খুঁজুন
, ,

২১ আগস্ট কী ঘটেছিল?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 21 August, 2022, 11:42 am
২১ আগস্ট কী ঘটেছিল?

বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কময় দিন ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় অল্পের জন্যে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সেদিনের সেই গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং কয়েকশ আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় সেদিনের ঘটনা

২১ আগস্টের সেই মর্মান্তিক হামলার ঘটনায় আহত হয়ে শরীরে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন মো. হারিস মিয়া শেখ সাগর। ঘটনার সময় তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (লিয়াকত-বাবু) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

ঘটনার ভয়াবহতার বিবরণ দিয়ে হারিস মিয়া সাগর বলেন, “তৎকালীন সরকারের সন্ত্রাস-দুর্নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সেদিন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সমাবেশের জন্য আমাদের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি ট্রাকে মঞ্চ তৈরি করা হয়। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা বিকেল ৫টার দিকে সমাবেশস্থলে আসেন। বুলেটপ্রুফ গাড়ি থেকে নেমে তিনি নিরাপত্তাকর্মী ও দলীয় নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত অবস্থায় অস্থায়ী মঞ্চে উঠে আসন গ্রহণ করেন। কিছুক্ষণ পরই তিনি বক্তব্য শুরু করেন। প্রায় ২০ মিনিটের বক্তব্য শেষে তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে মাইক ছেড়ে পেছনের দিকে আসতেছিলেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই দক্ষিণ দিক থেকে মঞ্চ লক্ষ্য করে একটি গ্রেনেড ছুড়ে মারা হয়। গ্রেনেডটি ট্রাকের বাঁ পাশে পড়ে বিস্ফোরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেখ হাসিনা ট্রাকের ওপর বসে পড়েন। এ সময় মঞ্চে তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য নেতারা মানবঢাল তৈরি করে তাঁকে ঘিরে ফেলেন। প্রথম গ্রেনেড হামলার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ট্রাক লক্ষ্য করে একই দিক থেকে পর পর আরও দুটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়।”

হারিস মিয়া আরও বলেন, ‘সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমরা মঞ্চের সামনেই ছিলাম। গ্রেনেডের বিকট আওয়াজে হতবিহ্বল হয়ে পড়ি আমরা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ১২ থেকে ১৩টি বিস্ফোরণ ঘটে। অনেককেই তখন জ্ঞানশূন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পরিচিত ও দীর্ঘদিনের জানাশোনা এমন কয়েকজনকেও পড়ে থাকতে দেখি। কিন্তু মুখে কোনো শব্দ করার শক্তিও দেহে ছিল না আমার। চারদিকে রক্তাক্ত ও ছিন্নভিন্ন দেহ। চারদিকে শুধু আর্তনাদ ও গোঙানির শব্দ। কে জীবিত আর কে মৃত তা বুঝতে পারছিলাম না। মুখে কোনো শব্দ না করতে পারলেও হাত-পা নাড়তে পারছিলাম। তবে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শক্তি পাচ্ছিলাম না। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে মারাত্মক আহত হয়ে পড়লে আমাকেও দলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩০টির মতো স্প্লিন্টার বের করলেও এখনো অসহ্য যন্ত্রণা হয়।’

‘মঞ্চের খুব কাছে থাকায় সব কিছুই দেখছিলাম। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে গ্রেনেডের বিস্ফোরণ থেমে গেলে গুলির আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) মঞ্চের মধ্যে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ও সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ কেন্দ্রীয় নেতা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মানবঢাল বানিয়ে রক্ষা করেন। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ থেমে গেলে নেত্রীকে তাঁরা দ্রুত মঞ্চ থেকে নামিয়ে তাঁর গাড়িতে তুলে দেন।’

ঘটনার পর মামলা

গ্রেনেড হামলার ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলাটির প্রথমে তদন্ত শুরু করে থানা পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ হয়ে তদন্তের দায়িত্ব যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হাতে। অবশ্য এর মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী আরও দুটি মামলা করেছিলেন। পরে এসব মামলা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন

২০০৪ সালের ২২ আগস্ট বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনকে চেয়ারম্যান করে এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে সরকার। মাত্র এক মাস ১০ দিনের মাথায় ওই বছরের ২ অক্টোবর কমিশন সরকারের কাছে ১৬২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশনের সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ সন্দেহাতীতভাবে ইঙ্গিত করে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার পেছনে একটি শক্তিশালী বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত ছিল।

অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছিল ভাড়া করা দুর্বৃত্তদের মাধ্যমে। এসব লোক প্রধানত একটি সংগঠনের সশস্ত্র ক্যাডারদের মধ্য থেকে নেওয়া হয়, যাদের সমাবেশে ভিড়ের মধ্যে মিশে যাওয়ার মতো ভালো জ্ঞান ছিল। যদিও ওই প্রতিবেদনে বিদেশি শক্তি বলতে কোনো দেশের নাম বলা হয়নি।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১১ই জুন মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। এরপর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আখন্দ। তিনি ২০১১ সালের ৩ জুলাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন।

গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। সেদিন বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন এসআই গোলাম মাওলা।

এর আগের অভিযোগপত্রে ২২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। এর বাইরে নতুনভাবে অভিযুক্তদের মধ্যে স্থান পান বিএনপি নেতা তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ প্রমুখ।

এন-কে

Feb2
Feb2

স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 October, 2026, 8:16 pm
স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে। তিনি বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পরেই আমরা দেখলাম, এই গুপ্ত বাহিনীর লোকজন বলল, তারা যদি আসে, থাকে, কাজ করে আমাদের কোনো আপত্তি নাই। আপত্তি থাকবে কেমন করে, বরাবরই তো এরা একসঙ্গে ছিল। ৯১-তেও তারা একসঙ্গে ছিল, ৮৬ সালেও একসঙ্গে ছিল, গত নির্বাচনের সময়ও তারা একসঙ্গেই ছিল। তলে তলে কাজ করেছিল। এজন্যই তো তাদের গুপ্ত বলা হয়।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা জেল-জুলুম, হত্যা, গায়েবি মামলার শিকার হয়েছে। শুনেছেন তাদের কেউ এসবের শিকার হয়েছিল? আপনারাও তো মাঠে নেমে এসেছিলেন, হরতাল, মিছিল-মিটিং করেছিলেন, তাদের কাউকে দেখেছিলেন? তারা রাজপথে কেউ ছিল না।

তারেক রহমান বলেন, আমরা কিছুদিন যাবত খেয়াল করে দেখছি, এই দেশের কিছু সংখ্যক মানুষ একটি অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। করছে না? খেয়াল করেছেন আপনারা? কি বলে-এক দফা এক দফা। আপনারাই কিন্তু বললেন, আমরা যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছি, বর্তমান সরকার যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছে, এ কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করলে কার উপকার হবে? মানুষের উপকার হবে। সাধারণ মানুষের, খেটে খাওয়া মানুষের উপকার হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেকটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি, যারা এক দফা এক দফা বলছে অথবা যারা এদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করেছিল, যারা মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল-এদের কি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আছে? এদের কি খালকাটা কর্মসূচি আছে? এদের কি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আছে? এদের কি কৃষক কার্ড আছে? এদের দলের কর্মসূচির মধ্যে কি ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা আছে? এদের কি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০-এর বদলে ১৫০ বেডে করার কর্মসূচি আছে? তাহলে তারা কিসের রাজনীতি করে? মানুষের কর্মসূচি কই?

