পিতা-পুত্র ইতিহাস গড়ে একসঙ্গে জাতীয় দলে
বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াড শুরু হচ্ছে আগামী ২৯ জুলাই ভারতের চেন্নাইয়ে । বিশ্ব দলীয় দাবার সবচেয়ে মর্যাদাকর এ টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশর ১০ দাবাড়ু। যেখানে রয়েছেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান ও তার ছেলে তাহসিন তাজওয়ার জিয়া।
একইসঙ্গে পিতা-পুত্রের দাবা অলিম্পিয়াডে খেলার ঘটনা কেবল বাংলাদেশেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ায়ও প্রথম। বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এমন ঘটনা আছে কি না তা বলতে পারলেন না দাবার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্তরাও।
দাবা অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে বাংলাদেশ দল ভারত রওনা হবে বুধবার দুপুরে। মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সভা কক্ষে দাবা দলের অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়া উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান ও তার ছেলে তাহসিন তাজওয়ার জিয়া দুইজনই বলেছেন, তারা খুব রোমাঞ্চিত একসঙ্গে খেলতে যাওয়ার কারণে।
ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় এর আগে দুই জন একাধিকবার মুখোমুখি হয়েছেন। তবে জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলার সুযোগ এটিই প্রথম। জিয়া-পুত্র তাহসিন বলেন, ‘আমার খুব ভালো লাগছে। স্বপ্নের মতো লাগছে। আমি বাবার সঙ্গে দাবা অলিম্পিয়াড দেখতে অনেকবার বিদেশে গিয়েছি। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি খেলতে যাবো সেটা কল্পনাও করিনি। আমি চেষ্টা করবো ভালো খেলার।’
নিজের ছেলে তাহসিন প্রসঙ্গে জিয়া বলেছেন, ‘তাহসিন এখন ফর্মে আছে। সে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো করেছে, প্রিমিয়ার লিগেও ভালো খেলেছে। প্রিমিয়ার লিগে তাহসিন ছিল বাংলাদেশ বিমানে, আমি ছিলাম পুলিশে। আমরা প্রিমিয়ার লিগে দুইবার পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিলাম। আমার বিশ্বাস তাহসিন অলিম্পিয়াডে ভালো করবে।’
পিতা জিয়ার সম্পর্কে তাহসিনের মন্তব্য, ‘বাবা আমার চেয়ে সবদিক দিয়ে ভালো খেলোয়াড়। তিনি গ্র্যান্ডমাস্টার। তিনি আমার আইডল।’ কখনও মনে হয়েছে বাবার সঙ্গে জাতীয় দলে পাশাপাশি বোর্ডে খেলবেন? তাজওয়ার জিয়ার উত্তর, ‘এটি আমার কাছে স্বপ্নের মতো। আমি স্বপ্ন দেখেছি জাতীয় দলে খেলার, অলিম্পিয়াডে খেলার। কিন্তু বাবার সঙ্গে একসঙ্গে খেলতে পারবো এটা ভাবিনি।’
বাবা তো গ্র্যান্ডমাস্টার। আপনি কী হতে চান? উত্তরে জিয়া-পুত্র বলেছেন, ‘আমি সুপার গ্র্যান্ডমাস্টার হতে চাই। আমি বাবাকে ছাড়িয়ে যেতে চাই। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’
১৯৮৪ সাল থেকে বাংলাদেশ দাবা অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে আসছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফলাফল ছিল ২০১২ সালে। ওই আসরে বাংলাদেশ ওপেন বিভাগে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সপ্তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম হয়েছিল। একই বছর বিশ্ব সিটিজ দলগত দাবায় বাংলাদেশ শীর্ষ ১৬ দেশের মধ্যে ছিল।
জে-আর


আপনার মতামত লিখুন