খুঁজুন
, ,

ওয়াটার বাস চালু : ২৫ মিনিটে চট্টগ্রাম সদরঘাট থেকে বিমান বন্দর, ভাড়া ৩৫০

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 9 December, 2019, 8:37 pm
ওয়াটার বাস চালু : ২৫ মিনিটে চট্টগ্রাম সদরঘাট থেকে বিমান বন্দর, ভাড়া ৩৫০

২৪ ঘন্টা স্পেশাল। রাজীব সেন প্রিন্স : সড়ক পথে যাত্রীর চাপ কমাতে দুবাই, সিঙ্গাপুর ও চায়নাসহ বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে নদীপথ ব্যবহার করে যাত্রী পারাপারের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সে চিন্তাধারা থেকে এসএস ট্রেডিং নামক একটি প্রতিষ্ঠানের তত্বাবধানে চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীতেও চালু হয়েছে ওয়াটার বাস সার্ভিস।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বিমানবন্দর যাত্রীদের জন্য এ সেবা চালু করা হয়। ধুলো মাখা পুরিবেশ দূষণ ও দীর্ঘ যানজটের কবল থেকে মুক্ত রাখতে বিদেশ যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে গত ২৪ নভেম্বর শনিবার থেকে কর্ণফুলি নদীতে শুরু হয়েছে এ সার্ভিসের পরিক্ষামূলক কার্যক্রম। আজ সোমবার সকালে এ সার্ভিসটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

যেখানে সড়ক পথে নগরীর নিউ মার্কেট থেকে বিমান বন্দর যেতে যাত্রীদের দেড় থেকে ২ ঘন্টার সময় প্রয়োজন হতো সেখানে মাত্র ২৫ মিনিটেই যাত্রীরা এখন পৌছে যাচ্ছে বিমান বন্দরে।

প্রথম ধাপে নগরীর সদরঘাট থেকে বিমান বন্দরের এ সার্ভিসের ভাড়া নির্ধারণ ছিলো ৪০০ টাকা। তবে যাত্রীদের অনুরোধে তা ৫০ টাকা কমিয়ে এখন নেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩শ ৫০ টাকা করে। তবে ভবিষ্যতে সার্ভিসটি আরো বৃদ্ধি পেলে ভাড়া আরো কমবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

ওয়াটার বাস সার্ভিসেস প্রজেক্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বাব হোসাইন ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে জানান, প্রথম দিকে প্রতিদিন সদরঘাট থেকে ৫টি ট্রিপ চালু রাখা হয়েছে। এরমধ্যে সকাল ৭টায় প্রথম ট্রিপ, আটটায় দ্বিতীয় ট্রিপ, সাড়ে ১২টায় তৃতীয় ট্রিপ, বিকেল তিনটায় চতুর্থ এবং সন্ধ্যা ৭টায় শেষ ও ৫ম ট্রিপ।ওয়াটার বাস সার্ভিস

তাছাড়া বিমান বন্দরের পতেঙ্গা টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টায় প্রথম ট্রিপ, সকাল সাড়ে ১১টায় দ্বিতীয় ট্রিপ, দুপুর আড়াইটায় তৃতীয় ট্রিপ, বিকেল সাড়ে ৪টায় চতুর্থ ও সর্বশেষ রাত সোয়া ৯টায় পঞ্চম ও শেষ ট্রিপে চলবে ওয়াটার বাসগুলো।

তাছাড়া সেইভ টাইম সেইভ মানি শ্লোগানে কর্ণফুলি নদীতে চালু হওয়া ওয়াটার বাস সার্ভিসটি যতক্ষন বিমানের ফ্লাইটের সিডিউল থাকবে ততক্ষন পর্যন্ত ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু থাকবে জানিয়ে সাব্বাব হোসাইন আরো বলেন, নির্দ্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি কোন ট্রিপে যাত্রী পরিপূর্ণ না হয় তাহলে একজন যাত্রী নিয়েও নির্দ্ধিষ্ট গন্তব্যের উদ্দ্যেশে ওয়াটার বাস ছেড়ে যাবে। সোমবার ৯ ডিসেম্বর একাধিক ট্রিপে মাত্র ১ থেকে দুই চারজন নিয়ে ওয়াটার বাস ছেড়ে গেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ওয়েস্টান মেরিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ওয়াটার বাস সার্ভিসেস প্রজেক্টের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হোসেন ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, হংকংয়ের আদলে বাংলাদেশে তৈরি করা ওয়াটার বাসটি ৭০ কিলোমিটার স্পিডে চলে। গতি ২৩ নটিকেল মাইল। তিনি বলেন, যানযটের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে তৈরি এ বাসটি। প্রতিটি এসি ওয়াটার বাসে ২৫ জন বসার ভিআইপি আসন রয়েছে।

তিনি বলেন, নগরীর সদরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত নদীপথে এই দূরত্ব আট নটিক্যাল মাইল বা ১৫ কিলোমিটার। মাত্র ২০ মিনিটে সদরঘাট থেকে পতেঙ্গা ওয়াটার বাস স্টেশনে পৌছে যেতে পারছে যাত্রীরা। যাত্রাপথে যাত্রীদের জন্য ওয়াটার বাসে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থা আছে।ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু

তাছাড়া নদীপথ থেকে পতেঙ্গা টার্মিনালে ওয়াটার বাস থেকে নেমে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব পরিবহণ শাটল বাসে করে যাত্রীদের বিমানবন্দরে পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া ওয়াটার বাস থেকে শাটল বাসে করে বিমান বন্দর পৌছানো পর্যন্ত যাত্রীদের লাগেজগুলো কতৃপক্ষের নিরাপত্তায় রাখা হয়।

সোমবার ৯ ডিসেম্বর সকালে ওয়াটার বাস সার্ভিসের পতেঙ্গা স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, এখানে রয়েছে যাত্রীদের অপেক্ষা করার সুব্যবস্থা যাত্রী ছাউনি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো কোন যাত্রী যদি তাদের ব্যাক্তিগত গাড়ি নিয়ে আসে তবে সেই গাড়ি এখানে নিরাপদে গচ্ছিত রেখে ভ্রমন শেষে পুনরায় গাড়ি নিয়ে তার গন্তব্যে যাওয়ার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ভবিষ্যতে বিমান যাত্রী ছাড়াও স্থানীয় পর্যটকদের জন্য এ টর্মিনালে কিছু ছাতা ও পর্যটক বসার সু ব্যবস্থার পাশাপাশি পর্যটক বান্ধব পরিবেশ তৈরি করে আঞ্চলিক মুখরোচক খাদ্য বিক্রি ও বিপননের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন ওয়াটার বাস সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। যেখানে বসে প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্যগুলো অনুভব করতে পারবে পর্যটকরা।

ওয়াটার বাস সার্ভিসের জন্য অপেক্ষমান কযেকজন যাত্রীর সাথে কথা হলে তারা জানিয়েছেন, এতোদিন সড়ক পথে টেক্সি বা লোকাল পরিবহণে করে বিমান বন্দরে পৌছাতে গিয়ে যানজটের কবলে পড়ে অনেক যাত্রী বিমানের সিডিউল মিস করেছে। বিদেশ যাত্রা বাতিল হয়ে গেছে অনেক যাত্রীর। সে দৃষ্টিকোণ থেকে ওয়াটার বাস সার্ভিসটি চালু হওয়ায় খুব কম সময়ের মধ্যে আরামদায়ক ও স্বস্থির সাথে বিমান বন্দর পৌছে যেতে পারছি।

একদিকে নিরাপদ অন্যদিকে জঞ্জাল ও যানজটমুক্ত স্বস্থিদায়ক ভ্রমন। তাছাড়া সময়ও লাগছে খুব কম। লাগেজ রাখা, ওয়াইফাই সুবিধা, পতেঙ্গা টার্মিনাল থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত শাটল বাস সব মিলে যাত্রীরা খুশি। তবে এ ক্ষেত্রে ভাড়াটা একটু বেশি মন্তব্য করে ভাড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা নির্ধারনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

