কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধস, ঝুঁকিতে বসতবাড়ি
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতে কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতে কাপ্তাইয়ে যেমন পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে তেমনি বিভিন্ন সড়কেও পানি জমে যানচলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ি ঢলে সম্প্রতি কাপ্তাই রাইখালী ইউনিয়নের নারানগিরি এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলের একমাত্র বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে গেছে। ফলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, কাপ্তাইয়ের বেশির ভাগ এলাকা পাহাড়বেষ্টিত হওয়ার ফলে প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে বসবাস করতে হয়।
এদিকে একই ইউনিয়নের চন্দ্রঘোনা ফেরীঘাটে পাঠাতন ডুবে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে বলে স্থানীয়রা জানান। এছাড়া কাপ্তাইয়ে প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে কাপ্তাই ওয়াগ্গা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. সরোয়ার হোসেন জানান, শিলছড়ি এলাকায় পানি নির্গমনের ছড়ার সাথে বাজার মসজিদের যেই ধারক দেওয়াল ছিলো। সেই ধারক দেওয়ালটি গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ভেঙে গিয়েছে। এখন সম্পূর্ণ মসজিদটি ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া শিলছড়ি ভেলাপা পাড়া নামক এলাকার বাসিন্দা মৃত শাহাবুদ্দিন সদাগরের স্ত্রী পারভীন বেগমের একমাত্র বাড়িটিসহ কয়েকটি ঘরবাড়ি টানা বর্ষণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বৃষ্টিপাত যদি চলমান থাকে ক্ষয়ক্ষতি আরো বাড়তে পারে বলে তিনি জানান। তাছাড়া বর্ষা আসলেই কাপ্তাই সড়কের শিলছড়ি এলাকায় মাটি জমে সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। গত দুইদিন আগেও সড়কটি যানচলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে স্থানীয়দের প্রচেস্টায় রাস্তার মাটি অপসারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
রাইখালী ইউনিয়নের আরো বেশ কয়েকটি জায়গায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এবং অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
রাইখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শেখ মোহাম্মদ নাসের জানান, অত্র ইউনিয়নের রিফিউজি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সতিশ বড়ুয়া ও জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িটি পাহাড়ধসে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বর্তমানে তারা অসহায় জীবন যাপন করছে। এখনো কোন সহযোগিতা পায়নি।
রাইখালী ইউনিয়নের নারানগিরির স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাশেদ জানান, তাদের চলাচলের একমাত্র বাঁশের সাঁকোটি পাহাড়ি ঢলে আবারো ভেঙে গেছে, যেটি গত কয়েকদিন আগে মেরামত করা হয়েছিলো। এখন দুর্ভোগে হাজারো মানুষ।
এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা ইউএনও মুনতাসির জাহান জানান, চলমান টানা বর্ষনে পাহাড় ধসের ঝুঁকি মোকাকেলায় কাপ্তাইয়ে ১৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাহাড়ে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে প্রতিনিয়ত নিরাপদে আশ্রয়ে চলে আসতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে যাদের ঘরবাড়ি পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তাদেরকে সরকারি খাদ্য সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ বাসিন্দাদের খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। অনান্য ইউনিয়ন পরিষদ কতৃক ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর তালিকা দেওয়া হলে, তাদেরও এই সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন