খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক ব্যক্তি কোম্পানী খোলার সুযোগ রেখে কোম্পানী আইনের খসড়ার অনুমোদন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
এক ব্যক্তি কোম্পানী খোলার সুযোগ রেখে কোম্পানী আইনের খসড়ার অনুমোদন

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগকে আরো এগিয়ে নিতে ‘এক ব্যক্তি কোম্পানি’ খোলার সুযোগ রেখে কোম্পানী (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন,২০২০ এর খসড়ার চুড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ সকালে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে সচিবালয়ে বৈঠকরত মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সচিবদের সঙ্গে যোগ দেন।

পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘এক ব্যক্তির কোম্পানি’ হল সেই কোম্পানি, যার বোর্ডে সদস্য থাকবেন কেবল একজন। পরিচালক এবং প্রধান ব্যক্তি একজন থাকেন বলে এ ধরনের কোম্পানি পর্ষদ সভা করা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নিয়মের ছাড় পাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এক ব্যক্তির কোম্পানি- এটা আমাদের পারসেপশনে ছিল না। এটা আমাদের কাছে বিভিন্ন দিক থেকে প্রস্তাব এসেছে যে এক ব্যক্তিকে কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধন করা হলে অনেক বিনিয়োগ আসবে।’

সে কারণে এক ব্যক্তির কোম্পানির নিবন্ধন, পরিচালনা ও বিধি-বিধান সংশোধিত আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হস্তান্তরকারীর ব্যক্তিগত উপস্থিতি এবং কমিশনের মাধ্যমে হস্তান্তর দলিলে স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে।’

তিনি আরো বলেন,‘কোম্পানি উঠে গেলে পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা দেখেছি যখন কোম্পানি উঠে যায় তখন পাওনাদাররা ঘোরে।’

কোম্পনি আইন সংশোধন করে অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধনের বিধান রাখা হচ্ছে বলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিব উল্লেখ করেন।

খন্দকার আনোয়ার বলেন, বর্তমান আইনে ১৪ দিনের নোটিসে বোর্ড মিটিং করার বিধান ছিল, সেটাকে এখন ২১ দিন করা হচ্ছে।

‘এক ব্যক্তির কোম্পানি খোলার সুযোগ এবং ২১ দিনে বোর্ড মিটিংয়ের ব্যবস্থা রাখায় বিশ্ব ব্যাংকের ব্যবসায় পরিবেশের সূচকে আমাদের পয়েন্ট বেড়ে যাবে.’বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর কোম্পানি আইন সংশোধন প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা। এখন এই আইন সংশোধনীর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া তা পাসের জন্য সংসদে তোলা হবে।

এদিন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কাজ সুনির্দিষ্ট করে দিতে ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০২০, এর খসড়ার চুড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

আইনে বলা হয়েছে-‘আইন লঙ্ঘন করে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ভিসা বা রিক্রুটিং কাজ পরিচালনা করলে অনধিক ৬ মাসের কারাদ- বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ট্রাভেল এজেন্সির কাজ সুস্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে, তারা শুধু ভিসা করবে।’

তিনি বলেন, ‘আইন বা বিধিমালা লঙ্ঘন করলে অনধিক ৬ মাসের কারাদ- বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ে দ-িত হবে, এরকম বিধান রাখা হয়েছে। এটা করা হয়েছে এ কারণে যে, অনেক সময় ট্রাভেল এজেন্সি রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজ করে, এতে আর তা করতে পারবে না। যদি করে তাহলে তাকে জরিমানা দিতে হবে। কারণ, রিক্রুটিং এজেন্সির রেজিস্ট্রেশন আলাদা।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অনেক সময় দেখা যায় যে, ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ডুয়েল ফাংশন করে ফেলে। অথচ, তার কাজ হলো শুধু মানুষের টিকিট করে দেওয়া। কিন্তু রিক্রুটিং, অ্যাপয়মেন্ট, ভিসা নিয়ে অনেক ট্রাভেল এজেন্সি হ্যান্ডেল করে। যার ফলে আইনগতভাবে তাদের ধরা যেত না এতদিন। কিন্তু এখন থেকে নিশ্চিত হবে যে ট্রাভেল এজেন্সি ভিসা বা রিক্রুট হ্যান্ডেল করতে পারবে না।

অনুমোদন সাপেক্ষে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো দেশে-বিদেশে শাখা খুলতে পারবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনের সংশোধনীতে ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন হস্তান্তর এবং শাখা কার্যালয় স্থাপনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। আগে হস্তান্তরের কোনো বিধান ছিল না।

খন্দকার আনোয়ার আরো বলেন, আগে নিবন্ধনের দরখাস্ত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফলো না করলে তা বাতিল হয়ে যেত। এখন প্রভিশন রাখা হয়েছে- দরখাস্ত করার পর ভ্যালিড কারণে ফলো করতে না পারলে পরবর্তীতে জরিমানা দিয়ে আবার ছয় মাস পর্যন্ত সময় পাবে। একই সাথ মামলা নিষ্পত্তি করতে সিআরপিসি থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এদিন মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বানভাসি মানুষের যেন ত্রাণের কোনো ঘাটতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুত থাকার ও নির্দেশ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে যে, রিলিফ ও রেসকিউ অপারেশন- এগুলো কীভাবে হচ্ছে, এ বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

এছাড়া, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন ফ্রান্স এবং সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ’র মধ্যে স্বাক্ষরের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘টেকনিক্যাল কোঅপারেশন এগ্রিমেন্ট’র খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়। একইসঙ্গে প্রতি বছর ৪ জুনকে ‘জাতীয় চা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা এবং দিবসটি উদযাপনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কতৃর্ক জারিকৃত এতদসংক্রান্ত পরিপত্রের ‘খ’ ক্রমিকে উহা অন্তভর্’ক্তকরনের প্রস্তাবও এদিন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।