খুঁজুন
সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লামায় স্যাপলিং প্রকল্পের বিনামুল্যে টিকা পেল ৫শ গবাদি পশু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৬:১০ অপরাহ্ণ
লামায় স্যাপলিং প্রকল্পের বিনামুল্যে টিকা পেল ৫শ গবাদি পশু

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি : বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ৫শ গবাদি পশুকে বিনামুল্যে টিকা প্রদান করেছে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর ও বেসরকারী সংস্থা স্যাপলিং প্রকল্প।

উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের পোলাও পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রকল্পের সুবিধা ভোগীদের গবাদি পশুকে এ টিকা প্রদান করা হয়।

উপ-সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা উশে মার্মা মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ইউনিয়নের ৪শ গরু ও ১শ ছাগলকে টিকা প্রদান করেন।

এ সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. কামাল উদ্দিন, স্যাপলিং প্রকল্পের টেকনিক্যাল কর্মকর্তা মো. শরীফ, সুপার ভাইজার উসাইমং, মাঠ সহায়ক বাবু মং মার্মা, কমিউনিটি হেলথ সার্ভিস ওয়ার্কার্স জমাইতি ত্রিপুরা, মাওয়াং চাক ও সেলিনা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় বেসরকারী সংস্থা তাজিংডং এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে বলে জানা গেছে।

Feb2

রাউজানে যুবদল নেতা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী রাঙামাটিতে গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
রাউজানে যুবদল নেতা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী রাঙামাটিতে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী ওরফে মাসুদ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মো. আইয়ুবকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭।

রবিবার (২১ জুন) ভোরে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়নের দূরছড়ি এলাকায় তার ভগ্নিপতির বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন। তিনি জানান, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে যুবদল নেতা মাকসুদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার পর থেকেই তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ভোর ৬টার দিকে বাঘাইছড়ির দূরছড়ি এলাকায় আইয়ুবের ভগ্নিপতি শাহ আলমের বাড়িতে অভিযান চালায় র‍্যাব-৭-এর একটি দল। সেখান থেকে তাকে আটক করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।

তিনি আরও জানান, যুবদল নেতা মাকসুদ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে আইয়ুবের নাম আসে। তাকে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে একটি ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আসা পাঁচ অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মাজারে স্বচ্ছতার উদ্যোগের মধ্যেই ডিসি সারওয়ারকে প্রত্যাহার, নানা প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ণ
মাজারে স্বচ্ছতার উদ্যোগের মধ্যেই ডিসি সারওয়ারকে প্রত্যাহার, নানা প্রশ্ন

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে হঠাৎ প্রত্যাহার করাকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নেওয়া তার উদ্যোগের সঙ্গে এই প্রত্যাহারের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

যদিও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এটিকে সরকারি কর্মচারীদের নিয়মিত বদলি প্রক্রিয়ার অংশ বলে উল্লেখ করেছেন।

রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে এতে প্রত্যাহারের কারণ বা তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল সোমবারের মধ্যেই তাকে মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের ঘটনায় নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, সম্প্রতি সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেন তিনি।

গত ১২ জুন দুই মাজার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগের কথা জানান। এর ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার মাজারের পুরোনো দানবাক্সগুলো সিলগালা করা হয় এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। গতকাল শনিবার ডেগের ওপর সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়।

জানা গেছে, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের কাজ চলাকালে মাজারের আয়-ব্যয়ের অসচ্ছতার বিষয়টি সামনে আসে। পরে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় দুই মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হিসাব চাওয়া হলে তারা কোনো সন্তোষজনক হিসাব দেখাতে পারেনি।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাজারের দান-খয়রাতের অর্থের একটি অংশ কয়েকটি প্রভাবশালী পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মাজারের আয়ে স্বচ্ছতা আনার অংশ হিসেবেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সারওয়ার আলম। তবে মাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাজারবিরোধী একটি চক্রের ইন্ধনে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও রেওয়াজ ভেঙে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে এটি করা হয়েছে। এর মধ্যেই আজ সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের আদেশ জারি করা হয়।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, মাজার–সংক্রান্ত পদক্ষেপের কারণেই কি তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, তাকে পরবর্তীতে পদায়নের জন্য সংযুক্ত করা হয়েছে। এরপর পদায়ন দেওয়া হবে।

মাজার ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই প্রত্যাহার নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সরকারি কর্মচারীদের বদলি একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটা আসবে, যাবে; অনেকেই তো বদলি হচ্ছে, আরও হবে। এটা চলমান (প্রক্রিয়া)। এটা তো আর ব্যতিক্রম কিছু না। আর এসব পদে তো সবসময় এগুলো (বদলি/প্রত্যাহার) হচ্ছে। নতুন কিছু না এটা।

২৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম একসময় র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দুর্নীতি ও ভেজালবিরোধী অভিযানের কারণে আলোচনায় আসেন। ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। তিনবার বঞ্চিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট তিনি উপসচিব পদে পদোন্নতি পান।

পরে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

জাফলং ও সাদাপাথর এলাকায় পাথর লুট নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে প্রত্যাহার করেছিল সরকার। এরপর সেখানে নিয়োগ পান সারওয়ার আলম।

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার (২১ জুন) সকালে দেশটির আল শাহানিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ভারতীয় এক নাগরিকও নিহত হন।

নিহত পাঁচ বাংলাদেশি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন- জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মোস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে প্রবাসীরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে আল শাহানিয়া এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মরদেহ উদ্ধার করে কাতারের একটি হাসপাতালের মর্গে রেখেছে। বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক।

তিনি বলেন, কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি তাওহীদুল ইসলাম বলেন, কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের এলাকার পাঁচজন প্রবাসীর মৃত্যুতে পুরো কানাইঘাটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রবাসী সংগঠন ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে স্বজনরা শেষবারের মতো তাদের দেখতে পারেন এবং যথাযথ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করা যায়।

এদিকে, বাংলাদেশিদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা আমাদের এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে কাতার দূতাবাসের শ্রম উইংকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে সরকার নিহতের পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।