চার বছরেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি সাতকানিয়া উপজেলা যুবলীগের কমিটি
২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল কেন্দ্রীয় যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারন সম্পাদক হারুনর রশিদ চৌধুরীর যৌথ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অনুমোদন দেওয়া হয় সাতকানিয়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি। কমিটিতে সাইদুর রহমান দুলালকে আহ্বায়ক ও আ.ন.ম সেলিম চৌধূরী এবং হারেজ মোহাম্মদকে যুগ্ম আহবায়ক করে মোট ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা করা হয়। ঘোষনার ৯০ দিনের মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশ থাকলেও দীর্ঘ চার বছরের অধিক সময়েও পূর্ণাঙ্গ হয়নি এই কমিটি। এ নিয়ে কানাঘুষা চলছে স্থানীয় যুবলীগ নেতাদের মাঝে।
জানা যায়, সাধারণত জেলা কমিটি কর্তৃক উপজেলা কমিটি ঘোষনা করার নিয়ম থাকলেও কেন্দ্র থেকে ঘোষনা করা হয় সাতকানিয়া উপজেলা কমিটি।
ফলে মতপার্থক্য থাকে পূর্বের কমিটি ও বর্তমান কমিটির মাঝে। এছাড়াও পূর্বের কমিটির পূর্ণাঙ্গ এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি থাকায় কর্মী সংকটে পড়ে বর্তমানে কমিটি।
ফলে একাধিকবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে চেয়ে বেগ পেতে হয় বর্তমান কমিটিকে। তবে উপজেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হলেও এ পর্যন্ত ৮ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার কমিটি অনুমোদন দেয় বর্তমান কমিটি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির এক সদস্য বলেন, এই কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মাঝে সমন্বয় নেই।
তাছাড়া প্রাপ্ত পদানুসারে তাদের যোগ্যতার ঘাটতি আছে। এছাড়া কর্মী সংকট থাকার পরেও কমিটিতে বাণিজ্যের মনোভাব মূলত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বাঁধা সৃষ্টি করেছে।
অপর একজন বলেন, কমিটি ঘোষনার দীর্ঘদিন পর্যন্ত পূর্বের কমিটি সক্রিয় ছিল। সম্প্রতি আসাদ (পূর্বের কমিটির সভাপতি) ভাই পৌরসভা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হওয়াতে তিনি যুবলীগ নিয়ে একটু কম মাথা ঘামাচ্ছেন।
এক প্রকার তিনি স্বেচ্ছায় পদ থেকে সরে দাড়িয়েছেন বলা যায়। ফলে বর্তমান কমিটির একটু কার্য্যক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা যায়। তবে এই মুহূর্তে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার সুযোগ আছে বলে মনে হয়না।
জানতে চাইলে উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আ.ন.ম সেলিম চৌধুরী বলেন, আমাদের কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষনা হওয়াতে প্রথম দিকে পূর্বের কমিটির সাথে একটি মুখোমুখি অবস্থান ছিল। সেজন্য আমরা ধীরগতিতে অগ্রসর হয়েছি। আমরা চাইনি আমাদের নিজেদের মধ্যে কোন ঝামেলা হউক।
পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং তার পরবর্তীতে করোনার কারনে কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে আমাদের মাঝে কোন সমন্বয়হীনতা নেই। ইতিমধ্যে পৌরসভা সহ বেশ কিছু ইউনিয়নের কমিটি গঠন করেছি।
আর ৩টি ইউনিয়নের কমিটি গঠনের পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের একটি সিদ্ধান্ত আছে। নিয়মিত কেন্দ্র এবং জেলার সাথে আমাদের যোগাযোগ আছে। দলীয় নির্দেশনা পেলে খুব শীঘ্রই আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে ফেলব।
জানতে চাইলে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান দুলাল বলেন, জাতীয় নির্বাচন, করোনা, জেলা কমিটি এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন নির্দেশনার কারনে আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারিনি। সবগুলো ইউনিয়নের কমিটি গঠন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথা ছিল।
ইতিমধ্যে ৩টি ইউনিয়ন ব্যতীত সবকটি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার কমিটি গঠন করেছি। আর বর্তমানে আমাদের মাঝে যথেষ্ট সমন্বয় আছে। দলীয় নির্দেশনা পেলে খুব শীঘ্রই আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে ফেলব।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমিটি গঠনে একটি জঠিলতা আছে। উপজেলা কমিটি দেওয়া হয়েছিল ১৭ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার জন্য। কিন্তু এর আগে জেলা কর্তৃক ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক থানার একটি কমিটি দেওয়া হয়ছিল।
এ বিষয়টি বিভাগীয় মিটিংয়ে আমরা উত্থাপন করেছিলাম। কেন্দ্রীয় সভাপতি সম্পাদক একটি নির্দেশ দিবে বলছিলেন। তবে অদ্যাবধি কোন নির্দেশ আসেনি। আশা করি জেলা কমিটি গঠন হলে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত হবে এবং কমিটি গঠনে কোন জঠিলতা থাকবেনা।
গত ২৮ মে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সম্মেলন হয় এবং দলের সাংবিধানিক নিয়মানুসারে জেলা যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়। ফলে জেলা কমিটির কোন ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই কমিটিতে। এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির পরিবর্তনের কারনেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে রয়েছে জঠিলতা।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক পার্থ সারথি চৌধুরী বলেন, কাগজ কলমে রাজনীতি হয়না। রাজনীতি নির্ভর করে মাঠের জনপ্রিয়তা এবং কর্মী সমর্থনের মাধ্যমে।
সাতকানিয়া যুবলীগের সমস্যা এটি একান্তই যুবলীগের সমস্যা নয়। এটি স্থানীয় আ’লীগ নেতাদের সমস্যা। তবে সাতকানিয়ায় যুবলীগের যথেষ্ট কর্মী-সমর্থক আছে এবং একটি শক্ত অবস্থান আছে।
আমি মনে করি কোন কমিটি আগে বা পরে বা বৈধ বা অবৈধ এটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা না করে স্থানীয় আ’লীগ নেতারা যদি সমন্বিতভাবে কাজ করে তাহলে সাতকানিয়া যুবলীগের অবস্থান আরো শক্ত হবে। এবং অদুর ভবিষ্যতে জামাত-শিবির যুবলীগের সামনে দাড়াতে পারবেনা।
জে-আর


আপনার মতামত লিখুন