বিএমডিপোর অগ্নিকান্ডের ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা রিট কার্যতালিকায়
চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড উপজেলায় বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকান্ড ও বিস্ফোরণে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনটি হাইকোর্টের কার্যতালিকায় (কজলিস্টে) রয়েছে।
৩১ জুলাই (রোববার) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানির জন্য রয়েছে। এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. হুমায়ুন কবির পল্লব।
গত ২৯ জুন জনস্বার্থে ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট এবং চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ (সিসিবি) ফাউন্ডেশনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. হুমায়ুন কবির পল্লব এ রিট আবেদন করেন।
রিটে সীতাকুন্ডে নিহতদের প্রত্যেককে দুই কোটি ও আহতদের প্রত্যেককে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। আবেদনে পল্লবের সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান ও অ্যাডভোকেট এ এম জামিউল হক ফয়সাল।
রিটের পর অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল জানান, রিটে নিহতদের দুই কোটি ও আহতদের ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, এ মর্মে রুল জারির আর্জি চাওয়া হয়।
রিটে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি), চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি), স্মার্ট গ্রæপের চেয়ারম্যান ও এমডি এবং বিএম কনটেইনার বিডি লিমিটেডের এমডিসহ সংশ্লিষ্ট ২০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
গত ৮ জুন সীতাকুন্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুনে দগ্ধ হয়ে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি ওই দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যুর বিচারবিভাগীয় তদন্তও দাবি করা হয়।
একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে বিচারিক অনুসন্ধান কমিটি করতে বলা হয় ওই নোটিশে। আর কমিটির নেতৃত্বে হাইকোর্ট বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রাখার কথা বলা হয়। এছাড়া কমিটিতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের রাখতে সুপারিশ করা হয়। তবে লিগ্যাল নোটিশের পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এ রিট আবেদন করা হয়।
জে-আর


আপনার মতামত লিখুন