সরকার প্রধান আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন চায় ভাগ্যের পরিবর্তন। কেউ কি খারাপ অবস্থায় সবসময় থাকতে চায়? মানুষ তার অবস্থার পরিবর্তন করতে চায়। আমরা মনে করি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যদি মা-বোনদের জন্য সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি, ইমাম সাহেব মুয়াজ্জিন সাহেবসহ অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিদের মিনিমাম একটি সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে যদি কৃষক ভাইদের কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি তাহলে ধীরে ধীরে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। অর্থনৈতিকভাবে এই মানুষগুলো আস্তে আস্তে স্বচ্ছল হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বচ্ছল হয়ে উঠবে তখন বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে উঠবে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন করতে চায়, ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের সম্মানী বাস্তবায়ন করতে চায়, বিএনপি কৃষক কার্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়, খাল খনন করতে চায়, বন্ধ মিল-কারখানা চালু করতে চায়। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের এই কর্মসূচিগুলো দেখেছেন? যদি না দেখে থাকেন তাহলে যারা আজ দেশে অরাজকতা তৈরি চেষ্টা করছে, দেশের মধ্যে একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাচ্ছে তাদের ব্যাপারে আমাদের কি সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত? মুয়াজ্জিন সাহেবরা বলেন না, তাদের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত? তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক হতে হবে। স্বাভাবিকভাবে আমাদের থেকে ধর্মের জ্ঞান আপনাদের বেশি আছে। একটু ভাই বলেন তো, নির্বাচনের আগে একটি দল বেহেশতের টিকেট বিক্রি করে বেড়াচ্ছে। বলছিল না মানুষকে, আপনারাও তো শুনেছেন। দেখছেন না, দেখেছেন। বেহেশত-দোজগের মালিক কে? একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। যেটার মালিক আল্লাহ সেটার কথা কি কোনো মানুষ বলতে পারে? যেটা দেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার, সেটি যদি মানুষ বলে আমি দেব, সেটি কি শিরিকের পর্যায়ে পড়ে? যারা শিরিকি করে, আল্লাহর সঙ্গে নাফরমানি করে, তাহলে মানুষের সঙ্গে তারা কত বড় মুনাফিকি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যারা গুপ্ত রাজনীতি করে, স্বৈরাচারী রাজনীতি করে, যাদের কাছে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করার কোনো কর্মসূচি নেই, শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যারা রাজনীতি করে, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তাদের ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ এরা যদি দেশ চালানোর দায়িত্ব পায়, আর যাই করুক জনগণের জন্য কোন কর্মসূচি গ্রহণ করবে না। যদি তাদের নেওয়া জনগণের জন্য কোন কর্মসূচি থাকতো, তাহলে তারা বলতে পারতো কি কর্মসূচি তারা গ্রহণ করতে পারে। আজ পর্যন্ত জনগণের উপকার হয় এরকম কোন কর্মসূচির কথা তারা তুলে ধরতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিএনপি সরকার প্রমাণ করেছি আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। আমাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে প্রমাণ করেছি বিএনপির যা বলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। আমরা আমাদের কর্মসূচি দিয়ে প্রমাণ করেছি বিএনপি সব সময় জনগণের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করে।

এর আগে সভার শুরুতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে প্রধানমন্ত্রী ফেনী সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 October, 2026, 8:11 pm
দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদ কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেখা দেওয়া তথ্যমতে, সরকারি ভবনে স্থাপিত দেশের প্রথম এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে তিন উপজেলায় মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বা শূন্য দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। নেট মিটারিং ব্যবস্থায় এসব স্থাপনায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা পূরণে ব্যবহার হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফুলগাজী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো ও ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ আটটি সরকারি স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় মোট ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের প্রতিটিতে প্রায় ২৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ভবনে স্থাপিত সিস্টেমের সক্ষমতা প্রায় ১০৩ কিলোওয়াট।

ছাগলনাইয়া উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, পৌরসভা ভবন, ডাকবাংলো ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ছাদসহ মোট ১২টি স্থাপনায় সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। এসব স্থাপনায় মোট ৪১৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া পরশুরাম উপজেলা পরিষদ ভবন, অডিটোরিয়াম ভবন, তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোসহ মোট ছয়টি স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় উৎপাদন সক্ষমতা ২৯৮ দশমিক ৫ কিলোওয়াট।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (আরইবি) দায়িত্ব দেওয়া হলেও মোট ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. নুরুল হোসাইন জানিয়েছেন, তিন উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ৫ থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী ফেনী সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর আড়াইটার দিকে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 October, 2026, 5:06 pm
মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর তার সংসদীয় আসন শূন্য হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-২ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পদত্যাগ করায় জাতীয় সংসদের ৩২৩ নম্বর আসন (মহিলা আসন-২৩) বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একই তারিখ থেকে শূন্য হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষর করেন। আসনটি শূন্য হওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে বিজ্ঞপ্তির অনুলিপিও পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৭ বিধি অনুযায়ী, কোনও সংসদ সদস্য পদত্যাগ করতে চাইলে স্পিকারকে উদ্দেশ করে নিজ স্বাক্ষরে লিখিতভাবে তা জানাতে হয়। পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর পর সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগ কার্যকর এবং সংশ্লিষ্ট আসন শূন্য হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তাকে সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি সংসদে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।