খুঁজুন
, ,

বনানী কবরস্থানে স্বজনদের কবর জিয়ারত করলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 4 May, 2022, 11:21 am
বনানী কবরস্থানে স্বজনদের কবর জিয়ারত করলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা

১৫ আগস্ট নিহত স্বজনদের কবর জিয়ারত করেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ঈদুল ফিতরের মধ্যে বুধবার সকালে তারা রাজধানীর বনানী কবরস্থানে যান এবং সেখানে তারা পরিবারের সদস্যদের কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানোনো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব-১ এম এম ইমরুল কায়েস জানান, বোনকে নিয়ে বুধবার সকালে বনানী কবরস্থানে যান শেখ হাসিনা। তারা পরিবারের সদস্যদের কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন।

এরপর তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট নিহত জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের কবরে গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী কর্মকর্তার হাতে সপরিবারে জীবন দিতে হয় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

সেই রাতে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু ছাড়াও তার স্ত্রী ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসেরসহ পরিবারের ১৮ সদস্যকে হত্যা করে।

এদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ছাড়া বাকি সবার কবর বনানী কবরস্থানে। বঙ্গবন্ধুকে সমাহিত করা হয় গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায়।

তখন বিদেশে থাকায় বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

Feb2
Feb2

মতপার্থক্য থাকতেই পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়: দলীয় সভায় প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 14 July, 2026, 9:55 am
মতপার্থক্য থাকতেই পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়: দলীয় সভায় প্রধানমন্ত্রী

দলীয় নেতাকর্মীদের বিগত ১৭ বছরের মতো আগামীতেও ইস্পাত কঠিন ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দলের ভেতরে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তার জন্য যেন ঐক্য নষ্ট না হয়। ঐক্য থাকলে ফ্যাসিস্ট বা কোনো গুপ্তচর দলে ঢুকে সুবিধা নিতে পারবে না। ঐক্যে ফাটল ধরলেই তারা সুযোগ নেবে।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকালে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত বিভাগীয় এক সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, গুম, খুন ও চরম নির্যাতনের শিকার হয়েও আপনারা সবাই মিলে দল সামলেছেন। নিজের পরিবারের চেয়ে দলকে বেশি সময় ও অর্থ দিয়েছেন। তখন সবাই সবার পাশে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে দল চালিয়েছেন। এখন নির্যাতনের সেই ভয় নেই, তাহলে এখন কেন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবেন না?

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিগত সাধারণ নির্বাচনে যেভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে জিতিয়ে এনেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ঠিক সেভাবে দলকে জেতাতে হবে। বর্ষার পর আলোচনা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে। এর আগেই তৃণমূলকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে। তবে দল গোছানোর ক্ষেত্রে ‘হাইব্রিড’ ও ‘গুপ্ত’-এই দুটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তারা কোনোভাবেই নেতৃত্বে আসতে না পারে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন প্রধান ধর্মীয় উৎসবের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে বলেন, সামনে হিন্দুদের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। যে কোনো মূল্যে এই ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে হবে। কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে ফায়দা লুটতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তথাকথিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে আসলে লুটেরাদের পকেটের উন্নয়ন হয়েছে। মেগা প্রজেক্টের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শ্বেতপত্রে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দেখিয়েছেন, প্রতি বছর গড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। ৫৪ হাজার কোটি টাকায় পদ্মা সেতু করা হয়েছে, অথচ একই দৈর্ঘ্যের ভূপেন হাজারিকা সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার কোটি টাকা।

ফ্লাইওভার নির্মাণের নামে ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন জেলায় ড্রেন ও খাল ভরাট করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

উন্নয়নের নতুন রূপরেখা ঘোষণা করে তারেক রহমান বলেন, উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তাঘাট নয়; স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নই আসল উন্নয়ন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা পর্যায়ে ৩১ শয্যার হাসপাতাল শুরু করেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া তা ৫১ শয্যায় উন্নীত করেন। আমাদের সরকার এখন তা ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ হাতে নিয়েছে। এছাড়া শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সারাদেশে ১ হাজারটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

দেশের চরম সংকটকালীন মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এক ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়েছি। ব্যাংকিং খাত, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষিত যুবসমাজ আজ বেকার। আমরা দায়িত্ব নিয়েই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু করেছি। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি, ফলে দেশের মানুষ স্বস্তিতে রোজা পালন করেছে। এরপর মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়ায় আমাদের বাড়তি ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি পারিবারিক উদাহরণ টেনে বলেন, একটি পরিবারের সবাই মিলে যদি ঘর নোংরা করে, তবে একজনের পক্ষে তা পরিষ্কার করা অসম্ভব। দেশটাও একটি পরিবারের মতো। আপনারা যেহেতু এখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, তাই দেশের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় আপনাদের অত্যন্ত বুঝে-শুনে ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শুধুই কি বৃষ্টি-পাহাড়ি ঢলে ডুবছে দক্ষিণ চট্টগ্রাম?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 14 July, 2026, 9:36 am
শুধুই কি বৃষ্টি-পাহাড়ি ঢলে ডুবছে দক্ষিণ চট্টগ্রাম?

বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায় উৎপত্তি হাঙ্গর খালের। বর্ষা এলেই পাহাড়ি ঢলের বিশাল জলরাশি এই খাল বেয়ে নেমে আসে সমতলে। লোহাগাড়া উপজেলার জঙ্গল পদুয়া ও ফরিয়াদিকূল এবং সাতকানিয়ার ছদাহা ও কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে খালটি ডলু খালের সঙ্গে মিলিত হয়। খালের সেই পানি সাঙ্গু নদীতে গিয়ে পড়ার কথা।

কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। একসময় পাহাড়ি ঢলের স্বাভাবিক নিষ্কাশন পথ হিসেবে পরিচিত হাঙ্গর খালের শেষ অংশ এখন অনেকটাই অস্তিত্বহীন। কোথাও পলি জমে ভরাট, কোথাও দখল, কোথাও সংকীর্ণ নালায় পরিণত হয়েছে। ফলে পাহাড় থেকে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ পানি নদীতে পৌঁছানোর আগেই আটকে যাচ্ছে লোকালয়ে। এরই পরিণতিতে বছরের পর বছর দক্ষিণ চট্টগ্রামের (পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশসহ বিভিন্ন এলাকা নিয়ে গঠিত) বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার শিকার হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাঙ্গর খালের শেষ অংশ সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের অংশ একেবারে সংকীর্ণ হয়ে গেছে। ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এসে কার্যত বিলীন হয়ে গেছে। এরপর এটি মাহালিয়া বিলে গিয়ে মিশলেও সেই প্রবাহও এখন আগের মতো নেই। শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি থাকে না, বর্ষায় আবার অতিরিক্ত পানি ধারণের সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে প্লাবিত হলেও ২০২৩ সালে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। সেইবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনকে দায়ী করেছিলেন স্থানীয়রা। তবে এবার পার্শ্ববর্তী বাঁশখালী উপজেলাও ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে। তাই বন্যার নতুন কারণ খুঁজতে থাকেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ বাঁশখালী দিয়ে তো আর রেললাইন নেই।

ছদাহা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, খালের শেষের অন্তত তিন কিলোমিটার অংশ এখন আর খালের মতো নেই। পলি জমে ও ভরাট হয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। উজানে একাধিক স্লুইসগেট রয়েছে। শুকনো মৌসুমে একেবারে পানি থাকে না। আবার বর্ষায় পাহাড়ি ঢল নামলেও নিচের অংশে পানি চলাচলের মতো অবস্থা নেই। ফলে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। দ্রুত খাল খনন না করলে প্রতিবছরই এই দুর্ভোগ চলবে।

একই চিত্র সাতকানিয়া উপজেলার অন্যান্য খালের ক্ষেত্রেও। সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও তাসনীম ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, তাদের বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গড়াল খাল একসময় নৌযান চলাচলের উপযোগী ছিল। এখন সেটিও মৃতপ্রায়।

তিনি বলেন, ২০ বছর আগেও এই খালে নৌকা চলত। কেরানিহাট থেকে নতুন খাল পর্যন্ত একটি প্রশস্ত খাল ছিল। এখন তার অস্তিত্বই নেই। অনেকেই শুধু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনকে দায়ী করছেন। কিন্তু বাস্তবে সেটিই একমাত্র কারণ নয়। নদী-খাল ভরাট হয়েছে, বড় বড় দিঘি ও পুকুর ভরাট হয়েছে, কৃষিজমি ভরাট করে বসতি গড়ে উঠেছে। ফলে পানি যাওয়ার স্বাভাবিক পথগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া দিয়ে প্রবাহিত ডলু খাল এবং এর অসংখ্য শাখা খালও দীর্ঘদিন ধরে খননের বাইরে রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ডলু খালের অনেক অংশে চাষাবাদ হয়। বর্ষা এলেই সেই খাল পাহাড়ি ঢলের পানি বহন করতে ব্যর্থ হয়। একইভাবে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীর বিভিন্ন নদী, খাল ও শাখা খালের নাব্যতা কমে যাওয়ায় পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে প্লাবিত হলেও ২০২৩ সালে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। সেইবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনকে দায়ী করেছিলেন স্থানীয়রা। তবে এবার পার্শ্ববর্তী বাঁশখালী উপজেলাও ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে। তাই বন্যার নতুন কারণ খুঁজতে থাকেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ বাঁশখালী দিয়ে তো আর রেললাইন নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন নিয়মিত ড্রেজিং না হওয়ায় সাঙ্গু, ডলু ও অন্যান্য নদীর তলদেশে বিপুল পরিমাণ বালি ও পলি জমেছে। এতে নদীর নাব্যতা ও পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। ফলে অতিবৃষ্টির সময় নদী দ্রুত উপচে পড়ে এবং সেই পানি আবার দ্রুত নামতেও পারে না।

তাছাড়া অতীতে বন্যা হলে পানি দু-একদিনের ব্যবধানে নেমে যেত। কিন্তু এবার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ জনপদ এখনো পানির নিচে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর, আবার কোথাও বুকসমান পানি। ডুবে আছে বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচলের কোনো উপায় নেই।

গত কয়েক দিনে সরেজমিনে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে, স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, এই বন্যার পেছনে শুধু অতিবৃষ্টি নয়, দীর্ঘদিনের পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা, নদী-খাল ভরাট, নিয়মিত খননের অভাব, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কারণ দক্ষিণ চট্টগ্রামকে ক্রমেই একটি স্থায়ী বন্যা-ঝুঁকির অঞ্চলে পরিণত করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাতকানিয়ার পশ্চিম ঢেমশা, এওচিয়া, বাজালিয়া, কেঁওচিয়া, লোহাগাড়ার পদুয়া ও চুনতি, চন্দনাইশের দোহাজারী এবং বাঁশখালীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে এখনো ঘরের ভেতরে পানি। কোথাও রান্নাঘর অচল, কোথাও টিউবওয়েল ডুবে থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকেরা নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসলের ক্ষেত দেখিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন।

সাতকানিয়ার পশ্চিম ঢেমশা গ্রামের বাসিন্দা মো. আবদুল কাদের বলেন, ছোটবেলা থেকে বন্যা দেখছি। আগে দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি নেমে যেত। এবার এক সপ্তাহের বেশি হয়ে গেল, এখনো ঘরে পানি। মনে হচ্ছে পানি বের হওয়ার সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের কথায় বেশি উঠে এসেছে পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালীরা নিজেদের স্বার্থে প্রাকৃতিক নিষ্কাশন পথ ও স্লুইস গেট বন্ধ বা সীমিত করে রেখেছেন। পাহাড়ি মিঠাপানি ঘেরে ঢুকলে মাছের ক্ষতি হয়—এই আশঙ্কায় তারা পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছেন। এতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল দীর্ঘ সময় ধরে লোকালয়ে আটকে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সাঙ্গু, ডলু ও সংশ্লিষ্ট নদীগুলোর নিয়মিত ড্রেজিং, শাখা খাল পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, জলাশয় সংরক্ষণ, পাহাড় কাটা বন্ধ এবং রেল ও সড়ক অবকাঠামোয় পর্যাপ্ত পানি চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে মৎস্যঘেরের নামে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।
সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের অনেক নদী, খাল ও স্লুইস গেট আগের কার্যকারিতা হারিয়েছে। কোথাও পলি জমেছে, কোথাও অবৈধ দখল, আবার কোথাও দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাঙ্গু ও ডলু নদীর সঙ্গে সংযুক্ত বহু খাল আগের মতো প্রশস্ত নেই। দুই তীরে গড়ে উঠেছে স্থাপনা, কোথাও ময়লা-আবর্জনা ফেলে প্রবাহ সংকুচিত করা হয়েছে। যে খালগুলো একসময় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাহাড়ি ঢলের পানি নদীতে পৌঁছে দিত, সেগুলোর অনেকই এখন কার্যত অকার্যকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন নিয়মিত ড্রেজিং না হওয়ায় সাঙ্গু, ডলু ও অন্যান্য নদীর তলদেশে বিপুল পরিমাণ বালি ও পলি জমেছে। এতে নদীর নাব্যতা ও পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। ফলে অতিবৃষ্টির সময় নদী দ্রুত উপচে পড়ে এবং সেই পানি আবার দ্রুত নামতেও পারে না।

বন্যার দীর্ঘস্থায়িত্বের আরেকটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ ও বিভিন্ন উঁচু সড়ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক স্থানে পর্যাপ্ত কালভার্ট না থাকায় রেললাইন ও সড়ক বাঁধের মতো কাজ করছে। এতে পাহাড়ি ঢলের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এবারের বন্যাকে আরও জটিল করেছে বঙ্গোপসাগরের জোয়ার। অতিবৃষ্টির সময় সমুদ্রের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচু থাকায় সাঙ্গু ও ডলু নদী দিয়ে বন্যার পানি দ্রুত সাগরে নামতে পারেনি। ফলে নিম্নাঞ্চলে দিনের পর দিন পানি আটকে থাকে।

বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গা থেকে চট্টগ্রাম একটু ভিন্ন। এখানে যেমন জোয়ার ভাটার প্রভাব আছে, তেমন মানুষের কার্যক্রমের কিছু প্রভাব আছে। এবছর চট্টগ্রাম বন্যা হওয়ার অন্যতম কারণ রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি। এর সঙ্গে জোয়ারের পানি যোগ হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, নদী, নালা, পুকুর ও প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়া। পাহারকাটা ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন করার কারণে পানির প্রবাহের জায়গাগুলো সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে গেছে ➤ড. কাজী মো. বরকত আলী, অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা গত এক দশকে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। একসময় শত শত পুকুর, বিল, নিচু জমি ও জলাভূমি অতিরিক্ত পানি ধারণ করত। এখন আবাসন, বাজার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনার জন্য সেসব জায়গার বড় অংশ ভরাট হয়ে গেছে। একইসঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য শাখা খাল ও পাহাড়ি ছড়া। ফলে বৃষ্টির পানি মূল নদীতে পৌঁছানোর আগেই লোকালয়ে আটকে যাচ্ছে।

পার্বত্য এলাকায় পাহাড় কাটার ফলে আলগা মাটি ও বালু বর্ষার সময় নেমে এসে নদী-খাল দ্রুত ভরাট করছে। এতে নদীর গভীরতা কমে যাচ্ছে এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অল্প সময়ে অতিবৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান দুর্বল নিষ্কাশনব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের পানি ব্যবস্থাপনা নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে। কোথায় কীভাবে পানি প্রবাহিত হয়, কোথায় বাধা তৈরি হয়েছে এবং কোথায় নতুন নিষ্কাশন পথ প্রয়োজন—এসব বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত হাইড্রোলজিক্যাল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) চট্টগ্রামের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমানুর রহমান বলেন, প্রবাহ কমে যাওয়ায় অনেক খাল এরইমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে। আমরা কিছু খাল খননের কাজ করেছি। সামনে আরও একটি প্রকল্প আসছে। ওই প্রকল্পের আওতায় সব শাখা খাল চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে। এতে খালগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাবে এবং বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সাঙ্গু, ডলু ও সংশ্লিষ্ট নদীগুলোর নিয়মিত ড্রেজিং, শাখা খাল পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, জলাশয় সংরক্ষণ, পাহাড় কাটা বন্ধ এবং রেল ও সড়ক অবকাঠামোয় পর্যাপ্ত পানি চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে মৎস্যঘেরের নামে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গা থেকে চট্টগ্রাম একটু ভিন্ন। এখানে যেমন জোয়ার ভাটার প্রভাব আছে, তেমন মানুষের কার্যক্রমের কিছু প্রভাব আছে। এবছর চট্টগ্রাম বন্যা হওয়ার অন্যতম কারণ রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি। এর সঙ্গে জোয়ারের পানি যোগ হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, নদী, নালা, পুকুর ও প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়া। পাহারকাটা ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন করার কারণে পানির প্রবাহের জায়গাগুলো সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের রেললাইনও এই বন্যার অন্যতম কারণ। এর জন্য আমাদের অনেক ভুগতে হবে। বান্দরবান বা পাহাড়ি বিশাল এলাকার বৃষ্টির পানি বের হতে পারবে না। এজন্য বিভিন্ন ব্রিজ বাড়ানো ও ছোট ব্রিজ বড় করতে হবে। চতুর্থত, বিভিন্ন ঘের, অপরিকল্পিত ভবন, পাহাড় কেটে ধস নেমে বিভিন্ন চ্যানেল বন্ধ বা সংকুচিত হয়ে যাওয়ার ফলে বন্যা হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এক মাস কোনো বৃষ্টি হচ্ছে না। আবার এক মাস প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বন্যা দেখা দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, বিলীন হয়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি বড় খাল পুনরায় খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে এই খালসহ আরও কয়েকটি খাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)ও কিছু খাল খনন করছে। এসব খাল খনন করা হলে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে বন্যার প্রভাব অনেকটাই কমে আসবে বলে আমি মনে করি।

দক্ষিণ পতেঙ্গায় ত্রাণ বিতরণ করলেন চসিক মেয়র ও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 13 July, 2026, 11:24 pm
দক্ষিণ পতেঙ্গায় ত্রাণ বিতরণ করলেন চসিক মেয়র ও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন

সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের মাইজপাড়া এলাকার এক হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি।

সোমবার বিকেলে নগরীর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের মাইজপাড়ার একটি কমিউনিটি সেন্টারে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার পরিবারের মাঝে এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণকালে মেয়র ও প্রতিমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

এসময় ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। নালা নর্দমা পরিষ্কার, খাল পুনরুদ্ধার এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। নালা নর্দমা ও খালে ময়লা আবর্জনা না ফেললে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। নাগরিক সচেতনতাই একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানোই জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন দুর্যোগের শুরু থেকেই নগরবাসীর পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আমরা অসহায় অবস্থায় রেখে যাব না। প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ ও অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, যুগ্ম আহবায়ক আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, আহবায়ক কমিটির সদস্য মো, কামরুল ইসলাম, ডা. নুরুল আবসার, চট্টগ্রাম সিটি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম বাকি মাসুদ, বিএনপি নেতা আবদুস সাত্তার, মোহাম্মদ হারুন, ইকবাল হোসেন, নাজমুল হুদা চৌধুরী নাজিম, শফি মেম্বার প্রমুখ।