খুঁজুন
, ,

বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমান ওতপ্রোতভাবে জড়িত: তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 31 August, 2022, 5:22 pm
বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমান ওতপ্রোতভাবে জড়িত: তথ্যমন্ত্রী

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যায় জিয়াউর রহমান ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা তারাই করেছিল যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড, তার পরিবারের হত্যাকাণ্ড আসলে তাদের হত্যাকাণ্ড নয় বরং স্বাধীনতাকে হত্যা।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমান খুনিদের বিচারের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিল। শুধু তাই নয়; যাতে বিচার না হয় ১৯৭৯ সালে সংসদের প্রথম অধিবেশনে একটি আধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছিল।

বুধবার (৩১ আগস্ট) টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) ‘বাংলাদেশ ও চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামের এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিক অভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যার দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ ছাড়া কোথাও পাওয়া যাবে না। পৃথিবীর কোনো জায়গায় গত কয়েক দশকে এ রকম জিঘাংসা দেখা যায়নি। এসব ঘটনাকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবরোধের নামে মানুষকে ১০০ দিন অবরুদ্ধ করে রাখা, সেটাও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।

হাছান মাহমুদ জানান, বিএনপির আয়োজনে গুম নিয়ে সভা করা হয়, আবার গুম হওয়াদের কয়েকজন ফেরত এসেছে। তাদের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ জন দাগি আসামি। বিএনপি দাগি আসামিদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে কি না; সেটিই হচ্ছে প্রশ্ন। বেশ কয়েকজন হত্যাকাণ্ডের দাগি আসামি, পলাতক। আর বিএনপি বলে তারা গুম।

মন্ত্রী বলেন, গুমের যে তালিকা বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১০ জন ইতোমধ্যে ফেরত এসেছে। আর কয়েকজন গুম হয়েছে ২০ বছর আগে। ২০ বছর আগে তো বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তখন যারা হারিয়ে গেছে, তাদের তালিকাও দেয়া হয়েছে। এগুলো বলে দেশের মধ্যে ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে।

এ সময়ে গণমাধ্যমের দায়িত্ব নিয়েও কথা বলেন তিনি। হাছান মাহমুদ বলেন, গণমাধ্যম মানুষকে সঠিক চিন্তার ক্ষেত্রে, সমাজকে সঠিক তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে, সার্বিকভাবে দেশ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। কাজেই আমি যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বললাম, এগুলো আপনারা দয়া করে উপস্থাপন করবেন।

তিনি বলেন, আজকে দেশ শেখ হাসিনার হাতে আছে বলেই এই করোনা মহামারির মধ্যেও এগিয়ে গেছে। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে বাংলাদেশের দারিদ্র্য কমেছে। এটা আমার কথা না, আইএমএফের রিপোর্ট।

বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, নিক্কেই ইনস্টিটিউট ও ব্লুমবার্গ যে যৌথ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে বলা হয়েছে করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থান পৃথিবীতে পাঁচ নম্বর, দক্ষিণ এশিয়াতে প্রথম। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক সূচক প্রকাশ করেছে। যেসব দেশকে আমরা কয়েক বছর আগেও উদীয়মান টাইগার বলতাম, তাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে বলে তাতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

‘কিন্তু বাংলাদেশের কথা বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে।’ তিনি বলেন, আমাদের দেশের কিছু ব্যক্তি বিশেষের বক্তব্য শুনলে মনে হবে, দেশটা বুঝি ১০ হাত দেবে যাচ্ছে। এগুলো প্রপাগান্ডা, গুজব রটানো। এসব প্রপাগান্ডার মাধ্যমে মানুষকে ভীত করা হয়, এতে শেষ পর্যন্ত বাজারের ওপর চাপ পড়ে। এতে সার্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ পড়ে যায়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নিজামুল হক নাসিম ও শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন অঞ্জন চৌধুরী। আর সঞ্চালনায় ছিলেন অ্যাটকোর সহ-সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

অ্যাটকোর সহ-সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের পাশাপাশি নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। আজকে সারা জাতি তাই তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি করেছে। তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।

অ্যাটকো সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যদি আমরা ভালোবাসি, বঙ্গবন্ধু যদি আমাদের মনের ভেতরে থাকে, তার চেয়ে আদর্শ সেটা যদি আমরা পালন করি, তাহলে আমার মনে হয়, খুব বেশি দূরে না, আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ দেখতে পাবো।

আমু বলেন, দলকে নেতৃত্বশূন্য করতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছে। এটি শুধু হত্যাকাণ্ড না, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।

এন-কে

Feb2

৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 2:50 pm
৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর থেকে হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আমানতকারীরা।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে শত শত ভুক্তভোগী এতে অংশ নেন।

আমানতকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা নিজেদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে না পেরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হেয়ারকাট মানি না, মানব না, এক দফা, এক দাবি, হেয়ারকাট বাতিল করবি, এবং আমানত কি নিরাপদ? আপনার কষ্টের টাকা কার পকেটে? সরকার কেন চুপ? প্রশাসন কেন চুপ? এমন নানা স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমানতকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যার একটিতে হেয়ারকাট পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়ার এবং তার পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একে আমানতকারীরা ‘হেয়ারকাট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এটি চুক্তিভঙ্গ এবং অমানবিক।

সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বিতর্কিত হেয়ারকাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া। পাঁচটি ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত চালু করা। তারল্য সংকট নিরসনে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং একতরফাভাবে ঘোষিত হ্রাসকৃত মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

আন্দোলনরত আমানতকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, একীভূতকরণের নামে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে এখন পাঁচটি ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসংগত। আমানতকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই হার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় তিন কোটি সদস্য মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

বিক্ষোভ শেষে বেলা ১২টার দিকে আমানতকারীরা একটি মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন।

আমানতকারীদের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। যতদিন পর্যন্ত এই হেয়ারকাট বাতিল না হবে, ততদিন আমরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 1:06 pm
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) সকালে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যকালে তার বয়েস হয়েছিল ৯০ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 12:56 pm
যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানির সংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তিস্তা অববাহিকার অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা নদীটির পানি প্রবাহের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে তীব্র নদীভাঙনের ফলে এই অঞ্চলের মানুষকে প্রতিবছর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের এই দীর্ঘদিনের হাহাকার ও দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটাতেই সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এর আগে, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে এ অধিবেশন শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।