খুঁজুন
, ,

সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় হবে বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল ও ইকোনমিক জোন-নদভী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 8 December, 2019, 6:08 pm
সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় হবে বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল ও ইকোনমিক জোন-নদভী

২৪ ঘন্টা চট্টগ্রাম ডেস্ক : চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার জমিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল হবে। এছাড়া সাতকানিয়ার মৌলভীর দোকান থেকে কেরানীহাট পর্যন্ত সড়কের পশ্চিম পাশে করা হবে ইকোনমিক জোন। কেরানীহাট ও আমিরাবাদে ছয় লেনের দুটি ফ্লাইওভার নির্মাণও করা হবে।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সাংবাদিক ফোরাম, চট্টগ্রাম আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী।

ফোরামের সভাপতি ও দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিন সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক ও যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার মিজানুল ইসলাম।

আলোচনায় অংশ নেন এমপি পত্নী ও মহিলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিজিয়া রেজা চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক প্রদীপ নন্দী, জামালউদ্দিন ইউসুফ, সরোয়ার আমিন বাবু, সৈয়দ গোলাম নবী, আহমেদ মুসা, ওমর ফারুক, আকতার হোসেন, জোবায়ের মনজু, জয়া শর্মা, সৈয়দা সাজিয়া আফরিন, মিনহাজুল ইসলাম, সুজন আচার্য্য প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ফোরামের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভীকে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী বলেন, ‘সাঙ্গু ও ডলু নদীর ভাঙনরোধে ৫৭৭ কোটি টাকার কাজ হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৩৩ কোটি টাকার কাজ বর্তমানে চলমান। বাংলাদেশের কোনো এমপি নদী ভাঙনরোধে এতো টাকা পেয়েছে? আমিই পেয়েছি।

মফস্বল এরিয়াতে সবচেয়ে আলোচিত রাস্তা, দেশের সবচেয়ে সুন্দর রাস্তা হবে দুই মাসের মধ্যে, সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে গুনাগরী পর্যন্ত। এটা পটিয়া বাইপাসের চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর হবে। ১০৬ কোটি টাকায় কাজটি হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে সাতকানিয়ায় এ রকম রাস্তা কেউ দেখেনি। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে উদ্বোধন করাবো।’

মাদার্শার পশ্চিমে দেশের সবচেয়ে সুন্দর ও বড় ইকোপার্ক হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইকোপার্ক করার জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি হয়ে গেছে। সেখানে ক্যাবল কার হবে। আধুনিক রেস্টহাউস হবে। ঝুলন্ত ব্রিজ হবে, স্পিড বোট থাকবে। চুনতিতে ইসহাক মিয়া সড়ক, অহরহ কলেজ ভবন, প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন করেছি। ৬০ কোটি টাকায় সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় দুটি কারিগরি স্কুল ও কলেজ হবে। বড় বড় শেল্টার ভবন নির্মাণ শুরু হতে যাচ্ছে।’

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য নদভী বলেন, ‘সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় এলএনজি টার্মিনাল হবে। এটা প্রক্রিয়াধীন আছে। সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় রেলস্টেশন হচ্ছে। দেওদিঘী খাসমহলে যে ১০-১২ একর জায়গা আছে সেখানে হাইটেক পার্ক হবে। হাইটেক পার্কের জন্য ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেয়া হয়। জুনায়েদ আহমেদ পলকের সাথে এ ব্যাপারে আমার কথা হয়েছে, উনাকে আমি সাতকানিয়ায় নিয়ে আসবো।’

আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী বলেন, ‘শাহ জব্বারিয়া রোড চুনতি বাজার থেকে শুরু করে চরতি পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়ক হয়ে গেছে। সেটা এখন ডাবল করার জন্য পরিকল্পনা করছি। টংকাবতীতে বহুমুখী সেতু করার জন্য ইতিমধ্যে ডিও দেওয়া হয়ে গেছে। এটার কাজ শুরু হবে।

