পর পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করতে খারাপ লাগে না প্রিয়াঙ্কার। কারণ, তার কাছে চরিত্রের গুরুত্ব আসল। নাচ নিয়ে পড়াশোনা করতে করতে হঠাৎই অভিনয়ে এসেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। কিন্তু ‘ছদ্মবেশী’-তে অভিনয় করতে করতেই সরে গিয়েছিলেন ইন্ডাস্ট্রি থেকে। সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে কোনো সমস্যা না হলেও পরিচালক ও প্রযোজকরা বিরক্ত করতেন। প্রিয়াঙ্কার ফোনে খারাপ মেসেজ আসত। খারাপ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রিয়াঙ্কাকে হেনস্তা করা হতো। ভয় পেতেন প্রিয়াঙ্কা। বাড়ি ফিরে কাঁদতেন। শেষ অবধি ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। টানা দুই বছর ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে থাকার পর আবারও অভিনয়ে ফিরেছেন প্রিয়াঙ্কা।
প্রথম ধারাবাহিক ‘ছদ্মবেশী’ থেকে কেন বেরিয়ে গেলেন–এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কী আর বলি! জীবনের প্রথম ধারাবাহিকে কাজ করতে এসেই যা অভিজ্ঞতা হলো! সহ-অভিনেতাদের কারও সঙ্গে কোনো সমস্যা হয়নি। বরং আমায় উত্ত্যক্ত করে ছেড়ে দিয়েছিলেন পরিচালক-প্রযোজকরা। সমানে ফোনে খারাপ খারাপ মেসেজ আসত। সেসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সেটে সাংঘাতিক হেনস্তা করা হচ্ছিল আমাকে। ভয়ে জড়সড়ো হয়ে কাটাতাম। বাড়ি ফিরে এসে কাঁদতাম। এসবের জন্যই সরে যেতে হয়েছিল ওই ধারাবাহিক থেকে। টানা দুটো বছর আর ইন্ডাস্ট্রিতে ফেরার সাহস দেখাইনি।’
তবে ‘ছদ্মবেশী’ ইউনিটের খারাপ মানুষগুলো নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে প্রিয়াঙ্কার কাছে মেসেজ করে ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা প্রিয়াঙ্কাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তুলেছে। বর্তমানে তিনি ভয় পান না। স্পষ্ট কথা বলতে শিখেছেন প্রিয়াঙ্কা। তবে ম্যাজিক মোমেন্টস-এ প্রাপ্য সম্মান পেয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। ভবিষ্যতে সিরিয়াল, ফিল্ম, ওটিটিতে সবকিছুতেই কাজ করতে চান প্রিয়াঙ্কা। আগ্রহ আছে রাজনীতিতেও।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন