খুঁজুন
, ,

অন্যের ব্যথা বুঝতে না পারলে সুস্থ সমাজ গড়া সম্ভব নয় : ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 28 July, 2026, 6:50 pm
অন্যের ব্যথা বুঝতে না পারলে সুস্থ সমাজ গড়া সম্ভব নয় : ডিসি জাহিদ

মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা গড়ে না তুললে শুধু চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, একজন মানুষ যখন শুধু নিজের নয়, অন্যের কষ্টও অনুভব করতে শেখে, তখনই সে প্রকৃত মানুষে পরিণত হয়। সমাজে অপরাধ, মাদকাসক্তি ও নানা রোগব্যাধি কমাতে ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই।

আজ ২৮ জুলাই মঙ্গলবার বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে ‘হেপাটাইটিস: আসুন, বাধা ভেঙে এগিয়ে যাই’ প্রতিপাদ্যে চট্টগ্রামের লালখান বাজারে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লিভার কেয়ার সোসাইটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর আগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, একটি সুস্থ সমাজ গঠনের চিন্তা শুরু হওয়া উচিত পরিবার থেকেই। একজন মা গর্ভধারণের সময় থেকে একটি শিশুর বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করতে হবে। পরিবার ও সমাজের অবহেলার কারণেই অনেক তরুণ ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এই সামাজিক অবক্ষয় শুধু অপরাধই বাড়াচ্ছে না, বিভিন্ন জটিল রোগের বিস্তারেও ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, ‘মানুষ যখন নিজের ব্যথা বোঝে, তখন সে জীবিত। আর যখন অন্যের ব্যথা বোঝে, তখন সে প্রকৃত মানুষ।’ সমাজের প্রতিটি ব্যক্তি যদি নিজের দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক দায়িত্বও পালন করেন, তাহলে অপরাধ, মাদকাসক্তি ও সামাজিক সংকট অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

জেলা প্রশাসক বলেন, পৃথিবীতে মানুষের প্রয়োজন মেটানোর মতো সম্পদ রয়েছে, কিন্তু মানুষের লোভ মেটানোর মতো সম্পদ নেই। তাই দায়িত্বশীলতা, সংযম ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার কোনো বিকল্প নেই।

উচ্চ শিক্ষা ও পেশাগত সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক বড় বড় ডিগ্রি আছে। কিন্তু যদি সেই শিক্ষার প্রভাব সমাজে না পড়ে, যদি অপরাধ, মাদকাসক্তি কিংবা রোগীর সংখ্যা না কমে, তাহলে সেই ডিগ্রির মূল্য কোথায়?’ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য তখনই অর্থবহ হবে, যখন তার ইতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে প্রতিফলিত হবে।

স্বাস্থ্যসচেতনতার প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিদিন লিভার, কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষ তাঁর কাছে সহায়তার জন্য আসেন। আবেদনকারীদের বড় একটি অংশ কিডনি রোগে আক্রান্ত। খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

সাম্প্রতিক জেলা প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, গত শনিবার চট্টগ্রাম জেলায় ৬ হাজার ২০০ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর অংশগ্রহণে পরিচালিত অভিযানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ থেকে ১৩৫ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এসব বর্জ্য জমে ছিল। শুধু বাইরের পরিবেশ নয়, মানুষের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই অন্যের ভুল নিয়ে ব্যস্ত থাকি, কিন্তু নিজের দায়িত্ব পালন করছি কি না, তা নিয়ে আত্মসমালোচনা করি না। বাইরে আলোকিত করলেই হবে না, ভেতরটাও আলোকিত হতে হবে।’

আগামী প্রজন্মের প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, রাষ্ট্রের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ে তোলার দায়িত্বও বর্তমান প্রজন্মের। প্রয়োজনে প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়ে (‘আউট অব দ্য বক্স’) কাজ করতে হবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে একটি মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

লিভার কেয়ার সোসাইটির কার্যক্রমের প্রশংসা করে ডিসি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে হেপাটাইটিস ও লিভারের বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি বিভাগের প্রধান ও লিভার কেয়ার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। তিনি উপস্থাপনায় বলেন, দেশে আনুমানিক এক কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত। প্রতিবছর ২০ হাজারের বেশি মানুষ এ রোগে মারা যান। আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই নিজেদের রোগ সম্পর্কে জানেন না। অথচ লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসই প্রধান কারণ।

আলোচনা শেষে উপস্থিত রোগীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে চিকিৎসকেরা হেপাটাইটিস বি ও সি শনাক্তে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি) ডা. মোহাম্মদ একরাম হোসেন। সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও লিভার কেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. তারেক শামস। এতে চিকিৎসক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং লিভার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

Feb2
Feb2

ডোপ টেস্ট পজিটিভ আসায় পুলিশ সুপার সাময়িক বরখাস্ত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 14 September, 2026, 2:32 pm
ডোপ টেস্ট পজিটিভ আসায় পুলিশ সুপার সাময়িক বরখাস্ত

ডোপ টেস্টে বেনজোডায়াজেপিনস ও অ্যামফিটামিন/মেথঅ্যামফিটামিন পজিটিভ আসায় পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার (টিআর) আ ফ ম নিজাম উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনটি স্বাক্ষরিত হয়।

এতে বলা হয়, পুলিশ সুপার আ ফ ম নিজাম উদ্দিন বর্তমানে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি মিরপুর সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত ডিএসসিএসসি-২০২৬ কোর্সে অংশ নিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তিনি প্রস্থান করেন।

কোর্স চলাকালে গত ৭ জুন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ হিসেবে তার ডোপ টেস্ট করা হয়। পরীক্ষায় Urine Benzo Diazepines (BZO) এবং Amphetamine/Methamphetamine Positive পাওয়া যায়।

আদেশে বলা হয়েছে, ডোপ টেস্টের এই ফলাফল ডিএসসিএসসি কোর্সের শৃঙ্খলার পরিপন্থি। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এটি অসদাচরণ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ কারণে একই বিধিমালার বিধি অনুযায়ী ৩১ আগস্ট থেকে পুলিশ সুপার আ ফ ম নিজাম উদ্দিনকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

হারানো অস্ত্রের তথ্য দিলে গোপনে পুরস্কার দেবে র‌্যাব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 14 September, 2026, 2:20 pm
হারানো অস্ত্রের তথ্য দিলে গোপনে পুরস্কার দেবে র‌্যাব

চট্টগ্রামে হারিয়ে যাওয়া সরকারি অস্ত্রের সন্ধান দিতে জনগণের সহযোগিতা চেয়েছে র‌্যাব। অস্ত্রের তথ্য দিয়ে উদ্ধারে সহযোগিতা করলে গোপনে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের চান্দগাঁওয়ে র‌্যাব-৭ এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে হারিয়ে যাওয়া সরকারি অস্ত্রের প্রায় ৮৪ শতাংশ এরই মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ১৬ শতাংশ অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তা সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

র‌্যাব-৭ অধিনায়ক বলেন, হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে র‌্যাবের নেতৃত্বে বিশেষ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। কারও কাছে এমন অস্ত্র থাকলে তা র‌্যাবের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, যাদের কাছে অস্ত্র রয়েছে তাদের সবাই অপরাধী এমন নন। বিভিন্নভাবে অনেকের কাছে অস্ত্র চলে আসতে পারে। কেউ অস্ত্রটি কোথায় বা কীভাবে জমা দেবেন, তা নিয়ে ভয় পেতে পারেন। তাদের জন্য এটি একটি সুযোগ। গোপনে অস্ত্রের তথ্য দিলে বা উদ্ধারে সহযোগিতা করলে পুরস্কার দেওয়া হবে।

পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্র পাওয়া গেলেও সেটি নিজে বহন না করে র‌্যাবকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। তথ্য পেলে র‌্যাবের সদস্যরা গিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার করবেন বলেও জানান।

মতবিনিময় সভায় সম্প্রতি অপহরণের অভিযোগের অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন র‌্যাব-৭ অধিনায়ক।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে তিনটি অপহরণের অভিযোগে র‌্যাবের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালিয়েছেন। পরে তদন্তে একটি ঘটনায় দেখা যায়, অনলাইন জুয়ায় তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত এক ব্যক্তি পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য নিজেকে অপহৃত হিসেবে সাজিয়েছেন।

অন্য একটি ঘটনায় এক ব্যক্তি বান্দরবানের লামায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলেন। আরেকজন পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, র‌্যাব একটি বিশেষায়িত বাহিনী। সংবেদনশীল অভিযোগ পেলে আন্তরিকতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে মিথ্যা বা সাজানো অভিযোগের পেছনে দীর্ঘসময় ব্যয় হলে প্রকৃত গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের ঘটনায় র‌্যাবের জনবল ও সক্ষমতা ব্যবহারে সমস্যা হয়। তাই প্রকৃত ঘটনা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে।

জঙ্গল সলিমপুর প্রসঙ্গে র‌্যাব-৭ অধিনায়ক বলেন, এলাকাটি র‌্যাবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগের বিষয়। সেখানে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের পর থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটেনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত জঙ্গল সলিমপুর থেকে র‌্যাবের ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হবে না বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিদেশিদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক করেছেন র‌্যাব-৭ অধিনায়ক।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিদেশিদের যাতায়াত বেশি। এ সুযোগে অপরাধীরা ছদ্মবেশে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। সাম্প্রতিক দুটি ঘটনার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

মানবতাবিরোধী অপরাধ : ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জনের মামলার রায় আগামীকাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 14 September, 2026, 1:32 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধ : ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জনের মামলার রায় আগামীকাল

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামীকাল (মঙ্গলবার) ঘোষণা করা হবে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

এর আগে, ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হলে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন মোট ২৯ জন সাক্ষী।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই আদালত।

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।