চবি ছাত্রীকে চলন্ত বাসে যৌন হয়রানির চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৩
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে সোহাগ পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে যৌন হয়রানি চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।
রবিবার (১ ডিসেম্বর) দামপাড়া পুলিশ লাইনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) আমেনা বেগম।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী সোহাগ পরিবহন বাসের বাসচালক এহছান করিম (৩২), সুপারভাইজার আলী আব্বাস (৩০) ও হেলপার মো. ভুট্টু (৩০)। তাদের সবার বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায়।
আমেনা বেগম বলেন, পটিয়া থানার মুন্সেফ বাজার এলাকা থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটের স্থানীয় সোহাগ এক্সপ্রেস নামের একটি বাসে উঠে শহরে আসার উদ্দেশ্য। পরে বাসটি নতুন ব্রীজ এলাকায় আসলে অধিকাংশ যাত্রী নেমে যায়। তখন বাকি যাত্রীরাও চান্দগাঁওয়ে নেমে যায় গেলে ওই ছাত্রী বাকি যাত্রীদের সাথে নেমে যেতে চায়। কিন্ত বাসের হেলপার ছাত্রীটির গন্তব্য ২ নং গেইট নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।
আমেনা বেগম বলেন, এরপর হেলপার বাসের দরজা বন্ধ করে দেয়। তখন ওই ছাত্রী দরজা বন্ধের কারণ জানতে চাইলে ড্রাইভার গাড়ি আরো দ্রুত চালাতে থাকে। তখন ছাত্রীটি ৯৯৯ এ কল দিতে চাইলে বাসের সুপারভাইজার তার মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন মেয়েটি দরজায় গিয়ে দরজা খোলার জন্য চিৎকার করে বাসের দরজায় লাথি দিতে থাকে। তার চিৎকারে আসামিরা দরজা খুলে দিতে বাধ্য হয়।
তিনি বলেন, পরে এই সংবাদটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে পুলিশ তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে চান্দগাঁও থানার বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের স্থানীয় সোহাগ এক্সপ্রেস বাসের চালক এহসান করিম, সুপারভাইজার আলী আব্বাস ও হেলপার ভুট্টুকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।


আপনার মতামত লিখুন