খুঁজুন
, ,

সরকারের কতিপয় মন্ত্রীর অতিকথনও পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে উস্কানি দিচ্ছে-সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 3 December, 2019, 6:41 pm
সরকারের কতিপয় মন্ত্রীর অতিকথনও পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে উস্কানি দিচ্ছে-সুজন

২৪ ঘন্টা চট্টগ্রাম ডেস্ক : সরকারের কতিপয় মন্ত্রীর অতিকথনও পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে উস্কানি দিচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, এখনই যদি দ্রব্যমূল্য সন্ত্রাসীদের দমন করা না যায় তাহলে আগামী রমজান মাসে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আমরা আশংকা প্রকাশ করছি। তিনি দ্রব্যমূল্য সন্ত্রাসীদের মুখোশ খুলে দেওয়ার জন্য সরকারের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান।

অব্যাহতভাবে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ বিকেলে চট্টগ্রাম পেস ক্লাব চত্ত্বরে ‘‘পেঁয়াজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঘৃণার আগুন ছড়িয়ে দাও” শীর্ষক প্রতিবাদী কর্মসূচী পালনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। পেঁয়াজ বিহীন রান্না করা খাবার

মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর প্রেস ক্লাবের সামনে জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগ কর্তৃক আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পেঁয়াজ সন্ত্রাসীদের কুশপুত্তলিকায় ঘৃণা প্রদর্শিত হয়। এছাড়াও প্রতিবাদী সভা শেষে পেঁয়াজ বিহীন মুরগীর মাংস, মাছ, পালং শাক, লাল শাক, নুডুলস, ছোলা, পাকুড়া ও পিয়াজুসহ নানান পদের রান্না পরিবেশন করা হয়।

চলাচলের উৎসুক সাধারন জনগন স্বতস্ফুর্তভাবে লাইন ধরে পেঁয়াজ বিহীন খাবারের স্বাদ গ্রহণ করেন এবং পেঁয়াজ বিহীন খাবারও যে এতো সুস্বাদুভাবে পরিবেশন করা যায় সেজন্য উদ্যোক্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ দিয়ে তারাও বাসায় পেঁয়াজ বিহীন রান্না করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বিকেল ৪টায় নগরীর প্রেস ক্লাব চত্বরে ব্যাতিক্রমী এ আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মিসেস হাসিনা মহিউদ্দিন।

প্রধান অতিথি সুজন নগরবাসীর উদ্দ্যেশে বলেন, পেঁয়াজ রান্নার একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। কিন্তু কি কারণে মাসের পর মাস এভাবে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করা হবে তা আমাদের বোধগম্য নয়। ইতিমধ্যে আমরা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা মোতাবেক পেঁয়াজ ন খাইয়্যুম পেঁয়াজ ন কিইন্যুম শীর্ষক সচেতনতা সভা করেছি এবং জনগনকে পেঁয়াজ বিহীন খাবার রান্না করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম।

জনগনও এতে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে। তারপরও পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ জনগন উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি সমাজ এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থরে লুকিয়ে থাকা স্বার্থান্বেষী একটি মহল প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানকে বাঁধাগ্রস্থ করতে পরিকল্পিতভাবে এ মূল্য বৃদ্ধিও চক্রান্ত করছে।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা পেঁয়াজ কারবারির সাথে জড়িত বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করেছে তারপরও কি কারণে তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না তা জনগন জানতে চায়। এদের আশ্রয়দাতা কারা তা জনসন্মূখে প্রকাশ করা আজ সময়ের দাবী। খোরশেদ আলম সুজন

তিনি আরো বলেন আমরা আশংকাজনক হারে লক্ষ্য করছি ভোগ্যপণ্যের গুজব রটিয়ে চক্রান্তকারীরা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এরা দেশ ও জাতির শত্রু। এরা জনগনের দুশমন। এদের বিরুদ্ধে সবাইকে এক হওয়ার জন্য উদাত্ত আহবান জানান সুজন।

সভার বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মিসেস হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন পেঁয়াজকে কেন্দ্র যে সিন্ডিকেট প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ধুলিস্যাত করে দিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আমরা চট্টগ্রামের নারী সমাজ একতাবদ্ধ। আমরা পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত সবার ঘরে ঘরে পেঁয়াজ বিহীন রান্না করবো। পেঁয়াজসহ সকল দ্রব্যমূল্যের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে থেকে আমাদের প্রতিবাদ জানিয়ে যাবো।

নাগরিক উদ্যোগের উপদেষ্ঠা হাজী মো. ইলিয়াছের সভাপতিত্বে এবং সমন্বয়কারী মোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মমতাজ খাঁন, মহিলা কাউন্সিলর ওয়াসা বোর্ড মেম্বার আফরোজা কালাম, শারমিন সুলতানা ফারুক, মিথুন বড়ুয়া, বেসরকারি কারা পরিদর্শক আজিজুর রহমান আজিজ প্রমূখ।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মসিউর রহমান চৌধুরী, আব্দুর রহমান মিয়া, নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী মো. হোসেন, আব্দুর রহমান মিয়া, সাইদুর রহমান চৌধুরী, মো. নিজাম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক শওকত হোসাইন, ফরহান আহমেদ, মোঃ সালাউদ্দিন, আবুল কালাম বিএসসি, আবুল হাসেম বাবুল, মিসেস তাহমিনা বেগম, শফিউল আজম বাহার, মহিউদ্দিন শাহ, মাঈনুল হক লিমন, এনামুল হক মিলন, জাহেদ আহমদ চৌধুরী, এ এস এম জাহিদ হোসেন, আবুল হাসান সৈকত, কাউন্সিলর নীলু নাগ, ডা. অঞ্জন দাশ, অধ্যক্ষ কামরুল হোসেন, নাজিম উদ্দিন, সমীর মহাজন লিটন, সাইফুল্লাহ আনছারী, মো. মুরাদ, ফরহাদুল ইসলাম রিন্টু, রকিবুল আলম সাজ্জী, রাজীব হাসান রাজন, অনির্বান দাশ বাবু, শেখ মামুনুর রশীদ, ফারজানা মুন্নী, সোলেমান সুমন, শাহনেওয়াজ রাজীব, পাভেল ইসলাম, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি এম ইমরান আহমেদ ইমু, তালেব আলী, নাঈম রনি, জয়নাল উদ্দিন জাহেদ, আফম সাইফুদ্দীন, নোমান চৌধুরী, সুজন বর্মন, ইরফানুল আলম জিকু, মিনহাজুল আবেদীন সানি, খোরশেদ আলম, হাসানুল আলম সবুজ, আবু তারেক রনি, এহসানুল কবির ববি, আবু সালেহ রিমন, শেখর দাশ, মো. ওয়াসিম, বিকাশ দাশ, আব্দুল জাহেদ মনি, সুভাষ মল্লিক সবুজ, রাকিবুল হাসান, ফয়সাল সাব্বির, ইবনে জামান ডায়মন্ড, মীর মো. ফয়সাল, আকবর হোসেন রাজন, মিজানুর রহমান প্রমূখ।

Feb2
Feb2

বাঁধনের বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 9:58 pm
বাঁধনের বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তবে সেখানে বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর হামলা করেছিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দেশে ফেরার পর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন বাঁধন নিজেই।

পোস্ট দিয়ে বাঁধন লিখেছেন, ‘আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিতে আমাদের বাসায় এসেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবির সাহেব। তার এই আন্তরিকতা, সৌজন্য এবং দায়িত্বশীলতার জন্য আমি গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ।’

তার কথায়, ‘এই কঠিন সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেমন আশ্বস্ত করেছে, তেমনি একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আমার আস্থাকেও আরও দৃঢ় করেছে। আমি বিশ্বাস করি, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জনগণ। আর সেই জনগণের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র যখন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তখন নাগরিকের আস্থার জায়গাটি আরও শক্তিশালী হয়।’

তিনি বলেন, ‘ইতালিতে সাম্প্রতিক কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার, মাননীয় সরকার প্রধান, বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালীয় সরকার ও পুলিশ বিভাগ এবং দেশে-বিদেশে যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং মানবিক সহায়তা ও সমর্থন দিয়েছেন আমি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘এই অভিজ্ঞতা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে অন্যায়, ভয় ও বিভাজনের বিরুদ্ধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য, সাহস এবং মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ। মতের পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একজন নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কোনো আপস হতে পারে না।’

শেষে বলেন, ‘আজ আমরা আবারও দেখেছি, মানুষ যখন ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’

দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শহরের জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 7:40 pm
দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শহরের জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

একসময় চট্টগ্রাম নগরের অলিগলিতে ছড়িয়ে ছিল পুকুর, দিঘি, ডোবা ও জলাধার। নগর যত বেড়েছে, ততই সংকুচিত হয়েছে এসব প্রাকৃতিক জলভূমি। কোথাও উঠেছে বহুতল ভবন, কোথাও দোকান-গুদাম, কোথাও গড়ে উঠেছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। এতে শুধু দেশীয় মাছের আবাসস্থলই হারায়নি, বৃষ্টির পানি ধারণ ও ভূগর্ভে পানি প্রবেশের স্বাভাবিক ব্যবস্থাও ক্রমে দুর্বল হয়েছে। এমন বাস্তবতায় চট্টগ্রামের একটি শতবর্ষী ঐতিহাসিক জলাধারে মাছের পোনা অবমুক্ত করে জলজ জীববৈচিত্র্য ও নগরের জলাধার সংরক্ষণের গুরুত্ব সামনে আনল চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার ঐতিহাসিক আগ্রাবাদ ডেবায় এ মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি আয়োজন করে মহানগর বিএনপি।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ এমপি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য ও জীবিকার সঙ্গে মৎস্যসম্পদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির একটি বার্তা দেওয়া হলো।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সারাদেশে খাল খননসহ নদী-নালা দখলমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। নদী ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা গেলে দেশীয় মাছের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকাও আরও সমৃদ্ধ হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে নাজিমুর রহমান বলেন, নদী, খাল-বিল ও জলাশয় দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে পরিকল্পিতভাবে পোনা অবমুক্তকরণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার সারাদেশে নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন এবং দখলমুক্ত করার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের এই পোনা অবমুক্তকরণ। নদী ও জলাশয়ে দেশীয় মাছের নিরাপদ বিচরণ ও প্রজননের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে দেশের মৎস্যসম্পদ আরও সমৃদ্ধ হবে। এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শওকত আজম খাজা ও ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মহানগর বিএনপির সদস্য নুরুদ্দীন হোসেন নুরু, আবু মুসা ও জাফর আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক হাজী নুরুল হক, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবদুল আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া, মো. জাফর, সাইদুর রহমান, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, তৈয়ব চৌধুরী, মো. শাহজাহান ও সেকান্দর সুমনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বার্থের চর্চা ভুলে বিবেকের চর্চা করুন: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 7:24 pm
স্বার্থের চর্চা ভুলে বিবেকের চর্চা করুন: ডিসি জাহিদ

সমাজে মানবিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঠেকাতে ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা থেকে বেরিয়ে বিবেকের চর্চায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, অন্যের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করলেও নিজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এই অবস্থার পরিবর্তন প্রত্যেককে নিজের জায়গা থেকেই শুরু করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার পটিয়ায় এক অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সুধীজন ও উপকারভোগীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এমন একটা সময় পার করছি, যখন মূল্যবোধ ও মানবিকতার ভয়াবহ অবক্ষয় হচ্ছে। আমরা বিবেকের চর্চা থেকে দূরে সরে এসেছি। আমাদের চিন্তাভাবনা এখন নিজের স্বার্থের চর্চাকে ঘিরে।’

মানুষ অন্যের কাছ থেকে সেবা নেওয়ার সময় নিজের প্রাপ্তির বিষয়ে সচেতন থাকলেও অন্যকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে একই দায়িত্ববোধ অনেক সময় দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সেবা যিনি দিচ্ছেন এবং যিনি নিচ্ছেন, দুজনই একই সমাজের অংশ। তাই অন্যকে দোষারোপ না করে প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব নিয়ে ভাবতে হবে।

‘করিম কী করল, রহিম কী করল—সেটা না ভেবে আমার কী করা উচিত, সেটি যদি আমি ভাবি, তাহলে পরিবর্তন হবে,’ বলেন তিনি।

মানুষের মধ্যে পারস্পরিক মমত্ববোধ কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিজের স্বার্থের বাইরে সমাজ ও মানুষের প্রতিও মায়া ও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ৪০ কেজি ওজনের একটি বস্তা তুলতে কষ্ট হলেও ৬০ কেজি ওজনের নিজের সন্তানকে কোলে নিতে সেই কষ্ট অনুভূত হয় না। কারণ, সন্তানের প্রতি মায়া আছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি দপ্তরে গেলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন—এমন আস্থা এখনো পুরোপুরি তৈরি করা যায়নি। শুধু সকাল ৯টায় অফিসে এসে বিকেল ৫টায় চলে যাওয়ার মানসিকতা নিয়ে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘গভীরভাবে ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।’

সরকারি কর্মকর্তারা শুধু রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নেন না উল্লেখ করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বশীল পদে থাকার কারণে তাঁরা ও তাঁদের পরিবার সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা পান। তাই সমাজ ও মানুষের প্রতিও তাঁদের দায়িত্ব রয়েছে। একজন কর্মকর্তা তাঁর কর্মক্ষেত্রে নতুন কী যোগ করলেন এবং তাঁর কাজে সমাজ ও দেশ কীভাবে উপকৃত হলো, সেটিও ভাবতে হবে।

সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, আইনের বাইরে গিয়ে কারও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে আইনের মধ্যে যতটুকু করা সম্ভব, তা করতে হবে। সমাধান সম্ভব না হলেও সেবাপ্রত্যাশীর কথা শুনে তাঁকে সঠিক পরামর্শ দিতে হবে।

সরকারি প্রকল্পে অর্থের অপচয় রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না; সেই প্রকল্প সমাজ ও মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলছে, তা দেখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কোনো অর্থের যেন অপচয় না হয়। প্রতিটি চালের হিসাব আমরা চাই। প্রত্যেক জায়গায় সততা ও স্বচ্ছতা দেখতে চাই।’

পদ ও দায়িত্ব স্থায়ী নয়—এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, একসময় চাকরি শেষ হবে, চেয়ারও থাকবে না। তখন যেন আফসোস করতে না হয় যে দায়িত্বে থাকার সময় মানুষের জন্য আরও কিছু করা যেত।

তরুণ প্রজন্মকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু ভালো ফল ও ডিগ্রি অর্জনই শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে পারে না। তরুণদের মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একজন শিক্ষার্থী ভালো ফল করার পাশাপাশি সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠছেন কি না, সমাজের জন্য কাজ করছেন কি না এবং মানুষের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ তৈরি হচ্ছে কি না—সেটিও দেখতে হবে।

সন্তান ও আর্থিক সামর্থ্য থাকার পরও অনেক মা-বাবার পাশে কেউ থাকেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন তাঁদের বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হচ্ছে, সেটিও সমাজকে ভাবতে হবে। পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নতুন প্রজন্মের সামনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে হবে। শুধু ভালো হওয়ার উপদেশ না দিয়ে নিজেদের আচরণের মধ্য দিয়েও সেই দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে।

মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মাদকসেবীদের ধরে নিয়ে এলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। পরিবার ও সমাজে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

অভিভাবকদের নিজেদের আচরণেও পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি রাত ১২টায় ফিরবেন আর বলবেন, আমার সন্তান সন্ধ্যা ৬টায় ফিরবে—এটা কি হয়? আপনাকে পরিবর্তন হতে হবে, আমাকে পরিবর্তন হতে হবে।’

বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংক ও এস আলমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের প্রসঙ্গও তোলেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মানবিক বিবেচনায় তাঁদের কথা শোনা হয়েছে এবং বিষয়টি যথাযথ পর্যায়ে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় করণীয় নিয়ে চেষ্টা করা হবে।

তবে দাবি আদায়ে আইন লঙ্ঘন বা সড়ক বন্ধ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন।

পটিয়াকে ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে এটি বড় একটি এলাকা। স্থানীয় সাংবাদিকেরা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন, সেগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

বক্তব্যের শেষ দিকে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু একে অন্যকে দায়ী করে সমাজের পরিবর্তন হবে না। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

‘আমরা সমাজের চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করে আগামী দিনে একটি নতুন বাংলাদেশ, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে আপনি-আমি এবং আমাদের সন্তানেরা নিরাপদে বসবাস করবে,’ বলেন জাহিদুল ইসলাম।