গমের অত্যাধুনিক স্টিলের গুদাম হচ্ছে চট্টগ্রামে
বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত কংক্রিট গমের সাইলো ক্যাম্পাসে নির্মাণ করা হচ্ছে স্টিলের তৈরি গমের গুদাম। ১ লাখ ১৪ হাজার ৩’শ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এ সাইলোতে কোনো ধরনের রাসায়নিক ও কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই দীর্ঘদিন গম সংরক্ষণ করা যাবে। এর ফলে বজায় থাকবে সঠিক পুষ্টিমান। ২৪ জুলাই (রোববার) চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গুদাম নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাইলো নির্মাণ প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশের কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও যুক্তরাষ্ট্রের জিএসআই গ্রুপ- এলএলসি। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ‘আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিতব্য এ সাইলোটির নির্মাণকাজের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবে খাদ্য অধিদপ্তর।
সাইলোটিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত গম সংরক্ষণ করা যাবে। সংরক্ষিত গমের গুণগত মান নিশ্চিতে রাসায়নিক দ্রব্য ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না, যা প্রচলিত খাদ্য গুদাম বা সাইলোতে সম্ভব নয়।
দেশের স্থানীয় সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে শস্যের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ না থাকায় গুদামগুলোতে সব মৌসুমে ও দীর্ঘ সময়ব্যাপী শস্য মজুদ করা সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন গম সংরক্ষণে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে এ সাইলো।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই আমাদের সরকার এটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় আমরা কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কাজ করে যাচ্ছি।
এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই দেশব্যাপী আধুনিক খাদ্যশস্য সংরক্ষণাগার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে যেকোনো সময় ও যেকোনো অবস্থায় আমাদের দেশের মানুষের জন্য খাবারের যথেষ্ট মজুদ থাকে। সামনের দিনগুলোতেও আমরা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবো।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রসঙ্গে কনফিডেন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান করিম বলেন, উন্নয়নের পথে বাংলাদেশের অদম্য যাত্রা যেন কোনোভাবেই বাঁধার সম্মুখীন না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সবার। দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এ দায়িত্বেরই একটি অংশ। গুরুত্বপূর্ণ এই সাইলোর নির্মাণে আমাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। সাইলো নির্মাণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাবো আমরা।
চট্টগ্রামের এ সাইলোটিসহ ‘আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার’ প্রকল্পের আওতায় দেশে ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আটটি স্থানে অত্যাধুনিক সাইলো নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে দুটিতে গম ও ছয়টিতে চাল সংরক্ষণ করা হবে। মোট আটটি স্থানের মধ্যে কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড (বাংলাদেশ) ও জিএসআই গ্রুপ এলএলসি যৌথভাবে তিনটি স্থানে সাইলো নির্মাণ করবে।
এর মধ্যে রয়েছে বরিশালে ৪৮ হাজার মেট্রিক টনের চালের সাইলো, নারায়নগঞ্জে ৪৮ হাজার মেট্রিক টনের চালের সাইলো ও চট্টগ্রামে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩’শ মেট্রিক টনের গমের সাইলো। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য দুর্যোগোত্তর জরুরি প্রয়োজনে সরকারি ও পারিবারিক পর্যায়ে কার্যকর খাদ্য মজুদ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
জে-আর


আপনার মতামত লিখুন