ভবিষ্যতে সাধারণ যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে ভাড়া কমানো, স্টেশন বাড়ানো ও ওয়াটার বাস বৃদ্ধিসহ আরো একাধিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন বলে জানান এস এস ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বাব হোসাইন। তিনি ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, আগামী মাসে আরো ২টি ওয়াটার বাস সংযুক্ত করার আশা রাখছি। তখন প্রতি ৩০ মিনিট পর এ সার্ভিস চালু থাকবে। এতে যাত্রীরা যখন টার্মিনালে আসবে তখন যাত্রী তার সুবিধামতোই ওয়াটার বাসের সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

তাছাড়া তিনি জানিয়েছেন যাত্রী সেবার মান আরো উন্নত করতে প্রতিষ্ঠানটি ওয়েভ সাইট তৈরি করেছে। যার মাধ্যমে ঘরে বসে যাত্রীরা তাদের বিকাশ অ্যকাউন্ট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নির্দ্দিষ্ট সময়ের ওয়াটার বাসের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবে। ভবিষ্যতে অ্যপস তৈরির চিন্তা ভাবনাও প্রতিষ্ঠানটি করছেন এমনটাই জানিয়েছেন সাব্বাব হোসাইন।

সম্প্রতি এ সার্ভিসটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়ার পর থেকে ওয়াটার বাসের যাত্রী হয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনসহ একাধিক ভিআইপি পারসন।

এ সার্ভিসে ভ্রমণ করে নদী পথে ভ্রমন শতভাগ পরিবেশ বান্ধব বলে মন্তব্য করেছেন মেয়র আ জ ম নাছির। তিনি গণমাধ্যমে বলেছেন সড়ক থেকে লোড কমিয়ে আনতে এ উদ্দ্যেগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সড়ক পথ থেকে কিছু যাত্রী যদি নদীপথে আনা সম্ভব হয় তবে চট্টগ্রামের রাস্তা ঘাট আরো মজবুত ও টেকশই হবে। এতে সড়ক মেরামত বাবদ সরকারি অর্থও অনেক বেঁচে যাবে।

চট্টগ্রামের ভ্রমন পিপাসুরা যাজটের জন্য ট্যুরিজমটাই ভুলে যেতে বসেছে। সদরঘাট থেকে বিমানবন্দরে চালু হওয়া ওয়াটার বাস সার্ভিসটি ভবিষ্যতে রাঙ্গুনীয়া, কাপ্তাই, কক্সবাজার, টেকনাফ সেন্টমার্টিনসহ নদীপথে একাধিক পর্যটন স্পটে ভ্রমণের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

পর্যটন স্পটে এ সার্ভিস চালু হলে মাত্র দু ঘন্টায় কক্সবাজার, তিন ঘন্টায় সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ পৌছানো সম্ভব বলে মনে করেন ওয়েস্টান মেরিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ওয়াটার বাস সার্ভিসেস প্রজেক্টের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

Feb2
Feb2

বাঁধনের বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 9:58 pm
বাঁধনের বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তবে সেখানে বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর হামলা করেছিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দেশে ফেরার পর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন বাঁধন নিজেই।

পোস্ট দিয়ে বাঁধন লিখেছেন, ‘আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিতে আমাদের বাসায় এসেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবির সাহেব। তার এই আন্তরিকতা, সৌজন্য এবং দায়িত্বশীলতার জন্য আমি গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ।’

তার কথায়, ‘এই কঠিন সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেমন আশ্বস্ত করেছে, তেমনি একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আমার আস্থাকেও আরও দৃঢ় করেছে। আমি বিশ্বাস করি, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জনগণ। আর সেই জনগণের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র যখন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তখন নাগরিকের আস্থার জায়গাটি আরও শক্তিশালী হয়।’

তিনি বলেন, ‘ইতালিতে সাম্প্রতিক কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার, মাননীয় সরকার প্রধান, বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালীয় সরকার ও পুলিশ বিভাগ এবং দেশে-বিদেশে যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং মানবিক সহায়তা ও সমর্থন দিয়েছেন আমি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘এই অভিজ্ঞতা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে অন্যায়, ভয় ও বিভাজনের বিরুদ্ধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য, সাহস এবং মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ। মতের পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একজন নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কোনো আপস হতে পারে না।’

শেষে বলেন, ‘আজ আমরা আবারও দেখেছি, মানুষ যখন ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’

দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শহরের জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 7:40 pm
দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শহরের জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

