মিরসরাইয়ে ট্রেন-ট্রাকের সংঘর্ষ, নিহত ১
মিরসরাইয়ের রেলক্রসিংয়ে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশিতা এক্সপ্রেস ও বারইয়ারহাটমুখী বালু ভর্তি ড্রাম ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপার নিহত হয়েছেন। তার নাম মুরসালিন (১৮)। গুরুতর আহত হয়েছেন ট্রাক ড্রাইভার শাহ আলম। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপরদিকে ঘটনার সময় রেল গেটের বার না ফেলে দায়িত্বরত গেটম্যান ঘুমাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
আজ ২২ জুন, বুধবার রাত ১টার দিকে বারইয়ারহাটে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশিতা এক্সপ্রেস ও বারইয়ারহাটমুখী বালু ভর্তি ড্রাম ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খোরশেদ আলম।
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী তূর্ণা নিশিতা ট্রেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনটির সংঘর্ষ হয়। গেটম্যান রেললাইনের দুইপাশের গেটবার না ফেলায় ট্রাকটি রেললাইনের ওপর উঠে যায়। ফলে ঢাকামুখী তূর্ণা নিশিতা এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ট্রাকটি দূরে গিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা ট্রাকের হেলপার মুরসালিনকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষে ট্রেনের তেমন কোন সমস্যা হয়নি। সংঘর্ষের পর ১০ মিনিটের মতো ট্রেনটি দাঁড়িয়েছিল। এরপর গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
উল্লেখ্য, গেটম্যানের দায়িত্ব অবহেলার কারণে রেলক্রসিংয়ে বেড়ে চলেছে দুর্ঘটনা। অপরদিকে গেটবার নামানো হলেও ফাঁকা জায়গায় পেলে চলে যায় হালকা যানবাহনগুলো। তবে সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য যে বেশি আসলে সেটাই আমাদের বোধগম্য নয়। আগে আগে যাওয়ার প্রবণতার কারণে ঘটছে ঘটনা-দুর্ঘটনা। সুশীলসমাজের অভিমত, নিজেদের চিন্তা-চেতনার পরিবর্তন না আসলে কিংবা নিজেরা সচেতন না হয়ে এই দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব না। পাশাপাশি রেলক্রসিংএ দায়িত্বরতদেরও দায়িত্বশীলতার সহিত কাজ করতে হবে। এই দুই চেতনাবোধের উদয় না হলে দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করেও সফলতা আসবেনা।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন