খুঁজুন
, ,

পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 9 May, 2022, 12:33 pm
পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ জামাতা দেশের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়ার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০০৯ সালের ৯ মে তার মৃত্যু হয়।

উপমহাদেশের খ্যাতনামা পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জের লালদীঘি ফতেপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এক বাণীতে বলেন, বিজ্ঞান শিক্ষা, গবেষণা ও রাজনীতিতে ড. ওয়াজেদ মিয়ার অবদান বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ফজলুল হক হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন এবং ছাত্রলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৯৬১-’৬২ শিক্ষা বছরের জন্য হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন থেকে গ্রেপ্তার হন। ১৯৬৩ সালের ১ এপ্রিল তিনি তৎকালীন পাকিস্তান আণবিক শক্তি কমিশনের চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৬৩-’৬৪ শিক্ষা বছরে তিনি লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের ‘ডিপ্লোমা অব ইম্পেরিয়াল কলেজ কোর্স’ কৃতিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেন। ১৯৬৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাজ্যের ‘ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়’ থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করলে তাকে ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকার আণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্রে পদায়ন করা হয়।

আজন্ম সৎ, নির্লোভ ও নিখাদ দেশ্রপ্রমিক এই পরমাণু বিজ্ঞানী ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

তাদের এক পুত্র ও এক কন্যাসন্তান রয়েছে। ১৯৬৯ সালে ইতালির ট্রিয়েস্টের আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র তাকে অ্যাসোসিয়েটশিপ প্রদান করে। তিনি ওই গবেষণা কেন্দ্রে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৬৯ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৭০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন শহরের ড্যারেসবেরি নিউক্লিয়ার ল্যাবরেটরিতে পোস্ট ডক্টোরাল গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির কার্লসরবয়ে শহরের ‘আণবিক গবেষণা কেন্দ্রে’ আণবিক রিঅ্যাক্টর বিজ্ঞানে উচ্চতর প্রশিক্ষণ লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ভারতের আণবিক শক্তি কমিশনের দিল্লির ল্যাবরেটরিতে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি অনেক জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। তার অনেক গবেষণামূলক ও বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রপত্রিকায় এবং সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সাত বছর নির্বাসিত জীবন কাটান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের পদার্থ বিজ্ঞান, ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের ছাত্রদের জন্য দু’টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তার লেখা ৪৬৪ পৃষ্ঠার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ’ শিরোনামের গ্রন্থটি ১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে এবং ৩২০ পৃষ্ঠার ‘বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকারের চালচিত্র’ শিরোনামের গ্রন্থটি ১৯৯৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড থেকে প্রকাশিত হয়।

১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালের জন্য তিনি পর পর দু’বার বাংলাদেশ আণবিক শক্তি বিজ্ঞানী সংঘের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে তিনি পর পর তিনবার ওই বিজ্ঞানী সংঘের সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চার বছর তিনি বাংলাদেশ পদার্থ বিজ্ঞান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৭ সালে দু’বছর মেয়াদের জন্য ওই বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। তাছাড়া তিনি ওই বিজ্ঞান সমিতির আজীবন সদস্য। ১৯৮৯ সালে দু’বছর মেয়াদের জন্য ওই বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। তাছাড়া তিনি ওই বিজ্ঞান সমিতির আজীবন সদস্য।

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত পরপর দু’টি দু’বছর মেয়াদকালের জন্য বাংলাদেশ বিজ্ঞান উন্নয়ন সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এবং ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি পর পর দুই দু’বছর মেয়াদকালের জন্য ওই বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। বিজ্ঞানে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্যার জগদীশচন্দ্র বসু সোসাইটি তাকে ‘স্যার জগদীশচন্দ্র বসু স্বর্ণপদকে’ভূষিত করে।

এ ছাড়া তিনি ওই সমিতির একজন আজীবন সদস্য। ১৯৯১-১৯৯২ সালে তিনি বাংলাদেশ আণবিক শক্তি বিজ্ঞানী সংঘের সভাপতি নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত পরপর তিনবার দু’বছর মেয়াদকালের জন্য তিনি ‘বাংলাদেশ বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞানজীবী সমিতি’র সভাপতি নির্বাচিত হন এবং তিনি ওই সমিতির একজন আজীবন সদস্য। তিনি ঢাকার রংপুর জেলা সমিতির আজীবন সদস্য এবং ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দু’বছর মেয়াদকালের জন্য এই সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এবং ঢাকার বৃহত্তম রংপুর কল্যাণ সমিতি, উত্তরবঙ্গ জনকল্যাণ সমিতি, রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরাম, বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদ এবং রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার মির্জাপুর বছির উদ্দিন মহাবিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন।

মৃত্যুর পর তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে তার বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

এন-কে

Feb2
Feb2

৫ লাখ বাংলাদেশি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার মাইলফলকে চেন্নাই অ্যাপোলো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 11:26 pm
৫ লাখ বাংলাদেশি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার মাইলফলকে চেন্নাই অ্যাপোলো

ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়া প্রায় ৫ লক্ষাধিক বাংলাদেশি রোগীকে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপন করেছে অ্যাপোলো হসপিটালস।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা ১২টায় চেন্নাইয়ের হায়াত রিজেন্সি হোটেলের কনফারেন্স হলে বর্ণাঢ্য এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সাফল্য উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশের অর্ধশত রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা আরও সহজ করতে অদূর ভবিষ্যতে ঢাকা এবং এবং চট্টগ্রামে টেলিমেডিসিন ও টেলি-রেডিওলজি সেন্টার চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল চেন্নাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনার মো. আলিমুজ্জামানের। তবে হঠাৎ অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে না পারায় তাঁর পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা দেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি রাজেশ ভৌমিক।

অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো চেন্নাই হাসপাতালের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) নাভিন ভি বলেন, “ভারতের বৃহত্তম হেলথকেয়ার নেটওয়ার্ক হিসেবে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৩ সালে কার্ডিওলজিস্ট ড. প্রতাপ চন্দ্র রেড্ডির হাত ধরে। বর্তমানে কেবল চেন্নাই অঞ্চলেই আমাদের ১০ টারও বেশি হাসপাতাল রয়েছে।” বিশ্বমানের প্রযুক্তি আমদানির ক্ষেত্রে অ্যাপোলোর অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আমরাই প্রথম ক্যানসার চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত আধুনিক ‘প্রোটন বিম থেরাপি’ নিয়ে এসেছি। ওয়ার্ল্ড ক্লাস ক্লিনিক্যাল আউটকাম এবং রোবটিক সার্জারির অনন্য বেঞ্চমার্কের কারণেই বাংলাদেশিরা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন।”

বাংলাদেশি রোগীদের জন্য সেবার পরিধি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে নাভিন ভি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে অ্যাপোলোর ৫টি তথ্য কেন্দ্র (ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ) চালু আছে এবং খুব শীঘ্রই সিলেটে নতুন শাখা চালু হবে। এসব অফিস থেকে রোগীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভিসা প্রসেসিং ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া খুব দ্রুতই একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে রোগীরা দেশেই বসে সরাসরি চেন্নাইয়ের চিকিৎসকদের কাছ থেকে ‘সেকেন্ড মেডিকেল অপিনিয়ন’ নিতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো হসপিটালসের রিজিওনাল সিইও ডা. ইলেন কুমারান কে. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন, “এই ৫ লাখের মাইলস্টোন মূলত একটি গভীর বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমাদের দুই দেশের ভৌগোলিক সীমানা আলাদা হলেও, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সঙ্গীতের সুর আমাদের এক সুতোয় বেঁধেছে।”

প্রখ্যাত লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. ইলেন কুমারান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ইউরোপের মতো আমাদের বর্ডারহীন সীমান্ত না থাকলেও ভারত ও বাংলাদেশের চমৎকার কালচারাল কানেকশনের কারণে রোগীরা এখানে এসে নিজেদের বাড়ির মতো কমফোর্ট ও কনফিডেন্স পান। চিকিৎসার পর রোগীরা যাতে নিজেদের দেশেই ফলো-আপ করতে পারেন, সেজন্য আমরা বাংলাদেশে মাল্টিপল ক্লিনিক করার পরিকল্পনা করছি।”

দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি রাজেশ ভৌমিক অ্যাপোলো কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “চেন্নাই বিভিন্ন সময়েই বাংলাদেশি রোগীদের প্রথম পছন্দের ডেস্টিনেশন। ৫ লাখের এই বিশাল সংখ্যাটিই প্রমাণ করে রোগীরা এখানে এসে কেমন সেবা পাচ্ছেন।” চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চেন্নাইয়ে আসা যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিককে যেকোনো প্রয়োজনে দূতাবাসের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার আশ্বাস দেন তিনি।

এপোলো হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট গুরু প্রসাদ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বড় তথ্যটি দিয়ে জানান, “বাংলাদেশি রোগীদের সুবিধার্থে এবং তাঁদের ফলো-আপ কেয়ার সহজ করতে আমরা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা শুরু করেছি। ঢাকা বা চট্টগ্রামে একটি হাসপাতাল নির্মাণ এবং অনুমতি সাপেক্ষে টেলিমেডিসিন সেন্টার চালুর পরিকল্পনা আমাদের পাইপলাইনে রয়েছে।”

এপোলো হাসপাতালে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডেস্কের ইনচার্জ সানজিৎ নায়েকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অ্যাপোলো হাসপাতালের বাংলাদেশের প্রতিনিধি সৈয়দ রিফাত ফারুক।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন শীর্ষ গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। একটি ফটো সেশন ও মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 11:09 pm
দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, আগামীকাল ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য গৌরবের। এ উপলক্ষ্যে আমি সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২১ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে হাজারো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে জীবন দিতে হয়েছে।

অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এবার গণতন্ত্র সুসংহত করার পালা।

এক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার বিকল্প নেই। শিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে, যা বাস্তব জীবনে যেকোনো দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করবে। এ কারণেই তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি শুধু পরিকল্পনা কিংবা পদক্ষেপ গ্রহণে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি জোরদার করতে হবে। বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে আরো বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরি।

তারেক রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অ্যালামনাই দেশে-বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। সেইসব প্রতিষ্ঠিত অ্যালামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। গবেষণা ও উদ্ভাবনে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের আরো সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বৈশ্বিক কর্মবাজারে জায়গা করে নিতে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষায়ও পারদর্শী হতে হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি তাদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে পারে। আমি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

মাদক কারবারিকে এআই দিয়ে ব্রাজিলের জার্সি পরানো সেই পুলিশকে শোকজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 10:39 pm
মাদক কারবারিকে এআই দিয়ে ব্রাজিলের জার্সি পরানো সেই পুলিশকে শোকজ

ইয়াবাসহ আটক আর্জেন্টাইন সমর্থককে এআই দিয়ে ব্রাজিলের জার্সি পরানো বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া উইংয়ের অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) তানজিল আহমেদকে শোকজ করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের মঙ্গলবার (৩০ জুন) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনারের নির্দেশে তাকে শোকজ করা হয়।

বিএমপি কমিশনার মো. আশিক সাঈদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শোকজের জবাব পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে, সোমবার (২৯ জুন) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বরিশাল নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর কলোনি থেকে ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয় ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি, আর্জেন্টাইন সমর্থক রাসেল হাওলাদারকে (৩৫)।

আটকের সময় মাদক কারবারি রাসেলের গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি ছিল। কাউনিয়া থানা পুলিশ রাসেলকে আটকের পর তার জার্সিটি উল্টো করে পরিয়ে ছবি তুলে বিএমপির মিডিয়া সেলে পাঠায়।

পরে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে আর্জেন্টিনার জার্সি পরিবর্তন করে মাদক কারবারিকে ব্রাজিলের জার্সি পরিয়ে বিএমপির মিডিয়া উইং থেকে ছবি পাঠানো হয় গণমাধ্যমে। মিডিয়া উইংয়ের গ্রুপের এমন ছবি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা এবং ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ছবি পরিবর্তন করে পুনরায় সঠিক তথ্য ও ছবি মিডিয়া সেলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং ই-মেইলে প্রকাশ করা হয়।

জানা গেছে, গণমাধ্যমে ভুল তথ্য এবং এআই দিয়ে বানানো ছবি পাঠানো মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিদর্শক তানজিল আহমেদ আর্জেন্টাইন সমর্থক। শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া উইংয়ে কর্মরত আছেন।

যদিও-বিষয়টি ‘দুষ্টুমির ছলে’ করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন বিএমপির মিডিয়া সেলের উপ-পরিদর্শক (এসআই) তানজিল আহমেদ। তাছাড়া দায়িত্বশীল পদে থেকে অপেশাদার আচারণের জন্য দুঃখ প্রকাশও করেন তিনি।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া উইংয়ের পরিদর্শক মো. মনির হোসেন বলেন, মঙ্গলবার (৩০ জুন) উপ-পরিদর্শক তানজিল আহমেদকে কমিশনার স্যার নিজ দপ্তরে তলব করেছিলেন। তাকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি মিডিয়া উইং থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে বিষয়টি কমিশনার স্যার নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক তানজিল আহমেদকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।