একসময় চট্টগ্রাম নগরের অলিগলিতে ছড়িয়ে ছিল পুকুর, দিঘি, ডোবা ও জলাধার। নগর যত বেড়েছে, ততই সংকুচিত হয়েছে এসব প্রাকৃতিক জলভূমি। কোথাও উঠেছে বহুতল ভবন, কোথাও দোকান-গুদাম, কোথাও গড়ে উঠেছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। এতে শুধু দেশীয় মাছের আবাসস্থলই হারায়নি, বৃষ্টির পানি ধারণ ও ভূগর্ভে পানি প্রবেশের স্বাভাবিক ব্যবস্থাও ক্রমে দুর্বল হয়েছে। এমন বাস্তবতায় চট্টগ্রামের একটি শতবর্ষী ঐতিহাসিক জলাধারে মাছের পোনা অবমুক্ত করে জলজ জীববৈচিত্র্য ও নগরের জলাধার সংরক্ষণের গুরুত্ব সামনে আনল চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার ঐতিহাসিক আগ্রাবাদ ডেবায় এ মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি আয়োজন করে মহানগর বিএনপি।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ এমপি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য ও জীবিকার সঙ্গে মৎস্যসম্পদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির একটি বার্তা দেওয়া হলো।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সারাদেশে খাল খননসহ নদী-নালা দখলমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। নদী ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা গেলে দেশীয় মাছের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকাও আরও সমৃদ্ধ হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে নাজিমুর রহমান বলেন, নদী, খাল-বিল ও জলাশয় দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে পরিকল্পিতভাবে পোনা অবমুক্তকরণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার সারাদেশে নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন এবং দখলমুক্ত করার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের এই পোনা অবমুক্তকরণ। নদী ও জলাশয়ে দেশীয় মাছের নিরাপদ বিচরণ ও প্রজননের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে দেশের মৎস্যসম্পদ আরও সমৃদ্ধ হবে। এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শওকত আজম খাজা ও ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মহানগর বিএনপির সদস্য নুরুদ্দীন হোসেন নুরু, আবু মুসা ও জাফর আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক হাজী নুরুল হক, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবদুল আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া, মো. জাফর, সাইদুর রহমান, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, তৈয়ব চৌধুরী, মো. শাহজাহান ও সেকান্দর সুমনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বার্থের চর্চা ভুলে বিবেকের চর্চা করুন: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 7:24 pm
স্বার্থের চর্চা ভুলে বিবেকের চর্চা করুন: ডিসি জাহিদ

সমাজে মানবিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঠেকাতে ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা থেকে বেরিয়ে বিবেকের চর্চায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, অন্যের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করলেও নিজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এই অবস্থার পরিবর্তন প্রত্যেককে নিজের জায়গা থেকেই শুরু করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার পটিয়ায় এক অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সুধীজন ও উপকারভোগীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এমন একটা সময় পার করছি, যখন মূল্যবোধ ও মানবিকতার ভয়াবহ অবক্ষয় হচ্ছে। আমরা বিবেকের চর্চা থেকে দূরে সরে এসেছি। আমাদের চিন্তাভাবনা এখন নিজের স্বার্থের চর্চাকে ঘিরে।’

মানুষ অন্যের কাছ থেকে সেবা নেওয়ার সময় নিজের প্রাপ্তির বিষয়ে সচেতন থাকলেও অন্যকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে একই দায়িত্ববোধ অনেক সময় দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সেবা যিনি দিচ্ছেন এবং যিনি নিচ্ছেন, দুজনই একই সমাজের অংশ। তাই অন্যকে দোষারোপ না করে প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব নিয়ে ভাবতে হবে।

‘করিম কী করল, রহিম কী করল—সেটা না ভেবে আমার কী করা উচিত, সেটি যদি আমি ভাবি, তাহলে পরিবর্তন হবে,’ বলেন তিনি।

