খুঁজুন
, ,

শতাধিক সামাজিক সংগঠন নিয়ে সোশ্যাল সার্ভিসেস ইউনিয়ন অব রাউজান’র যাত্রা শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 30 November, 2019, 7:44 pm
শতাধিক সামাজিক সংগঠন নিয়ে সোশ্যাল সার্ভিসেস ইউনিয়ন অব রাউজান’র যাত্রা শুরু

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : রাউজানের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সকল সামাজিক সংগঠন গুলোকে একত্রীকরণের মঞ্চ ‘সোশ্যাল সার্ভিসেস ইউনিয়ন অব রাউজান।

রাউজানকে সবদিক দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে প্রয়াস তারুণ্যের অহংকার ফারাজ করিম চৌধুরীর সেই প্রচেষ্টাকে বাম্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে ৩০নভেম্বর থেকে সাংগঠনিকভাবে পথচলা শুরু করেছে সংগঠনটি।

উপজেলার প্রায় ১০০টি সামাজিক সংগঠনের আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ নভেম্বর শনিবার মতবিনিময় সভা সংগঠনের আহবায়ক মোহাম্মদ মহিউদ্দীন ইমন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক দিদারুল আলম,যুগ্ম আহবায়ক আহমেদ সৈয়দ,সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজান এর সভাপতি মোঃ সাইদুল ইসলাম,সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ জামাল নকিব,সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনউদ্দীন জামাল চিশতী, ঢাকাস্থ রাউজান ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহবায়ক প্রসনজিত বিশ্বাস, কাজী শাহেদুল ইসলাম,আবদুর রহমান বাবু,রাসেল রানা,আবদুল্লাহ আল রোমান,আবদুর রহিম,ডাঃ সূপন বিশ্বাস,মোঃ আলাউদ্দীন,কাজী শাহাবুদ্দীন,ইকবাল হোসেন,মিজানুর রহমান,,তাজনবী ইমন,সদ্দাম হোসেন,রেজাউল করিম,জামসেদ মাহমুদ,একরাম হোসেন,আরমান উদ্দীন শাহ,শাহরিয়ার হাসান সাকিব,মোহাম্মদ নাহিদ,মোঃ নাহিদ,নাছির উদ্দীন,মোঃ মহিউদ্দীন,আরিফ হোসেন,মিজানুর রহমান মুবিন,জোনায়েদ উল্লাহ তুষার,আবু বকর আরাফাত,সাজ্জাদ হোসেন,নুরুল আলম,ইফতেখার মাহমুদ চৌদুরী,অনিক ভট্টাচার্য,মাঃ মহিউদ্দিন, আকতার হোসেন,নাছির উদ্দীন,একরাম হোসেন,প্রিয়টন দে, আবু বক্কর সওদাগর, তামিম সিকদার,মামুনুর রশীদ,আবদুস সাত্তার, হেসানুল হক,আরফানুল ইসলাম আবির,মোঃ বোরহান,জয়নাল আবেদীন, নোমান বিন আজিজ, ইশতিয়াক কামাল সাকিব,মামুনুর রশীদ চৌধুরী,তৌহিদুল ইসলাম,সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা আমাদের সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রূপ দিতে পারবো বলে আশা রাখছি। গতানুগতিক সামাজিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে একটি সৃজনশীল এবং আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে সোশ্যাল সার্ভিসেস ইউনিয়ন অব রাউজান মুখ্য ভূমিকা পালন করবে এবং জনাব ফারাজ করিম চৌধুরীর মিশন এবং ভিশনকে বাস্তবায়ন করতে সর্বোচ্চ কাজ করে যাবে। আশা করি সমাজের তরুণ এবং সচেতন নাগরিক আমাদের সাথে থেকে রাউজানকে সমৃদ্ধকরণে ভূমিকা রাখবেন।

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামে প্রথমবার জেলা প্রশাসকের হাতে মহালয়ার উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 7:56 pm
চট্টগ্রামে প্রথমবার জেলা প্রশাসকের হাতে মহালয়ার উদ্বোধন

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো কোনো জেলা প্রশাসক মহালয়ার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছেন বলে জানিয়েছেন পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ আয়োজিত ‘শুভ মহালয়া ২০২৬’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তাঁর এই অংশগ্রহণকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন আয়োজকেরা।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করলেও এত বড় পরিসরে মহালয়ার আয়োজন দেখার সুযোগ তাঁর আগে হয়নি। চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের সঙ্গে এই আয়োজন তাঁকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি জেলা। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান এ অঞ্চলের ঐতিহ্য। এই বৈচিত্র্য বাংলাদেশের গর্ব, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ধরে রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী, সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী নিখিল কুমার নাথ, যুগ্ম সম্পাদক আইনজীবী নটু চৌধুরীসহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা এবং থানা পর্যায়ের নেতারা।

আয়োজকদের সঙ্গে পৃথক কথোপকথনে জানা যায়, তাঁদের জানামতে, এর আগে চট্টগ্রামের কোনো জেলা প্রশাসক মহালয়ার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেননি। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতি ও সহযোগিতার আশ্বাসে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারা জানান, জেলা প্রশাসক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন এবং আসন্ন দুর্গাপূজায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর আন্তরিক আচরণ ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

তবে চট্টগ্রামে এর আগে কোনো জেলা প্রশাসক মহালয়ার অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেছেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করলেই উৎসব সফল হয় না। দর্শনার্থীরা কতটা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, সুশৃঙ্খল যাতায়াত ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের দৃশ্যমান ও সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। উৎসবে আসা প্রত্যেকে যেন সুন্দর অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করা আয়োজকদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, উৎসবের আনন্দময় স্মৃতি মানুষের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা বাড়ায়। তাই আয়োজনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে হবে।

আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি জানান, পূজার প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা হয়েছে। সরকার এবারের উৎসবের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়েছে। দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি হতে পারে, এমন বিবেচনায় নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, শনিবার তিনি হাটহাজারীর একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। অন্যান্য মণ্ডপের প্রস্তুতিও পর্যবেক্ষণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মিলেমিশে বসবাস বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

পরে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে শুভ মহালয়া অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 6:17 pm
জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে: মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, শহরকে নিজের শহর হিসেবে মনে করে এর সম্পদ, পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নাগরিকদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া জলাবদ্ধতাসহ নগরীর কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে শিক্ষার্থী-অভিভাবক উদ্বুদ্ধকরণ কমিটির কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপসচিব ড.কিসিঞ্জার চাকমা।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই শহর শুধু আমার শহর নয়। এই শহরে আমাদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন, আমরা আছি এবং আমাদের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখানে বসবাস করবে। আমরা যতদিন পর্যন্ত মনে করতে না পারব যে এই শহর আমার, ততদিন সত্যিকার অর্থে শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য রাখা সম্ভব হবে না। শহরের প্রতি এই মালিকানাবোধ ও দায়িত্ববোধ প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু শুধু অবকাঠামোগত প্রকল্প দিয়ে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। খাল-নালা ও ড্রেন পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, নালা-নর্দমায় বর্জ্য না ফেলা এবং পানি চলাচলের পথ দখল বা বাধাগ্রস্ত না করার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। নাগরিক সচেতনতা ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনের কোনো উদ্যোগই পুরোপুরি সফল হবে না।

মেয়র আরও বলেন, আমরা অনেক সময় কোনো অনিয়ম দেখলে নিজের দায়িত্ব পালন না করে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করি। কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাও আমাদের দায়িত্ব। গতকাল বাংলাদেশের প্রথম ২ দশমিক ২ কিলোমিটার সাইকেল ট্র্যাক পরিদর্শন করেছি। আজ সেখানে একটি লরি রাখা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এটি কি আমাদের নাগরিক দায়িত্ববোধের পরিচয়? কেউ যদি সাইকেল ট্র্যাক দখল করে, ফুটপাত দখল করে বা নগরীর কোনো স্থাপনা নষ্ট করে, তাহলে শুধু মেয়র বা সিটি কর্পোরেশনকে দোষারোপ না করে নাগরিকদেরও প্রতিবাদ করতে হবে।

তিনি বলেন, ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য, ব্যক্তিগত গাড়ি রাখার জন্য নয়। কিন্তু আমরা নিজেরাই ফুটপাত দখল করে গাড়ি রাখছি, আবার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সমালোচনা করছি। এভাবে একটি শহরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। অনিয়মকারীর বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নিতে হবে, তেমনি নাগরিকদেরও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।

মেয়র বলেন, শুধু সচেতনতার কথা বললেই হবে না, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ যখন দেখবে কোনো অনিয়মের জন্য জরিমানা বা শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তখন অন্যরাও আইন মেনে চলতে উৎসাহিত হবে। গণসচেতনতা তখনই কার্যকর হয়, যখন তার সঙ্গে আইনের প্রয়োগ ও দৃশ্যমান জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক ডাস্টবিন স্থাপন করেছে। কিন্তু অনেক ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। নগরীর কোনো সম্পদ চুরি হতে দেখলে সেটিকে নিজের সম্পদ মনে করে নাগরিকদের প্রতিবাদ করতে হবে। একইভাবে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো গাছ, স্থাপনা কিংবা অন্যান্য অবকাঠামো কেউ ক্ষতিগ্রস্ত করলে বা নিয়ে গেলে সেটিও প্রতিরোধ করা নাগরিকদের দায়িত্ব। কারণ এসব সম্পদ জনগণের টাকায় তৈরি; এগুলোর ওপর প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রয়েছে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে গ্রিন, ক্লিন, হেলদি ও সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দূত হিসেবে কাজ করতে পারে। একজন শিক্ষার্থী তার পরিবারকে সচেতন করতে পারে, পরিবার থেকে সেই সচেতনতা সমাজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এভাবেই একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচি ধীরে ধীরে সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫২ হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ২ লাখ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়রের নির্দেশনায় গত ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ২০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে উপদেষ্টাদের পরামর্শে ১০৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে।

এ কার্যক্রমের আওতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ, প্রচার অভিযান, বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং গ্রিন অ্যাম্বাসেডর ঘোষণাসহ সাত দফা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি শ্রেণিকে পাঁচ ভাগে ভাগ করে সপ্তাহের পাঁচ দিন পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব পালন, শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতার শপথ পাঠ, প্রতি মাসে দুইবার প্রাতিষ্ঠানিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং প্রতি দুই মাসে অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাধ্যমে তার পরিবারে পরিচ্ছন্নতা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

মেয়র বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবক, অভিভাবকের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজকে সম্পৃক্ত করে জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নগরীর খাল, নালা, ড্রেন ও জলপ্রবাহের পথ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। শুধু সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের ওপর নির্ভর করলে হবে না; নাগরিকদের নিজেদের দায়িত্বও পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু সমালোচনা নয়, ইতিবাচক কাজে অংশগ্রহণ করতে হবে। অনিয়ম দেখলে প্রতিবাদ করতে হবে, নিজেরাও আইন মেনে চলতে হবে এবং অন্যদের আইন মানতে উৎসাহিত করতে হবে। তাহলেই আমরা সম্মিলিতভাবে একটি সুন্দর চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে পারব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা,চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল আলম কচি এবং থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের পরিচালক ওভিক ওসমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল হক। সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম সিকদারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রোমিলা বড়ুয়া।

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 5:46 pm
বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

মানববর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রদর্শনী দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পটির গবেষকরা তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, গবেষণার অগ্রগতি এবং দেশে বাণিজ্যিকভাবে জ্বালানি তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এ সময় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার (১০ অক্টোবর ) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রদর্শনীটির আয়োজন করা হয়।

এ সময় প্রকল্পটির গবেষক কুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি ও গবেষণার বিভিন্ন দিক প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রকল্পটি প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কেও অবহিত হন।

প্রকল্পটির সম্ভাবনা বিবেচনায় এটি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রায় ১০ বছর ধরে পরিচালিত এ গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (এইচটিএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন কুয়েটের গবেষকরা। গবেষণাগারের পরীক্ষায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ডিজেল সমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন গবেষকরা।

এ সময় গবেষকরা জানান, পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

তারা জানান, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে প্রযুক্তিটির বৃহৎ পরিসরে কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই প্রয়োজন।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট গবেষকদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তায় প্রযুক্তিটি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে দেশের জ্বালানি তেলের সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, পরিবেশদূষণ হ্রাস এবং দেশীয় জ্বালানি শিল্প বিকাশের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।