এটা শুধু আমার ঘোষণা নয়, আবেদিন মামারও (প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব) ঘোষণা। ডলু খালের উপর ডলু ব্রিজ ছাড়া আর কোন ব্রিজ আপনারা দেখেননি অতীতে। এখন সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া মিলে নয়টি ব্রিজের কাজ চলছে ডলু খালের ওপর।’

সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাংসদ নদভী বলেন, ‘দেশে কয়টি স্কুল জাতীয়করণ হয়েছে? আপনারা জানেন, এমপিওভুক্তির জন্য মানুষ পাগল হয়ে যায়। কারণ এমপিওভুক্তি মানে সরকার এটার দায়িত্ব নিয়েছে। সাড়ে তিনশজন এমপির মধ্যে ভাগ করলে জনপ্রতি ৬-৭টি করে এমপিওভুক্ত স্কুল পড়ে। কিন্তু ৫০ জন এমপি-মন্ত্রী একটাও পায়নি। আমি একা পেয়েছি ২৫টি। এটা চাট্টিখানি বিষয়!’

তিনি বলেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম করেছি, যদিও এটা আমার দখলে নেই। এটা যাদের দখলে আছে, একটা ছেঁড়া কাগজও দেখাতে পারবে না, তারা বিদেশ থেকে এক টাকা এনেছে। ডকুমেন্টস সব আমার কাছে আছে। কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, ওআইসি, শেখ জায়েদ ফাউন্ডেশনের সাথে আমিই চুক্তি করেছি।

এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় করতে গেলে এখন ১০ হাজার কোটি টাকা লাগবে। বাংলাদেশে এত সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয় আর নেই। এটা আমি করেছি। এরকম একটি বিশ্ববিদ্যালয় সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার জমিতে আমি করবোই, করবো।’

‘হাসপাতাল একটা দরকার। যেহেতু ছয় লেন হয়ে যাচ্ছে, রেললাইন হয়ে যাচ্ছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো, চেষ্টা করবো একটা সুন্দর জায়গায় যাতে একটা মেডিকেল করা যায়। কেরানীহাট ও আমিরাবাদে দুটি ফ্লাইওভার হবে। এজন্য আমি সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে কথা বলে ফেলেছি। এগুলো ছয়লেনের ফ্লাইওভার হবে’ – বলেন সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী।

সাতকানিয়ায় ইকোনমিক জোন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মৌলভীর দোকান থেকে কেরানীহাট পর্যন্ত পশ্চিম পাশের জমিগুলো পুকুর হয়ে গেছে। যেহেতু পুকুর হয়ে গেছে আর কাজে আসবে না। এক বছর পর ইটভাটা উঠে যাবে, আরব দেশের মত ব্লক ইট আসছে। সেখানে ইকোনমিক জোন করার জন্য আমি উদ্যোগ নিয়েছি। এটা ইকোনমিক জোন হলে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া কিভাবে আলোকিত হবে, আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না।’

Feb2
Feb2

টুথপেস্টের পর এবার সয়াবিন তেলে মিলল ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 28 July, 2026, 11:37 pm
টুথপেস্টের পর এবার সয়াবিন তেলে মিলল ভয়াবহ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক

রাজধানী ঢাকার বাজার থেকে সংগ্রহ করা বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলে উদ্বেগজনক হারে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে। প্রতি লিটার তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি প্লাস্টিক কণার সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। বোতলজাত তেলের চেয়ে খোলা তেলে দূষণের এই মাত্রা আরও বেশি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এক যৌথ গবেষণায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই তথ্য উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এ সম্প্রতি এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়। গবেষণার জন্য ঢাকার তেজগাঁও, উত্তরা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বিভিন্ন সুপারশপ এবং খোলা বাজার থেকে সয়াবিন তেলের মোট ৬০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে আধুনিক স্পেকট্রোস্কোপিক ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে এগুলো বিশ্লেষণ করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা সয়াবিন তেলে দূষণের পরিমাণ অন্তত ১.২৪ গুণ বেশি। খোলা তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তেজগাঁও এলাকা থেকে সংগৃহীত খোলা তেলের নমুনায় প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি ছিল সর্বোচ্চ। শিল্পকারখানার আধিক্য, টেক্সটাইল ও প্লাস্টিক কারখানার কাছাকাছি অবস্থান এবং খোলা তেল সংরক্ষণে পাত্রের বারবার ব্যবহারের কারণে এমন দূষণ ঘটছে বলে গবেষকরা মনে করছেন।

ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণে তেলের এসব নমুনায় ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত হয়। এগুলো হলো—লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই), হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই), পলিপ্রোপিলিন (পিপি), পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটিই), পলিইউরেথেন (পিইউ) ও নাইলন। গবেষকরা জানিয়েছেন, ভোজ্যতেলে পলিইউরেথেন ও নাইলনের উপস্থিতির বিষয়টি বিশ্বে এবারই প্রথম কোনো গবেষণায় উঠে এসেছে। শনাক্ত হওয়া কণাগুলোর ৮২.৫ শতাংশই আঁশ বা ফাইবারজাতীয়। পাশাপাশি ৫৬.২৯ শতাংশ কণা স্বচ্ছ প্রকৃতির এবং ৩৫.৮৪ শতাংশ কণার আকার ১০১ থেকে ৫০০ মাইক্রোমিটারের মধ্যে।

দৈনন্দিন খাদ্যগ্রহণের হিসাব অনুযায়ী মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের একটি প্রাক্কলনও তুলে ধরা হয়েছে এই গবেষণায়। এতে দেখা যায়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতিদিন গড়ে ১৭.৬৫টি এবং বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি প্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে। তবে কম ওজনের কারণে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও ভয়াবহ। তারা প্রতিদিন গড়ে ৭৭.২১টি এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করছে। একটি শিশু তার জীবনদ্দশায় প্রায় ২০ লাখ ৯০ হাজার প্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারে বলে গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এসব ক্ষুদ্র কণা মানুষের পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রদাহ ও কোষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে ১৩০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট কণাগুলো কোষের দেয়াল ভেদ করে সরাসরি রক্তে মিশে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

গবেষণা দলটির প্রধান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক জানান, মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্তমানে একটি উদীয়মান দূষক, যা মানবদেহে প্রজননতন্ত্র ও বিপাকীয় ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক পুরোপুরি বর্জন করা এই মুহূর্তে বাস্তবসম্মত নয়। তাই প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিংয়ের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।’

খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি, মানসম্মত ফিল্টারের ব্যবহার এবং খোলা তেল বিক্রির ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছেন গবেষকরা। দেশে খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভোজ্যতেলের এই দূষণের আগে দেশের বাজারে প্রচলিত টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল। পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)-এর এক বছরব্যাপী পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট নমুনার মধ্যে ২৬টিতেই (৭৬.৫ শতাংশ) প্লাস্টিক কণা রয়েছে।

ইএসডিওর ওই গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩২০টি কণা ছিল মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলে। এছাড়া ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেনথল ফ্রেশ-এ ১৬০টি করে, কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টি-তে ১২০টি এবং পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার-এ ১০০টি করে কণা শনাক্ত হয়। এমনকি শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেই এই দূষক পাওয়া যায়। তবে প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি ও কোদোমো অরেঞ্জ টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলেনি।

শীঘ্রই উদ্বোধন করা হবে আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কের আধুনিকায়নকৃত মাঠ: চসিক মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 28 July, 2026, 9:29 pm
শীঘ্রই উদ্বোধন করা হবে আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কের আধুনিকায়নকৃত মাঠ: চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন কারণে আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্কের মাঠটি শিশু-কিশোরদের জন্য কার্যত অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে মাঠটি পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই মাঠটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্ক মাঠের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, একসময় এই মাঠে শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করতে পারত না। মাঠটি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরা উদ্যোগ নিয়ে মাঠটি পুনরুদ্ধার করেছি এবং যেহেতু এটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন, তাই নগরবাসীর জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। এখানে শিশু, কিশোর, তরুণসহ সকল বয়সের মানুষ খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, মাঠটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সংরক্ষণের জন্য একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে। আমরা অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক মানের একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করেছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এর উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হবে এবং সেদিন নগরবাসীর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে মাঠটি উদ্বোধন করা হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে খেলার মাঠের বিকল্প নেই, সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে নিরাপদ ও মানসম্মত খেলার মাঠ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২০ মাসে আমি প্রতিটি ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে ১১টি খেলার মাঠ উন্নয়ন ও প্রস্তুত করা হয়েছে। আমি নগরবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ৪১টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে। এখনো প্রায় ৩০টি মাঠের উন্নয়ন কাজ বাকি রয়েছে এবং সেগুলোও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে।

মেয়র বলেন, একটি আধুনিক, সুস্থ ও মানবিক নগর গড়ে তুলতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, বিনোদন ও সামাজিক বিকাশের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম অগ্রাধিকার। নগরবাসীর জন্য আরও নতুন নতুন উন্মুক্ত স্থান ও ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, চসিকের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, মহানগর বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং স্থানীয় ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ।

মাত্র ১২৫ টাকায় তদবির ছাড়া চাকরি পাওয়া গত ২০ বছরের ইতিহাসে বিরল’: ভূমি প্রতিমন্ত্রী 

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 28 July, 2026, 8:58 pm
মাত্র ১২৫ টাকায় তদবির ছাড়া চাকরি পাওয়া গত ২০ বছরের ইতিহাসে বিরল’: ভূমি প্রতিমন্ত্রী 

বাংলাদেশের বিগত ২০ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রকার তদবির বা উৎকোচ ছাড়া মাত্র ১২৫ টাকা খরচে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় সরকারি চাকরি সম্পন্ন হওয়ার কোনো নজির নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।

আজ সোমবার (২৮ জুলাই) ঢাকার তেজগাঁও ভূমি ভবনের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় সেমিনার হল রুমে নবযোগদানকৃত কর্মচারীদের (পেশকার) ওরিয়েন্টেশন শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, কোনো ধরনের তদবির ছাড়াই মাত্র ১২৫ টাকা খরচ করে আপনারা যারা চাকরি পেয়েছেন এবং আপনাদের অভিজ্ঞতার যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করেছে। বিগত ২০ বছর ধরে এ দেশ দুর্নীতি ও অনিয়মে জর্জরিত ছিল। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত গুটিকয়েক দুষ্টু লোকের দুর্নীতির বোঝা পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে টানতে হয়। তাই সকলকে দুর্নীতিমুক্ত থেকে পরম সততার সাথে কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই জনগণের প্রতি তাঁর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা অনুসরণ করেই সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশে সর্বপ্রথম ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আত্মনিয়োগ করেছে।

জনগণের অধিকার ও সেবা প্রদান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় বলে থাকেন—যারা সরকারি সেবা নিতে অফিসে আসেন, সেই জনগণই হলো এদেশের প্রকৃত মালিক। কাজেই আপনাদের অনুভব করতে হবে এই জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক এবং তাদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করতে হবে।” এ সময় বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ চেতনা অন্তরে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেন, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে চাকরিতে যোগদানকারী নতুন পেশকারদের সততা ও মনোভাব প্রশংসনীয়। সমাজে শ্রেণী বৈষম্য দূর করা, দুঃখী মানুষের কল্যাণ সাধন এবং দুর্নীতিমুক্ত কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। মন্ত্রী নবযোগদানকৃতদের নিজ নিজ বাবা-মা ও শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা করে সততার সাথে দেশের ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে অন্যান্য বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ভূমিসংক্রান্ত সেবায় এসে জনগণ যাতে কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ‘সিটিজেন সার্ভিস’ চালু করেছে এবং দীর্ঘদিন আটকে থাকা কানুনগো পদে পদোন্নতি প্রদান নিশ্চিত করেছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নবযোগদানকৃত কর্মচারীদের পক্ষে মোছা. ফারহানা খাতুন, মো. শিহাব উদ্দিন ও শাকিল আহমদ আবেগজড়িত কণ্ঠে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় চাকরি পাওয়ায় সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, ভূমি আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মো. আবদুল্লাহ আল বাকী, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ জেড এম সালাহউদ্দিন নাগরীসহ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।