খুঁজুন
, ,

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ‘মিরাকল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে:শেখ হাসিনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 5 December, 2019, 1:26 am
বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ‘মিরাকল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে:শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুনি, আগুন সন্ত্রাসী, গ্রেনেড হামলাকারী ও এতিমের টাকা লুটকারীরা যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর প্রতি আমার আহ্বান আগুন সন্ত্রাসী, গ্রেনেড হামলাকারী, এতিমের অর্থ আত্মসাতকারী, সুদখোর ও ঘুষখোররা যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।’

প্রধানমন্ত্রী বুধবার (৪ ডিসেম্বর) তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠকে সূচনা বক্তব্য প্রদানকালে একথা বলেন।

আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন দেশ এগিয়ে যায় ও মর্যাদা অর্জন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী খালেদা জিয়ার মত অন্যান্যের আমলে দেশের কোন উন্নয়ন হয়নি।

তিনি বলেন, ‘বরং বিএনপি যখন ক্ষমতায় এসেছে, তখন দেশ সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে গেছে।,

খালেদা জিয়াকে সন্ত্রাসবাদের গডফাদার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে নিরীহ মানুষদের হত্যা করার চেয়ে বড় কোন সন্ত্রাস নেই। খালেদা জিয়ার নির্দেশে পরিচালিত আগুন সন্ত্রাসে পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ৫শ’ লোক নিহত এবং তিন হাজারের বেশি আহত হয়েছে।’

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান চালিয়ে যাবার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের সুফল পেতে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান অবশ্যই অব্যাহত থাকবে।’

এতিমের অর্থ আত্মসাতের জন্য খালেদা জিয়ার কঠোর সমলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি প্রধান ও তারেক রহমান অর্থ আত্মসাতে জড়িত ছিলেন এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দুর্নীতির পৃষ্টপোষকতা করেছেন। ‘খালেদা জিয়া নিজে এতিমদের অর্থ আত্মসাত করেছেন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা জনগণের কল্যাণ চায়নি। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন।

২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে বিএনপি’র আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ তাদের ভোট দেবে না জানতে পেরে তারা সংসদীয় নির্বাচন নস্যাৎ করার জন্য বাস, লঞ্চ ও ট্রেনে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে।

তিনি বলেন, ‘বিদেশী জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী বিএনপি জানতো যে তারা ক্ষমতায় আসবে না। তাই তারা ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার নামে প্রতিটি সংসদীয় আসনের বিপরীতে তিনজন করে মনোনয়ন দিয়ে বাণিজ্য করেছে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি সারা দেশে নৈরাজ্য চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়ার জন্য বিএনপি’র সমালোচনা করে ইঙ্গিত করেন যে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান জড়িত ছিলেন। জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়া, খালেদা ও তারেক খুনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি জানেন না লোকজন কেন আগুন হামলা চালিয়ে কয়েকশ’ লোক হত্যাকারী খালেদা জিয়ার মতো একজন দুর্নীতিবাজের চিকিৎসা নিয়ে কুম্ভিরাশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে।

বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে ‘ক্লিনহার্ট’ অভিযান চালানোর নামে মূলত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যা এবং হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দেয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বামীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে খালেদা জিয়া খুনিদের বৈধতা দিয়েছেন।’ এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া্উর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে সেনা ও বিমান বাহিনী কর্মকর্তাসহ কয়েক হাজার লোককে হত্যা করেছেন এবং বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের বাঁচাতে ইনডেমনিটি বিল পাস করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালিত ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের ‘মিরাকল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আবারো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত, আমির হোসেন আমু এমপি ও তোফায়েল আহমেদ এমপি, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডেয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, মোহাম্মদ নাসিম এমপি, কাজী জাফরুল্লাহ, নূরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, ড. মো. আবদুর রাজ্জাক এমপি, লে. ক. (অব.) মো. ফারুক খান এমপি, রমেশ চন্দ্র সেন এমপি, এড. আবদুল মান্নান খান ও এড. আবদুল মতিন খসরু এমপি ও সিনিয়ার নির্বাহী সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি অন্যান্যের মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে খালেদা জিয়া কারাভোগ করছেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ মামলা দায়ের করেছে।

তিনি বলেন, ‘কারাগারে খালেদা জিয়াকে গৃহপরিচারিকা দিয়ে আমরা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। বিশ্বে এ ধরনের আর কোন দৃষ্টান্ত নেই।’ বিএনপি চেয়ারপার্সনের স্বাস্থ্য প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হাঁটুর সমস্যায় ভুগছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে তার হাঁটুতে সার্জারি করা হয়। পরে সৌদি আরবেও তার একই চিকিৎসা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত চক্রের দুঃশাসনের কথা ভুলে না যাওয়ার এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাদেরকে ভোট না দেয়ার জন্য দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, দুঃশাসনের কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি মাত্র ২৯টি আসন পেয়েছে।

তিনি প্রশ্ন করেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে যারা মাত্র ২৯টি আসন পায় এবং হত্যা ও আগুনসন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত হয় তারা কিভাবে জনগণের কাছ থেকে ভোটের এবং আবার ক্ষমতায় যাওয়ার আসা করতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির লক্ষ্য হচ্ছে দেশের চলমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা, যা তারা সবসময় করে আসছে। তিনি বলেন, তারা কখনো জনগণের ক্ষমতায়ন ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির বর্ণনা দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময়ই দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে আসছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসা মানে দেশ ও জনগণের উন্নয়ন হওয়া।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তাঁর সরকার, দল, বিদেশে বাংলাদেশ মিশন ও বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে। এ জন্য সরকার ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

Feb2
Feb2

মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:59 am
মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

দিল্লির রাজপথে সহিংস রূপ নেওয়া বিক্ষোভের পরদিন শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী ও সংগীতশিল্পী।

রাজধানীতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভের সমর্থনে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর ‘পুলিশের ধরপাকড়ের’ প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন ক্রমেই বেশিসংখ্যক তারকা ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব।

পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ, যিনি আগে এই বিক্ষোভ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন, মঙ্গলবার তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ইনস্টাগ্রামে এই গায়ক লেখেন, ‘যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।’

‘জনগণের কণ্ঠস্বর’কে ‘ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর’ আখ্যা দিয়ে দিলজিৎ কর্তৃপক্ষকে ‘শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অভিযোগ শোনার’ আহ্বান জানান। কৃষক আন্দোলনের সময় কথা বলে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা পাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই গায়ক বলেন, সে সময় তাকে অনেক ভুগতে হয়েছিল এবং ‘এবারও হয়তো আমাকে দেশদ্রোহী বলা হবে।’

অভিনেতা দম্পতি রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি’সুজাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং তাদের কথা শোনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই দম্পতি লেখেন, ‘আমরা আমাদের দেশের তরুণদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি জানাচ্ছি। তাদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত—উচ্চকণ্ঠে, স্পষ্টভাবে এবং ভয়হীনভাবে। তারাই আমাদের গণতন্ত্রের স্পন্দন এবং আমাদের জাতির ভবিষ্যতের প্রকৃত স্থপতি। আসুন, আমরা তাদের কথা শুনি, সমর্থন দিই এবং ক্ষমতায়ন করি। আমাদের তরুণদের শক্তি, সাহস ও স্বপ্নই সেই ভারত গড়বে, যে ভারতের স্বপ্ন আমরা দেখি।’

এর আগে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হওয়ার আগেই প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা-নির্মাতা প্রকাশ রাজ দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন।

এই বিক্ষোভ যে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে, সে বিষয়ে জোর দেন শাবানা আজমি। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি, সবাই একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য এসেছি। আমাদের দেশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার চর্চা করতেই এই জমায়েত। মহাত্মা গান্ধী আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হয়, আর আমরা সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এখানে এসেছি। কোনো ধরনের সহিংসতা সৃষ্টির বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য আমাদের নেই এবং আমরা এই আশাতেই দৃঢ়ভাবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি।’

সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অ্যাকশনের পর বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেক তারকা।

অভিনেতা হুমা কুরেশি বলেন, বিক্ষোভের এসব দৃশ্য তার মনে ‘দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে’। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘এমন পাশবিক বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জ’ তাকে ‘গভীরভাবে ব্যথিত করেছে’ বলে জানান তিনি।

চলচ্চিত্র রচয়িতা সুতপা সিকদার লিখেছেন, জবাবদিহি চাইতে আসা বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ছিলেন শিক্ষার্থী, যারা ‘পকেটে মাত্র ২০ টাকা’ আর ‘বুকভরা আশা’ নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এই তরুণেরা কেউ ‘প্রভাবশালী ধনী বাবার আদুরে সন্তান’ নন এবং ‘তাদের বাঁচাতেও কেউ আসেনি’।

সারা জীবন বাসের জন্য, ট্রেনের জন্য, ভর্তির জন্য কিংবা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই করে তারা টিকে থেকেছেন, এখানেও তারা সেভাবেই মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সুতপা।

অভিনেতা ও নির্মাতা নন্দিতা দাস জানিয়েছেন, যারা বিশ্বাস করেন মানুষ যখন সমবেত হতে পারে, কথা বলতে পারে, শুনতে ও শোনাতে পারে, তখনই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়—তিনি তাদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘গঠনমূলক ভিন্নমতই গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ভারতের ওপর আমরা বিশ্বাস রাখি, সেই ভারতের জন্য দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা করা সবার সঙ্গেই আমি আত্মিকভাবে আছি।’

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে অভিনেতা ভূমি পেডনেকার বলেছেন, সহিংসতা কখনো কোনো সমাধান হতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসংগতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:31 am
ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ইরানে টানা ১১তম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও হ্রাস করার লক্ষ্যে দেশটির বিরুদ্ধে টানা একাদশতম দিনের মতো বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক অভিযানকেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, ইরানের রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বুশেহরের কিছু অংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিকের আশপাশেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর ফার্স নিউজকে বলেন, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের নিকটবর্তী এলাকাগুলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী উত্তর-পশ্চিম ইরানের তাবরিজের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি বলেছে, স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৪০ মিনিটে এ হামলা চালানো হয়। এটি শহরের নিকটবর্তী একটি সামরিক এলাকায় চালানো হলেও শহরের ভেতরে কোনো হামলা হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। এই মাসে মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরান বারবার হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, পেন্টাগনের অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলার তহবিল প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেগসেথের এ ঘোষণার পর তিনি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘খুব শিগগিরই এবং খুব জোরালোভাবে’ পিক্যাক্স মাউন্টেন নামের একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালালে এ অঞ্চলে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে।

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।