মানুষের মধ্যে পারস্পরিক মমত্ববোধ কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিজের স্বার্থের বাইরে সমাজ ও মানুষের প্রতিও মায়া ও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ৪০ কেজি ওজনের একটি বস্তা তুলতে কষ্ট হলেও ৬০ কেজি ওজনের নিজের সন্তানকে কোলে নিতে সেই কষ্ট অনুভূত হয় না। কারণ, সন্তানের প্রতি মায়া আছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি দপ্তরে গেলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন—এমন আস্থা এখনো পুরোপুরি তৈরি করা যায়নি। শুধু সকাল ৯টায় অফিসে এসে বিকেল ৫টায় চলে যাওয়ার মানসিকতা নিয়ে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘গভীরভাবে ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।’

সরকারি কর্মকর্তারা শুধু রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নেন না উল্লেখ করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বশীল পদে থাকার কারণে তাঁরা ও তাঁদের পরিবার সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা পান। তাই সমাজ ও মানুষের প্রতিও তাঁদের দায়িত্ব রয়েছে। একজন কর্মকর্তা তাঁর কর্মক্ষেত্রে নতুন কী যোগ করলেন এবং তাঁর কাজে সমাজ ও দেশ কীভাবে উপকৃত হলো, সেটিও ভাবতে হবে।

সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, আইনের বাইরে গিয়ে কারও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে আইনের মধ্যে যতটুকু করা সম্ভব, তা করতে হবে। সমাধান সম্ভব না হলেও সেবাপ্রত্যাশীর কথা শুনে তাঁকে সঠিক পরামর্শ দিতে হবে।

সরকারি প্রকল্পে অর্থের অপচয় রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না; সেই প্রকল্প সমাজ ও মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলছে, তা দেখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কোনো অর্থের যেন অপচয় না হয়। প্রতিটি চালের হিসাব আমরা চাই। প্রত্যেক জায়গায় সততা ও স্বচ্ছতা দেখতে চাই।’

পদ ও দায়িত্ব স্থায়ী নয়—এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, একসময় চাকরি শেষ হবে, চেয়ারও থাকবে না। তখন যেন আফসোস করতে না হয় যে দায়িত্বে থাকার সময় মানুষের জন্য আরও কিছু করা যেত।

তরুণ প্রজন্মকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু ভালো ফল ও ডিগ্রি অর্জনই শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে পারে না। তরুণদের মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একজন শিক্ষার্থী ভালো ফল করার পাশাপাশি সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠছেন কি না, সমাজের জন্য কাজ করছেন কি না এবং মানুষের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ তৈরি হচ্ছে কি না—সেটিও দেখতে হবে।

সন্তান ও আর্থিক সামর্থ্য থাকার পরও অনেক মা-বাবার পাশে কেউ থাকেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন তাঁদের বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হচ্ছে, সেটিও সমাজকে ভাবতে হবে। পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নতুন প্রজন্মের সামনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে হবে। শুধু ভালো হওয়ার উপদেশ না দিয়ে নিজেদের আচরণের মধ্য দিয়েও সেই দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে।

মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মাদকসেবীদের ধরে নিয়ে এলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। পরিবার ও সমাজে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

অভিভাবকদের নিজেদের আচরণেও পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি রাত ১২টায় ফিরবেন আর বলবেন, আমার সন্তান সন্ধ্যা ৬টায় ফিরবে—এটা কি হয়? আপনাকে পরিবর্তন হতে হবে, আমাকে পরিবর্তন হতে হবে।’

বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংক ও এস আলমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের প্রসঙ্গও তোলেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মানবিক বিবেচনায় তাঁদের কথা শোনা হয়েছে এবং বিষয়টি যথাযথ পর্যায়ে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় করণীয় নিয়ে চেষ্টা করা হবে।

তবে দাবি আদায়ে আইন লঙ্ঘন বা সড়ক বন্ধ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন।

পটিয়াকে ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে এটি বড় একটি এলাকা। স্থানীয় সাংবাদিকেরা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন, সেগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

বক্তব্যের শেষ দিকে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু একে অন্যকে দায়ী করে সমাজের পরিবর্তন হবে না। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

‘আমরা সমাজের চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করে আগামী দিনে একটি নতুন বাংলাদেশ, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে আপনি-আমি এবং আমাদের সন্তানেরা নিরাপদে বসবাস করবে,’ বলেন জাহিদুল ইসলাম।