বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমান ওতপ্রোতভাবে জড়িত: তথ্যমন্ত্রী
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যায় জিয়াউর রহমান ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা তারাই করেছিল যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড, তার পরিবারের হত্যাকাণ্ড আসলে তাদের হত্যাকাণ্ড নয় বরং স্বাধীনতাকে হত্যা।
তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমান খুনিদের বিচারের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিল। শুধু তাই নয়; যাতে বিচার না হয় ১৯৭৯ সালে সংসদের প্রথম অধিবেশনে একটি আধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছিল।
বুধবার (৩১ আগস্ট) টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) ‘বাংলাদেশ ও চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামের এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিক অভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যার দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ ছাড়া কোথাও পাওয়া যাবে না। পৃথিবীর কোনো জায়গায় গত কয়েক দশকে এ রকম জিঘাংসা দেখা যায়নি। এসব ঘটনাকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবরোধের নামে মানুষকে ১০০ দিন অবরুদ্ধ করে রাখা, সেটাও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
হাছান মাহমুদ জানান, বিএনপির আয়োজনে গুম নিয়ে সভা করা হয়, আবার গুম হওয়াদের কয়েকজন ফেরত এসেছে। তাদের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ জন দাগি আসামি। বিএনপি দাগি আসামিদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে কি না; সেটিই হচ্ছে প্রশ্ন। বেশ কয়েকজন হত্যাকাণ্ডের দাগি আসামি, পলাতক। আর বিএনপি বলে তারা গুম।
মন্ত্রী বলেন, গুমের যে তালিকা বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১০ জন ইতোমধ্যে ফেরত এসেছে। আর কয়েকজন গুম হয়েছে ২০ বছর আগে। ২০ বছর আগে তো বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তখন যারা হারিয়ে গেছে, তাদের তালিকাও দেয়া হয়েছে। এগুলো বলে দেশের মধ্যে ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে।
এ সময়ে গণমাধ্যমের দায়িত্ব নিয়েও কথা বলেন তিনি। হাছান মাহমুদ বলেন, গণমাধ্যম মানুষকে সঠিক চিন্তার ক্ষেত্রে, সমাজকে সঠিক তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে, সার্বিকভাবে দেশ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। কাজেই আমি যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বললাম, এগুলো আপনারা দয়া করে উপস্থাপন করবেন।
তিনি বলেন, আজকে দেশ শেখ হাসিনার হাতে আছে বলেই এই করোনা মহামারির মধ্যেও এগিয়ে গেছে। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে বাংলাদেশের দারিদ্র্য কমেছে। এটা আমার কথা না, আইএমএফের রিপোর্ট।
বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, নিক্কেই ইনস্টিটিউট ও ব্লুমবার্গ যে যৌথ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে বলা হয়েছে করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থান পৃথিবীতে পাঁচ নম্বর, দক্ষিণ এশিয়াতে প্রথম। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক সূচক প্রকাশ করেছে। যেসব দেশকে আমরা কয়েক বছর আগেও উদীয়মান টাইগার বলতাম, তাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে বলে তাতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
‘কিন্তু বাংলাদেশের কথা বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে।’ তিনি বলেন, আমাদের দেশের কিছু ব্যক্তি বিশেষের বক্তব্য শুনলে মনে হবে, দেশটা বুঝি ১০ হাত দেবে যাচ্ছে। এগুলো প্রপাগান্ডা, গুজব রটানো। এসব প্রপাগান্ডার মাধ্যমে মানুষকে ভীত করা হয়, এতে শেষ পর্যন্ত বাজারের ওপর চাপ পড়ে। এতে সার্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ পড়ে যায়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নিজামুল হক নাসিম ও শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন অঞ্জন চৌধুরী। আর সঞ্চালনায় ছিলেন অ্যাটকোর সহ-সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
অ্যাটকোর সহ-সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের পাশাপাশি নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। আজকে সারা জাতি তাই তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি করেছে। তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।
অ্যাটকো সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যদি আমরা ভালোবাসি, বঙ্গবন্ধু যদি আমাদের মনের ভেতরে থাকে, তার চেয়ে আদর্শ সেটা যদি আমরা পালন করি, তাহলে আমার মনে হয়, খুব বেশি দূরে না, আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ দেখতে পাবো।
আমু বলেন, দলকে নেতৃত্বশূন্য করতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছে। এটি শুধু হত্যাকাণ্ড না, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন