সমুদ্রের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে: চবি ভিসি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেছেন,সমুদ্রের যে সম্ভাবনা আছে তা আমাদের কাজে লাগাতে হবে।আমি স্বপ্ন দেখি। একদিন আমরা সফল হব। আমাদের স্বপ্ন বাস্তব আকার ধারণ করবে।
বুধবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম আগ্রাবাদস্থ দ্যা ভিলেজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত “সমুদ্র অর্থনীতি : বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সম্ভাবনা” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সময়োপযোগী এ সেমিনার করার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ সমুদ্রের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাবো। সমুদ্র মন্ত্রণালয় নামে আলাদা মন্ত্রণালয় চাই আমরা।
বিএনএ প্রকাশক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনএ সম্পাদক মিজানুর রহমান মজুমদার। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি, অর্থনীতি বিশ্লেষক ও গবেষক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম।অন্যান্য আলোচকরা হচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইউনিস্টিটিউটের অধ্যাপক, পরিচালক এবং মেরিন সায়েন্স এন্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন ড. শফিকুল ইসলাম, সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইউনিস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. নুরুল আজিম শিকদার এবং একই বিভাগের সহকারি অধ্যাপক নেসারুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ এনাম।
মূল প্রবন্ধে বিএনএ সম্পাদক মিজানুর রহমান মজুমদার বলেন, বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ বাণিজ্যই নদী ও সমুদ্র নির্ভর। জনসংখ্যার বিশাল অংশের থাদ্য ও জীবিকা আসে নদী ও সমুদ্র থেকে। প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে সমুদ্রতে ঘিরে। ২০৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা হবে প্রায় ৯০০ কোটি। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর খাবার যোগান দিতে সমুদ্রবক্ষে সঞ্চিত ও চলাচলের ওপর মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে।
অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি, অর্থনীতি বিশ্লেষক ও গবেষক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, সমুদ্র বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রায় এক লাখ আঠার হাজার আট’শ তের বর্গ কিলোমিটার সমুদ্রসীমার ওপর নিরংকুশ অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। এই ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের জন্যে ইতিহাস চিরদিন শেখ হাসিনার সরকারকে কৃতিত্ব দেবে।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে তেল ও এলএনজি’র দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বর্ধিত আমদানি ব্যয়ের ধাক্কায় বাংলাদেশের বাণিজ্য ভারসাম্য এবং ব্যালেন্স অব পেমেন্টসের কারন্টে একাউন্টে বড়সড় ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানকে প্রাধান্য দিয়ে ব্লু-ইকনমির প্রতি যথাযথ অগ্রাধিকার প্রদান এখন সময়ের প্রধান দাবিতে পরিণত হয়েছে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনএ এর নির্বাহী সম্পাদক ইয়াসীন হীরা।
পরে সাংবাদিকসহ উপস্থিত অতিথিদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন